বরিশালে নিখোঁজের দুই দিন পর অটোরিকশাচালক নাজমুল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত এক ব্যক্তির বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন (২৫) গত শনিবার (১৩ জুন) সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের ঘটনায় নাজমুলের বাবা আব্দুল রশিদ মোল্লা রোববার (১৪ জুন) বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন সোমবার (১৫ জুন) সকালে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড ও জাগুয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কালিজিরা নদী এলাকা থেকে নাজমুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তের একপর্যায়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নতুনেরহাট এলাকার বাসিন্দা মিরাজ হাওলাদারসহ চারজনকে আটক করা হয়।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে নাজমুল হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বুধবার (১৭ জুন) ভোরে মিরাজ হাওলাদারকে আটকের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত কিছু লোক তার বসতঘরে আগুন দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঘরটি পুড়ে যায়। তবে আগুন লাগার সময় ঘরের ভেতরে কেউ ছিল না।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) আব্দুল হান্নান বলেন, নাজমুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় মিরাজ হাওলাদারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাকে এবং আরও তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগ—দুই ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।