আব্দুল্লাহ আল নোমানী, জেলা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি
বিগত ২৩ বছরেও সংস্কার হয়নি রাজাপুর উপজেলার ৫নং বড়ইয়া ইউনিয়নের ভাতকাঠি গ্রামের সড়ক। সাতানী ব্রিজ থেকে ভাতকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশার কারণে জনজীবন এখন চরম সংকটে। গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হাঁটাচলাও এখন দুঃসাধ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো রাস্তাজুড়ে খানাখন্দ, কাদা আর ভাঙা ইট-পাথর। বর্ষাকালে এই রাস্তা যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়। রাস্তার ওপর দিয়ে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে।
শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ:
এই সড়কমুখী রয়েছে ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৪-৫টি মাদ্রাসা। ভাঙা রাস্তায় প্রতিদিন স্কুল-মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। কাদায় আছড়ে পড়ে জামা-বই নষ্ট হওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
রোগী ও গর্ভবতী নারীদের মরণফাঁদ:এলাকাবাসীর অভিযোগ, অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে হলে কাঁধে করে সাতানী ব্রিজ পর্যন্ত নিতে হয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্স মেলে। দূরের বাড়ি হলে রোগী নিয়ে বের হতেই ভয় লাগে। এ কারণে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না, অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছেন।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি - পিচ ঢালাই সড়ক:স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি সর্বশেষ ২০০৩ সালে সংস্কার করা হয়েছিল। এরপর বিগত ১৭-২৩ বছরে দেশের আনাচে-কানাচে উন্নয়নের জোয়ার বইলেও এই এলাকায় সরকারি কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ৪ কিলোমিটারের এই সড়ক এখন সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট ভাষ্য: "আমরা আর কাঁচা বা ইটের সলিং চাই না। আমরা চাই টেকসই পিচ ঢালাই রাস্তা। যেন গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা সুন্দরভাবে চলাচল করতে পারে। আমাদের সন্তানরা যেন কাদা ছাড়া স্কুলে যেতে পারে। রোগী যেন সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে।"
এলাকার হাজারো মানুষের প্রাণের দাবি - অবহেলিত এই রাস্তাটির দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়ন।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার UNO মহোদয় ও উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডি-এর কাছে এলাকাবাসীর আকুল আবেদন, ২৩ বছর ধরে অবহেলিত এই সড়কের মেরামতের জন্য এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। সাতানী ব্রিজ থেকে ভাতকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার রাস্তাটি দ্রুত পিচ ঢালাইয়ের মাধ্যমে সংস্কার করুন।