প্রিন্ট এর তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনীর ২৮ বিমান হামলার দাবি হুথিদের
ডেক্স রিপোর্ট। ||
ইয়েমেনে গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী ২৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা। তায়েজ, আল-জাওফ ও মারিব প্রদেশে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন ইয়াহিয়া সারি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে অন্তত ৭৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে।তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।এর আগে গত শনিবার হুথিরা দাবি করেছিল, ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরব ২৬টি হামলা চালিয়েছে।বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে চলমান যুদ্ধের মধ্যে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে।শুক্রবার হুথিরা জানায়, গত এক সপ্তাহে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন অবস্থানে ৩০০টি হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হামলার সংখ্যা ছিল ২৬টি।এদিকে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার শুক্রবার দাবি করেছে, তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিইয়াহ জেলায় সংঘর্ষে তাদের বাহিনীর হাতে ৩০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহে যেসব এলাকায় লড়াই তীব্র হয়েছে, আল-ওয়াজিইয়াহ তার মধ্যে একটি।ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যকার সংঘাত ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার সময়ই ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।শুক্রবার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হাজার হাজার মানুষ মিছিল করেন। তারা ইরান-সমর্থিত হুথিদের প্রতি সমর্থন জানান এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। একই সময়ে হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও রয়েছে।চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু ছিলেন। দুই পক্ষের প্রকাশিত প্রতিবেদনেই এই প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।সৌদি আরব জানিয়েছে, তায়েফ প্রদেশে একটি হুথি ড্রোন প্রতিহত করার পর একজন নিহত হয়েছেন।অন্যদিকে হুথিসংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের দাবি, তাইজ ও আবস শহরে সৌদি হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে।ইয়েমেনের চলমান উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়েছে। তবে ওয়াশিংটন সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী। হুথিদের দ্রুত ভূখণ্ড দখলের কারণে বাব-এল-মান্দেব দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহান্তে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাব-এল-মান্দেব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ।বৈঠকে হুথিরা ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছে বলে জানা গেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন কোনো জাহাজকে তারা লক্ষ্যবস্তু করবে না।এদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এখনো এ আহ্বানে সাড়া দেয়নি। ইরানের সঙ্গে ইতোমধ্যে ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িত থাকায় নতুন কোনো ফ্রন্ট খোলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস শুক্রবার জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে জোটটির নৌ মিশন ‘অপারেশন অ্যাসপাইডিস’ সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে। অঞ্চলটির পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।কালাস তার এক্স পোস্টে বলেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ছে।তিনি আরও জানান, ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত