রাজধানীতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় কর্মী, তরুণ বিতার্কিক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আবু জোবায়ের। সোমবার (১৫ জুন) গভীর রাতে সংঘটিত এ দুর্ঘটনার পর তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আবু জোবায়েরের বাড়ি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভুল্লিরহাট এলাকায়। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। একজন দক্ষ বিতার্কিক হিসেবে বিভিন্ন অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
জানা গেছে, ঢাকার মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় আত্মীয়ের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতেন জোবায়ের। সোমবার রাতে দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশাযোগে এক বন্ধুর বাসায় যাওয়ার পথে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির নিকট দ্রুতগতির একটি ট্রাক পেছন থেকে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা অন্য দুই বন্ধু সামান্য আহত হন।
পরিবারের জন্য এই মৃত্যু যেন নতুন এক বেদনার অধ্যায়। প্রায় এক যুগ আগে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হন জোবায়েরের বড় ভাই সালাউদ্দিন আহমেদ। সেই শোক এখনো ভুলতে পারেননি বাবা-মা। এরই মধ্যে মেঝ সন্তান আবু জোবায়েরের অকাল মৃত্যু পরিবারটিকে আবারও গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে।
মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আবু জোবায়ের ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও সমাজসচেতন একজন তরুণ। তিনি বীরগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং পার্বতীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। শিক্ষকদের কাছে তিনি ছিলেন একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী এবং সহপাঠীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।
তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহপাঠীরা গভীর শোক প্রকাশ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা এক সম্ভাবনাময় তরুণের জীবন অকালে থেমে গেল।