শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনার জন্য পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই নির্দেশনায় মদ ও মদ বিক্রির প্রতিষ্ঠান, জুয়া ও বেটিং, নাইট ক্লাব, প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন, শূকরজাত পণ্য, সুদনির্ভর আর্থিক সেবা এবং প্রচলিত বীমাসহ বিভিন্ন শরিয়াহবিরোধী খাতে ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বিল পরিশোধের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।এ ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখতে কার্ড অনুমোদনের সময়ই নির্দিষ্ট মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্লক করার জন্য কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক ‘গাইডলাইনস অন ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শিরোনামে এ নীতিমালা জারি করে।নীতিমালায় বলা হয়েছে, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের পণ্য, চুক্তি, লেনদেন, ফি ও সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম শরিয়াহর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করতে হবে। কার্ডের আওতায় ঋণ কিংবা বিলম্বিত পরিশোধের সুবিধা ‘কর্জ হাসান’ অর্থাৎ সুদমুক্ত ঋণের ভিত্তিতে দিতে হবে। গ্রাহকের বকেয়া, ঋণের মেয়াদ অথবা পরিশোধে বিলম্বের কারণে ব্যাংকের আয় বাড়ানো যাবে না। তবে সেবা প্রদানের বিপরীতে নির্ধারিত ‘উজরাহ’ বা সেবামূল্য নেওয়া যাবে।বিল পরিশোধে দেরি হলে প্রতিটি পরিশোধকালীন সময়ে একবার জরিমানা আরোপ করা যাবে। তবে সেই জরিমানার অর্থ ব্যাংকের আয় হিসেবে গণ্য করা যাবে না। জরিমানার অর্থ পৃথক ‘চ্যারিটি অ্যাকাউন্টে’ জমা রাখতে হবে এবং পুরো অর্থ দাতব্য কাজে ব্যয় করতে হবে।গ্রাহকের সুরক্ষার বিষয়েও নীতিমালায় বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড সক্রিয় করার আগে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে। ই-কমার্স এবং দেশীয় নন-এনএফসি লেনদেনের ক্ষেত্রে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক এসএমএস ও ই-মেইল সতর্কবার্তা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।কার্ড হারানো বা চুরি যাওয়ার বিষয়টি ব্যাংককে জানানোর পর যদি কোনো অননুমোদিত লেনদেন হয়, সেই লেনদেনের অর্থ সাত কার্যদিবসের মধ্যে গ্রাহককে ফেরত দিতে হবে বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।নীতিমালা অনুযায়ী, ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা দেওয়া যেকোনো তফসিলি ব্যাংক বাংলাদেশি মুদ্রায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড চালু করতে পারবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা অথবা দ্বৈত মুদ্রায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার (এডি) হতে হবে। সূত্র: আমার দেশ
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা। তাদের অভিযোগ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, সন্তানের পড়াশোনা ও যাতায়াত ব্যয়ের চাপ সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ানোয় সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। এতে ডিজেল ১১৫ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।দাম বৃদ্ধির পর এক বেসরকারি কোম্পানির কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়লেও কোম্পানির চাকরি করা মানুষের বেতন সেই হারে বাড়ে না। অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে সংসারের খরচ।”তিনি বলেন, একটি সাধারণ পরিবারের ন্যূনতম খরচও এখন অনেক বেড়ে গেছে। মাসে এক-দুই দিন মাংস, কয়েকদিন মাছ এবং বাকি দিনগুলোতে সবজি দিয়ে সংসার চালানোর পরও বাসাভাড়া, যাতায়াত ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ মিলিয়ে মাসে ২০–২৫ হাজার টাকা বা তার বেশি প্রয়োজন হয়।তার প্রশ্ন, “কোম্পানিতে চাকরি করে যাদের বেতন এত বেশি নয়, তারা এই বাড়তি খরচ কীভাবে সামলাবে? তেলের দাম বাড়লে শুধু তেলের খরচই বাড়বে না, যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ঘাড়েই পড়বে।”ওই কর্মী আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিলের চাপও বেড়েছে। তার দাবি, আগে যেখানে ২০০–৩০০ টাকা বিল আসত, এখন অনেক সময় ৬০০–৭০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে বাজার খরচ, বাসাভাড়া ও জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তেলের দাম বাড়ালে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ানোর দিকটিও বিবেচনা করুন। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়িয়ে যদি বাড়তি খরচের চাপ সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে, তাহলে বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ কীভাবে সংসার চালাবে?”তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখন হিসাব করে বাজার করে, খাবারের তালিকা কমিয়ে সংসার চালায়। সন্তানদের পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার পর হাতে কিছু থাকে না। এর মধ্যে আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।”সরকারের ব্যাখ্যাজ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বেড়েছে। এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।বিভাগের হিসাবে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়, জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমানো এবং বিপিসির আর্থিক চাপ কমানোর কারণ দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে।তবে দাম বৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আয় না বাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় এভাবে বাড়তে থাকলে সীমিত আয়ের মানুষ কীভাবে সংসারের ভার সামলাবে?
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে দেশে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। এর ফলে দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।নতুন মূল্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে।নতুন দাম ঘোষণার আগে সেপ্টেম্বর মাসে ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা ও কেরোসিন ১৩৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছিল।জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে এত দিন দেশে দাম বাড়ানো হয়নি। ফলে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলেও প্রায় পাঁচ মাস দেশে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল।জ্বালানি বিভাগ আরো জানিয়েছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের দরের তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেল পাচার রোধ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং বিপিসির লোকসান কমাতে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের দরে ডিজেল বিক্রি করলে বিপিসির প্রতি লিটারে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানো হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনে বিপিসির আর্থিক চাপও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বিপিসি জানিয়েছে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানিতে সংস্থাটির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানিতেও ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সরকারকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এসব পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বিপিসির লোকসান কমানোর পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং পাচারের ঝুঁকি ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানব উন্নয়নে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের (সিজেডএম) জীবিকা মোহনগঞ্জ-১ ও কোদালকাটি প্রকল্পের দ্বিতীয় দফার তহবিল হস্তান্তর করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) চর রাজিবপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই প্রকল্পের মুস্তাহিক পরিবারের মাঝে এ তহবিল হস্তান্তর করা হয়।সিজেডএম সূত্রে জানা যায়, জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র মোহনগঞ্জ-১ প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় ৪৮৮টি মুস্তাহিক পরিবারের জন্য ৬৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র কোদালকাটি প্রকল্পের দ্বিতীয় দফায় ৪৮৮টি পরিবারের জন্য ৬৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুই প্রকল্পে মোট ৯৭৬টি পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৩০ লাখ ৮০ হাজার টাকার যাকাত তহবিল হস্তান্তর করা হয়।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিজেডএমের উত্তর-পূর্ব এলাকার এরিয়া ম্যানেজার মো. আব্দুর রউফ। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিজেডএমের প্রধান কার্যালয় থেকে আগত জীবিকা বিভাগের ম্যানেজার হাফেজ মো. একরামুল ইসলাম।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জীবিকা মোহনগঞ্জ-১ প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. জাকির হোসাইন। প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জীবিকা কোদালকাটি প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. লিয়াকত আলী।পরে দুই প্রকল্পের সদস্যরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি তুলে ধরেন। এ সময় বক্তব্য দেন মনিরা পারভীন, শিরিনা বেগম, আফরোজা বেগম, আফসানা আক্তার ও রিনা আক্তার। তাঁরা প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের জীবনমান উন্নয়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।সদস্যদের অভিজ্ঞতা শোনার পর রাজিবপুর এলাকার চারটি জীবিকা প্রকল্পের সামগ্রিক কার্যক্রম তুলে ধরেন সিজেডএমের উত্তর-পূর্ব এলাকার এরিয়া ম্যানেজার মো. আব্দুর রউফ।অনুষ্ঠানে সিজেডএমের জীবিকা প্রকল্পের গুরুত্ব ও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন সিজেডএমের হেড অব অপারেশন কাজী আহম্মেদ ফারুক। তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত সিজেডএম প্রায় ১৭ লাখ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে আসছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চর রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সায়েকুল হাসান খান। তিনি সিজেডএম ও জীবিকা প্রকল্পের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র মোহনগঞ্জ-১ প্রকল্পের ১৭টি দলের ১৭ জন নেত্রীর হাতে দ্বিতীয় তহবিলের চেক এবং জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র কোদালকাটি প্রকল্পের ১৬টি দলের ১৬ জন নেত্রীর হাতে দ্বিতীয় তহবিলের চেক হস্তান্তর করা হয়।সিজেডএমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি সদস্যদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত ও জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ীর পাংশায় প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, একটি অর্থনৈতিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক বিপ্লবের জন্য এই প্রকল্প মাস্টারমাইন্ড মেগা প্রকল্প। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২৪টি জেলায় অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে। কৃষিতে বিপ্লব হবে, বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, মাছ চাষ বাড়বে এবং সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এর সঙ্গে আরও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হবে।তিনি বলেন, ২০০৪ সাল থেকে প্রকল্পটি নিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় থেকে এর কাজ এগিয়ে নেয়া হয়। পরে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ২০২৬ সালে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন করা হয়েছে।শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে যে বিষয়টি ছিল, তার হাত ধরেই এখন সেটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এ জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের আওতাভুক্ত ২৪ জেলার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারেজ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা মোকাবিলার মতো বিষয়গুলো এর অংশ।তিনি বলেন, ‘পানি জীবন’–এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে বাংলাদেশে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রী বড় ধরনের পরিবর্তন আনছেন। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কাজ শুরু হলো, ভবিষ্যতে তিস্তা মহাপরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হবে।এ সময় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি।সংগঠনটির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এবং লোকসান সামাল দিতে বাধ্য হয়েই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বেকারি ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও চিনির মতো প্রধান কাঁচামালের দাম গত এক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময়ে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং আটা-ময়দার দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহে ঘাটতির কারণে অনেক বেকারি কারখানা দিনের দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।তিনি বলেন, “বাধ্য হয়েই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বর্ধিত দামে বেকারি পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সহযোগিতা না পাওয়া গেলে এই খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশে নতুন বিনিয়োগের গতি নেই। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটে উৎপাদনে থাকা কারখানাগুলোও নানা সমস্যার মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের রপ্তানি খাতে ইতিবাচক খবর এসেছে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ৭ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। রপ্তানি আয়ের প্রায় পুরো অংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। জুলাই মাসে এ খাতের রপ্তানি কিছুটা কমলেও আগস্টে তা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে।বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, জ্বালানি ছাড়া কোনো শিল্পই ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তৈরি পোশাক খাতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, শিল্পখাত একটি বড় বিষয়। এমন ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে উদ্যোক্তারা পরিকল্পনা করতে পারেন এবং অন্তত ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেন।এই অর্থনীতিবিদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত শুল্কনীতির কারণে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিতে যে মন্দাভাব তৈরি হয়েছিল, তা এখন কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। তবে টেকসই অর্থনীতির জন্য একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে রপ্তানি পণ্যে বহুমুখীকরণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত ট্যারিফ ৩৭ শতাংশ থাকবে, নাকি ১৯ শতাংশ বা ১০ শতাংশ হবে—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি ব্যয়বহুল হতে পারে—এমন আশঙ্কাও ছিল। এই অনিশ্চয়তার কারণে গার্মেন্টসের কিছু অর্ডার কমে গিয়েছিল।তবে তাঁর মতে, বর্তমানে পরিস্থিতিতে কিছুটা নিশ্চয়তা এসেছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আর নেই। অন্যান্য ট্যারিফ থাকলেও সেগুলোর বিষয়ে এখন নিশ্চয়তা রয়েছে।মাশরুর রিয়াজের মতে, চলতি অর্থবছরের শুরুটা রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক হলেও সামনের মাসগুলোতে বৈশ্বিক উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ভূরাজনৈতিক সংকট দেশের রপ্তানি খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সূত্র: চ্যানেল ২৪
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে। এরই মধ্যে অর্থ ফেরতের জন্য ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনে গ্রাহকদের চাহিদার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে নির্দিষ্ট অঙ্ক ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানত ফেরতের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ছয় দিনে আবেদন জমা পড়ার পর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে। নিয়ম অনুযায়ী আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার থেকে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে।এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে বাকি চারটি ব্যাংক চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। ওই সময় ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন অনিয়ম এবং ঋণের নামে অর্থ বের করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়াও কঠিন হয়ে যায়।পরবর্তী সময়ে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে।ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আমানত বিমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমানতকারীদের পুরো অর্থ ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্কিমও ঘোষণা করেছে।হেয়ারকাট নেই, মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগগত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ঘোষণা করেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ আরোপ করা হবে না। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের আমানতের মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন বলে জানানো হয়।এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকটি গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ ফেরতের আবেদন গ্রহণ শুরু করে। আমানতকারীদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ পরিশোধ করা হবে।ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, আবেদনকারীদের অর্থ পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় তহবিল ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।মূল টাকা পাওয়া যাবে, মুনাফা নয়বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের অর্থ এবং মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। তবে আমানতের বিপরীতে ইতোমধ্যে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা এখনই উত্তোলন করা যাবে না।কোনো আমানতকারী মূল টাকা তুলে নিলে সেটিকে সংশ্লিষ্ট আমানতের পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে। সংশ্লিষ্ট হস্তান্তরকারী ব্যাংকের কাছে কোনো গ্রাহকের ঋণ বা দায় থাকলে টাকা ফেরত দেওয়ার আগে আমানতের অর্থ থেকে তা সমন্বয় করা হবে।তবে যারা এখনই অর্থ উত্তোলন করবেন না এবং হিসাব চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। মেয়াদি আমানত নির্ধারিত সময়ের আগে ভাঙা হলে মূল টাকা পাওয়া গেলেও ওই অর্থের ওপর মুনাফা দেওয়া হবে না। আর কোনো গ্রাহক আংশিক অর্থ উত্তোলন করলে অবশিষ্ট অর্থের ওপর প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ নিয়ে গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।এদিকে অর্থ উত্তোলনকে ঘিরে ব্যাংকের শাখাগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমানতকারীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যাদের তাৎক্ষণিক অর্থের প্রয়োজন নেই, তাদের প্রথম দিনেই ব্যাংকে না গিয়ে পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে শাখায় আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, একই সময়ে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক অর্থ উত্তোলনের জন্য শাখায় উপস্থিত হলে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই আমানতকারীদের ধৈর্য ধরে পর্যায়ক্রমে অর্থ উত্তোলনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
ভবিষ্যতে বিশ্বে নানা ধরনের সংকট তৈরি হলেও বাংলাদেশের মানুষ যেন আর জ্বালানি সমস্যায় না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে দেশের মানুষ যে কষ্টে আছেন, সরকার তা অস্বীকার করছে না।জ্বালানি সংকটে ভোগা সাধারণ মানুষ ও শিল্পকারখানার মালিকদের প্রতি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীত সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলোকে শুধু অজুহাত হিসেবে দেখাতে চায় না সরকার। বরং বাস্তবতা মানুষের সামনে তুলে ধরে এমন পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকটে দেশের মানুষকে পড়তে না হয়।তারেক রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংকটের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের প্রায় ৬৫টি দেশে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বাংলাদেশে যাতে এর প্রভাব কম পড়ে, সে জন্য সরকার যতটা সম্ভব জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে। তবে পরিস্থিতির কারণে একপর্যায়ে দাম কিছুটা বাড়াতে হয়েছে।তিনি বলেন, জনগণের ওপর চাপ কমাতে সম্প্রতি পাস হওয়া বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর কর আরও কমানো হয়েছে। সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বিভিন্ন সংকটকালীন সময়ে জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে। এবারও বিধ্বস্ত অর্থনীতি সামাল দিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, লংমার্চের নামে জ্বালানি অপচয় ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে গত ছয় মাসে বিরোধী দল হিসেবে তারা কতটুকু সফল হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা উচিত।শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, লংমার্চ কর্মসূচি জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে এবং জাতীয় সম্পদের অপচয় ঘটাবে। তিনি দাবি করেন, জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও লংমার্চে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহৃত হবে।সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণ সংস্কার চায় এবং সরকারও গণরায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে বিরোধী দলকে আহ্বান জানানো হলেও তারা এখন পর্যন্ত সেখানে অংশ নেয়নি। একই সময়ে লংমার্চের মাধ্যমে জনভোগান্তি ও জ্বালানি অপচয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।ইশরাক হোসেন বলেন, সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার মূল্যায়নের পাশাপাশি গত ছয় মাসে বিরোধী দল হিসেবে তারা কতটুকু সফল হয়েছে, সেটিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি খোকসা থানা পরিদর্শন ও গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।বিকেলে খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে খালেদা জিয়ার স্মরণসভায় যোগ দেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে এতিম ও কোরআনের হাফেজদের মধ্যে পবিত্র কোরআন শরিফ এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন। পরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সরকারি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।এ সময় বিএনপির স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।