মো. তানজিল সুবহা
নীলফামারী প্রতিনিধি | ইনসাফ টাইমস ২৪
তারিখ: ১৬ জুন ২০২৬
তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে দেশে সাইবার অপরাধের মাত্রাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনলাইন প্রতারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি, মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি, ফেসবুক আইডি হ্যাকিং, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ব্ল্যাকমেইলিংসহ নানা ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও ভুক্তভোগীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নীলফামারী জেলা পুলিশ।
জানা গেছে, নবাগত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের উদ্যোগে জেলায় একটি বিশেষায়িত সাইবার সুরক্ষা ইউনিট চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইউনিটটি চালু হলে জেলার মানুষ সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত জানাতে পারবেন এবং প্রাথমিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা সহজেই পাবেন।
বর্তমানে নীলফামারী জেলায় কোনো স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট বা সাইবার ট্রাইব্যুনাল না থাকায় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও আইনি প্রতিকারের জন্য বিভাগীয় শহর রংপুরে যেতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও ভোগান্তির কারণে অনেকেই অভিযোগ দায়ের থেকে বিরত থাকেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ে একটি কার্যকর সাইবার সুরক্ষা ইউনিট প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। এ ইউনিট চালু হলে অনলাইন প্রতারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অপরাধ, সাইবার হয়রানি এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট নানা অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও প্রাথমিকভাবে নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান (ফিজার) বলেন, বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা পাওয়ার পথ সম্পর্কে জানেন না, আবার অনেকে দূরত্ব ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অভিযোগ করতে পারেন না। জেলা পর্যায়ে সাইবার সুরক্ষা ইউনিট চালু হলে সাধারণ মানুষ দ্রুত আইনি সহায়তা পাবেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন বলেন, “ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে নীলফামারী জেলা পুলিশ কাজ করছে। অনলাইন প্রতারণা, আইডি হ্যাকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি ও আর্থিক জালিয়াতিসহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি সাইবার সুরক্ষা ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং আরও শক্তিশালী করা হবে।”
সচেতন মহল মনে করছে, দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে সাইবার সুরক্ষা ইউনিট চালু হলে নীলফামারীর মানুষ ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিকার পাবেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন