ব্যুরো প্রধান: মোঃ আশরাফুল ইসলাম
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নে অতি দরিদ্র ও দুস্থ নারীদের জন্য পরিচালিত ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) কর্মসূচির সঞ্চয়ের ৭ লাখ টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসাইনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৩৬৩ জন নারী উপকারভোগীর সঞ্চয় ফেরত পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ২০২৫-২০২৬ চক্রে তিরনইহাট ইউনিয়নের ৩৬৩ জন অতি দরিদ্র ও দুস্থ নারী ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে খাদ্যশস্য পেয়ে আসছেন। কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী, খাদ্যশস্য গ্রহণের আগে প্রত্যেক উপকারভোগীকে মাসিক ২২০ টাকা করে সঞ্চয় হিসেবে জমা দিতে হয়। সেই হিসাবে প্রতি মাসে মোট ৭৯ হাজার ৮৬০ টাকা সঞ্চয় আদায় করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট নারীদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা হওয়ার কথা।
হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ১১ মাসে মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৪৬০ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান আলমগীর হোসাইন কেবল জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের সঞ্চয়ের অর্থ ব্যাংকে জমা দিয়ে বাকি ৯ মাসের ৭ লাখ ১৮ হাজার ৭৪০ টাকা জমা না করে নিজের হেফাজতেই রেখেছেন। অগ্রণী ব্যাংকের শালবাহান হাট শাখা কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধুমাত্র দুই মাসের অর্থ সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোতে জমা হয়েছে।
সরকারের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর পরিচালিত ভিডব্লিউবি কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো অতি দরিদ্র ও অসহায় নারীদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটানো এবং সঞ্চয়ের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলা। অথচ সেই কর্মসূচির সঞ্চয় নিয়েই এবার উঠেছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ।
তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. নাজমুল হক জানান, চাল বিতরণের সময় ওয়ার্ডভিত্তিক গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের টাকা সংগ্রহ করা হয়। প্রথম দিকে এসব অর্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হলেও কয়েক মাস ধরে তিনি নিজে টাকা গ্রহণ করে চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) করুনা কান্ত রায় বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা আছে। সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী উপকারভোগীরা আগে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে রসিদ প্রদর্শনের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করবেন। তবে বাস্তবিক সমস্যার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদে টাকা জমা নিয়ে পরে তা ব্যাংকে জমা করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন আফরোজ খসরু বলেন, "বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
স্থানীয়দের দাবি, অসহায় ও দুস্থ নারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের অর্থ নিয়ে এমন অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপকারভোগীদের সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।