প্রিন্ট এর তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য
ডেক্স রিপোর্ট। ||
হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। এর অংশ হিসেবে সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহযোগিতা করবে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)।ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এ ঘোষণা দিয়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করার জন্য আরএএফকে অনুমতি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তবে এই সহযোগিতা আপাতত কয়েক সপ্তাহের জন্য দেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। একটি আরএএফ ভয়েজার ট্যাংকার বিমান সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোতে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ করবে। সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো এ সময় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানে অংশ নেবে।বার্নহাম বলেন, ব্রিটেন ও বৃহত্তর অঞ্চলের স্বার্থ সুরক্ষায় তিনি এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তার ভাষ্য, সৌদি আরব হামলার মুখে রয়েছে এবং সামনে আরও অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনকারী সমুদ্রপথগুলো সচল রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।ইয়েমেনে এরই মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। হুথিরা সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। গত শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাটি প্রতিহত করে।এর মধ্যে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে সৌদি আরবের সমুদ্রপথে চলাচলের ওপর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে হুথিরা। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিচালিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে সৌদি আরবের বাণিজ্যিক জাহাজ এবং দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে গোষ্ঠীটি।চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের উপকূলীয় অঞ্চলে আরও অগ্রসর হয় হুথিরা। তারা কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা এবং লোহিত সাগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর ফলে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের নজরদারি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।হুথিদের এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছে লন্ডন। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে তারা।এর আগে হুথিদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সর্বশেষ উত্তেজনার পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন সামরিকভাবে হস্তক্ষেপে আগ্রহী নয় বলে জানা গেছে।এ পরিস্থিতিতে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। এর পরই যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তার সিদ্ধান্তের বিষয়টি সামনে এসেছে। ব্রিটেনের পাশাপাশি ফ্রান্স, মিশর ও পাকিস্তানের কাছেও সৌদি আরব সহায়তা চেয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত