ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া জোরদারে বিএসএফকে ১ হাজার একরের বেশি জমি হস্তান্তর

সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে এক হাজার একরেরও বেশি জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকারের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই সীমান্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা হয়েছে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিএসএফের অনুকূলে ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করা তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে অবকাঠামো নির্মাণে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়।রাজ্য সরকারের তথ্যমতে, সীমান্তবর্তী নয়টি জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩৩৭ একর জমি বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার সীমান্তে নতুন বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি জেলায় তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।সরকারের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তে নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বড় অংশ ইতোমধ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজও দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নও আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে, রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় সীমান্ত নিরাপত্তাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছিল বিজেপি। দলটির অভিযোগ ছিল, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরে বিলম্ব হওয়ায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বিএসএফকে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই নয়, সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপদ জীবন ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক ২০ ঘন্টা আগে

নিউইয়র্কে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৭তম গ্রন্থালোচনা সভা

কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে বাংলা সাহিত্যচর্চায় প্রবাসী লেখক-সাহিত্যিকদের প্রাণবন্ত মিলনমেলাপ্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নিউইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লেখকের অঙ্গন’-এর ২৭তম গ্রন্থালোচনা সভা। গত শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) আয়োজিত এ সাহিত্যসভায় প্রবাসী কবি, লেখক, সাহিত্যিক, গবেষক ও পাঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।প্রয়াত কবি শহীদ কাদরী-র সাহিত্যভাবনা ধারণ করে তাঁর সহধর্মিণী এবং ‘লেখকের অঙ্গন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নীরা কাদরী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা সাহিত্যচর্চার একটি সৃজনশীল ও প্রাণবন্ত পরিসর গড়ে তুলেছেন। তাঁর উদ্যোগে নবীন ও প্রবীণ লেখকদের মধ্যে বইপাঠ, গ্রন্থালোচনা এবং সাহিত্যবিষয়ক মুক্ত মতবিনিময়ের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে একটি অনন্য সাহিত্যিক সেতুবন্ধন, যা প্রবাসে বাংলা সাহিত্য বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।অনুষ্ঠানের শুরুতে কবি ও সাবেক ব্যাংকার মহিবুর রহমান জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর ‘গল্পসমগ্র’ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের গল্পে সাধারণ মানুষের জীবন, সুখ-দুঃখ, প্রেম, সম্পর্ক ও মানবিক অনুভূতির অসাধারণ শিল্পরূপ ফুটে উঠেছে। তাঁর সহজ অথচ শক্তিশালী ভাষা এবং জীবন্ত চরিত্র নির্মাণ বাংলা কথাসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।এরপর কবি ও সাহিত্যিক এবিএম সালেহউদ্দিন প্রয়াত সিরাজুল হক-এর ‘বেদনার তিমিরে’ গ্রন্থের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি গ্রন্থটিকে গভীর জীবনবোধ, মানবিক অনুভূতি এবং আত্মঅনুসন্ধানের এক অনন্য সাহিত্যকর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।কবি ও লেখক সুরীত বড়ুয়া বিশ্বখ্যাত উর্দু সাহিত্যিক সাদাত হাসান মান্টো-র ‘কালো সীমানা’ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশভাগ, সাম্প্রদায়িকতা, সহিংসতা এবং মানবিক বিপর্যয়ের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরতে মান্টোর সাহসী ও নির্ভীক লেখনী আজও সমান প্রাসঙ্গিক।বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হাসান ফেরদৌস আব্দুল্লাহ জাহিদ-এর ‘আমেরিকায় রবীন্দ্রনাথ’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর মতে, বইটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, দর্শন ও চিন্তার আন্তর্জাতিক প্রভাবকে গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছে এবং রবীন্দ্রগবেষণায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।লেখক ওবায়দুল্লাহ মামুন বেবী হালদার-এর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আলো আঁধারি’ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সংগ্রাম, আত্মমর্যাদা, বৈষম্য ও আত্মপ্রতিষ্ঠার বাস্তব জীবনচিত্র এই গ্রন্থকে বাংলা সাহিত্যে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থানে নিয়ে গেছে।সবশেষে লেখক ও গবেষক আহমাদ মাযহার ‘আব্দুল হক জন্মশতবর্ষ স্মারক গ্রন্থ’ (সম্পাদক: সৈয়দ আজিজুল হক ও মোবারক হোসেন) নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক আব্দুল হকের জীবন, কর্ম, সাহিত্যভাবনা ও অবদানকে ধারণ করে গ্রন্থটি একটি মূল্যবান প্রামাণ্য সংকলনে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানে লেখিকা রানু ফেরদৌস, শৈবালসহ প্রবাসী সাহিত্যাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে নীরা কাদরী কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির ম্যানেজার শান্তে গেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও বাংলা সাহিত্যচর্চার এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক ২১ ঘন্টা আগে