ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান তার আরও দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুণ অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের গুলশান জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক মো. জেহাদ হোসেন রাকিবুল হাসানকে আদালতে হাজির করে নতুন করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় রাকিবুল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া ৪ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের একটি অডিও ডিভিডিতে ধারণ করে জব্দ করা হয়েছে।তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নমুনা কণ্ঠস্বরের সঙ্গে রাকিবুল হাসানের কণ্ঠস্বর তুলনা করে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ কারণে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানার একজন পরিদর্শক রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটির তদন্তভার ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) দেওয়া হয়।মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ, প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সম্পর্কে রাকিবুল হাসানের কথিত উসকানিমূলক বক্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল হিসেবে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাকিবুল হাসানের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরদিন, ১৭ সেপ্টেম্বর, তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ডিএমপি।তবে রাকিবুল হাসান দাবি করেছিলেন, ছড়িয়ে পড়া অডিওটি তার নয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেটি তৈরি করা হয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক/এসএ
প্রতারণা, জালিয়াতি এবং প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম।পরোয়ানা পাওয়া অপর চার আসামি হলেন—ফুডপান্ডার কো-ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডিরেক্টর ডেলিভারি মো. তাবারেজ খান (ভারতীয় নাগরিক) এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও ডিরেক্টর মোহাম্মদ সাজেদুল হক।আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলা দুটির তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।মামলার নথি অনুযায়ী, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি) প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে গত বছরের ৩ জুলাই আদালতে মামলা দুটি করেন। এর আগে ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে তিনি দেশীয় ও আমদানিকৃত ফলমূল এবং সবজি সরবরাহ শুরু করেন।বাদীর অভিযোগ, সরবরাহ শুরুর পর প্রথম দিকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হলেও পরবর্তী সময়ে আসামিরা জালিয়াতির আশ্রয় নেন। ১ লাখ টাকার পণ্য কেনার অর্ডারের বিপরীতে ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকার মতো সামান্য অর্থ জমা দেওয়া হতো।অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুয়া ব্যক্তিদের স্বাক্ষর ব্যবহার করে এবং একই দিনে বিভিন্ন স্থানে একাধিক ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ তৈরি করা হতো। এসব স্লিপের মাধ্যমে পণ্য ফেরত দেখানোর অজুহাতে বিপুল অর্থ আটকে রাখা হয়। এভাবে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় আলোচনায় থাকা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঠানো হতে পারে বলেও পুলিশের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার পর থেকে তিনি ও তার স্ত্রী শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, মরিয়ম খাতুনের বাবা মাসুম বিল্লাহ গতরাতে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম ও আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সেসব প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।ওসি বলেন, এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখছেন এবং ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।রিমান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান ভবনের লোকজন। খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।ঘটনার পর সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।পরে মরিয়ম খাতুনের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। সোমবার কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে। সূত্র: ইত্তেফাক
দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে এ অভিযান শুরু করা হয়।এই কর্মসূচির আওতায় ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে ভাগ হয়ে মোট সাড়ে ৭ হাজার মশককর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। অভিযানের অংশ হিসেবে ডিএসসিসির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।এর আগে শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচি-২০২৬’-এর আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম স্বাগত বক্তব্য দেন।কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে দুটি প্রদর্শনী স্টল স্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের স্টলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং মশক নিধনে ডিএসসিসির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা হয়েছে।অন্যদিকে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্টলে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ সংক্রান্ত একটি উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনী স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। সূত্র: আমার দেশ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) দুই উপপুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) বদলি করা হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।আদেশে বলা হয়েছে, ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-গুলশান বিভাগ) মো. আনোয়ার সাঈদকে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স বিভাগে উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম বিভাগ) মো. জুবায়েরকে ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক
রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কে হকারদের বসার অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের আগেই হকারদের স্বেচ্ছায় ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শিক্ষা ভবন থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত মেট্রোরেলের মধ্যবর্তী স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রশাসক। এ সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।তবে মতিঝিলে অফিস সময় শেষে নাইট মার্কেট চালুর পরিকল্পনার কথা জানান মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, অফিস সময় শেষ হওয়ার পর বিকেল ৪টা থেকে মতিঝিলে নাইট মার্কেট চালু করা হবে। সেখানে হকাররা বসতে পারবেন।প্রশাসক বলেন, সপ্তাহের সাত দিন সব জায়গায় হকারদের বসার সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি হকারদেরও মেনে নিতে হবে। নির্ধারিত নিয়ম ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিশ্চিত করেই তাদের বসতে হবে।প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ সুরক্ষা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে মো. আব্দুস সালাম বলেন, ধাপে ধাপে নগরের সব ফ্লাইওভারের নিচে গাছ লাগানো হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীর পরিবেশকে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।এ ছাড়া নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে ব্যবসায়ী ও অফিস কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। সূত্র: জনবাণী
বাগেরহাটের মোংলার জেলে ও মোটরসাইকেলচালক মিরাজ শেখকে জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘মিরাজ শেখ নিখোঁজের ১৪০ দিনে জিজ্ঞাসা—নতুন আয়নাঘর কোথায়?’ শীর্ষক প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর একজন নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুতর সতর্কসংকেত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিরাজ শেখকে গুম করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাহলে তিনি কোথায়—এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে খুঁজে বের করাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব।তিনি বলেন, গত ১০ এপ্রিল থেকে মিরাজ শেখ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, কোস্টগার্ডের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে গেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানেও মিরাজকে কোস্টগার্ডের হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব সংগঠন ঘটনাটিকে বিএনপি সরকারের সময়ে প্রথম গুমের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে কোস্টগার্ড মিরাজকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা হেফাজতে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।নাঈম আহমাদ বলেন, ‘এই ঘটনায় অবিলম্বে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে এবং মিরাজ শেখকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।’তিনি আরও বলেন, মিরাজ শেখকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ আগেই দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ১২ জুলাই দেওয়া ওই আদেশে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, মিরাজ শেখকে কি নতুন কোনো আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছে? সেই আয়নাঘর কোথায়?মিরাজ শেখের পরিবারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মর্মান্তিক আচরণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন নাঈম আহমাদ। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মিরাজের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি করার কারণে তাঁর স্ত্রী, মা ও বোনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মারধর করেন। পরে তাঁদের আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দেওয়া হয় এবং ওই মামলায় মিরাজের স্ত্রী, মা ও বোনকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় ২৭ দিন তাঁরা কারাগারে ছিলেন বলেও জানান তিনি।জেডিপি জানিয়েছে, মিরাজ শেখের পরিবারের পাশে থাকবে দলটি। তাঁর সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। এর অংশ হিসেবে গুমের ইস্যুতে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশের সব রাজনৈতিক দল, জুলাইয়ের আন্দোলনের সংগঠন, বিভিন্ন সংস্থা ও অ্যাক্টিভিস্টদের চিঠি দেওয়ার কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে জেডিপি।প্রতিবাদ সমাবেশে জেডিপির প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহর সঞ্চালনায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনি ইহসান, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, জেডিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফুয়াদ জামানসহ অন্যরা। সূত্র: আমার দেশ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির অভিযোগে সুমাইয়া সাঈদ (২৫) নামে এক ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার ও তার প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। একই ঘটনায় মেয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত থেকেও তাতে সম্মতি দেওয়া এবং ওই আয়ের অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল রাজধানীর ভাটারা ও বাড্ডা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।ডিবি সূত্র জানায়, গত ১০ আগস্ট নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেগুলো বিক্রির প্রচারণার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে অর্থ নিয়ে গ্রাহকদের কনটেন্ট সরবরাহ করত। গ্রাহক আকৃষ্ট করতে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ দেওয়ার বিজ্ঞাপনও প্রচার করা হতো।ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তের পর গত ১১ আগস্ট রাতে ভাটারা থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ডিবি। সেখান থেকে সুমাইয়াকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স ও একটি ওয়ানপ্লাস স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।পরে সুমাইয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডা এলাকা থেকে তার সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সুমাইয়া ও তার সহযোগীরা মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করছিলেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, সুমাইয়ার বাবা মেয়ের এসব কার্যক্রম সম্পর্কে জানতেন এবং এতে বাধা না দিয়ে ওই আয়ের অর্থ নিয়মিত গ্রহণ করতেন।এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত, চক্রটির মূল নেটওয়ার্ক শনাক্ত এবং পলাতক সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষীকি সুন্দর এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ফরিদগঞ্জে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকালে আম্বিয়া-ইউনুছ ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলালের পরিচালনায়, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সমাজসেবক সিআইপি মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ, হারুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবু জাফর খসরু মোল্লা, নজরুল ইসলাম পাটোয়ারী, জাকির পাটওয়ারী, রূপসা উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, ইব্রাহিম, তাজুল ইসলাম, হারুন কমিশনার, বাবুল মাল, মিলন গাজী, বাচ্চু, কিবরিয়া শেখ, শাহজাহান গাজী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মতিন, যুবদল নেতা- আমির হোসেন খান, মামুনুর রশিদ, জহিরুল ইসলাম, হাবিব, মাহিন, সুমন, আরিফ, মাহফুজ, আনোয়ার হোসেন, রাছেল, মাসুদ, জয়নাল পাটওয়ারী, মুরাদ হোসেন, কামরুল রাড়ি, সবুজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এমরান হোসেন স্বপন ও খিজির আলম, ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম সুমন, সফিকুর রহমান, পারভেজ হোসেন আবির, শরিফুল ইসলাম, রাফিক হোসেন, তানজিল গাজী, শাহরিয়ার হোসেন জিসান, পিয়াস মিজি, নুর আলম রাশেদ, আকাশ সরকার, সাহাবুদ্দিন মিজি, মাসুম, রাজু হোসেন প্রমুখ।
দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি পেয়েছেন ৮৮ ভোট। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন। মোট ৩৪৩টি ভোট পড়েছে এবং সবগুলো ভোট বৈধ হিসেবে গণনা করা হয়েছে। ভোটের ফলাফল: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — ২৫৫ ভোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ — ৮৮ ভোট মোট বৈধ ভোট — ৩৪৩টি১৯৯১ সালের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সংসদে ভোটাভুটি হয়েছিল। এরপর টানা কয়েকটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়। এবার দুই প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সংসদে ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর আগে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল এখন দেশের সাংবিধানিকভাবে সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার পথে এগিয়ে গেলেন। তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—বিশেষ করে বিএনপির পরবর্তী সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও মহাসচিব পদে পরিবর্তন নিয়ে।