আব্দুল্লাহ আল নোমানী, জেলা প্রতিনিধি, ঝালকাঠি:
ঝালকাঠির রাজাপুর-বাদুরতলা সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে গিয়ে পুরো সড়ক পরিণত হচ্ছে মৃত্যুফাঁদে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথ দিয়ে যাতায়াত করছেন। যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সড়কটি এলাকার প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় চালকরা রাস্তার অবস্থা বুঝতে পারেন না।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একাধিক স্থানে পানি জমে ছোট পুকুরের মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। যানবাহন চলার সময় কাদাপানি ছিটকে পথচারীদের দুর্ভোগ আরও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
চালকদের আহাজারি
অটোরিকশা চালকরা বলেন, “প্রতিদিন কয়েকবার এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি। রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে গাড়ি চালানোই কষ্ট। গর্তে পড়ে প্রায়ই অটোর যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। আয়ের চেয়ে মেরামত খরচই বেশি।”
মোটরসাইকেল চালকরা বলেন, “বৃষ্টিতে কোনটা গর্ত আর কোনটা রাস্তা বোঝা যায় না। একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনা। কয়েকদিন আগে আমিও গর্তে পড়ে আহত হয়েছি।”
এলাকাবাসীর ক্ষোভ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “বছরের পর বছর রাস্তার এই দশা। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার বলা হলেও স্থায়ী সমাধান নেই। নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেয়, পরে কেউ খোঁজ নেয় না।”
ব্যবসায়ীরা বলেন, “এটা শুধু রাস্তার সমস্যা না, পুরো এলাকার দুর্ভোগ। অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিতে কষ্ট হয়, শিক্ষার্থীরা দেরিতে স্কুলে যায়, ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সড়কের বেহাল দশার কারণে অনেক যানবাহন এ পথ এড়িয়ে চলে। এতে পণ্য পরিবহন খরচ বাড়ছে। বর্ষায় কাদা-পানির জন্য ক্রেতাও কমে গেছে।
সাময়িকভাবে কিছু জায়গায় ইট-খোয়া ফেলে মেরামত করা হলেও তা টেকেনি। কয়েকদিন পর আবার আগের অবস্থা। এলাকাবাসী দ্রুত টেকসই সংস্কার ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।
রাজাপুর-বাদুরতলা সড়কটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হওয়ায় দ্রুত সংস্কার না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।