ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের পক্ষে আইনি লড়াই করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এক বিদেশি আইনজীবী। এ বিষয়ে গ্রায়াম এল হল নামের ওই আইনজীবী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আবেদন করেছেন।গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিবের কাছে আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। রোববার (৩০ আগস্ট) সালমান এফ রহমানের একজন আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলের কাছে আবেদনটি করা হয়।এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাঁদের ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তাঁদের উসকানিমূলক বক্তব্যের পর ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম চলছে।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী ইউনিয়নে নিয়মিত ইমামতি না করেও মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের নামে সরকারি ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নাজির আহম্মেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রব হাওলাদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।লিখিত অভিযোগে আব্দুর রব হাওলাদার উল্লেখ করেন, উত্তর পুটিখালী গ্রামের পুটিখালী বায়তুন আমান জামে মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হয় না। শুক্রবার জুমার নামাজে একজন অস্থায়ী ইমাম নামাজ পড়ান। অন্যান্য সময়ে স্থানীয় একজন ব্যক্তি আজান দেন।অভিযোগকারীর দাবি, মসজিদে নিয়মিত ইমাম ও মুয়াজ্জিনের কার্যক্রম না থাকলেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের নামে সরকারি ভাতার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।মসজিদ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সরকারি ভাতার অর্থ নির্ধারিত ব্যক্তিদের মধ্যে যথাযথভাবে বিতরণ এবং মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়ের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাওলানা নাজির আহম্মেদ। তিনি বলেন, তিনি মসজিদের খতিব হিসেবে নিয়মিত নামাজ পড়ান। মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিনও রয়েছেন। এ পর্যন্ত শুধু ৫ হাজার টাকা প্রণোদনা হিসেবে উত্তোলন করা হয়েছে।মাওলানা নাজির আহম্মেদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি মহল এ ধরনের অভিযোগ করেছে।এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল্লাহ বলেন, শুধু পুটিখালী ইউনিয়নের মসজিদ নয়, এ ধরনের একাধিক মসজিদ নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি রয়েছে। তিনি বলেন, কমিটির সভা করে অভিযোগগুলো তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোরের আলোচিত দৈনিক রানার সম্পাদক আর এম সাইফুল আলম মুকুল হত্যাকাণ্ডের রহস্য দীর্ঘ ২৮ বছরেও উন্মোচিত হলো না। গত ১৬ বছর ধরে উচ্চ আদালতে আইনের জালে বন্দি হয়ে আছে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের কার্যক্রম। ফলে মুকুল হত্যাকাণ্ডের আসামিরা আইনের ঘেরাটোপে রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।আইনজীবীরা বলছেন, যে রিটের কারণে উচ্চ আদালতে মামলাটি আটকে আছে, তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতে বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব নয়। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ২৮ বছর অতিবাহিত হলেও কোনো বিচার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ও হতাশ সাইফুল আলম মুকুলের পরিবার ও যশোরের সাংবাদিক সমাজ। এ অবস্থার মধ্যদিয়ে আজ ৩০ আগস্ট বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে প্রয়াত সাংবাদিক মুকুলের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে রানার সম্পাদক সাইফুল আলম মুকুল শহর থেকে বেজপাড়ার নিজ বাসভবনে যাওয়ার পথে চারখাম্বার মোড়ে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নিহত হন। পরদিন নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিরিন কারো নাম উল্লেখ না করে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসপি দুলাল উদ্দিন আকন্দ ১৯৯৯ সালের ২৩ এপ্রিল সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এক পর্যায়ে আইনি জটিলতার কারণে মামলার কার্যক্রম থমকে পড়ে। আর এ কারণে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি হাইকোর্ট থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়।হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পর ২০০৫ সালে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ থেকে মুকুল হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে বর্ধিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর সিআইডি কর্মকর্তা মওলা বক্স নতুন দুজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দেন। ২০০৬ সালের ১৫ জুন যশোরের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল (৩) এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে (২) ২২ জনকে অভিযুক্ত করে মুকুল হত্যা মামলার চার্জগঠন করা হয়। এ সময় মামলা থেকে তৎকালীন মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ও রূপম নামে আরেক আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১০ সালে মামলার ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে।আদালত সূত্র জানায়, এসময় মুকুল হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আসামি সাংবাদিক ফারাজী আজমল হোসেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আবেদন করেন। তিনি উচ্চ আদালতে যাওয়ায় ফের মুকুল হত্যা মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। গত ১৬ বছর ধরেই মামলাটির কার্যক্রম ওই অবস্থায় রয়েছে। পরে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে ফারাজী আজমল হোসেনের অংশ বাদ রেখে ফের বিচার কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত তা কার্যকর হয়নি।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, নিম্ন আদালতে মুকুল হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। কিন্তু হাইকোর্টে এক আসামির আবেদনের কারণে মামলাটির আর্গুমেন্ট শুরু করা সম্ভব হয়নি। হাইকোর্টে আবেদনের নিষ্পত্তির পর সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার বিচারকাজ শুরু হবে।এ অবস্থায় রোববার (৩০ আগস্ট) পালিত হচ্ছে শহীদ সাংবাদিক সাইফুল আলমের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে প্রেসক্লাব, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোকর্যালি, শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিল।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও সিদ্ধিরগঞ্জে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৭ জন মাদকসেবীকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল বারিকের নেতৃত্বে গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনটি পৃথক দল অভিযান পরিচালনা করে।কাঁচপুর বাজার, বৈদ্যের বাজার ও সোনারগাঁও জাদুঘর এলাকায় মাদক উদ্ধার এবং মাদকসেবীদের আটকের উদ্দেশ্যে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। এ সময় মোট ১৫ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়।পরদিন ২৯ আগস্ট আটক ব্যক্তিদের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়। পরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছিন আরাফাত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে আটজনকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে জরিমানা এবং অপর সাতজনকে পাঁচ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা করে জরিমানা করেন।সাজাপ্রাপ্তরা হলেন— মো. মিলন মিয়া (২৩), বিজয় দাস (২৬), মো. জুয়েল (২২), রুহুল আমিন (১৯), শাহীন (২৬), মো. আশিক (২২), রাব্বি মিয়া (২৫), বিল্লাল সরকার (২৭), মো. ইউসুফ (২৪), মো. আরিফ হোসেন (২৫), মো. রিপন (৩৭), আলামিন (২৫), ওমর ফারুক (৫০), কাজি রিপন (৪২) ও হৃদয় (৩২)।অন্যদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হকের সরাসরি নেতৃত্বে এসও বটতলা ৬ষ্ঠ তলা বিল্ডিংয়ের সামনে একটি সিএনজি গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, স্থানটি মাদকসেবনের স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সেখান থেকে দুইজন মাদকসেবীকে আটক করা হয়।আটক ব্যক্তিরা হলেন— নাদিম হোসেন (৩৪) ও মিশন মিয়া (২৩)।পরে ২৯ আগস্ট তাদেরও বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছিন আরাফাতের আদালতে হাজির করা হয়। সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে আদালত দুজনকে পাঁচ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত আদেশ দেন।পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে। মাদকসেবন, মাদক বিক্রি এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সূত্র: ঢাকা ওয়াচ
ঝালকাঠির রাজাপুরে আলোচিত মিলন হত্যা মামলার অন্যতম আসামী জামাল হোসেনকে (২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর দেশত্যাগের সময় গতকাল শনিবার রাতে হযরত শাহজাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে রাজাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।গ্রেফতারকৃত জামাল হোসেন রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের আদাখোলা গ্রামের মো. মকিম হাওলাদারের ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিলন হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জামাল হোসেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিল। গ্রেফতার এড়াতে সে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার রাতে সে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে। ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের সময় তার নামে মামলা থাকায় সন্দেহ হলে বিমানবন্দর থানা পুলিশ তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতেই তাকে রাজাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি বলেন, "আলোচিত মিলন হত্যা মামলার পলাতক আসামী জামাল হোসেনকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"এই গ্রেফতারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত মামলার বাকি আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে রাজাপুর উপজেলায় মিলন নামে এক যুবক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই ঘটনায় রাজাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরে মিছিলে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার (২৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (সদর) আমিনুর রশিদ।পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের মুরাদপুর ১ নম্বর রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. কামরুল হাসান (৩৬), হুমায়ুন কবির (৩৫), মো. ইমরান হোসেন (৩৪), নাজমুস সালেহীন নাঈম (২৩), মো. এমরান হোসেন (২৬), তানিম হাসান (২৪), মেহেদী হাসান শুভ (২১), মো. ফরহাদ উল্ল্যাহ (১৯), মো. আরাফাত (২০), মো. ইফাত রহমান (১৯), মো. পারভেজ (২৫), মো. হায়দার (১৯), মো. নয়ন হোসেন ইমন (১৭) ও মো. আব্দুল্লাহ আরমান (১৭)।আমিনুর রশিদ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংশোধিত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। সূত্র: দ্য রূপান্তর
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাহাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি মিতু আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি সিদ্দিক।পুলিশ জানিয়েছে, মিতু আক্তার যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার আসামি। ওই মামলায় তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।বৃহস্পতিবার ভোরে যাত্রাবাড়ী থানাহাজত থেকে পালিয়ে যান তিনি। এরপর তাকে গ্রেপ্তারে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে টানা অভিযানের পর শুক্রবার দিবাগত রাতে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে মিতু আক্তারকে আটক করা হয়।আটকের পর তাকে যাত্রাবাড়ী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কীভাবে তিনি থানাহাজত থেকে পালানোর সুযোগ পেয়েছেন, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব
খুলনা মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গভীর রাতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত ১২টার কিছুক্ষণ পর ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিকট শব্দে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ওই সময় কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। কার্যালয়ের সামনেও কোনো ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না।বিস্ফোরণের খবর পেয়ে টহলরত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখান থেকে বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ করে। পরে বিএনপির স্থানীয় নেতারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাত ১২টার পর কে বা কারা ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। কার্যালয়টি তালাবদ্ধ থাকায় এবং সেখানে কেউ না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।
বরগুনা সদর উপজেলায় নারিকেল গাছ থেকে ডাব চুরির সময় ভিমরুলের আক্রমণের শিকার হয়ে গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন দবির নামে এক যুবক। আহত অবস্থায় নড়াচড়া করতে না পেরে সকালে তিনি নিজেই বাড়ির মালিককে ডেকে উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বরগুনা সদর উপজেলার খাঁড়াকান্দা এলাকায় বেলাল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতের দিকে খাঁড়াকান্দা এলাকার বাসিন্দা বেলালের নারিকেল গাছে ডাব চুরির উদ্দেশ্যে ওঠেন দবির। গাছে উঠে করাত দিয়ে কয়েকটি ডাব কেটে নিচে ফেলার সময় অসাবধানতাবশত গাছে থাকা একটি ভিমরুলের চাকে আঘাত লাগে।এরপর একঝাঁক ভিমরুল তাকে আক্রমণ করে কামড়াতে শুরু করলে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে যান। এতে তার হাত ও কোমরে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তিনি গাছের নিচে অসাড় অবস্থায় পড়ে থাকেন।সকালে ব্যথায় কাতর হয়ে এবং উঠে দাঁড়াতে না পেরে দবির বাড়ির লোকজনকে উদ্ধারের জন্য ডাকতে থাকেন। তার ডাক শুনে বাড়ির মালিক ও স্থানীয়রা বাইরে এসে গাছের নিচে কাটা ডাবসহ তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন।বাড়ির মালিক বেলাল বলেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দবির তাদের ডেকে উদ্ধারের জন্য আকুতি জানান। বাইরে এসে তারা দেখতে পান, কাটা ডাবসহ তিনি গাছের নিচে পড়ে আছেন। পরে সদর থানায় বিষয়টি জানানো হয়। বরগুনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছের নিচ থেকে আহত দবিরকে উদ্ধার করে। তার আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে ১৩০ টন চাল ও গমের হিসাব না মেলায় অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার এবং খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমার। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আইয়ুব রায়হান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, অডিটের সময় ঘিওর খাদ্যগুদামে মজুতের হিসাবে অসংগতি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততার সন্দেহ রয়েছে, তদন্তের স্বার্থে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এর আগেই গুদামটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকা থেকে আসা খাদ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল ঘিওর খাদ্যগুদামে অডিট পরিচালনা করে। অডিটে সরকারি হিসাবের সঙ্গে গুদামে থাকা প্রকৃত মজুতের পরিমাণে বড় ধরনের পার্থক্য ধরা পড়ে। হিসাব অনুযায়ী, গুদামটিতে ১১০ টন চাল ও ২০ টন গমের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৭০ লাখ টাকা।অডিটের তথ্যের অসংগতি বিস্তারিতভাবে যাচাই এবং কার্যক্রম সম্পন্ন করার স্বার্থে পরিদর্শক দল পুরো খাদ্যগুদামটি সিলগালা করে দেয়।গুদাম সিলগালা করার পর অভিযুক্ত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল কুমার গা ঢাকা দেন। তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।অডিট দলের এ পদক্ষেপের পর বৃহস্পতিবার দৈনিক কালবেলায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিভাগীয় পর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার এবং খাদ্য পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সূত্র: কালবেলা