প্রিন্ট এর তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চুক্তি হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি চুক্তির
ডেক্স রিপোর্ট। ||
প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। প্রস্তাবটি স্বাক্ষরিত হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ তথ্য জানান তিনি।আরাগচি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করা হলে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। নতুন প্রস্তাবে যে শর্তগুলো রাখা হয়েছে, সেগুলো গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই উল্লেখ ছিল বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া সম্ভব। সাত দিনের মধ্যেই স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। প্রস্তাবটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটি তাদের বিষয়।’তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন শর্ত পূরণ করতে হবে, তা জানাননি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মার্কিনিদের দেওয়া শর্তগুলো ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকেই রয়েছে। এতে নতুন কোনো শর্ত নেই।’এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুও রয়েছে।জুনের সমঝোতায় যা ছিলগত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছিল, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হবে না। একই সঙ্গে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ও ছিল। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেবে এবং ভবিষ্যতে এই পথে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে উল্লেখ করা হয়।তবে দুই দেশ আবারও হামলা ও পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই ওই সমঝোতা কার্যত ভেস্তে যায়।হরমুজ ঘিরে উত্তেজনাযুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা দেখা দেয়।ইরানের দাবি, অনুমোদনহীন রুট ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করায় কয়েকটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজের আশপাশে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় এবং কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ইরানের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও যুদ্ধকে ঘিরে অস্থিরতার পাশাপাশি সংঘাত কীভাবে শেষ করা যায়, তা নিয়েও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: ইত্তেফাক/এসজেএস
কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত