প্রিন্ট এর তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ঘুষের হাট’ অভিযোগে সংবাদ প্রকাশ, সানজিদার বিরুদ্ধে উজিরপুর প্রশাসনের দুই...
আর এ রাফি , উপজেলা প্রতিনিধি উজিরপুর (বরিশাল) ||
উজিরপুর প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদার বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, হয়রানি ও সরকারি নথি নিয়ে কারসাজির অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলী সুজা স্বাক্ষরিত পৃথক পত্রে সানজিদার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।ওই দিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সানজিদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ‘ভূমি অফিসে সানজিদার ঘুষের হাট, জিম্মি সেবাপ্রত্যাশীরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।একই তারিখে উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. শাহজাদা মিয়াকে সানজিদার বিরুদ্ধে সেবাপ্রত্যাশীদের লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।এর আগে সানজিদার বিরুদ্ধে পর্চা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের কাছে অর্থ দাবি, টাকা দিতে না চাইলে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি এবং সরকারি নথি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।অভিযোগে বলা হয়েছে, ইচলাদি মৌজার এসএ ১৫৯ নম্বর খতিয়ানের জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে এক লাখ টাকার বিনিময়ে নামজারি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন খতিয়ানে তহশিলদারের স্বাক্ষর ও সিল ছাড়াই হাতে লেখা তথ্য পোস্টিং এবং জেএল ৯২ নম্বর উজিরপুর মৌজার এসএ ১২৪ নম্বর খতিয়ানের নথি দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।এ ছাড়া গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মমতাজ বেগমকে সানজিদার কথামতো কাজের প্রতিবেদন না দেওয়ায় দুর্ব্যবহার এবং পরবর্তীতে তার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।সানজিদাকে একাধিকবার বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আলী সুজা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সানজিদার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সেবাপ্রত্যাশীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কানুনগোকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত