নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে সুমনা ফেরদৌসী (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী লিমন মল্লিককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। পরে রাতেই পুলিশ তাকে আটক করে।
নিহত সুমনা ফেরদৌসী উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সময় লিমন ও সুমনার পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ২০২১ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বিয়ের পর সুমনাকে নিয়ে নিজ গ্রামে বসবাস শুরু করেন লিমন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করায় পারিবারিকভাবে নানা ধরনের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর লিমন স্থানীয়ভাবে চায়ের দোকান পরিচালনা ও কাঠ কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ঘটনার দিন সকালেও এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরে দুপুরের দিকে সুমনা ফেরদৌসীকে ঘরের ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার পর তাদের কাছে মৃত্যুর ঘটনাটি স্বাভাবিক বা আত্মহত্যাজনিত বলে মনে হয়নি। এ কারণে নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।