ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

অর্থনীতি

জ্বালানি সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট বর্তমান সরকারের সৃষ্টি নয়। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের আমদানি-নির্ভর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতির ফলেই আজকের এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হলে ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক এবং কোটবাড়ী এএইচকে স্যাটেলাইট সিটির ধারণাপত্র উপস্থাপনবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের গ্যাস উত্তোলন বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানির মজুত গড়ে তোলা এবং নিজস্ব গ্যাস সংযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে মধ্যমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভোলায় ইতোমধ্যে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানকার গ্যাস কীভাবে ম্যানুয়ালি আনা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সুফল এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, চলমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের চ্যালেঞ্জও বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। এর ফলে জ্বালানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর ফলে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। এতে একদিকে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না।তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘ গণঅভ্যুত্থানের পর হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এবং এখনও যারা শরীরে ক্ষত নিয়ে জীবনযাপন করছেন, তাদের প্রতি আমাদের যে ঋণ, তা হলো গণতান্ত্রিকভাবে ও সব উন্নয়নকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়া।সেমিনারে ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক ও কোটবাড়ী এএইচকে স্যাটেলাইট সিটির মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী।ধারণাপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপ কমাতে আরেকটি বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত মহাসড়কটি নির্মিত হলে অবহেলিত কুমিল্লার উত্তরাঞ্চল কৃষি ও শিল্প বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিরুজ্জামান আমিরসহ আরও অনেকে। সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

জাতীয় ২৯ আগস্ট ২০২৬

প্রতিরক্ষা শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর করে রফতানির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনমুখী করে গড়ে তুলে রফতানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির (বিওএফ) সম্প্রসারণের ফলে দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে জলিল টেক্সটাইল মিল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।পাটমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদনে অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও এই খাতে বড় ধরনের সুযোগ রয়েছে। অন্য দেশগুলোর অর্জিত জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।তিনি বলেন, গত দুই থেকে তিন দশকে বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাতগুলো সেই পরিবর্তনকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম ব্যয়ে উদ্ভাবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে সামরিক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তার বড় উদাহরণ।মন্ত্রী আরও বলেন, ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম যুদ্ধের ধরন ও গতিপ্রকৃতিতে পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম মজুত রাখার প্রচলিত ধারণাতেও পরিবর্তন এসেছে। তাই সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনমুখী করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে হবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণকে কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করলে হবে না। এ খাতে উল্লেখযোগ্য রফতানি সম্ভাবনাও রয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনা, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা পণ্য রফতানির সুযোগ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানির সাফল্য শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তিগত ও শিল্প সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান প্রমুখ। সূত্র: ইনসাফ 24

জাতীয় ২৭ আগস্ট ২০২৬

শিল্পখাতে গ্যাস সংকটে দেড় বিলিয়ন ডলার লোকসানের আশঙ্কা

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পখাতে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, সিরামিক, ইস্পাত ও কেমিক্যাল শিল্পে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। ফলে রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও হুমকির মুখে পড়েছে।শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের শিল্পখাতে প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত লোকসান হতে পারে। এতে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ব্যবসায়ীরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে জ্বালানি খাতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

অর্থনীতি ২৭ আগস্ট ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করবে চীন: মীর শাহে আলম

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে চীন কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথা জানিয়েছে চীন।বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।মীর শাহে আলম বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশে চীনের যে বিনিয়োগ রয়েছে, তা ভবিষ্যতে ধারাবাহিকভাবে বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী চীন। সূত্র: কালের কণ্ঠ

জাতীয় ২৭ আগস্ট ২০২৬

ভারতের বিদ্যুৎ আমদানি বাড়াতে আলোচনা

ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের সাম্প্রতিক ভারত সফরে বিবিআইএন প্রকল্পের পাশাপাশি বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।বর্তমানে ভারত থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। এই খাতে ভারতের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ।চলতি আগস্টের শুরুতে ভারত সফর করেন মিরানা মাহরুখ। সফরে দেশটির বিদ্যুৎ সচিব পঙ্কজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ আমদানি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।সফর সম্পর্কে বিজনেস ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিরানা মাহরুখ বলেন, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের এ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে।ভারতের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, বিদ্যমান কাঠামোগত ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের পারস্পরিক সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্য, বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংযোগ, মৈত্রী বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ২ হাজার ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং নেপালের সঙ্গে ৪০ মেগাওয়াট আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। পৃথক চুক্তির আওতায় ভারতের আদানি পাওয়ার, এনটিপিসি, সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া এবং পিটিসি ইন্ডিয়ার কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ।এর মধ্যে আদানির ঝাড়খণ্ডের বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০২৪-২৫ সালে ৮ হাজার ৩০ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে।মিরানা মাহরুখ বলেন, জ্বালানি চুক্তির ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা করে আসছে। এ সহযোগিতা ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের প্রকল্পগুলোতেও রয়েছে। রামপাল প্রকল্পকেও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।তিনি বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। এখন আঞ্চলিক জ্বালানি সংযোগের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) এর মতো প্রকল্পগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।ভারত সফরে এমন কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যেগুলো বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।মিরানা মাহরুখের মতে, হাইড্রোজেন ও সবুজ জ্বালানি প্রকল্পে ভারতের সঙ্গে অংশীদারত্বের সুযোগ রয়েছে। ভারত গবেষণার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে কয়লা থেকে শক্তি উৎপাদনের পাশাপাশি এর উপজাতও কাজে লাগাতে পারে। সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

অর্থনীতি ২৫ আগস্ট ২০২৬

৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি, তালিকায় আসছে হলুদ-মরিচসহ মসলা

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি এবার ছোলা ও খেজুরও সংগ্রহ করবে সংস্থাটি।পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় উৎস থেকে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনার কথা রয়েছে। তবে বিদেশি বাজারে পণ্য সংগ্রহ বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে কেনার পরিমাণ বাড়তে পারে।এদিকে টিসিবির পণ্যের তালিকাও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নতুন তালিকায় হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের মসলা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ যদি বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হয়, তাহলে বিদেশ থেকে কেনার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চলতি অর্থবছরের জন্য ক্রয় পরিকল্পনা করেছে টিসিবি। এর আওতায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের কাছে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে টিসিবি মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামের মজুত ও পাইপলাইনে থাকা সরবরাহের তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করছে।মজুত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে গুদামের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে টিসিবির মোট ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় পরিচালিত। সব মিলিয়ে এসব গুদামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন।এর মধ্যে নিজস্ব গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ায় নেওয়া গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন।চলমান কার্যক্রমের জন্য টিসিবির মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ। তাঁর ভাষ্য, নিত্যপণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে ক্রয় ও মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে, বিশেষ করে সরকারি সহায়তায় পণ্য পাওয়া ভোক্তাদের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগও রয়েছে টিসিবির। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রি করার মাধ্যমে ভর্তুকির প্রয়োজন কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।ফয়সল আজাদ বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিসিবিকে গড়ে তোলার কাজ চলছে। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।তিনি জানান, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরও বেশি। ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও পরিবারের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবি সরবরাহ করে। এর ফলে এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সহায়তা পাওয়া যায়।টিসিবি তার পণ্যের পরিসরও বাড়াচ্ছে। ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আটা, বিভিন্ন ধরনের মসলা, মরিচ ও হলুদ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।ফয়সল আজাদ বলেন, এসব পণ্য সাধারণ বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।বর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, মৃত্যু, স্থানান্তর কিংবা অন্যান্য কারণে সুবিধাভোগীর তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হতে পারে, আবার কোনো নাম বাদ বা পরিবর্তনও হতে পারে।টিসিবির সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার কাজও এগিয়ে চলছে। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। শিগগিরই বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভোক্তারা লেনদেনের রসিদ পাবেন।স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নতুন মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্মার্ট কার্ডের তথ্য দেখতে পারবেন এবং মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।ফয়সল আজাদ জানান, টিসিবি এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যেখানে প্রায় ২১টি ভিন্ন কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এই প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করতে পারবে।নিজস্ব গুদামের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে টিসিবির। সংস্থাটি প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সক্ষমতা গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।তিনি বলেন, পণ্য কেনার পরিমাণ ও বাজারে হস্তক্ষেপের পরিধি বাড়াতে হলে লজিস্টিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, পণ্যের মান ঠিক রেখে সাশ্রয়ী মূল্যে তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি ভোক্তার চাহিদার ভিত্তিতে পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ করাই সংস্থাটির লক্ষ্য।তিনি জানান, নতুন কোনো পণ্য বাজারজাত করার আগে টিসিবি জরিপ করে। ভোক্তারা কোন পণ্য চান, তা জানার পর সেটি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংস্থাটির উদ্দেশ্য মানুষের জীবনকে সহজ করা।নতুন তালিকায় যুক্ত হওয়া পণ্য কেনা বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে পণ্যের মানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও উল্লেখ করেন টিসিবির চেয়ারম্যান। সূত্র: আমার দেশ

অর্থনীতি ২৫ আগস্ট ২০২৬

নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সিজেপির, আজ বৈঠক

আন্দোলনের পর সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলোর কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে তা পর্যালোচনা করতে আজ সোমবার জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক করবে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। একই সঙ্গে পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, বৈঠকে সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।রোববার এক বিবৃতিতে সিজেপি জানায়, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে বাধ্য করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। এর মধ্যে দেশজুড়ে আবারও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করার বিষয়টিও রয়েছে।দলটি ভারতজুড়ে শিক্ষার্থী, তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। গত ২৫ জুলাই সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সিজেপি তাদের প্রথম দফার আন্দোলন স্থগিত করেছিল।তবে এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে সংগঠনটি। এর পর থেকেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সিজেপি নেতাদের মতে, নতুন করে উত্তেজনা তৈরির অন্যতম কারণ ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত একটি শুনানি।দলটির দাবি, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো নিষ্পত্তির বিষয়ে আদালত বারবার সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। সিজেপি জানিয়েছে, দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে তিনবার নির্দেশ দিয়েছেন।সিজেপির দাবি, তালিকাটি পাওয়া গেলে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আওতায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত মামলাগুলো একসঙ্গে বাতিল করতে পারতেন। তবে দলটির অভিযোগ, আদালতের বারবার অনুরোধের পরও সরকার ওই তালিকা জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।তাদের দাবি, প্রথম দফার আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীদের দেওয়া আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।সিজেপি বলছে, এসব প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি জানাতে সরকারের প্রতিনিধিরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।সিজেপির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার বা বাতিল করা। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন নিশ্চয়তাও চায় সংগঠনটি। এ ছাড়া ‘মৃত নেট ভুক্তভোগীদের’ পরিবারের জন্য সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লিখিত নিশ্চয়তা দাবি করেছে তারা।দলটির ভাষ্য, সরকারের আশ্বাসে আস্থা রেখে গত জুলাইয়ে তারা আন্দোলন স্থগিত করেছিল। কিন্তু এখনো সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।সিজেপি বলেছে, আগেরবার আন্দোলন স্থগিত করা ছিল তাদের সদিচ্ছার প্রমাণ। সংগঠনটির বক্তব্য, ‘আমাদের সদিচ্ছাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা যাবে না।’ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শেষ করতে সরকার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে একটি পুরো প্রজন্মকে অপমান করা হবে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। সূত্র: কালের কণ্ঠ

অর্থনীতি ২৪ আগস্ট ২০২৬

গ্যাস সংকটে কারখানায় ছুটি, কোথাও বন্ধ উৎপাদন

গ্যাস সরবরাহে তীব্র সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও শ্রমিকদের আকস্মিক ছুটি দেওয়া হচ্ছে, আবার কোনো কোনো কারখানায় পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় ক্রয়াদেশ হারানোর আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।নরসিংদীর পাঁচদোনা ইউনিয়নের তালহা টেক্স প্রো. লিমিটেডও গ্যাস সংকটে পড়েছে। গত বুধবার হঠাৎ করে কারখানাটির শ্রমিকদের ছুটি ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাসের সরবরাহ না বাড়ায় দুই দিনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখা হবে। এই ছুটি পরবর্তী সময়ে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলেও জানানো হয়।কারখানাটির শ্রমিকদের ভাষ্য, গ্যাস সংকটের কারণে এর আগেও কয়েক দফা তাদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শনিবার কারখানা চালু হওয়ার কথা থাকলেও গ্যাসের চাপ না থাকায় ছুটি আরও বাড়িয়ে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত করা হয়েছে।তালহা টেক্সের মতো গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আরও অনেক কারখানাকে গ্যাস সংকটের কারণে আকস্মিক ছুটি দিতে হয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলের ২০টি কারখানায় একযোগে ছুটি ঘোষণা করা হয়। গ্যাসের তীব্র সংকটে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।তবে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত নয়। এ অবস্থায় শ্রমিকদের মধ্যে জীবন-জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রয়াদেশ হারানোর আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এর ফলে রাতারাতি দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গৃহস্থালির রান্নায়ও ব্যাপক ভোগান্তি শুরু হয়।শিল্পকারখানার জ্বালানির প্রধান উৎস গ্যাস হলেও এ সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত ঠিক কতটি কারখানা বন্ধ হয়েছে, সে বিষয়ে শিল্প সংগঠন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে শিল্প উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে গ্যাস সংকটের কারণে শতাধিক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদন না থাকায় প্রায় সমপরিমাণ কারখানা তাদের শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে। এতে বড় একটি অংশের শ্রমিক বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়েছেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর, কালিয়াকৈর, ময়মনসিংহ, ভালুকা, ত্রিশাল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, শুধু নরসিংদীতেই ছোট-বড় শতাধিক শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিত্যপণ্য, ওষুধ, সিরামিক, ইস্পাতসহ বিভিন্ন গ্যাসনির্ভর শিল্প রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে সীমিত আকারে উৎপাদন চালু রেখেছে। তবে এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সম্প্রতি গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল ১২টি সমান কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, গ্যাসের ঘাটতির কারণে উৎপাদন চালু রাখতে কারখানাগুলোকে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নগদ অর্থ দিয়ে বেশি দামে ডিজেল, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি কিনেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি কারখানাগুলোর নগদ অর্থপ্রবাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।তালহা টেক্স প্রো. লিমিটেডের পক্ষে জাবের-জোবায়ের গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক সিফাত হোসেন ফাহিম বলেন, তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গত এক মাসে অন্তত ১৫ দফা উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে তাদের উৎপাদন প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে কারখানা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন তিনি। সংকট দ্রুত সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।এদিকে গত জুন মাসে গাজীপুরে দুটি পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। চলতি মাসে আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানা ৫৬৫ শ্রমিককে ছাঁটাই করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ব্যাংক অর্থায়নের ঘাটতি ও কাজের সংকটকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।শিল্প পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের সূত্র জানিয়েছে, গাজীপুরে গ্যাস সংকটের কারণে চলতি মাসেই প্রায় ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে অথবা অতিরিক্ত ছুটি দিয়ে কার্যক্রম সীমিত করেছে। এর ফলে সামনে দেশের রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শিল্পাঞ্চলগুলোতে আগে থেকেই গ্যাস সংকট ছিল। তবে গত প্রায় ২০ দিনের পরিস্থিতি ছিল নজিরবিহীন। দেশের বিভিন্ন এলাকার কারখানায় গ্যাসের চাপ কোথাও শূন্যে, আবার কোথাও এক পিএসআইয়ে নেমে গিয়েছিল। অথচ উৎপাদন চালু রাখতে কমপক্ষে তিন থেকে চার পিএসআই চাপ প্রয়োজন। তিনি জানান, তার নিজের কারখানাও প্রায় ২০ দিন বন্ধ ছিল।বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উৎপাদন না থাকায় কারখানাগুলোর আয় বন্ধ হয়ে যাবে। তখন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া এবং ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে। একপর্যায়ে কারখানার মালিকরা দেউলিয়া হয়ে যেতে পারেন। এর ফলে আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বেকারত্বের চাপ বাড়বে। সূত্র: আমার দেশ

অর্থনীতি ২৩ আগস্ট ২০২৬

জ্বালানির উচ্চমূল্যে ছয় মাসে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় ৫ বিলিয়ন ডলার: অর্থমন্ত্রী

শিল্পখাতের স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। রাজধানীর মতিঝিলে আয়োজিত এক সেমিনারে দুপুরে তারা এ দাবি জানান। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে ছয় মাসে সরকারকে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি প্রণোদনার অর্থ রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনারে ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন ব্যবসায়ী নেতারা।ব্যবসায়ীরা বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার সঙ্গে দেশের জ্বালানি সংকটও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। উচ্চ সুদের হার এবং ব্যাংক খাতের অর্থের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতাও সংকট বাড়াচ্ছে বলে জানান তারা। উদ্যোক্তারা বলেন, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে অর্থসংকটের কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগও বাড়ছে না। এ অবস্থায় আর্থিক খাতে সরকারের নীতি সহায়তা চেয়েছেন তারা।ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেন, উৎপাদন ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং এ নিয়ে অনিশ্চয়তা বর্তমানে বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে।ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ সীমিত করে বেসরকারি খাতে পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।সেমিনারে অর্থনীতিবিদরা বলেন, প্রকৃত রাজস্ব আদায়ের তুলনায় সরকারের কোষাগারে জমা পড়ছে অনেক কম অর্থ। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। রাজস্ব আদায়ে অটোমেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি দেশের মুদ্রানীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন অর্থনীতিবিদরা।সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪ লাখ পয়েন্ট থেকে ভ্যাট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও সরকার ২৪ হাজার পয়েন্ট থেকে তা পায়। এসব জায়গায় কী ধরনের নীতি গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে এআই, ডিজিটালাইজেশন এবং কিউআর কোড ব্যবহারের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শুধু করদাতার সংখ্যা বাড়ানো নিরপেক্ষ লক্ষ্য হতে পারে না। করসংক্রান্ত হয়রানি এবং কর দেওয়ার বাস্তব পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে রাজস্ব আদায় বাড়ানো কঠিন হবে।জ্বালানি সংকট নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কাস্টমস হয়রানি বন্ধের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রতিটি জ্বালানি খাতে তিন মাসের রিজার্ভ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোনো কোনো জ্বালানির মজুত ১৫ দিন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৭ দিনেরও কম ছিল। অর্থাৎ, সরবরাহের প্রান্তিক পর্যায় থেকে দেশ পরিচালিত হচ্ছিল।মন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে ছয় মাসে সরকারকে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

অর্থনীতি ২২ আগস্ট ২০২৬

সরকারের ছয় মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬,৩০৪ কোটি টাকা

রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। নতুন ঋণ বিতরণ কমানোর পরও পুরোনো ঋণের একটি অংশ নিয়মিতভাবে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নীতি-সুবিধা দেওয়ার পরও ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ কমাতে পারছে না। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে পাঁচ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। একই সঙ্গে এসব ব্যাংকের প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতিও বড় আকার ধারণ করেছে।ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বড় ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো যে বিপুল ঋণ নিয়েছিল, তাদের অনেকেই এখন ঋণ পরিশোধে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এর পাশাপাশি পুরোনো খেলাপি ঋণের সঙ্গে নতুন করে আরও ঋণখেলাপি তৈরি হচ্ছে। ফলে কিছু ঋণ নীতি-সুবিধার মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিয়মিত দেখানো হলেও নতুন খেলাপি ও পুরোনো বকেয়া বাড়তে থাকায় সামগ্রিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমছে না।রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংক হলো—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। গত জুন শেষে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে এ পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। এই সময়ে সোনালী ও বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিছুটা কমলেও অন্য তিন ব্যাংকে তা বেড়েছে।সোনালী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ কমলেও চাপ রয়েছেচলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে। তবে মোট ঋণের তুলনায় এর হার এখনো প্রায় ১৫ শতাংশ। গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে যা ছিল প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা।সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিতরণ করা ঋণের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দেয়। এতে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়ে। এ কারণেও ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার এখনো তুলনামূলক বেশি।হল-মার্ক কেলেঙ্কারির কারণে আলোচিত সোনালী ব্যাংক কয়েক বছর ধরে নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গ্রাহকের আমানতের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে ব্যাংকটি মুনাফা করছে। ফলে নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকটি বেশ সংযত। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির ঋণ বাড়ার পরিবর্তে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা কমেছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা পাঁচ বছর ধরে সোনালী ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক। সম্প্রতি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠক হয়েছে। সেখানে গভর্নর ঋণ বিতরণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।অগ্রণী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩,৫১৮ কোটি টাকাসোনালী ব্যাংকের বিপরীতে অগ্রণী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। গত ছয় মাসে পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে এ ব্যাংকেই সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ডিসেম্বরে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৮ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে বেড়েছে ৩ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা।অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেক শীর্ষ ২০ বড় ঋণগ্রহীতার কাছে আটকে আছে। এসব বড় গ্রাহক ঋণ পরিশোধে এগিয়ে না আসায় খেলাপি ঋণ কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।তিনি আরও বলেন, দেশের আইনি প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। সরকার পরিবর্তনের পরও বড় ঋণখেলাপিরা আগের প্রভাব ও শক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৭৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছেরাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকে। গত ছয় মাসে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা। গত জুন শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে ছিল ৭২ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। জুন শেষে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ২২৬ কোটি টাকা।ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ব্যবসায়ী দেশ ছেড়েছেন, আবার কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ঋণ আদায় অনেক ক্ষেত্রে ধীর হয়েছে। আদায় কমে যাওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে।জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭২ শতাংশ, অর্থাৎ ৫২ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা, শীর্ষ ২০টি গ্রুপের কাছে আটকে রয়েছে। বড় খেলাপি গ্রাহকদের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ রয়েছে।রূপালীতে সামান্য বৃদ্ধি, বেসিক ব্যাংকে কমেছেগত ডিসেম্বরে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১৯ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে বেড়েছে ১৫৯ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ছিল ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।অন্যদিকে, জুন শেষে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ১০২ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকটির মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের হার এখনো প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি।ছয় মাসেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে দৃশ্যমান সংস্কার নেইনতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে। এরই মধ্যে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে।এই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ঋণ আদায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বড় কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে—এমন আশঙ্কার কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর চেইন অব কমান্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের মেয়াদ পূরণের বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় অনেকেই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম অনেকটাই দায়সারা হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ঋণ আদায়, নতুন ঋণ বিতরণ এবং খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগে। সূত্র: আমার দেশ

অর্থনীতি ১৯ আগস্ট ২০২৬