জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।সম্প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ পালনের কথা বলা হলেও সরকার বাস্তবে এর বিপরীত পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ বা আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করলেই হবে না; এর মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।এর আগে সিলেটের ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশেও নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকার পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবে না।তিনি রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াস। হামলায় আহত হওয়ার ঘটনায় সোমবারই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।এর আগে রোববার দুপুরে সংগঠনের সাংগঠনিক কাজে ভালুকায় গেলে একদল দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন আয়াস। হামলার পর তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা শাহ আল বাদশা।আয়াসের অভিযোগ, রোববার দুপুরে ভালুকার একটি সড়কে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতা-কর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি একটি মাইক্রোবাসে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যও পাওয়া গেছে। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে ফোনে আয়াসের সম্ভাব্য নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়।ওসি জানান, রোববার সন্ধ্যায় আয়াস নিজেই থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ করেন। প্রায় ১০ মিনিট থানায় অবস্থান করার পর তিনি একাই বের হয়ে যান। তাঁকে পুলিশি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি বাইরে তাঁর নিজস্ব লোকজন থাকার কথা জানান।হামলার কারণ সম্পর্কে আয়াস বলেন, গত ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাধা দেওয়া ও মারধরের ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এরপর দেশ-বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনে তাঁকে ধারাবাহিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।এর আগে গত ৪ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়াসের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোমিন মেহেদী ও শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। বর্তমানে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।জুলাই শহীদদের অবমাননা ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে শান্তা ফারজানার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে চড় মারার ঘটনার পর আয়াস আলোচনায় আসেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কোন ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তা বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে জানে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান ও স্ট্যাটাস সম্পর্কে ভারত সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশ এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পায়নি। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর ভারতের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি দেশটির প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে বাস্তবে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাতেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে, আর ভারত জানিয়েছে, অনুরোধটি তাদের আইনি কাঠামোর আওতায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। সূত্র: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; আমার দেশ; রয়টার্স।
শহীদ আব্দুল কাইয়ুম ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। লেখাপড়া শেষ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ব্যবসা কিংবা সরকারি চাকরি—যে পথই বেছে নিন না কেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু জুলাই আন্দোলনে তার মৃত্যু শুধু একটি তরুণ প্রাণই কেড়ে নেয়নি, একই সঙ্গে ভেঙে দিয়েছে একটি পরিবারের অনেক স্বপ্নও।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় ঢাকার সাভারের নিউমার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন আব্দুল কাইয়ুম। পরদিন ৬ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।কাইয়ুমের মৃত্যুর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। বর্তমানে সাভারের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তার বাবা-মা। পরিবারের সবচেয়ে বড় অবলম্বনকে হারিয়ে সরকারি ভাতা, সীমিত সহায়তা এবং ছেলের স্মৃতি নিয়েই তাদের দিন কাটছে।কাইয়ুমের মা কুলসুম বলেন, সংসার চালাতে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছেলে জীবিত থাকাকালেও অনেক কষ্ট করে সংসার চালিয়েছেন, এখনও একইভাবে কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। বর্তমানে মাসিক ২০ হাজার টাকার ভাতার ওপরই মূলত সংসার নির্ভর করছে। তার স্বামীর কানের সমস্যা ছাড়াও শরীরে নানা ধরনের অসুস্থতা রয়েছে। ফলে তিনি কাজ করতে পারেন না।তিনি বলেন, পরিবারের আর কেউ আয় করেন না। বড় ছেলে যে অর্থ উপার্জন করেন, তা তার নিজের স্ত্রী-সন্তানদের সংসারেই ব্যয় হয়। তাদের কাছে কখনো কিছু চাননি তারা। বড় ছেলে নিজের ইচ্ছায় কখনো দুই-চারশ টাকা দিলে তা নেন।কাইয়ুমের বাবা কফিল উদ্দিন জানান, তারা বর্তমানে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকেন। সরকারি ভাতার টাকা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চলছে। তবে ওই অর্থে সব খরচ মেটানো সম্ভব নয়। শুধু বাসা ভাড়াতেই মাসে আট হাজার টাকা দিতে হয়।পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন কাইয়ুমকাইয়ুমের মা জানান, ছেলে জীবিত থাকাকালে অনেক কষ্ট করে পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতেন। কুমিল্লায় তিনদিন থাকার পর আবার তিনদিন সাভারে থাকতেন। সাভারে এসে টিউশনি করাতেন। ভোরে উঠে দুধ সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। দইয়ের অর্ডার নিয়ে দই বিক্রি করতেন এবং ভর্তি কোচিংও পরিচালনা করতেন।বছরের অন্যান্য সময় টিউশনি এবং ছোটখাটো ব্যবসার মাধ্যমে পরিবারের খরচ চালাতে সহযোগিতা করতেন কাইয়ুম।শহীদ হওয়ার পর সরকারি সহায়তাকাইয়ুম শহীদ হওয়ার পর তার পরিবার সরকারের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছে। কাইয়ুমের মা জানান, পরিবারভিত্তিক এই মাসিক ভাতাই তারা পাচ্ছেন।সরকারের কাছে কোনো প্রত্যাশা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হওয়ার মতো কিছু নেই। তারা অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। নিজেদের একটি বাড়ি থাকলে ভালো হতো। ছেলে বেঁচে থাকলে অনেক উপার্জন করত এবং পরিবারের জন্য অনেক কিছু করতে পারত বলেও তিনি জানান।শোকের পাশাপাশি প্রতিদিনের সংগ্রামসন্তান হারানোর বেদনা এখনো পরিবারটির প্রতিটি মুহূর্তকে তাড়া করে। কাইয়ুমের মা বলেন, ছেলে থাকলে তাদের সংসারের পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তাকে মনে পড়লেই বুক ভার হয়ে আসে। তারপরও জীবন থেমে থাকে না, তাই কষ্টের মধ্যেই দিন পার করতে হচ্ছে।কাইয়ুমের বাবা বলেন, আল্লাহ যেভাবে চালাচ্ছেন, সেভাবেই তাদের জীবন চলছে। আল্লাহ না চালালে তাদের পক্ষে চলা সম্ভব নয়।এনসিপি, বিএনপি-ছাত্রদলের সহযোগিতা সীমিতকাইয়ুমের মা জানান, সরকারি ভাতার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও তারা সহায়তা পেয়েছেন।তার ভাষ্য, কাইয়ুম শহীদ হওয়ার প্রায় এক মাস পর জামায়াতে ইসলামী এক লাখ টাকা দেয়। এরপর দুই-তিন মাস পর আরও এক লাখ টাকা দেওয়া হয়।এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে সহায়তাও পেয়েছেন বলে জানান তিনি। দুই রোজার ঈদে জামায়াতের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। কোরবানির ঈদে খাসির মাংস এবং এবার গরুর মাংস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কুলসুম।বিএনপি ও ছাত্রদলের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, রোজার ঈদের আগে একজন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর নিয়েছিলেন এবং টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে টাকা দেওয়া হয়নি। পরে ওই এলাকার এমপি তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আরেকবার একটি অনুষ্ঠানে চিনি, সেমাই, তেলসহ কিছু বাজারসামগ্রী দেওয়া হয়েছিল।জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকেও একবার বাজারসামগ্রী পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। এরপর আর কোনো সহযোগিতা পাননি।কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলীর সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ যৌথভাবে কাইয়ুমের পরিবারকে সাত লাখ টাকার একটি চেক দেয়।কাইয়ুমের মা জানান, ছেলে মারা যাওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১তম সিন্ডিকেট সভায় নতুন ক্যাম্পাসের ‘ছাত্র হল-১’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আব্দুল কাইয়ুম হল’ রাখা হয়েছে।বিচার নিয়ে হতাশ কাইয়ুমের মাকাইয়ুমের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তার মা। তিনি বলেন, এখনো তারা বিচার পাননি। কোনো আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি তাদের একবারও আদালতে ডাকা হয়নি।তিনি বলেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পান, সেটি তিনি চান না। যারা প্রকৃতপক্ষে দোষী, শুধু তাদেরই যেন শাস্তি দেওয়া হয়—এটাই তার প্রত্যাশা।ছেলের মৃত্যুর প্রসঙ্গে কাইয়ুমের মা বারবার একটি কথাই বলেছেন—তিনি যে কষ্ট পেয়েছেন, এমন কষ্ট যেন আল্লাহ আর কোনো মা-বাবাকে না দেন।ছেলের হত্যার বিচার চান তিনি। তবে নির্দোষ কারও শাস্তি হোক, সেটি চান না। একদিকে পরিবারের আর্থিক সংকট, অন্যদিকে সন্তান হারানোর গভীর বেদনা—এই দুইয়ের মধ্যেই প্রতিদিন বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবার। সূত্র: আমার দেশ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা, হতাহত ও সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কথোপকথনের একটি ফোন রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।রোববার (৯ আগস্ট) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তৃতীয় দিনে ফোনালাপটিকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে আদালতে দাখিল করা হয়।বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ ও প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ফোনালাপ থেকে জানা যায়, আন্দোলন দমনের সময় চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সম্পর্কে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সরাসরি খোঁজ নেওয়া হচ্ছিল। ফোনালাপে তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে আ জ ম নাছিরের কাছে জানতে চান।জবাবে নাছির জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পুরো চট্টগ্রাম শহর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে মুরাদপুরের একটি এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছিল। ওই সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টিও তিনি ওবায়দুল কাদেরকে জানান।ফোনালাপে নাছির আরও জানান, আগের দিন থেকে সংঘর্ষ চলছিল এবং ঘটনার দিনও তা অব্যাহত ছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানিয়ে তিনি ওবায়দুল কাদেরকে পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার আশ্বাস দেন।ফোনালাপে ওবায়দুল কাদের মূলত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপদ আছে কি না এবং মুরাদপুরে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে জানতে চান। নাছির জানান, মুরাদপুরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। পাশাপাশি তিনি পুরো চট্টগ্রাম ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই গণহত্যার মামলায় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত ধারাবাহিক কল রেকর্ড ও ডিজিটাল আলামতের মধ্যে এই ফোনালাপটিকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।
নোয়াখালী সরকারি কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ এবং দোয়া-মুনাজাতের আয়োজন করা হয়।বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।আলোচনা সভায় বক্তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহতদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সবশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আবু তাহের, বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের গণরায় কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে জামালপুরের বকশীগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৫ আগস্ট) বাদ আসর বকশীগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মালিবাগ মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ময়মনসিংহ অঞ্চল টিমের সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা নাজমুল হক সাঈদী। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দ্রুত জুলাই সনদ কার্যকর, গণভোটের গণরায়ের প্রতিফলন এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।এ সময় বক্তব্য দেন এনসিপি বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোসাদ্দেকুর রহমান মানিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আদিল ইবনে আউয়াল (আরমান), বকশীগঞ্জ পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল মতিন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহ-সেক্রেটারি মোসাদ্দেক আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সভাপতি কারিমুল ইসলাম, এনসিপি বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এমদাদুল হক মিলন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি রেজওয়ানুল হক সিদ্দিক।বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক আন্দোলন। এ আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে জুলাই সনদের দ্রুত কার্যকর, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।সমাবেশে ছাত্রশক্তির সদস্য মো. জুম্মানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জের আয়োজনে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে Logic of Bangladesh।কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহিদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি, নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা।দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে Logic of Bangladesh জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আহত যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানায়। একই সঙ্গে সংগঠনটি জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে।অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় জীবনে এর তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের কাছে এ চেতনা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
৩৬ শে জুলাই" উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য কুড়িগ্রাম জেলার উদ্যোগে এক বিশাল জুলাই গণমিছিল ও জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।উক্ত গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখা, খেলাফতে মজলিস কুড়িগ্রাম জেলা শাখা,জাতীয় নাগরিক পার্টি কুড়িগ্রাম জেলা শাখা সহ ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য সকল নেতাকর্মীরা।সমাবেশে বক্তারা বলেন, "৩৬ শে জুলাই" আমাদের জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে। ২৪শে সকল শহীদদের রক্তের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান।বক্তারা আরও বলেন, দেশের ৬৯% মানুষ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের এ রায়কে অস্বীকার করছে।এই সরকার চায় না জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে। যদি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনরকম টাল বাহানা করেন, তাহলে ২৪ এর সাধারণ মানুষ আবার রাজপথে নেমে আসবেন।উক্ত সমাবেশে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতে আমীর বলেন, বর্তমানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন কিছু কাজ করছেন যাতে মনে হয় উনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও বড়।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করেছেন, জুলাই পরবর্তী সময় উনি বাংলাদেশে আসেন এবং উনার বর্তমান কিছু কিছু কার্যকলাপে মনে হচ্ছে শিলং থেকে বাংলাদেশে এসেছেন একমাত্র ভারতের র-এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষে। যদি উনার লক্ষ্য সেটাই হয় তাহলে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট করে বলতে চাই বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদ কখনোই বাস্তবায়ন আমরা হতে দিবো না।
কুড়িগ্রামের জেলার,চর রাজিবপুর উপজেলায় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক ‘জুলাই গণমিছিল’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী, এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এনসিপির অঙ্গসংগঠন ‘যুব শক্তি’র স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।গণমিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চর রাজিবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির:মাওলানা আবুল বাশার আব্দুল লতিফ । বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, "স্বৈরাচারী হাসিনার যে পরিণতি হয়েছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যদি একই কায়দায় দেশ পরিচালনা করেন, তবে তাঁর অবস্থাও একই হবে।" বক্তব্যে তিনি অতীত নির্বাচন প্রসঙ্গে দাবি করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ১৬২টি আসনে জয়লাভ করেছিল, তবে তারেক রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং করে সেই ফলাফল পাল্টে দিয়েছিলেন।সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চর রাজিবপুর উপজেলা যুব শক্তির (NCP) সভাপতি: মোঃ রবিউল ইসলাম রবিন। তিনি দেশের বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও ভূতুড়ে বিলের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, "সরকার তো আমাদের বাসা-বাড়ির ফ্যান কিংবা ফ্রিজ কিনে দেয়নি, তাহলে গ্রাহকদের ওপর এমন অস্বাভাবিক ও ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল কেন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?" বক্তব্যের শেষপর্যায়ে তিনি জুলাই আন্দোলনের রক্তঝরা স্মৃতি স্মরণ করেন এবং আন্দোলনের মূল চেতনা বজায় রাখার আহ্বান জানান।চর রাজিবপুর থানা মোড়ে গণমিছিলে ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে আগামী দিনে যেকোনো ধরনের বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।