প্রিন্ট এর তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারের প্রতি ১১ দলের আহ্বান
স্টাফ রিপোর্টার। ||
সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতা ব্যবহার করে জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটির নেতারা বলেছেন, অতীতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তির ওপর ভর করে অনেকেই কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করেছেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে ওই পথ থেকে সরে আসতে হবে।বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।বৈঠকে ১৯ সেপ্টেম্বর সাত দফা দাবিতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের প্রস্তুতি ছিল প্রধান আলোচ্য। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে গণভোটের রায় বাতিল হওয়ার কোনো নজির নেই। কিন্তু গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতায় আসা সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রত্যাখ্যান করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করেছে।তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বলেই জনগণের ইচ্ছার বিপরীতে যাওয়া উচিত নয়।গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তি ব্যবহার করে কোরআন-সুন্নাহর আইন পরিবর্তনের পাশাপাশি হেবা আইনে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়ও পদদলিত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।তিনি বলেন, ‘এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।’তিনি জানান, বেলা ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লংমার্চের প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সংকট নিয়েও আলোচনা হয়।গোলাম পরওয়ার বলেন, সাত দফা দাবি সামনে রেখে আন্দোলন আরও জোরদার করা এবং এতে জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, ১১ দলীয় ঐক্য তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এ প্রক্রিয়ায় বিশেষ কমিটির একতরফা কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগেরও বিরোধিতা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।১৯ সেপ্টেম্বর লংমার্চগোলাম পরওয়ার জানান, শনিবার সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবে। পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে প্রথম এবং টাঙ্গাইলের জালফৈ বাইপাস মোড়ে দ্বিতীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।এরপর যমুনা সেতু পার হয়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়ে দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে জোহরের নামাজ আদায় করা হবে। পরে বগুড়ার মাটিডালি এবং সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। সবশেষে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী কর্মসূচির মাধ্যমে লংমার্চ শেষ হবে।প্রকাশিত কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা এবং রংপুরে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চে যুক্ত হতে আগ্রহীরা গাড়িবহরের পেছনে নিজ নিজ জেলার গাড়িবহর নিয়ে অংশ নিতে পারবেন। সাংস্কৃতিক বিভাগের গাড়ির পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল, অ্যাম্বুলেন্স, তথ্যপ্রযুক্তি ও মিডিয়া বিভাগের ৮ থেকে ৯টি গাড়ি থাকবে। অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ গাড়িতে খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আশ্বাসলংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন গোলাম পরওয়ার। কর্মসূচির কারণে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন, সিভিল সোসাইটি, ট্রাফিক বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং পথে থাকা প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেন।তিনি বলেন, ১১ দলের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত। কোনো অনিয়মতান্ত্রিক অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা ভাঙচুরের পরিকল্পনা তাদের নেই।তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে সে ধরনের চিন্তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, হতে দেব না। তাহলে অহেতুক কেন আপনি পায়ে পাড়া দিয়ে গন্ডগোল করে শান্ত দেশকে অশান্ত করে তুলবেন?’প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।সূত্র: আমার দেশ
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত