পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এনামুল হক আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, রোববার বাদ জোহর রাজারবাগে এনামুল হকের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।এনামুল হক ১৯৯১ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯২ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইন কমিশনের সদস্য ছিলেন।দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।লেখক অনামিকা হক লিলি ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী। তাঁদের সংসারে এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সন্তান এনামুল হকের ভাতিজা রেহান আসিফ আসাদ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এনামুল হকের ভাই ব্যারিস্টার আমিনুল হক ২০০১ সালে খালেদা জিয়া সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর আরেক ভাই এবং আসাদের বাবা আসাদুজ্জামান বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ছিলেন।
সংসদে গুম প্রতিরোধ আইন উত্থাপনের সময় ওয়াকআউটের ঘটনাকে ‘সুস্থ ধারার রাজনীতি’ বলা যায় কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।আইনমন্ত্রী দাবি করেছেন, গত ছয় মাসে দেশে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় গুমের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে মোংলায় মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।আইনমন্ত্রী বলেন, গুমসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে। তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। বিচারপ্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতিতে চললেও তা অনেকটা এগিয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, সরকার এমন কোনো বিচার করতে চায় না, যা তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন করা হয়েছে—এমন প্রশ্ন ওঠে কিংবা ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়। লোক দেখানো বা প্রশ্নবিদ্ধ বিচার নয়; যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।আইনমন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রীয় গুমের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মোংলায় মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগটি স্বাধীনভাবে তদন্তের আওতায় রয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সরকার আইনি সহায়তা দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কেউ গুমের শিকার না হন, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এবং প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ ছাড়া গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তি এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন। সূত্র: বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ
২০১৫ সালে গুমের শিকার হওয়ার পর ৬১ দিন বন্দি থাকা এবং পরবর্তী প্রায় নয় বছর ভারতের মেঘালয়ে নির্বাসিত জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভাটির প্রতিপাদ্য ছিল—‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’।বক্তব্যের একপর্যায়ে ভারতে একটি মানসিক হাসপাতালে কাটানো সময়ের কথা স্মরণ করে কেঁদে ফেলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমি বিদেশের মাটিতে পাগল অবস্থায় মারা যাব, আমার পরিবার হয়তো আমার কবরও দেখতে পারবে না—এমন ভয়ও পেয়েছিলাম।’নিজের গুমের সময়ের বন্দিজীবনের কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজধানীর উত্তরা থেকে অপহরণের পর তাকে প্রায় আট ফুট লম্বা ও চার ফুট প্রশস্ত একটি অন্ধকার, সংকীর্ণ কক্ষে ৬১ দিন রাখা হয়েছিল। কক্ষটিতে ছিল একটি পানির কল এবং শৌচকার্যের জন্য নর্দমার সঙ্গে সংযুক্ত একটি সরু ছিদ্র। দুর্গন্ধ ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মেঝেতে একটি কম্বল ও বালিশ ব্যবহার করেই তাকে থাকতে হতো।তার ভাষ্য, কক্ষের দরজার ওপর থাকা সামান্য ফাঁক দিয়ে যে বাতাস ঢুকত, সেটিই ছিল তার জন্য একমাত্র স্বস্তি। দরজার বাইরে একটি বৈদ্যুতিক পাখা সারাক্ষণ চালু রাখা হতো। হৃদরোগে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও বন্দি অবস্থায় তিনি কোনো চিকিৎসা পাননি। অসুস্থ হয়ে পড়লে একপর্যায়ে চোখ বেঁধে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।ভারতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও বর্ণনা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, চোখ বাঁধা অবস্থায় প্রথমে মাইক্রোবাসে এবং পরে গভীর রাতে জিপে করে তাকে অজ্ঞাত একটি স্থানে নেওয়া হয়। দীর্ঘ যাত্রার পর হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থাতেই তাকে চামচ দিয়ে নুডলস খেতে দেওয়া হয়েছিল।বন্দি থাকায় বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তার পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এমনকি মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কামরুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবরও তিনি জানতেন না। বিষয়টি জানার পর জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাও বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।পরে ভোরের দিকে একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে অপহরণকারীরা মুখ ঢেকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। এরপর একটি বিলবোর্ড দেখতে পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং এলাকায় রয়েছেন।স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে একটি বেসামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্দেহে একটি মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মানসিক রোগীদের সঙ্গে তাকে রাখা হতো এবং জোর করে মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানো হতো বলে জানান তিনি। এমনকি তার চশমাও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।দাড়ি ও চুল কেটে দেওয়ার পর নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলার আশঙ্কায় তিনি আরও ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকেই তার স্ত্রীর ফোন আসে। ফোনে স্ত্রীর কান্নার শব্দ শুনে তিনি বুঝতে পারেন, তার পরিবার তার জীবিত থাকার খবর পেয়েছে।পরে সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় সাংবাদিকদের টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে নিজের পরিচয় জানিয়ে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘ইয়েস, আই অ্যাম সালাহউদ্দিন’।ভারতে অবস্থানকালে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর শিলংয়ের নিম্ন আদালত এবং ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিল আদালত তাকে খালাস দেন।ভারতে অবস্থানকালেই বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে সালাহউদ্দিন আহমদকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় নয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে তিনি বাংলাদেশে ফেরেন।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান হওয়ায় ভারত থেকে আমি দেশে ফিরতে পেরেছি। যারা জুলাই যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একান্ত সচিবের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০১ সালে কক্সবাজার থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দলটির আন্দোলন পরিচালনার সময় ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনা নিয়ে সে সময় বিএনপি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। সূত্র: দৈনিক জনবানী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স অন্যতম ভয়াবহ অপরাধ। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্তের আওতায় এনে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাঁর বাণীটি প্রকাশ করা হয়েছে।বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানান।তিনি বলেন, গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের সবচেয়ে গুরুতর লঙ্ঘনগুলোর একটি। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপ্রবণ এলাকায় এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। অনেক সময় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী অথবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের দমনে এমন নির্মম ও নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করে।প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম ও অপহরণের অমানবিক কৌশল গ্রহণ করেছিল। গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর আটকে রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট আমলের এসব গোপন বন্দিশালা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি লাভ করে।দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কাজে লাগিয়ে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক হিসেবে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স প্রতিরোধে একটি পৃথক আইনি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও সংসদে উত্থাপিত হয়েছে।সরকার আশা করছে, উত্থাপিত বিলগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম বা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধে জড়ানোর সুযোগ পাবে না।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গুম বা অপহরণকে শুধু একটি পরিসংখ্যান কিংবা একজন মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বোঝা যায় না। এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও আকাঙ্ক্ষাও ধ্বংস হয়ে যায়। পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় থমকে যায়। গুম হওয়া স্বজনের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো এমন এক অনিশ্চিত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে দিন কাটায়, যার কোনো সমাপ্তি নেই এবং স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যক্রমে কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, রাষ্ট্র বা সরকারের মাধ্যমে সংঘটিত গুম কিংবা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে সচেতন রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভিকটিমস ফার্স্ট, অ্যাকশনস নাউ’। গুমের মতো মনুষ্যত্বহীন অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্ববাসীর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দেশে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা কিংবা রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বাগেরহাটের মোংলায় নিখোঁজ মিরাজ শেখের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে বনদস্যুদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা এবং তাদের নিজেদের মধ্যকার বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।মিরাজ শেখকে গুম করা হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিরাজ শেখের রেকর্ডও সেই রকম। তার বাবা ও দাদার রেকর্ডও একই রকম। এ বিষয়ে এর বেশি বিস্তারিত আর বলতে চাই না।’শনিবার রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে অতীতে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে বা তাদের সন্ধান পেতে চাই আইন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানবাধিকার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেবল কমিশন গঠন করলেই গুমের সমস্যার সমাধান হবে না। প্রতিটি ভুক্তভোগী যেন আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিচার ও প্রতিকার পেতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ করা হয়েছে। এ আইনে গুমের সংজ্ঞা, অপরাধের ধরন, শাস্তি এবং তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।আইনের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় ফিরে না এলে তার উত্তরাধিকারীরা যেন সম্পত্তির অধিকার পান এবং পরিবার পরিচালনা করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও আইনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে।দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার প্রস্তাবও আইনে রয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।আইনটি নিয়ে কারও পরামর্শ কিংবা সংশোধনের প্রস্তাব থাকলে তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন পক্ষ, জাতিসংঘের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মিশন এবং মানবাধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আইনটি সংশোধন করা যাবে।জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনটিও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কারে কাজ করছে। বাহিনীগুলোর মনোবল ও পেশাদারত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি শাস্তি ও পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনী, গোয়েন্দা সহায়তা এবং সাইবার গোয়েন্দা সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাহিনীর ক্ষেত্রে মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অনুষ্ঠানে মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন গুমসংক্রান্ত সাবেক তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন। তিনি বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়েছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল তথ্যও যাচাই করা হয়েছে।নূর খান লিটন বলেন, সবকিছু পর্যালোচনা করে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা দেখতে পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং অভিযোগ অস্বীকার করতে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ ও সাক্ষীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।অতীতে গুমের শিকার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে নূর খান লিটন বলেন, গুমের শিকার একজন ব্যক্তি প্রতিটি মুহূর্ত অনিশ্চয়তা ও মৃত্যুভয়ের মধ্যে কাটান। রাজনৈতিক কারণে তাদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য সেই কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।নতুন আইন প্রসঙ্গে নূর খান বলেন, গুমের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের দায়িত্ব কোনোভাবেই অভিযুক্ত বাহিনীর অধীনে থাকা উচিত নয়। মানবাধিকার কমিশনের অধীনে, পুলিশের বাইরে কোনো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো স্বতন্ত্র ব্যবস্থায় তদন্ত পরিচালনা করতে হবে।মিরাজ শেখের ঘটনায় পুলিশ ও কোস্টগার্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আগে গুমের শিকার পরিবারগুলো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটালেও এখন তারা সম্মানের সঙ্গে দিবসটি পালন করছেন। বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক মানের গুমবিরোধী এবং মানবাধিকার কমিশন আইন করেছে। এতে কোনো ফাঁকফোকর রাখা হয়নি।তিনি বলেন, প্রধান মাস্টারমাইন্ডরা কারাগারে রয়েছে। সঠিক বিচারের মাধ্যমে গুমের এই সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান হবে।সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান অভিযোগ করেন, নতুন গুমবিরোধী আইনের ১৪, ১৯ ও ২১ নম্বর ধারা স্বাধীন তদন্তের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি অবিলম্বে এসব ধারা বাদ দেওয়ার দাবি জানান।গুমের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে পর্যাপ্ত তহবিল ও জনবল নিশ্চিত করার কথাও বলেন আহমাদ বিন কাসেম। পাশাপাশি গুমের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সম্মানজনক অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদেরও নানা ধরনের হয়রানি ও বঞ্চনার মুখে পড়তে হয়েছে। তাদের চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং শিক্ষার সুযোগও বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এমনকি তাদের ব্যাংক হিসাব নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।তিনি বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাদের ভয় দেখানো হয়েছে। এখন প্রস্তাবিত আইনে গুমের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র তদন্তব্যবস্থা রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।নিখোঁজ বাবা পারভেজ হোসেনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মেয়ে আদিবা ইসলাম। তিনি বলেন, তার বাবার শেষ পরিণতি কী হয়েছে, সেটি তারা জানতে চান। বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। বাবা কোথায় আছেন, কেমন আছেন—কোনোটিই তারা জানেন না।তিনি বলেন, দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে করতে তারা ক্লান্ত। এভাবে অপেক্ষা ও কান্নার মধ্যে আর থাকতে চান না তারা। বাবার বিষয়ে দ্রুত একটি জবাব চান তারা।অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের হিউম্যান রাইটস অফিসার জাহিদ হোসেন, নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসান এবং গুমের শিকার বিভিন্ন ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা।আলোচনা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে ‘বলপূর্বক অন্তর্ধান’ নিয়ে একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’। ‘যতদিন না তারা ফিরছে’ শিরোনামের এ প্রদর্শনীর সমন্বয় করে নেত্র নিউজ। সূত্র: সুখবর
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে।শনিবার (২৯ আগস্ট) কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।সাংবাদিক ইউনিয়ন, কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সভায় বক্তব্য দেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম আমিনুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি, সহ-সভাপতি কামাল হোসেন আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী টিপু, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর।বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, মুক্ত ও স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার সুযোগ না থাকলে দেশ ও গণতন্ত্রের অগ্রগতি সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের সুরক্ষা এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।কাদের গনি চৌধুরী বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সাংবাদিকরা বর্তমানে বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন। তবে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ এখনো শেষ হয়নি। বিভিন্ন কারণে দেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক চাপ ও পেশাগত অনিরাপত্তার কারণে অনেক সাংবাদিক স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।বিএফইউজের মহাসচিব আরও বলেন, সাংবাদিকদের কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপ যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তেমনি অপসাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতার ঘাটতিও বড় সমস্যা। পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকেও কখনো এমন চাপ আসে, যা সাংবাদিকদের নৈতিক অবস্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য করতে পারে।দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য নিরাপত্তার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, ভালো কর্মপরিবেশ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অধিকাংশ গণমাধ্যম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেয় না। অনেক প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের বেতন মালিকের গাড়িচালকের বেতনের চেয়েও কম। এসব পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। সরকারকে ‘নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এ নীতি কার্যকর হলে গণমাধ্যমের ভেতরের অনেক অনিয়ম দূর করা সম্ভব হবে।কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা কেবল চাকরি নয়। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা, সব ধর্ম-বর্ণ ও গোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত এবং বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যমের কণ্ঠ দুর্বল হয়ে পড়লে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়।তিনি বলেন, সাংবাদিকতা স্বাধীন ও শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্র এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা কঠিন। বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগের পাশাপাশি স্বাধীন গণমাধ্যমের সুরক্ষার কথাও আলাদাভাবে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নিয়মিত মামলা, নির্যাতন ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন।সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক ইউনিয়নের এই নেতা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা সরকারকে সত্য ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করার সুযোগও সরকারের রয়েছে।তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে দেখা হয়। সেই বিবেকের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যদি কলম হয়, তাহলে কলম থামিয়ে দেওয়া শুধু একজন সাংবাদিকের কণ্ঠ স্তব্ধ করা নয়; এর মাধ্যমে সত্য প্রকাশের পরিসরও সংকুচিত হয়।কাদের গনি চৌধুরী বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা আসলে সমাজের বিবেকের ওপর আঘাত। কোনো সাংবাদিক যখন দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস, অব্যবস্থাপনা কিংবা মানুষের ওপর অন্যায়ের ঘটনা তুলে ধরেন, তখন তিনি বৃহত্তর সামাজিক স্বার্থে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো সমস্যার বিষয়ে জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পায়।তিনি আরও বলেন, সত্য প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হলে এর প্রভাব শুধু ওই সাংবাদিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে সত্য জানা সত্ত্বেও অনেকে তা প্রকাশ করতে সাহস পাবেন না। তাঁর ভাষায়, ‘কলমকে থামানো যায়, সত্যকে নয়।’ সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আগামীকাল রোববার (৩০ আগস্ট) ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানাই।’তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স অন্যতম ভয়ংকর অপরাধ। এটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন অথবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এমন নির্দয় ও নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করে।তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম ও অপহরণের মতো অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল। পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের এসব গোপন বন্দিশালা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি লাভ করে।দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার বিভিন্ন সময়ে অন্তত ৭ শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ‘গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। উত্থাপিত বিলগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম বা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী জঘন্য অপরাধে জড়াবে না বলে সরকার আশা করছে।তারেক রহমান বলেন, গুম বা অপহরণ কেবল কোনো সংখ্যা নয় কিংবা একজন মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু। একটি পরিবারের ভবিষ্যৎও যেন থমকে যায়। নিখোঁজ ব্যক্তির ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের জীবন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে কোনো সমাপ্তি নেই এবং স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যক্রমে কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী কিংবা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।তিনি বলেন, আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র বা সরকারের মাধ্যমে সংঘটিত গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে।এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।এই মনুষ্যত্বহীন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: সুখবর
গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির জন্য ছয় তলাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।শনিবার (২৯ আগস্ট) বর্তমান ভবনের পাশেই নতুন ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্লা।এ সময় গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী উপস্থিত ছিলেন। ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচনের পর মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।পরে জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি কাজী আবুল খায়ের। সভায় বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সামছুল হক, সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সেলিমসহ অন্যরা।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নতুন ছয় তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জের আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে। ভবনটি নির্মিত হলে আইনজীবীদের পেশাগত কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: বিডিপ্রতিদিন
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি আবারও বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১০টায় কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এর আগে গত ১৮ জুলাই কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট খোলা হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা আবারও বেড়ে যাওয়ায় এবার জলকপাট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।বিজ্ঞপ্তিতে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহামুদ হাসান জানান, শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। হ্রদটির সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে শনিবার রাত ১০টার দিকে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে তুলে হ্রদ থেকে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হতে পারে। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি বের হবে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা, ইনফ্লো ও বৃষ্টিপাতসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত, পানির উচ্চতা ও ইনফ্লোর পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। ইনফ্লো বেড়ে গেলে পর্যায়ক্রমে স্পিলওয়ের গেট খোলার পরিমাণও বাড়ানো হবে।এদিকে বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু থাকায় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাপ্তাই হ্রদ থেকে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করা হলেও এর তেমন প্রভাব কর্ণফুলী নদীতে পড়বে না। তবে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ারের কারণে পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সূত্র: কালবেলা
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। বরং চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ টন বেশি সার মজুত রয়েছে। তবে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে যারা সার সরবরাহ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। কৃষকের উন্নতি হলে দেশেরও অগ্রগতি হবে। ফরিদপুরের মাটি দেশের অন্যতম উর্বর ও উৎকৃষ্ট মাটি। ফলে এ অঞ্চলের কৃষিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।কৃষিপণ্য উৎপাদনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে পাট ও পেঁয়াজের বীজ যাতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, কিছু খুচরা বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত অর্থ দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। তাহলে সংকটটা কোথায়?জেলার সার ডিলারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো ডিলার বরাদ্দ পাওয়া সার নির্ধারিত সময়ে উত্তোলন না করলে কিংবা কৃষকদের কাছে সঠিক দামে সরবরাহ না করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেনসহ অন্যরা। সূত্র: বিডিপ্রতিদিন