ডেস্ক রিপোর্ট
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
নতুন পে-স্কেলের আওতায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন (বেসিক) ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে দেওয়া বিশেষ সুবিধা (স্পেশাল বেনিফিট) বাতিল করা হবে। ফলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি গ্রেডভেদে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে হবে।
বর্তমানে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ১০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এই সুবিধা তুলে নেওয়া হবে।
পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় উন্নীত হবে। দ্বিতীয় গ্রেডের বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে ৯৯ হাজার টাকা এবং তৃতীয় গ্রেডের বেতন ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৮৪ হাজার ৭৫০ টাকায় উন্নীত হবে।
চতুর্থ গ্রেডের মূল বেতন ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকা, পঞ্চম গ্রেডের ৪৩ হাজার টাকা থেকে ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা, ষষ্ঠ গ্রেডের ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫৩ হাজার ২৫০ টাকা এবং সপ্তম গ্রেডের ২৯ হাজার টাকা থেকে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হবে।
এছাড়া অষ্টম গ্রেডের বেতন ২৩ হাজার টাকা থেকে ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং নবম গ্রেডের বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মধ্যম ও নিম্ন গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। দশম গ্রেডের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে ২৪ হাজার টাকা, একাদশ গ্রেডের ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা এবং দ্বাদশ গ্রেডের ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১৬ হাজার ৯৫০ টাকায় উন্নীত হবে।
একইভাবে ত্রয়োদশ গ্রেডের বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা, চতুর্দশ গ্রেডের ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা, পঞ্চদশ গ্রেডের ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ১৪ হাজার ৫৫০ টাকা, ষোড়শ গ্রেডের ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সপ্তদশ গ্রেডের ৯ হাজার টাকা থেকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত হবে।
অষ্টাদশ গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ১৩ হাজার ২০০ টাকা, ঊনবিংশ গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১২ হাজার ৭৫০ টাকা এবং বিংশ গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১২ হাজার ৩৭৫ টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে কয়েক লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বেতন বৃদ্ধি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হবে এবং এতে কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও কর্মোদ্যম আরও বাড়বে।
তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়েই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন