ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ নিয়ে বিশকেকে বৈঠকে পুতিন-জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগামী ৩১ আগস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে বৈঠকে বসবেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, বৈঠকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পসহ দুই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুধু রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে অনুষ্ঠিতব্য ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ৩১ আগস্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হবে।চলতি বছরে পুতিন ও জিনপিংয়ের মধ্যে এটি হবে দ্বিতীয় সরাসরি সাক্ষাৎ। এর আগে মে মাসে পুতিনের বেইজিং সফরের সময় দুই নেতা বৈঠক করেছিলেন। এবার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ হলো রাশিয়া থেকে চীনে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য পরিকল্পিত একটি পাইপলাইন প্রকল্প। প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার ইয়ামাল অঞ্চলের গ্যাসক্ষেত্র থেকে মঙ্গোলিয়া হয়ে চীনে বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।প্রকল্পটি নিয়ে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে বহু বছর ধরে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। গ্যাসের দাম, অর্থায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহের শর্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা প্রয়োজন হওয়ায় প্রকল্পটির অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরেই ধীরগতির।চলতি বছরের মে মাসে পুতিনের বেইজিং সফরের সময় রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছিলেন, প্রকল্পটির কয়েকটি চুক্তি চূড়ান্ত সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে। তবে এরপরও চীনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।বিশকেকে পুতিন-জিনপিংয়ের বৈঠকে প্রকল্পটি আলোচনায় আসায় এর ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ক্রেমলিন এখনো জানায়নি যে এই বৈঠকেই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বরং প্রকল্পটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে বলেই জানানো হয়েছে।রাশিয়ার কাছে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি প্রকল্প। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপের বাজারে রুশ জ্বালানি রপ্তানির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় এশিয়ার বাজার, বিশেষ করে চীন, মস্কোর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।পাইপলাইনটি বাস্তবায়ন হলে চীনে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ বাড়বে। পাশাপাশি ইউরোপের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির বড় একটি অংশ আরও বেশি করে এশিয়ার বাজারমুখী হতে পারে।অন্যদিকে চীনের জন্য রাশিয়া থেকে স্থলপথে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির সুযোগ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিলে স্থলপথভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা চীনের জ্বালানি নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ চালু হলে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি অবকাঠামো আরও পূর্বদিকে বিস্তৃত হবে এবং চীনের বাজারে রুশ গ্যাসের সরবরাহও বাড়বে। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, বিনিয়োগের কাঠামো, মঙ্গোলিয়ার ভূখণ্ড দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির শর্ত।চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও প্রকল্পটির গুরুত্ব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থলপথে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির পরিমাণ বাড়ানো বেইজিংয়ের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিওর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পুতিন ও জিনপিংয়ের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, ইরান, বেলারুশ এবং মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেবেন।এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন ও জিনপিংয়ের বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।এরপর ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রাশিয়া ও চীনের জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এ কারণে বিশকেকে পুতিন-জিনপিংয়ের বৈঠক দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইউরেশিয়ার ভবিষ্যৎ জ্বালানি বাণিজ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।তবে গ্যাসের মূল্য ও সরবরাহের শর্তসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তাই বৈঠকে আলোচনা হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরও সময় প্রয়োজন হতে পারে। তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ৫ ঘন্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৫ বছরের তেল চুক্তি হলেও সার্বভৌমত্ব থাকবে অক্ষুণ্ন: রদ্রিগেজ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি তেল চুক্তি হলেও ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।রদ্রিগেজ বলেন, চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদ উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পরিচালনাগত দক্ষতা কাজে লাগানো হলেও দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ভেনেজুয়েলার কাছেই থাকবে।চুক্তির আওতায় প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলসম্পদ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি খাত সম্প্রসারণের জন্য আটটি নতুন তেল ব্লক উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।রদ্রিগেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে প্রায় ১৯ ডলার ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। এ ব্যবস্থার ফলে বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ২০৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে। তবে প্রকৃত আয় তেলের বাজারমূল্য ও উৎপাদনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে।ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বলেন, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তেলশিল্প পুনর্গঠনের জন্য বিদেশি পুঁজি ও প্রযুক্তির প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ সহযোগিতা গ্রহণের পরও দেশের সম্পদের ওপর ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম অধিকার অটুট থাকবে।এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভেনেজুয়েলার তেল খাত নিয়ে একটি চুক্তির কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শেভরনসহ কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন অনুসন্ধান ও উৎপাদন চুক্তি করার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।তবে তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প ও রদ্রিগেজের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বেশি নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন, সেখানে রদ্রিগেজ স্পষ্ট করেছেন যে ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব দেশের হাতেই থাকবে।২৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে তেলক্ষেত্র উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো আধুনিকায়নে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পকে পুনরায় সক্রিয় করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে কারাকাস।বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। তবে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট, নিষেধাজ্ঞা ও পুরোনো অবকাঠামোর কারণে দেশটির তেল উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে সেই সক্ষমতা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও চুক্তিটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়লে পশ্চিম গোলার্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল সরবরাহের সুযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কৌশলেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে চুক্তিটির সম্পূর্ণ আইনি ও আর্থিক কাঠামো এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের ওপর বিদেশি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে এবং রাষ্ট্রের অংশগ্রহণের পরিমাণ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।রদ্রিগেজের সরকার বলছে, বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির সহায়তায় তেলশিল্প পুনর্গঠন করা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ভেনেজুয়েলার কাছেই থাকবে। তাঁর বক্তব্যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।চুক্তিটি কার্যকর হলে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার সরকারি রাজস্বও বাড়তে পারে। তবে বড় পরিসরের বিনিয়োগ, অবকাঠামো সংস্কার, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি—এসব বিষয় চুক্তির সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তি নিয়ে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের সমর্থকেরা এটিকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা বিদেশি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণের ফলে দেশের কৌশলগত সম্পদের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তুলতে পারেন।তবে রদ্রিগেজ স্পষ্টভাবে বলেছেন, চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি গ্রহণ করা হলেও ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ৫ ঘন্টা আগে

নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে পৌঁছেছে। একই ঘটনায় এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৭৩৪ জন এবং তিব্বতে ১৬ জন মারা গেছেন।চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং এলাকায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে নেপালের ১০৪, ভারতের ৪৯, লাটভিয়ার ৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ এবং যুক্তরাজ্যের ১৫ নাগরিক রয়েছেন।নেপালে মৃতের সংখ্যা ৭৩৪ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২ হাজার ৪৯৮ বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজদের মধ্যে ৩১টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ভারতের ১৭৮, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, ইউক্রেনের ৫৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন।দুর্যোগের পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং নদীর পানি আবারও বাড়ার আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে।নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রোববার সকালে সতর্ক করেছে, রাসুয়া জেলায় ভোতেকোশী নদীর পানির প্রবাহ আরও বেড়েছে। এতে উদ্ধারকারী দলগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দুর্গত এলাকায় কাজের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হলো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার। ত্রিশুলি-৩এ ও ত্রিশুলি-৩বি প্রকল্পের বিভিন্ন টানেলে এখনো শতাধিক মানুষ আটকা থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।শনিবার রাতে নেপাল সেনাবাহিনী ত্রিশুলি-৩এ প্রকল্পের একটি টানেলের ভেতরে ছোট একটি পাইপ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। ওই পাইপের মাধ্যমে টানেলের ভেতরে বাতাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এরপর আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে খননকাজ শুরু এবং উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুঙ জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে বাতাস পাঠানোর পর উদ্ধার অভিযানের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। আটকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।নেপালের অনুরোধের পর চীনও টানেল উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। মোট নয়জন চীনা বিশেষজ্ঞ নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্ধার অভিযানে কারিগরি সহায়তা করছেন। ধসে পড়া ও কাদায় বন্ধ হয়ে যাওয়া টানেলে কীভাবে প্রবেশ করা যায়, তা নির্ধারণে তারা নেপালি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কাজ করছেন।তিব্বতের গিরং সীমান্ত এলাকাতেও বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চলছে। ভূমিধসের জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে গিরং বন্দর সীমান্তচৌকি পর্যন্ত যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন চীনা প্রকৌশলী ও উদ্ধারকারীরা।সীমান্তমুখী সড়কের বিভিন্ন অংশ প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত কাদায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের মাটি পুরোপুরি ধুয়ে গেছে। ভারী যন্ত্রপাতি ও খননযন্ত্র ব্যবহার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।উদ্ধার তৎপরতায় চীন ভারী সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ড্রোন এবং দুর্গম এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। তিব্বতের সামরিক কমান্ডও খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী ও উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে।দুর্যোগের পর ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে একাধিক অস্থায়ী হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হ্রদ ভেঙে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে চীনের জলবিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি বাধা অনেকটাই সরে যাওয়ায় নদীর পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে হ্রদভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমেছে।তবে নতুন করে আরও একটি বড় জলাধার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া হিমবাহের কাছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটারের একটি জলাধার তৈরি হচ্ছে। আশপাশে ঝুলন্ত বরফের স্তরেও ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় ভূমিধস বা আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় চীনের তিব্বত অংশে উদ্ধার অভিযান একপর্যায়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও উদ্ধারকাজ শুরু হয়। গিরং সীমান্তচৌকির কাছে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই গ্রামবাসীকে জীবিত উদ্ধারের খবরও পাওয়া গেছে।নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ নিখোঁজ স্বজনের ছবি নিয়ে হাসপাতালে ঘুরছেন, আবার কেউ নিখোঁজদের তালিকায় আপনজনের নাম খুঁজছেন। অনেক পরিবার এখনো স্বজনদের কোনো খবর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শশীর খানাল জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটির পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ভারী সরঞ্জাম, বিশেষায়িত প্রযুক্তি, মরদেহ শনাক্তকরণ ও সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩১টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি কর্মীরাও রয়েছেন।নেপাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও উদ্ধার তৎপরতায় স্যাটেলাইট এবং নদীর পানির তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা করেছেন। দুর্যোগের পর নতুন ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং উদ্ধারকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হিসেবে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত নেমে আসাকে দায়ী করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর পানির স্তর হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার সড়ক, সেতু, বসতি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এবারের নির্দিষ্ট হিমবাহ ধসের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা কতটা ছিল, তা নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের প্রচেষ্টাও চলছে। নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কার মধ্যে উদ্ধারকারী দলগুলোকে দ্রুততার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হচ্ছে।মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাবের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। উদ্ধার অভিযান এবং তথ্য যাচাই চলমান থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

আন্তর্জাতিক ৫ ঘন্টা আগে

যুদ্ধ চায় না ইরান, তবে আগ্রাসন হলে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ: পেজেশকিয়ান

ইরান যুদ্ধের পক্ষে নয়। তবে কোনো দেশ বা শক্তি আগ্রাসন চালালে সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিরোধে অটল কোনো জাতিকে জোর করে আত্মসমর্পণ করানো সম্ভব নয়।পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি এবং যুদ্ধকে স্বাগতও জানায়নি। কিন্তু কোনো ধরনের আগ্রাসনের শিকার হলে ইরান দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ করবে। কূটনৈতিক উদ্যোগ, জনগণের সমর্থন, সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং সশস্ত্র বাহিনীর আত্মত্যাগ দেশকে শক্তিশালী করছে বলেও জানান তিনি।এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে। ইরানের অনুমোদন ও সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজকে এই জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে বলেও দাবি করেন গারিবাবাদি।তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেই সেটি কার্যকর হবে। গারিবাবাদির দাবি, ওই সমঝোতার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রই লঙ্ঘন করেছে। ফলে তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও ওয়াশিংটনের।যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও আলোচনা শুরুর উদ্যোগে পাকিস্তান ও কাতারের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন গারিবাবাদি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশ দুটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তেহরানের আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং সংঘাত নিরসনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও ওমান একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর বিষয়েও আলোচনা করছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জাহাজ চলাচল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সমন্বয়ের কথা রয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

আন্তর্জাতিক ৫ ঘন্টা আগে

এভাবে চিকিৎসা চললে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’, সন্তান জন্মের পর মা-নবজাতকের মৃত্যু

ভারতের মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর এক নারী ও তার নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে ওই নারীর কান্না ও অসহায় অবস্থার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, মৃত নারীর নাম কল্পনা মিশ্র। তার বয়স ২৫ বছর। প্রথম সন্তান প্রসবের জন্য গত ২৫ আগস্ট রাতে তাকে রেওয়ার সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। এর কিছুক্ষণ পরই কল্পনা ও তার নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়।মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে কল্পনাকে কাঁদতে ও চিৎকার করতে দেখা যায়। তিনি স্বজনদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যেতে চাইছিলেন। এ সময় কয়েকজন নার্স তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করেন।ভিডিওতে কল্পনাকে বলতে শোনা যায়, ‘এভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি বাঁচব না। দয়া করে আমাকে বাঁচান, আমার জীবন ঝুঁকিতে।’পরিবারের অভিযোগ, কল্পনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসকরা বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি। তার বাবা রামশরণ মিশ্র বলেন, মেয়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তাকে দেখার জন্য তিনি চিকিৎসকদের বারবার অনুরোধ করেছিলেন। তবে তার অনুরোধ যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।পরিবারের আরও অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর কল্পনার আর জ্ঞান ফেরেনি। তাকে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে পরিবার।মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানিয়েছেন কল্পনার বাবা। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তিনি।ঘটনার পর কল্পনার স্বজনরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় প্রায় চার ঘণ্টা হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ছিল।পরে হাসপাতালের ডিন সুনীল আগরওয়াল এবং হাসপাতাল সুপার রাহুল মিশ্র ঘটনাস্থলে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর পরিবার মরদেহের ময়নাতদন্তে সম্মতি দেয়।এরপর দায়িত্বে থাকা দুই নার্স সাধনা ভার্মা ও সীমা মুজালদেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনার সার্বিক তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কারও দায় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হাসপাতালের ডিন সুনীল আগরওয়াল বলেন, মা ও শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। পরিবারের পক্ষ থেকে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর কল্পনার কেন জ্ঞান ফেরেনি, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।তবে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ নাকচ করেছেন হাসপাতালের সুপার রাহুল মিশ্র। তার ভাষ্য, চিকিৎসার নিয়ম মেনেই কল্পনাকে সেবা দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। তবে পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।এ ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জনবল সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ২০২৫-২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রায় ৭২ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে।রাজ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৫ হাজার ৪৪৩টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১ হাজার ৪৯৫ জন। অর্থাৎ খালি রয়েছে ৩ হাজার ৯৪৮টি পদ।শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নয়, মেডিকেল অফিসারের পদেও রয়েছে ঘাটতি। ৬ হাজার ৫১৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ২ হাজার ৬৮৯টি পদ শূন্য রয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক

আন্তর্জাতিক ৫ ঘন্টা আগে

ফ্রি প্যালেস্টাইন’ নয়, কাশ্মীর দখলের স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যে দেশবিরোধী রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ভারত একদিন পুনর্দখল করবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।কাশ্মীর প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানের বদলে ‘ফ্রি পিওকে’ (Pakistan-occupied Kashmir) স্লোগান দেওয়া উচিত। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে মিছিলের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, তার প্রশাসন একটি ‘শক্তিশালী ও দেশপ্রেমিক’ সরকার পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ক্যাম্পাসে চলমান কথিত ‘দেশবিরোধী রাজনীতি’ এবং বেছে বেছে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের সমালোচনা করেন শুভেন্দু। এ সময় পুলওয়ামা হামলা ও অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতের সামরিক অভিযান পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।তিনি বলেন, যারা ‘কাশ্মীরের আজাদি চায়’, তাদের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে শোনা উচিত। অপারেশন সিন্দুরের মাধ্যমে ভারতীয় বিমানবাহিনী মাসুদ আজহারের বংশধরদের নিশ্চিহ্ন করেছে। আমরাও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর দখল করব।যাদবপুর ক্যাম্পাসে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব নিয়েও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি আর্টস হোস্টেল এবং কথিত মাওবাদী নেতা কিষাণজির প্রতি সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ধরনের প্রতিবাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘হয় তারা থাকবে, নয়তো আমরা থাকব। যথেষ্ট হয়েছে। এর মাঝামাঝি আর কিছু থাকবে না।’তিনি আরও বলেন, বিজেপি সরকার যেসব শক্তিকে দেশবিরোধী বলে মনে করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা কথিত ‘আজাদি’ স্লোগানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, কলকাতার রাস্তায় যখন ‘আজাদি’র স্লোগান ওঠে, তখন তার কষ্ট হয়। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা কী স্বাধীনতা চাইছেন? দেশ তো বহু আগেই স্বাধীন হয়েছে।’ সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আন্তর্জাতিক ২৯ আগস্ট ২০২৬

ইরান যুদ্ধের কারণে পিট হেগসেথকে অপসারণের দাবি মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের

ইরানে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিচালিত সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন।শনিবার (২৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ আহ্বান জানান তিনি।ইয়াসামিন আনসারি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেআইনিভাবে শুরু করা ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে মার্কিন হামলায় একটি স্কুলে ১২০ শিশু নিহত হয়েছে এবং ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের রেকর্ড সর্বোচ্চ গ্যাসের দাম বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প ও তার ছেলেরা বড় ধরনের আর্থিক লাভ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধে ট্রাম্প কিংবা পিট হেগসেথ—কেউই তাদের কোনো লক্ষ্য পূরণ করতে পারেননি। কোনো কারণ ছাড়াই সেনাসদস্য, শিশু ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।সংকট নিরসনে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে বরখাস্ত অথবা অভিশংসনের দাবি জানান এই কংগ্রেস সদস্য। সূত্র: আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক ২৯ আগস্ট ২০২৬

প্রাণভয়ে অনেকটা গৃহবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন ট্রাম্পের ছোট ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গত দুই বছরে তিনবার হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর তার ২০ বছর বয়সী ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্প অনেকটা ঘরকুনো ও একাকী জীবনযাপন করছেন।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ব্যারন জনসমক্ষে উপস্থিত হওয়া এড়িয়ে চলেন। গ্রীষ্মের বেশিরভাগ সময় তিনি নিউ জার্সির বেডমিনস্টারে অবস্থিত ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে মা মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে কাটিয়েছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ব্যারন খুব একটা বাইরে বের হন না এবং নিজেকে সাধারণ মানুষের নজরের বাইরে রাখতেই পছন্দ করেন।রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডও ব্যারনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। বাবাকে এ ঘটনা জানানোর সময় ব্যারন বলেছিলেন, ‘বাইরে বের হলে এটাই ঘটে।’মেলানিয়া ট্রাম্পের দপ্তর গণমাধ্যমকে ব্যারনের ব্যক্তিগত জীবনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ফার্স্ট লেডি ছেলের এমন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন।সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ব্যারনের গতিবিধি নিয়ে ‘হোয়ার টু কিল ব্যারন ট্রাম্প’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। সেখানে তাকে হত্যার জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণার কথাও বলা হয়। এর আগে মেলানিয়াকে লক্ষ্য করে তৈরি একটি ভিডিওর শেষেও ব্যারনকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছিল, ‘এটি কেবল শুরু, ব্যারন ট্রাম্প আমাদের জন্য অপেক্ষা করো।’সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং বলেন, তারা ব্যারনকে দেওয়া ওই হুমকির বিষয়ে অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করছেন।তবে লেবাননের আল মানার টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসিন রেজাই ব্যারনকে হত্যার এই চক্রান্তের দাবিকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন। সূত্র: এনডিটিভি

আন্তর্জাতিক ২৯ আগস্ট ২০২৬

ইরান তেল রপ্তানি করতে না পারলে অন্যরাও পারবে না: গালিবাফ

ইরান যদি তেল বিক্রি করতে না পারে, তাহলে এ অঞ্চলের অন্য কোনো দেশও তেল বিক্রি করতে পারবে না—এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।মার্কিন সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। তার ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের পুরোনো একটি বার্তা পুনরায় পোস্ট করেন গালিবাফ।তিনি বলেন, এই যুদ্ধের পরিস্থিতি খুবই পরিষ্কার—‘হয় সবাই তেল বিক্রি করবে, নয়তো কেউ পারবে না। যে অঞ্চলে আমরা তেল বিক্রি করতে সক্ষম হব না, সেখানে অন্য কারও পক্ষেও তেল বিক্রি করা সম্ভব হবে না।’হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা মার্কিন বাহিনী সেখানে না থাকার ওপর নির্ভরশীল বলেও উল্লেখ করেন গালিবাফ। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে এ অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।’ সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আন্তর্জাতিক ২৯ আগস্ট ২০২৬

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে কি না, জানাল সৌদি আরব

সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি করতে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, রিয়াদ ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ না দেওয়া পর্যন্ত ওই চুক্তি কার্যকর করা হবে না। তবে সৌদি আরব এ শর্ত মেনে নেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির একটি সরকারি সূত্র।ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের আগে সৌদি আরবকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিটি কার্যকর করা হবে না—এটাই বর্তমানে ওয়াশিংটনের অবস্থান।অন্যদিকে, ইসরাইলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক বক্তব্যে সৌদি আরবের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে রিয়াদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সৌদি আরবের অবস্থান স্পষ্ট এবং দৃঢ় বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।ওই সৌদি সূত্রের ভাষ্য, ১৯৬৭ সালের সীমারেখা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না রিয়াদ।সৌদি সূত্রটি আরও জানিয়েছে, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বের একটি অংশ। ফলে এই কর্মসূচিকে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়। সূত্র: আমার দেশ

আন্তর্জাতিক ২৯ আগস্ট ২০২৬