খুলনার পাইকগাছায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক স্থানীয় নেতাসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জুয়া ও মাদকসংক্রান্ত মামলার আসামি ছাড়াও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এবং অন্যান্য মামলার আসামি রয়েছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের নগরশ্রীরামপুর এলাকা থেকে মান্নান হাজরা (৫৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২০২৪ সালে পাইকগাছা থানায় দায়ের করা ১৬ নম্বর নাশকতা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।পাইকগাছা থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে জুয়া আইনে ছয়জন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তিনজন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুজন এবং নিয়মিত মামলার আসামি দুজন রয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ কার্যক্রম চলবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচনসহ কমিটির সকল কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে সদর সিভিল জজ আদালতের বিচারক সিনিয়র সহকারী জজ মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন। মামলার বাদী সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক আব্দুস সামাদ সায়েম এ তথ্য জানান।মামলা সুত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের আজীবন বহিস্কৃত সদস্য শরিফুল ইসলাম ইন্না তালা ভেঙ্গে প্রেসক্লাব দখল করেন। এরপর নিজে আহবায়ক হয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করেন। এর কিছুদিন পর ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাবের ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে ইন্না সাধারন সম্পাদকের পদে ছিলেন। এই কমিটি কয়েক দফায় অবৈধভাবে ৭৮জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করেন। এ অবস্থায় পুনরায় অবৈধভাবে কমিটি গঠনের জন্য ২০২৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাবে সাধারন সভা আহবান করা হয়। এ নিয়ে প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এরপর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসান সাধারন সভা স্থগিত ঘোষনা করেন। এ অবস্থায় প্রেসক্লাবে চরম দ্বন্ধ ও সংঘাত দেখা দেয়ার শঙ্কায় প্রেসক্লাবের সদস্য আব্দুস সামাদ সায়েম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানী শেষে নির্বাচনসহ প্রেসক্লাবের অবৈধ কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করেছে আদালত।মামলার বাদী সাংবাদিক আব্দুস সামাদ সায়েম বলেন, অচলাবস্থার কারনে বর্তমান প্রেসক্লাবের নির্বাচনসহ কমিটির সকল কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি অবৈধভাবে ভর্তি করা সদস্যদের বিষয়ে তদন্তপূর্বক বাতিলের সিদ্বান্ত গ্রহন এবং প্রশাসন বা গুরুত্বপুর্ন ব্যক্তিদের দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে পরবর্তি নির্বাচনে আয়োজনের জন্য মামলার এজাহারে দাবী করা হয়েছে। আদালত শুনানী শেষে প্রেসক্লাবের নির্বাচনসহ কমিটির সকল কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ দিয়েছেন। ১০দিন পর মামলার পরিবর্তি শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনার পাইকগাছায় তিথী ঢালী নামে এক গৃহবধূকে দফায় দফায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিথী ঢালী ও তার মা খুকু ঢালী বর্তমানে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ভুক্তভোগীর স্বামী কৌশিক রায় অভিযোগ করে জানান, বিয়ের পর থেকেই তার বাবা বিধান চন্দ্র রায়, মা শিখা রায় ও ছোট ভাই বাদল রায় তার স্ত্রী তিথী ঢালীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছেন। এ ঘটনায় সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে তিনি পাইকগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সোমবার বিকেলে প্রতিবেশী শ্যামাল বিশ্বাস, মিতা বিশ্বাস ও শোভা বিশ্বাসসহ কয়েকজন বাঁশের লাঠি দিয়ে তিথী ঢালী ও তার মা খুকু ঢালীকে মারধর করেন। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও নীলাফোলা জখম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।কৌশিক রায় আরও অভিযোগ করেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে তার বাবা বিধান চন্দ্র রায়, মা শিখা রায় ও ছোট ভাই বাদল রায় কয়েকজন প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে কৌশিক, তার স্ত্রী তিথী এবং শাশুড়ি খুকু ঢালীকে ঘর থেকে বের করে মারধর করেন।তার অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের পাশাপাশি জমি-জমা ও সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। কৌশিক রায়ের দাবি, তার বাবা বিধান চন্দ্র রায় তাকে জমি-জায়গার কোনো অংশ বা এর সুফল দিচ্ছেন না।এ ঘটনায় তিথী ঢালী ও তার স্বামী কৌশিক রায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায়, শিখা রায় ও বাদল রায়ের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মারধরের অভিযোগে উল্লিখিত প্রতিবেশীদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় সামাজিক বনায়নের গাছ অবৈধভাবে কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সদস্য ও মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোছা. ফাহিমা বেগমসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় গাছের গুঁড়িসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। বন বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে, গাছ কাটার ঘটনায় সরকারি সম্পদের ১০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।বন বিভাগ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোকামতলা বন্দরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় সরকারি সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতাধীন এলাকায় রাতের আঁধারে গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি বেআইনিভাবে সামাজিক বনায়ন এলাকায় প্রবেশ করে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।ঘটনার খবর পেয়ে মোকামতলা-শিবগঞ্জ এসএফপিসি রেঞ্জের বন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ সময় গাছের গুঁড়িসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দ করা ট্রাকটির নম্বর যশোর-ট-১১-৫১৭০।মামলায় অভিযুক্ত সাতজন হলেন—মোকামতলার খামারপাড়া গ্রামের মো. লিয়াকত আলী মঞ্জু (৫৬), কাশিপুর গ্রামের মোছা. ফাহিমা বেগম (৪৮), খামারপাড়া গ্রামের জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা মো. কহিনুর ইসলাম (৬৫), মো. আবুল কালাম আজাদ (৪০), মো. আবু জাফর প্রাং (৬০), মো. রাজু মিয়া (৪০) এবং মালাহার গ্রামের মো. এনামুল হক (৪০)।বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, সরকারি সামাজিক বনায়ন এলাকায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করে গাছ কাটার অভিযোগে ১৯২৭ সালের বন আইন (২০০০ সালে সংশোধিত) এর ৩৩(১)(গ) ও (ছ) ধারা এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।সরকারি সম্পদের ১০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতির দাবিমোকামতলা-শিবগঞ্জ এসএফপিসি রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান জানান, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অভিযোগে ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।তিনি বলেন, সরকারি সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।অভিযোগ অস্বীকার ফাহিমা বেগমেরতবে মামলার অন্যতম আসামি মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে অযথাই মামলায় আসামি করা হয়েছে।ফাহিমা বেগম বলেন, “কোনো বক্তব্য নেই। আমার নামে অযথাই মামলা করা হয়েছে। অপরাধ করে থাকলে মামলায় যা হওয়ার হবে।”সামাজিক বনায়ন রক্ষায় নজরদারি বাড়ানোর দাবিস্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সামাজিক বনায়নের গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নয়, স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা এসব বনায়ন অবৈধভাবে ধ্বংস হলে পরিবেশের পাশাপাশি সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।তাদের অভিযোগ, সামাজিক বনায়ন এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নিয়মিত নজরদারি না থাকায় সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা গাছ কাটার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।একই সঙ্গে গাছ কাটার ঘটনায় প্রকৃতভাবে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে মামলা দায়েরের পর ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে গাছ কাটার ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলায় ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মহাদেবপুর থানা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ৪৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।অন্যদিকে, মাদক সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত ৫ জন আসামি এবং প্রতারণার মামলায় ১ জন আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার হওয়া মোট ১৪ জন আসামিকে পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে।মহাদেবপুর থানার পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ভোলার মনপুরায় চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা, হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওজোপাডিকোর এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং চার গ্রাহক আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উভয় পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ডাকবাংলা মোড়স্থ ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ অফিসে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন—বিদ্যুৎ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির এবং হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ গ্রাহক মো. শরিফ, মো. আক্তার, সোহাগ ও নিরব।স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মনপুরায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট চলছে। নিয়ম অনুযায়ী রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে গ্রাহকরা পাচ্ছেন মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টা। সোমবার সকালে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ও সমস্যা নিয়ে কথা বলতে অফিসে যান গ্রাহকরা। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।আহত গ্রাহক শরিফ, আক্তার, সোহাগ ও নিরব অভিযোগ করেন, "রাতে মাত্র এক-দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। এছাড়া অতিরিক্ত সময় বিদ্যুৎ পেতে হলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে সংযোগ কেটে দেওয়া হয়। এসব অনিয়ম ও অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রকৌশলী মনির ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান ও মারধর করে পরনের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন।" গ্রাহকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৌশলী মনিরের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।অন্যদিকে, ঘুষের অভিযোগ অস্বীকার করে আহত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গ্রাহকরা কোনো কথা না শুনে অন্যায়ভাবে আমার ওপর হামলা ও মারধর করেছে।"ঘটনার পর স্থানীয় হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকরা একজোটে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহকদের ওপর হামলার বিচার দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। অপরদিকে, বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে মনপুরা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, "পাওয়ার হাউজের তিনটি মেশিনের মধ্যে দুটি নষ্ট থাকায় একটি দিয়ে কোনোমতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। অফিসে এসে কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করা মোটেও ঠিক হয়নি; জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সন্দীপে অবস্থান করছেন জানিয়ে বলেন, সন্দীপ পাওয়ার হাউস থেকে একটি মেশিন এনে দ্রুত মনপুরার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অফিসে হামলা ও কর্মকর্তা মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা তজুমুদ্দিন উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তড়িৎ চন্দ্র শীল জানান, ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন এবং দ্রুততম সময়ে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার ৩নং মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিসহ ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মৃত্যুর সাত মাস পরে, বৃহস্পতিবার বিকালে এই তদন্তের নোটিশ পাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। খবরটি এলাকার টপ অফ দা টাউনে পরিণত হয়েছে। সিআইডির নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারার বিধান অনুযায়ী মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঢাকার মালিবাগে সিআইডির ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণসহ হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে সঠিক সময়ে কেউ নোটিশ পায়নি বলে কেউ সিআইডিতে হাজির হতে পারেনি।স্থানীয়ভাবে ‘কারেন্ট আনোয়ার’ নামে পরিচিত আনোয়ার হোসেন চলতি বছরের ২৪ মার্চ ঢাকার একটি আবাসিক হোটেলে স্ট্রোক করে মারা যান বলে সে সময় প্রচার করা হয়। তাঁর পরিবারের দাবি, মৃত্যুর ঘটনাটি স্বাভাবিক নয়। মৃত্যুর প্রায় সাত মাস পর তাঁর ভাই মো. মিষ্টার আলী বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন। সিআইডির নথি অনুযায়ী, ঢাকার মোহাম্মদপুর আমলি আদালতে করা মামলাটি গত ১০ আগস্ট দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় নথিভুক্ত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডি ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক সিকদার মহিদুল আলমের স্বাক্ষর করা নোটিশে বলা হয়েছে, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। নোটিশপ্রাপ্ত ১০ জনের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার ঢ়ুষমারা থানা এলাকায় বলে জানা গেছে। নোটিশপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. শাহ আলম, ভারপ্রাপ্ত মোহনগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান; শহিদ (শহিদুল), মিজান, আরিফুল কবির তালুকদার রানা, নাফিউল আজম জুয়েল, মো. ইসমাইল হোসেন বাবুল, শামীম, দুলাল, মো. বদিউজ্জামান বদি, মাজহারুল ও সেলিম।স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, তলব করা ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি, যুবদল, জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল, এনসিপি ও যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নিহত আনোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় বিরোধ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি জাতীয় পার্টির ‘সাইকেল’ প্রতীকে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। তবে মৃত্যুর আগে তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত হয়েছিল।তাঁর মৃত্যুর আগে স্থানীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসে। তাঁকে বয়কটের আহ্বানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিরোধের তথ্যও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না-তা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। প্রাথমিকভাবে আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুকে স্ট্রোকজনিত স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করা হলেও পরে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও এনসিপি রাজিবপুর উপজেলা সভাপতি শাহ আলম জানান, বিষয়টি তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে মামলা করা হয়েছে। সে ঢাকাতে মারা গেছে ।আমরা তখন বাসায় ছিলাম ।সকালে জানতে পেরেছিলাম তিনি মারা গেছে।এ বেপারে তিনি সহ অভিযুক্ত সকলে সোশ্যাল মিডিয়াতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের দায়ে মোস্তফা নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের তরমুজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা। তাঁকে সহযোগিতা করে বকশীগঞ্জ থানা–পুলিশ।ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের দায়ে মোস্তফাকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা বলেন, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে পৃথক ঘটনায় ২৫ গ্রাম গাঁজা ও ৪১ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ইয়াবা সেবনের অভিযোগে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) চর রাজিবপুর থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার ও আটক করে।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধুলাউড়ি গ্রামের সুইচগেট বাজারসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মোছা. মনোয়ারা ও মো. তাহেরুল ইসলাম শান্ত (৩৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।অন্যদিকে, একই দিন দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে টাঙালিয়াপাড়া গ্রামে মো. আলম মিয়া ওরফে ‘আলম কসাই’ (৪৫)-এর বসতবাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ৪১ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় চর রাজিবপুর থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আলম মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।এ ছাড়া বিকেল ৩টার দিকে টাঙালিয়াপাড়া গ্রাম থেকে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে মো. লুৎফর রহমান (৪৮)-কে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাসেল কবির বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার শংকরপুর এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকসেবনের অভিযোগে চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শংকরপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় প্রকাশ্যে মাদকসেবনের অভিযোগে চার যুবককে আটক করা হয়।আটক ব্যক্তিরা হলেন—শংকরপুর প্রধানপাড়ার শাওন মিয়া (২৮), চাকলমার নাহিদ হাসান (২৮), শংকরপুরের মো. সোহান (২৫) ও রাজন মিয়া (২১)।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শেষে আটক চার যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।স্থানীয় এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও প্রকাশ্যে মাদকসেবন প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।