নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙ্গামাটি:
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজম মানবসেবা, শিক্ষা সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়া উন্নয়ন এবং পর্যটন খাতে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে জেলা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পর্যটন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শীতপ্রবণ এলাকায় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং দুর্যোগকবলিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করছেন তিনি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাঙ্গামাটি বধির (বাক্-শ্রবণ) বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে ছিন্নমূল মানুষের মাঝেও কম্বল বিতরণ করেন।
সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে আসছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা জানান, পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে তিনি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে ভূমিকা রাখছেন।
শিক্ষা খাতে সহায়তার অংশ হিসেবে আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা এবং দরিদ্র মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানোর একাধিক উদাহরণ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রেও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে। ক্যান্সারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত কয়েকজন রোগীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তরুণদের দেশপ্রেম ও জ্ঞানচর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে তিনি জাতীয় দিবসগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের পাশাপাশি বনরূপা এলাকায় ‘পার্বত্য জ্ঞান অন্বেষণ পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। পাঠাগারটি শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলা-কেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যুবসমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে হাবীব আজম রাঙ্গামাটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
জেলা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর পর্যটন উন্নয়নেও বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর বিষয়গুলো এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয়দের মতে, জনসেবা, সামাজিক সম্প্রীতি, শিক্ষা সহায়তা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হাবীব আজম রাঙ্গামাটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন।