ডেস্ক রিপোর্ট
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে নেওয়া পদক্ষেপের বিরোধিতা জনগণের কাছে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
ইউনিয়নের পাতলী–মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সরকারের নতুন বাজেট, কৃষি উন্নয়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সাধারণ মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য বিশেষ সহায়তা, প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতে মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বিরোধী দল এর সমালোচনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তামাক ও মদ্যপানের ব্যবহার কমাতে কর বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি নীতি। জনস্বার্থে গৃহীত এমন পদক্ষেপের বিরোধিতা কতটা যৌক্তিক, সেটি জনগণই বিবেচনা করবে।
পথসভায় পাতলী–মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে কৃষি উৎপাদনের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং সাড়ে ৮ হাজারের বেশি কৃষক সেচ সুবিধার আওতায় আসবেন।
কৃষি খাতকে সরকারের উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা ভর্তুকি, কৃষিঋণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিরোধী দলের সমালোচনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা নতুন নয়। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা বাস্তব উন্নয়ন ও অর্জনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং মানুষের জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে কৃষি, সেচ, বাজারব্যবস্থা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
মন্তব্য করুন