প্রিন্ট এর তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মনপুরায় পল্লী চিকিৎসককে বাসায় ডেকে মারধরের অভিযোগ, ৭ লাখ টাকা দাবির কথা সংবাদ সম্মেলনে!
মোঃ মামুন, উপজেলা প্রতিনিধি মনপুরা ||
ভোলার মনপুরায় পল্লী চিকিৎসক আঃ রহিমকে অসুস্থ মেয়েকে দেখানোর কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর, রশি দিয়ে বেঁধে রাখা এবং তার কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে মিজান মহাজন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রবিউল হকের ছেলে পল্লী চিকিৎসক আঃ রহিম (৫০)। সংবাদ সম্মেলনে আঃ রহিম অভিযোগ করেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে মিজান মহাজনের সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় মিজান তার মেয়ে অসুস্থ বলে জানিয়ে তাকে বাসায় গিয়ে রোগী দেখার অনুরোধ করেন। প্রতিবেশীর মেয়ে অসুস্থ, এ কথা শুনে পল্লী চিকিৎসক রহিম তার সঙ্গে বাসায় যান।রহিমের দাবি, মিজানের বাসায় গিয়ে তিনি দেখতে পান, ঘরের সব লাইট বন্ধ এবং একটি হারিকেন জ্বলছিল। মিজান তাকে একটি চেয়ার এনে বসতে বলেন। বসার পরপরই মিজান তাকে মারধর শুরু করেন এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে রহিমের কথিত অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলে অভিযোগ করেন রহিম।আঃ রহিম আরও অভিযোগ করেন, এ সময় তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ও তার স্ত্রী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তার চিৎকারের পর মিজান একটি রশি এনে তাকে বেঁধে ফেলেন এবং তার হাতে থাকা ব্যাগ নিয়ে নেন। ওই ব্যাগে ৮০ হাজার টাকা ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।এছাড়া মিজান মহাজন তার কাছে ৭ লাখ টাকা দাবি করেন এবং একটি অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন আঃ রহিম। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি ইউপি সদস্য আঃ রহিম ফরাজীকে জানালে তিনি রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন।সংবাদ সম্মেলনে আঃ রহিমের দাবি, ইউপি সদস্য বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করবেন বলে তাদের আইনি পথে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে মেম্বারের উপস্থিতিতে মিজানের আনা একটি অলিখিত স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন পল্লী চিকিৎসক আঃ রহিম।তবে অভিযুক্ত মিজান মহাজনের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার বিষয়ে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত