ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে এক হাজার একরেরও বেশি জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকারের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই সীমান্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিএসএফের অনুকূলে ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করা তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে অবকাঠামো নির্মাণে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়।
রাজ্য সরকারের তথ্যমতে, সীমান্তবর্তী নয়টি জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩৩৭ একর জমি বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার সীমান্তে নতুন বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি জেলায় তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তে নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বড় অংশ ইতোমধ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজও দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নও আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় সীমান্ত নিরাপত্তাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছিল বিজেপি। দলটির অভিযোগ ছিল, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরে বিলম্ব হওয়ায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বিএসএফকে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই নয়, সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপদ জীবন ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)-এর কাছে এক হাজার একরেরও বেশি জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকারের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই সীমান্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের ১৭২ দশমিক ৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিএসএফের অনুকূলে ১ হাজার ২৪ দশমিক ৭৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করা তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে অবকাঠামো নির্মাণে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়।
রাজ্য সরকারের তথ্যমতে, সীমান্তবর্তী নয়টি জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩৩৭ একর জমি বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪৫ দশমিক ৪ কিলোমিটার সীমান্তে নতুন বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি জেলায় তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সীমান্তে নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমির বড় অংশ ইতোমধ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজও দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়নও আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় সীমান্ত নিরাপত্তাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছিল বিজেপি। দলটির অভিযোগ ছিল, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরে বিলম্ব হওয়ায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে বিএসএফকে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই নয়, সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপদ জীবন ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন