ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

অস্ত্রের চেয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিস্থাপকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ

কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কেবল সেনাবাহিনী, অস্ত্র কিংবা সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল নয়। সংকট মোকাবিলার সামর্থ্য, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অস্ত্র সীমান্ত সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে একটি রাষ্ট্রের টিকে থাকার সক্ষমতা নির্ভর করে তার সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতার ওপর।জাতীয় স্থিতিস্থাপকতা বলতে কোনো সংকট বা বড় ধরনের আঘাতের মুখে তা সামলে নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করা এবং সংকট তৈরি হওয়ার আগেই মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক প্রয়োজনগুলো সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতাকে বোঝায়।একটি রাষ্ট্রের কাছে সেনাবাহিনী, অর্থ, তেল, ভৌগোলিক সুবিধা ও আন্তর্জাতিক জোট থাকতে পারে। কিন্তু এসব সম্পদ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সংকটের সময়ে সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনগণ কতটা প্রস্তুত—এসব বিষয়ই প্রকৃত শক্তির পরীক্ষা।আধুনিক সময়ে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সামাজিক সচেতনতা, সংকট ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে বাইরের শক্তির জন্য সুযোগে পরিণত হতে না দেওয়ার বিষয়গুলোও যুক্ত হয়েছে।গত কয়েক দশকে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্য, পানি ও জ্বালানির ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও মৌলিক শিল্পের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত উৎপাদননির্ভর ব্যবস্থার বদলে সম্পদনির্ভর কাঠামোর ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে এসব রাষ্ট্রের নিজস্ব সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে।জাতীয় স্থিতিস্থাপকতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার জন্য এমন কার্যকর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যারা সংকটকালেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দক্ষ প্রতিষ্ঠান, সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা এবং দেশের অভ্যন্তরকে সংঘাত বা প্রক্সি লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে না দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করতে আয় ও অর্থনীতির বৈচিত্র্য, পর্যাপ্ত মজুত এবং এমন একটি সরবরাহব্যবস্থা প্রয়োজন, যা সামান্য আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে ভেঙে পড়বে না। একইভাবে সামাজিক স্থিতিস্থাপকতার জন্য দরকার সামাজিক সংহতি, মানুষের পারস্পরিক আস্থা এবং দায়িত্বশীল সমালোচনার সুযোগ।খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও তথ্যকেও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শুষ্ক ও অস্থিতিশীল অঞ্চলে এসব সম্পদের নিরাপত্তার কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। কোনো রাষ্ট্র তার জনগণের খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও তথ্যের ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে না পারলে তার সার্বভৌম সক্ষমতাও পূর্ণাঙ্গ থাকে না।সৌদি আরবের স্থিতিশীলতার পেছনে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, নমনীয়তা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং উত্তেজনা প্রশমনের নীতিও ভূমিকা রেখেছে। শক্তি ধরে রাখার পাশাপাশি কখন সংঘাত এড়িয়ে চলতে হবে, সেটিও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।আরব বিশ্বের হাতে বিপুল প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ রয়েছে। তেল ও গ্যাসের বড় মজুতের পাশাপাশি এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ৫০ কোটির বেশি। এসব সম্পদকে খাদ্য, পানি, জ্বালানি, শিল্প, বিজ্ঞান ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সমন্বিত করা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদি শক্তিতে রূপ নিতে পারে।শুধু অস্ত্রের মজুত বাড়িয়ে কোনো দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, সমাজ, খাদ্য ও পানি ব্যবস্থার পাশাপাশি জনগণের সক্ষমতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শান্তির সময়ে যে স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলা হয় না, সংকটের মুহূর্তে তা হঠাৎ করে তৈরি করা সম্ভব নয়। সূত্র: আরব নিউজ

আন্তর্জাতিক ০৭ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। এডেন নিরাপত্তা বিভাগের গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, এ হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিক্ষেপ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বদর সেন্টারে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি ইউনিটের ওপর আঘাত হানে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন পার্শ্ববর্তী কোনো এলাকা থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ছোড়া হয়েছিল।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অপর ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানবন্দরের রানওয়ের একেবারে কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানে। বিস্ফোরণের শব্দ এডেন শহরের উপকণ্ঠ থেকেও শোনা যায়। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই ইন্টারসেপ্টর ছোড়ার শব্দও শোনা গেছে। সূত্র: আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক ০৭ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, হাইস্কুলের ক্লাস স্থগিত

শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে ফ্রান্সজুড়ে চলতি সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে হাইস্কুলের ক্লাস স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তবে বিক্ষোভের আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লাখ। হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের সংগঠন জানিয়েছে, প্রায় দুই হাজার উচ্চবিদ্যালয় অবরুদ্ধ অথবা বন্ধ ছিল।বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত নিয়োগ, মধ্যাহ্ন বিরতির সময় বাড়ানো, স্কুলের দৈনিক সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। রাজধানী প্যারিসের পাশাপাশি মার্সেই, নঁত, লিওঁ, স্ট্রাসবুর্গ ও রেঁনেতেও বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে কিছু বিক্ষোভকারী আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেছে।ফ্রান্স সরকার জানিয়েছে, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে কয়েকটি এলাকায় সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো পর্যালোচনা করে অক্টোবরের শেষ নাগাদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর প্রায় ছয় হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়াদের অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। এ ছাড়া এক হাজার ৮০০-এর বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। সংঘর্ষে অন্তত ২১৫ কিশোর এবং ৭১৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।এদিকে, সোমবার লেন্স শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই কিশোর একটি পুলিশ গ্রেনেড তুলে নেওয়ার পর ঘটনাটি ঘটে। সূত্র: আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক ০৭ অক্টোবর ২০২৬

রক্ত দিয়ে জাতীয় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন সৌদি যুবরাজ

নিজে রক্তদান করে সৌদি আরবের ২০২৬ সালের বার্ষিক জাতীয় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন দেশটির যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। মঙ্গলবার তিনি রক্তদান করেন। এর মাধ্যমে স্বেচ্ছায় রক্তদানে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।যুবরাজের এ উদ্যোগ মানবিক কর্মকাণ্ড, জনস্বাস্থ্য এবং স্বেচ্ছাসেবার সংস্কৃতি বিকাশের প্রতি তার সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রক্তদানের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হলো নিয়মিত ও স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করা এবং রক্ত ও রক্তের উপাদানের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করাও কর্মসূচিটির অন্যতম লক্ষ্য।সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগী, ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি, বিভিন্ন রক্তরোগে ভুগছেন এমন রোগী এবং সংকটাপন্ন মানুষের চিকিৎসায় রক্তের প্রয়োজন হয়। স্বেচ্ছায় রক্তদানের পরিমাণ বাড়ানো গেলে হাসপাতাল ও রক্তব্যাংকগুলোতে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সৌদি আরবে রক্তদাতার সংখ্যা ৯ লাখের বেশি হয়েছে। দেশটিতে স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংস্কৃতি সম্প্রসারণে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।২০২৫ সালের জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতেও উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়। ওই কর্মসূচিতে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ রক্তদান করেন। দেশটির রক্তব্যাংকের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের অন্যতম দৃষ্টান্ত। অংশগ্রহণকারীদের ৮৫ শতাংশের বেশি ছিলেন প্রথমবার রক্তদানকারী। কর্মসূচির আওতায় ৬৩ হাজারের বেশি ইউনিট রক্ত, ১০ হাজার ইউনিট প্লাটিলেট এবং ১০ হাজার ইউনিট প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়।সৌদি সরকারের স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার উদ্যোগ এবং ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেও জাতীয় রক্তদান কর্মসূচির সামঞ্জস্য রয়েছে। স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার বাড়িয়ে হাসপাতালগুলোর জন্য নিরাপদ ও টেকসই রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করাই দেশটির লক্ষ্য। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্তদানে মানুষকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: আরব নিউজ ও সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)

আন্তর্জাতিক ০৭ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে মুসলমানরা: ট্রাম্প

ফ্রান্সে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে গণঅভিবাসনের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে মুসলমানরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।মঙ্গলবার ফ্রান্সজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু প্যারিসেই বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬ হাজার। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীরা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্কুল অবরোধ এবং ক্লাস বর্জন করে আসছেন।প্যারিসে বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।কিশোরদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, লাঠি এবং অন্যান্য দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ব্যবহারের ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার পুলিশের স্টান গ্রেনেডের ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।প্রায় সব ক্ষেত্রেই পুলিশ পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে তখনই হস্তক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো শুনে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্কুলের আশপাশে সংঘটিত সহিংসতারও নিন্দা করেছেন তিনি।এদিকে, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্রান্সের রাজনীতিতে বিক্ষোভটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে। শিক্ষা খাতে অর্থসংকটের পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধি, দারিদ্র্য এবং আয়বৈষম্য নিয়েও দেশটিতে অসন্তোষ বাড়ছে। সূত্র: আমার দেশ

আন্তর্জাতিক ০৭ অক্টোবর ২০২৬

ভোট চুরির মাধ্যমে ভারতকে দখল করা হয়েছে, কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে ভারত ও দেশটির গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দখলের অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ ঘটনায় জড়িত কেউ জবাবদিহি থেকে রেহাই পাবেন না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে বিরোধী দলগুলোর মিছিল আটকে দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি, অমিত শাহ ও মোহন ভাগবতকে সহযোগিতা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন।রাহুল গান্ধীর দাবি, ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে ভারতের গণতন্ত্রকে দুর্বল করা হয়েছে। এ ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কেউই জবাবদিহি এড়িয়ে যেতে পারবেন না বলে জানান তিনি। বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ শব্দটিও ব্যবহার করেন।এদিন ভারতের বিরোধী জোটের প্রায় ৩০০ সংসদ সদস্য পার্লামেন্ট থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের উদ্দেশে মিছিল বের করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা। তবে দিল্লি পুলিশ নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছাকাছি গিয়ে মিছিলটি আটকে দেয়। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতা সেখানে অবস্থান নেন।পরে পুলিশ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং আরও কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে। কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের আটক করা হয়েছিল।বিরোধীদের আন্দোলনের প্রধান বিষয় ভারতের ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ছে। এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাব চেয়েছে। বিশেষ করে ভোটার নিবন্ধনের ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন আনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, মূল আইনগত ফর্মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি; এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অতিরিক্ত একটি ঘোষণা যুক্ত করা হয়েছিল।এর আগে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন, ভোটার তালিকা থেকে একজনের নামও বাদ দেওয়া হলে তিনি সেটিকে ‘ভোট চুরি’ হিসেবে বিবেচনা করেন। গত সপ্তাহে দিল্লির একটি বস্তি এলাকায় গিয়ে তিনি দাবি করেন, সেখানে ৭২৯ ভোটারের মধ্যে ৭২৮ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এসব মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ওই এলাকায় বসবাস করলেও নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি রাহুল গান্ধীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে। কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো আইনগতভাবেই কার্যকর রয়েছে। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।এ পরিস্থিতিতে ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টিকে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপির দাবি, পুরো প্রক্রিয়াই আইনসম্মত। বিষয়টি বর্তমানে রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার মধ্যেও রয়েছে। সূত্র: মুসলিম মিরর, রয়টার্স ও দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আন্তর্জাতিক ০৭ অক্টোবর ২০২৬

যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে অবশ্যই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমাতে হবে: ভ্যান্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হলে তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ‘অর্থবহভাবে’ কমাতে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সমৃদ্ধকরণ কমানোর শুধু প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; ইরানকে এ বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।ভ্যান্সের ভাষ্য, ইরানের যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে দেশটির ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের প্রয়োজন নেই। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র শুধু কথার ওপর নির্ভর না করে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায় বলেও জানান তিনি।সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।ভ্যান্স আরও জানান, ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ওয়াশিংটন এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করলেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের প্রকৃত ক্ষমতা কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণব্যবস্থা সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা যথেষ্ট অবগত। তাঁর মতে, সমস্যাটি ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণব্যবস্থায় নয়; বরং মার্কিন কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও বার্তায়।ভ্যান্স বলেন, চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতি মাসে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী হবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স জানান, এ বিষয়ে তিনি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। সূত্র: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ০৭ অক্টোবর ২০২৬

লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো নিয়ে নিতে পারে ইরান, বললেন ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগোকে ইরানের হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং দুই শহরের মেয়র ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বেপরোয়া’, ‘বিপজ্জনক’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।সোমবার রাতে নেব্রাস্কার গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন ট্রাম্প। সেখানে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ‘বড় জয়’ পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে পণ্যের দাম বাড়ার প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার জন্য এই মূল্য পরিশোধ করা ‘ছোট ব্যাপার’।এরপর ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি শহর ধ্বংস করে দিতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেসকে ধ্বংস করতে দিন। সান দিয়েগোকেও ধ্বংস করতে দিন।’ এ বক্তব্য দেওয়ার সময় সমাবেশে উপস্থিত তাঁর সমর্থকেরা করতালি দেন। পরে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে’।ট্রাম্পের মন্তব্যের পরপরই প্রতিক্রিয়া জানান ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এর আগে ট্রাম্প ক্যালিফোর্নিয়ায় ন্যাশনাল গার্ড ও মেরিন সেনা পাঠিয়ে রাজ্যটিতে দখলের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। এখন তিনি বিদেশি শত্রুদের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো ‘ধ্বংস করে দিতে’ বলছেন।নিউজম ট্রাম্পকে ‘বিভ্রান্ত ও বিপজ্জনক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুই শহরের ১ কোটির বেশি মার্কিন নাগরিকের ওপর হামলার পক্ষে প্রেসিডেন্ট কথা বলছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এটি স্বাভাবিক নয়। এর কোনোটিই স্বাভাবিক নয়।’লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাসও ট্রাম্পের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেশের নাগরিকদের নিরাপদ রাখা; তাদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া কিংবা মার্কিন নাগরিকদের ওপর হামলাকে উৎসাহিত করা নয়। ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন হুমকি’ আখ্যা দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, এমন মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটির নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।সান দিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়াও ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, ইরানের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধে সান দিয়েগো কোনো ‘সহযোগী ক্ষতি’ নয় এবং শহরের বাসিন্দারাও কোনোভাবেই বিসর্জনযোগ্য নন। ট্রাম্পের ‘বেপরোয়া যুদ্ধের বক্তব্য’ থেকে সান দিয়েগোকে দূরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম বৃহত্তম শহর সান দিয়েগোতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো রয়েছে।ট্রাম্পের প্রায় দেড় ঘণ্টার দীর্ঘ বক্তব্যের ওই অংশ নিয়ে অনলাইনেও ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ট্রাম্প নীল বা ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত দুটি শহর নিয়ে কৌতুক করেছেন কি না, নাকি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্য সম্পর্কে কোনো গোপন তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ করেছেন।তবে কিছু রক্ষণশীল কর্মী দাবি করেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের ভিন্ন অর্থ থাকতে পারে। তাদের মতে, ‘ছোট মূল্য’ বলতে তিনি জ্বালানির উচ্চমূল্য বোঝাতে চেয়েছেন; ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শহর ধ্বংস করার সক্ষমতার কথা তিনি বলেননি।এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, বর্তমানে ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই।তবে অতীতেও ট্রাম্প ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হলে তা মার্কিন শহরগুলোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিজের সর্বশেষ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, যা ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।নেব্রাস্কায় ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। রাজ্যটির সিনেট নির্বাচন প্রত্যাশার তুলনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠায় রিপাবলিকানদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সমাবেশে ট্রাম্প নিজেকে ‘দারুণ অবস্থায়’ আছেন বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় সমর্থকদের এমনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান, যেন ব্যালটে তাঁর নিজের নামও রয়েছে।অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান গভর্নর প্রার্থী স্টিভ হিলটন নির্বাচনে চমক দেখানোর চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মন্তব্য রাজ্যটিতে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর প্রার্থী জেভিয়ার বেসেরাও ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান দিয়েগো কাউন্টিতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ক্যালিফোর্নিয়াবাসী বসবাস করেন। তাদের জীবন কোনোভাবেই ‘ছোট মূল্য’ নয় এবং তাদের জীবন নিয়ে প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যকে কোনোভাবেই কৌতুক হিসেবে দেখা যায় না। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আন্তর্জাতিক ০৭ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের এডেন বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। এডেন নিরাপত্তা বিভাগের গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র দুটির একটি বদর সেন্টারে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের একটি ইউনিটের ওপর আঘাত হানে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন পার্শ্ববর্তী কোনো এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ছোড়া হয়েছিল।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অপর ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানবন্দরের রানওয়ের খুব কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানে। বিস্ফোরণের শব্দ এডেন শহরের উপকণ্ঠ থেকেও শোনা যায়। হামলার পরপরই ইন্টারসেপ্টর ছোড়ার শব্দও শোনা গেছে। সূত্র: আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক ০৭ অক্টোবর ২০২৬

এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নাকি মানুষই এআইয়ের নিয়ন্ত্রণে যাবে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং মানুষের কাজে ব্যবহারের একটি প্রযুক্তি হিসেবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে এর সম্ভাব্য ঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তিটির অগ্রগতি পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া যেমন কোনো সমাধান নয়, তেমনি যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এর ব্যবহার বাড়িয়ে যাওয়াও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।এ ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে কে জয়ী হবে, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো—মানুষ কীভাবে যন্ত্রের সক্ষমতাকে কাজে লাগাবে এবং একই সঙ্গে যে সমাজের কল্যাণের জন্য এসব প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে, সেই সমাজের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বজায় থাকবে।এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে বর্তমানে দুটি বিপরীত ধারণা দেখা যাচ্ছে। একটি পক্ষ মনে করে, এআই মানবজাতির প্রায় সব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ এটিকে সামাজিক কাঠামো ও মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এই দুই চরম অবস্থানের বাইরে গিয়ে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল ও ঝুঁকি—দুটিকেই বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন লেখক।প্রযুক্তি নিজে ভালো কিংবা খারাপ নয়। এটি কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে, কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে—তার ওপরই এর প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। এসব প্রযুক্তি মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে, তবে সেই পরিবর্তনের সবগুলো ইতিবাচক ছিল না।এআইয়ের প্রভাব এরই মধ্যে কর্মক্ষেত্রেও দৃশ্যমান হচ্ছে। নথি যাচাই, ই-মেইল লেখা কিংবা বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা তৈরির মতো কাজ এআই করতে সক্ষম হলে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে। এর প্রভাব শুধু বেকারত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মানুষের আয়, আত্মমর্যাদা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে মানুষ নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে করলে অসন্তোষ ও সামাজিক ক্ষোভ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।তবে এআইয়ের সম্ভাব্য ইতিবাচক দিকও রয়েছে। চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এটি চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হলে মানুষের জীবন রক্ষা করা যেতে পারে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ভুলের পরিমাণও কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।তবে এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে আসে। এআই মানুষের ভুল কমাতে সক্ষম হলেও মানুষের বিচারবোধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যদি সম্পূর্ণভাবে যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায়ভার কার ওপর বর্তাবে—তা সবসময় সহজে নির্ধারণ করা সম্ভব নাও হতে পারে।এআইয়ের অন্যতম বড় ঝুঁকি হলো ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হওয়া। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় দ্রুত ও কম খরচে, অনেক ক্ষেত্রে পরিচয় গোপন রেখেও ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। এর ফলে সত্য তথ্য এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্যের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং নজরদারি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।এআই ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্নগুলোর একটি সামরিক ক্ষেত্রকে ঘিরে। যুদ্ধকে আরও নির্ভুল করা এবং বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ক্ষেত্রে এআই সহায়ক হতে পারে। কিন্তু স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থায় মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কমে গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিতে পারে। কোনো যন্ত্র নিজস্ব সিদ্ধান্তে কাউকে হত্যা করলে সেই সিদ্ধান্তের দায় কার—প্রোগ্রামার, সেনা কমান্ডার, অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নাকি রাষ্ট্র—এ প্রশ্ন সামনে আসবে।এআইয়ের কারণে আন্তর্জাতিক সংঘাত আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সংকটের সময় এক পক্ষের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যদি অন্য পক্ষের ব্যবস্থার জবাব দিতে শুরু করে, তাহলে মানুষের বিচার-বিবেচনা প্রয়োগের সুযোগ কমে যেতে পারে।এসব ঝুঁকি মোকাবিলার অর্থ এআই নিয়ে গবেষণা বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং সমাজকে বোঝার ও প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে—কোথায় এআই ব্যবহার করা উচিত, কোথায় এর ব্যবহার করা উচিত নয় এবং কী গতিতে এর ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হবে। এআইয়ের বিকাশের পাশাপাশি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় নীতিমালা এবং মানবিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মানুষ বনাম যন্ত্রের কোনো লড়াই নয়। আসল প্রশ্ন হলো—মানুষ কি যন্ত্রের শক্তিকে নিজের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারবে, নাকি কোনো একসময় যন্ত্র মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে। এআইকে মানুষের হাতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ধরে রাখাই ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। লেখক: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো। সূত্র: আরব নিউজ

আন্তর্জাতিক ০৭ অক্টোবর ২০২৬