ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জুলাই বিপ্লব

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায়

জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেয়া জবানবন্দিও রয়েছে। সবমিলিয়ে ২ আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব সম্পন্ন হয়। এর দুই দিন পর তথা ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। আর ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায় ঘোষণার তারিখ দেয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

জুলাই বিপ্লব ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শতাব্দীতে তেলের দামে নজিরবিহীন উত্থান-পতন, আরব বসন্ত থেকে ইরান যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।চলতি শতাব্দীতে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং মহামারিসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ব্যাপক ওঠানামা হয়েছে।২০২৬: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে ফের ১০০ ডলার২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পরপরই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।এপ্রিলের শেষ দিকে ব্রেন্টের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলচুক্তি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম মার্চের শুরুতে সর্বোচ্চ ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে ওঠে।পরবর্তী সময়ে সংঘাত কমে আসার প্রত্যাশা, চীনের দুর্বল তেল চাহিদা এবং বিভিন্ন দেশের কৌশলগত তেল মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার কারণে জুনে দাম কমতে শুরু করে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার পর তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের নিচেও নেমে যায়।তবে আগস্টের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আবার তীব্র হয়ে উঠলে ব্রেন্টের দাম পুনরায় ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে। এ সময় ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৯৫ ডলারে অবস্থান করছে।ইউক্রেন যুদ্ধেও তেলের বাজারে বড় উল্লম্ফন২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রথমে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।মার্চে ব্রেন্টের দাম বেড়ে ১৩৯ দশমিক ১৩ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ১৩০ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়। এই দাম ২০০৮ সালের রেকর্ডের কাছাকাছি ছিল।রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার পর তেল সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা এবং করোনা মহামারির পর চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ২০২২ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত বেশির ভাগ সময় তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। পরবর্তী সময়ে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে আসে।২০২০: তেলের দাম নেমেছিল ঋণাত্মক ৪০ ডলারে২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় তেলের বাজারে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। অফিস-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিমান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ায় তেলের চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে যায়।একই সময়ে তেল সংরক্ষণের জায়গার সংকট এবং সৌদি আরব ও রাশিয়ার মধ্যকার মূল্যযুদ্ধ বাজার পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তোলে।একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ঋণাত্মক ৪০ দশমিক ৩২ ডলারে নেমে যায়। এর অর্থ ছিল, উৎপাদকদের ক্রেতাদের তেল গ্রহণের জন্য অর্থ দিতে হয়েছিল। একই সময়ে ব্রেন্টের দামও রেকর্ড সর্বনিম্ন ১৫ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে আসে।ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞায় ২০১২ সালে ফের দাম বাড়ে২০১২ সালেও ইরানকে ঘিরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ে তেলের বাজারে। ইউরোজোনের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তেলের দাম ৯০ ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে দেশটির বিরুদ্ধে একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞাও ছিল। এর ফলে তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।সিরিয়া সংকটসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত উত্তেজনার প্রভাবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তেলের দাম প্রায় ধারাবাহিকভাবে ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের শেল তেল ব্যাপক পরিমাণে বাজারে আসতে শুরু করলে ২০১৫ সালের শুরুতে দাম ৫০ ডলারের নিচে নেমে যায়।আরব বসন্তেও প্রভাব পড়ে তেলের বাজারে২০১১ সালের আরব বসন্তও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছিল। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার তেল উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় ওই বছরের মার্চে ব্রেন্টের দাম বেড়ে ১২৭ ডলারে পৌঁছায়।তিউনিসিয়া, মিসর ও ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের শাসকদের পতনের পাশাপাশি লিবিয়াসহ অন্যান্য দেশে অস্থিরতা দেখা দেয়। এতে তেল সরবরাহ নিয়ে বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়ে।২০০৮: তেলের দামে শতাব্দীর সর্বোচ্চ উত্থানচলতি শতাব্দীতে তেলের দামে সবচেয়ে বড় উত্থান দেখা যায় ২০০৮ সালে। ওই বছরের শুরুতেই প্রথমবারের মতো ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে।১১ জুলাই ব্রেন্টের দাম রেকর্ড ১৪৭ দশমিক ৫০ ডলারে উঠে যায়। একই দিনে ডব্লিউটিআইয়ের দামও সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৪৭ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়।যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমে যাওয়া, চীনের শক্তিশালী চাহিদা এবং ইরান ও নাইজেরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে অস্থিরতা তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এর পাশাপাশি ডলারের দুর্বলতাও তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়তা করে।তবে কয়েক মাসের মধ্যেই বাজারের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে তীব্র মন্দা দেখা দিলে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ব্রেন্টের দাম প্রায় ৩৬ ডলারে নেমে আসে।চলতি শতাব্দীর তেলের বাজারের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ সংকট, অর্থনৈতিক মন্দা এবং বৈশ্বিক মহামারির মতো ঘটনা অল্প সময়ের মধ্যেই তেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ২০০৮ সালের প্রায় ১৫০ ডলারের রেকর্ড উচ্চতা থেকে ২০২০ সালে ঋণাত্মক দামে পতন এবং ২০২৬ ড 7আবার ১০০ ডলারের ওপরে ওঠা সেই অস্থিরতারই ধারাবাহিক চিত্র। সূত্র: ডন7

জুলাই বিপ্লব ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৩৬ জুলাই সাধারণ মানুষকে কী দিয়েছে?

অভ্যুত্থান বলতে বোঝায় গণমানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের আকস্মিক বিস্ফোরণ, যার মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটে। আর বিপ্লবের অর্থ শুধু একজন শাসককে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা। সেই বিবেচনায় জুলাইয়ে যা ঘটেছিল, সেটিকে কী বলা হবে—বিপ্লব, নাকি অন্যান্য আন্দোলনের মতো আরেকটি গণঅভ্যুত্থান?জুলাইয়ের আন্দোলনে রাজপথে রক্ত ঝরেছে। জনগণের অর্থে কেনা অস্ত্রের গুলিই নিক্ষেপ করা হয়েছে জনগণের ওপর। সেই গুলিতে শত শত তরুণের বুক ও মাথা ঝাঁঝরা হয়েছে। যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা কি কেবল একজন স্বৈরশাসকের পতন দেখতেই জীবন দিয়েছিলেন? নিশ্চয়ই নয়। তাদের প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং এমন বাক্‌স্বাধীনতা, যেখানে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করার সুযোগ থাকবে। তারা স্বাধীন বিচারব্যবস্থা চেয়েছিলেন। রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পচনও দূর করার দাবি ছিল তাদের।কিন্তু এরপর সাধারণ মানুষ কী পেয়েছে—তার উত্তর অনেকেরই জানা। জুলাইয়ের ঘটনাকে গণঅভ্যুত্থান থেকে বিপ্লবে রূপ দেওয়ার জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে জরুরি ছিল, সেটিই বাস্তবায়িত হয়নি। সেটি হলো সংস্কার।আন্দোলনের কৃতিত্ব ভাগাভাগি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভাজন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে দেয়নি। দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রবল আকাঙ্ক্ষাও পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শহীদ পরিবারের সহায়তা কিংবা আহতদের চিকিৎসার বিষয়গুলোও তখন যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বড় ধরনের ব্যর্থতা রয়েছে। যে সরকার জুলাইয়ের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের উদাসীনতার কারণে আন্দোলনে আহত অনেককে হারাতে হয়েছে। বিশেষ করে যেসব আহত ব্যক্তির উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তাদের অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জার।সংস্কারের কথা বলতে বলতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেড় বছর পার করেছে। সংস্কারের কথা সামনে রেখে জনগণকে তখনও আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। কেবল সংস্কারের কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে, যা এখন মূল্যহীন হয়ে পড়েছে।সংস্কার নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটে বিপুল ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়। কিন্তু সংস্কারের সময় সরকারি দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া প্রস্তাবগুলো কেন বাদ দেওয়া হলো—সে প্রশ্ন থেকেই যায়। জনগণ তো সব সংস্কারের পক্ষেই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিল। তাহলে কোনো সংস্কার নিজেদের স্বার্থের পরিপন্থি হলে সেটিকে কি হিমাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে?এরপর গুমবিরোধী আইনের মতো মৌলিক মানবাধিকারের আইন বাতিলের ঘটনাও সেই প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে মানুষ কীভাবে নিজের অধিকার দাবি করবে? আবারও কি সেই পুরোনো গোলকধাঁধায় ফিরে যেতে হবে, যেখানে অধিকার চাইতে গিয়ে মানুষের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে?চব্বিশের পর ক্ষমতার চেয়ারে বসা ব্যক্তিদের মুখ পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থার মালিকানা বদলালেও দাসত্বের নিয়ম বদলায়নি। চাটুকারদের তৎপরতা এখনও রয়েছে। পুলিশ এখনও লাঠিচার্জ করে। আমলাতন্ত্রের পুরোনো জটও কাটেনি। ফাইল এখনও অনিয়মের বেড়াজালে আটকে থাকে। রাষ্ট্রের অলিন্দ-নিলয়ে সিন্ডিকেটও আগের মতোই সক্রিয়।গণমানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে কেবল একজন স্বৈরশাসকের মন্ত্রিসভার পতন ঘটেছে। এর বাইরে দেশের কাঠামোতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাহলে শুধু ক্ষমতার হাতবদলকে কেন বিপ্লব বলা হবে? বিপ্লব কোনো এক দিনের রাজপথের বিজয় উৎসব নয়; বিপ্লব হলো আমূল পরিবর্তনের নাম।জুলাইয়ের শহীদদের রক্তকে কেন্দ্র করে অনেকের সুবিধা ও মধু খাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যে অবস্থায় ছিল, অনেকটা সেই অবস্থাতেই রয়ে গেছে। রাষ্ট্রকাঠামো ও ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন না এলে চব্বিশের আন্দোলনের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। তারা চায় ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ হোক এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু এসব সমস্যাও আগের মতোই চলমান রয়েছে। তাহলে এত ত্যাগের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের প্রাপ্তি কী?প্রত্যাশিত সংস্কার বাস্তবায়িত না হওয়ায় জুলাই শেষ পর্যন্ত স্বৈরশাসকের পতন তথা গণঅভ্যুত্থানের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে। জুলাইকে বিপ্লবে রূপ দেওয়া সম্ভব না হলে, জুলাই যদি বিপ্লবে পরিণত না হয়, তাহলে আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের রক্ত বৃথা যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। আর মানুষের মুক্তির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাও কেবল স্বপ্ন হয়েই থেকে যাবে। সূত্র: আমার দেশ

জুলাই বিপ্লব ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই সনদ পালনের কথা বলে সরকার পুরো উল্টো পথে হাঁটছে: নাহিদ ইসলাম

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।সম্প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ পালনের কথা বলা হলেও সরকার বাস্তবে এর বিপরীত পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ বা আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করলেই হবে না; এর মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।এর আগে সিলেটের ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশেও নাহিদ ইসলাম বলেছিলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকার পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবে না।তিনি রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

জুলাই বিপ্লব ২৬ আগস্ট ২০২৬

জুলাই যোদ্ধা আয়াসকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

ময়মনসিংহের ভালুকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াস। হামলায় আহত হওয়ার ঘটনায় সোমবারই থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।এর আগে রোববার দুপুরে সংগঠনের সাংগঠনিক কাজে ভালুকায় গেলে একদল দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন আয়াস। হামলার পর তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা শাহ আল বাদশা।আয়াসের অভিযোগ, রোববার দুপুরে ভালুকার একটি সড়কে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতা-কর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি একটি মাইক্রোবাসে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যও পাওয়া গেছে। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে ফোনে আয়াসের সম্ভাব্য নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়।ওসি জানান, রোববার সন্ধ্যায় আয়াস নিজেই থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ করেন। প্রায় ১০ মিনিট থানায় অবস্থান করার পর তিনি একাই বের হয়ে যান। তাঁকে পুলিশি সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি বাইরে তাঁর নিজস্ব লোকজন থাকার কথা জানান।হামলার কারণ সম্পর্কে আয়াস বলেন, গত ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাধা দেওয়া ও মারধরের ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এরপর দেশ-বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনে তাঁকে ধারাবাহিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।এর আগে গত ৪ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়াসের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোমিন মেহেদী ও শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। বর্তমানে তাঁরা কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।জুলাই শহীদদের অবমাননা ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে শান্তা ফারজানার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে চড় মারার ঘটনার পর আয়াস আলোচনায় আসেন।

বিশেষ সংবাদ ১৭ আগস্ট ২০২৬

ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন, আইনি লড়াইয়ে ফেরানোর আশা চিফ প্রসিকিউটরের

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে কোন ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তা বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে জানে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান ও স্ট্যাটাস সম্পর্কে ভারত সরকারের কাছ থেকে বাংলাদেশ এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পায়নি। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর ভারতের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি দেশটির প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবে বাস্তবে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ বিভিন্ন আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাতেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে, আর ভারত জানিয়েছে, অনুরোধটি তাদের আইনি কাঠামোর আওতায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। সূত্র: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড; আমার দেশ; রয়টার্স।

জাতীয় ১৭ আগস্ট ২০২৬

শহীদ কাইয়ুমের পরিবারের বেঁচে থাকার সংগ্রাম

শহীদ আব্দুল কাইয়ুম ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। লেখাপড়া শেষ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ব্যবসা কিংবা সরকারি চাকরি—যে পথই বেছে নিন না কেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু জুলাই আন্দোলনে তার মৃত্যু শুধু একটি তরুণ প্রাণই কেড়ে নেয়নি, একই সঙ্গে ভেঙে দিয়েছে একটি পরিবারের অনেক স্বপ্নও।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় ঢাকার সাভারের নিউমার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন আব্দুল কাইয়ুম। পরদিন ৬ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।কাইয়ুমের মৃত্যুর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। বর্তমানে সাভারের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তার বাবা-মা। পরিবারের সবচেয়ে বড় অবলম্বনকে হারিয়ে সরকারি ভাতা, সীমিত সহায়তা এবং ছেলের স্মৃতি নিয়েই তাদের দিন কাটছে।কাইয়ুমের মা কুলসুম বলেন, সংসার চালাতে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছেলে জীবিত থাকাকালেও অনেক কষ্ট করে সংসার চালিয়েছেন, এখনও একইভাবে কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। বর্তমানে মাসিক ২০ হাজার টাকার ভাতার ওপরই মূলত সংসার নির্ভর করছে। তার স্বামীর কানের সমস্যা ছাড়াও শরীরে নানা ধরনের অসুস্থতা রয়েছে। ফলে তিনি কাজ করতে পারেন না।তিনি বলেন, পরিবারের আর কেউ আয় করেন না। বড় ছেলে যে অর্থ উপার্জন করেন, তা তার নিজের স্ত্রী-সন্তানদের সংসারেই ব্যয় হয়। তাদের কাছে কখনো কিছু চাননি তারা। বড় ছেলে নিজের ইচ্ছায় কখনো দুই-চারশ টাকা দিলে তা নেন।কাইয়ুমের বাবা কফিল উদ্দিন জানান, তারা বর্তমানে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকেন। সরকারি ভাতার টাকা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চলছে। তবে ওই অর্থে সব খরচ মেটানো সম্ভব নয়। শুধু বাসা ভাড়াতেই মাসে আট হাজার টাকা দিতে হয়।পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন কাইয়ুমকাইয়ুমের মা জানান, ছেলে জীবিত থাকাকালে অনেক কষ্ট করে পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতেন। কুমিল্লায় তিনদিন থাকার পর আবার তিনদিন সাভারে থাকতেন। সাভারে এসে টিউশনি করাতেন। ভোরে উঠে দুধ সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। দইয়ের অর্ডার নিয়ে দই বিক্রি করতেন এবং ভর্তি কোচিংও পরিচালনা করতেন।বছরের অন্যান্য সময় টিউশনি এবং ছোটখাটো ব্যবসার মাধ্যমে পরিবারের খরচ চালাতে সহযোগিতা করতেন কাইয়ুম।শহীদ হওয়ার পর সরকারি সহায়তাকাইয়ুম শহীদ হওয়ার পর তার পরিবার সরকারের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছে। কাইয়ুমের মা জানান, পরিবারভিত্তিক এই মাসিক ভাতাই তারা পাচ্ছেন।সরকারের কাছে কোনো প্রত্যাশা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হওয়ার মতো কিছু নেই। তারা অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। নিজেদের একটি বাড়ি থাকলে ভালো হতো। ছেলে বেঁচে থাকলে অনেক উপার্জন করত এবং পরিবারের জন্য অনেক কিছু করতে পারত বলেও তিনি জানান।শোকের পাশাপাশি প্রতিদিনের সংগ্রামসন্তান হারানোর বেদনা এখনো পরিবারটির প্রতিটি মুহূর্তকে তাড়া করে। কাইয়ুমের মা বলেন, ছেলে থাকলে তাদের সংসারের পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তাকে মনে পড়লেই বুক ভার হয়ে আসে। তারপরও জীবন থেমে থাকে না, তাই কষ্টের মধ্যেই দিন পার করতে হচ্ছে।কাইয়ুমের বাবা বলেন, আল্লাহ যেভাবে চালাচ্ছেন, সেভাবেই তাদের জীবন চলছে। আল্লাহ না চালালে তাদের পক্ষে চলা সম্ভব নয়।এনসিপি, বিএনপি-ছাত্রদলের সহযোগিতা সীমিতকাইয়ুমের মা জানান, সরকারি ভাতার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও তারা সহায়তা পেয়েছেন।তার ভাষ্য, কাইয়ুম শহীদ হওয়ার প্রায় এক মাস পর জামায়াতে ইসলামী এক লাখ টাকা দেয়। এরপর দুই-তিন মাস পর আরও এক লাখ টাকা দেওয়া হয়।এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে সহায়তাও পেয়েছেন বলে জানান তিনি। দুই রোজার ঈদে জামায়াতের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। কোরবানির ঈদে খাসির মাংস এবং এবার গরুর মাংস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কুলসুম।বিএনপি ও ছাত্রদলের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, রোজার ঈদের আগে একজন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর নিয়েছিলেন এবং টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে টাকা দেওয়া হয়নি। পরে ওই এলাকার এমপি তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আরেকবার একটি অনুষ্ঠানে চিনি, সেমাই, তেলসহ কিছু বাজারসামগ্রী দেওয়া হয়েছিল।জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকেও একবার বাজারসামগ্রী পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। এরপর আর কোনো সহযোগিতা পাননি।কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলীর সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ যৌথভাবে কাইয়ুমের পরিবারকে সাত লাখ টাকার একটি চেক দেয়।কাইয়ুমের মা জানান, ছেলে মারা যাওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১তম সিন্ডিকেট সভায় নতুন ক্যাম্পাসের ‘ছাত্র হল-১’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আব্দুল কাইয়ুম হল’ রাখা হয়েছে।বিচার নিয়ে হতাশ কাইয়ুমের মাকাইয়ুমের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তার মা। তিনি বলেন, এখনো তারা বিচার পাননি। কোনো আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি তাদের একবারও আদালতে ডাকা হয়নি।তিনি বলেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পান, সেটি তিনি চান না। যারা প্রকৃতপক্ষে দোষী, শুধু তাদেরই যেন শাস্তি দেওয়া হয়—এটাই তার প্রত্যাশা।ছেলের মৃত্যুর প্রসঙ্গে কাইয়ুমের মা বারবার একটি কথাই বলেছেন—তিনি যে কষ্ট পেয়েছেন, এমন কষ্ট যেন আল্লাহ আর কোনো মা-বাবাকে না দেন।ছেলের হত্যার বিচার চান তিনি। তবে নির্দোষ কারও শাস্তি হোক, সেটি চান না। একদিকে পরিবারের আর্থিক সংকট, অন্যদিকে সন্তান হারানোর গভীর বেদনা—এই দুইয়ের মধ্যেই প্রতিদিন বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবার। সূত্র: আমার দেশ

জুলাই বিপ্লব ১৭ ঘন্টা আগে

জুলাই গণহত্যা: চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে নাছির-কাদেরের ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা, হতাহত ও সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কথোপকথনের একটি ফোন রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।রোববার (৯ আগস্ট) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তৃতীয় দিনে ফোনালাপটিকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও অন্যতম প্রধান প্রমাণ হিসেবে আদালতে দাখিল করা হয়।বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। শুনানিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ ও প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ফোনালাপ থেকে জানা যায়, আন্দোলন দমনের সময় চট্টগ্রামের পরিস্থিতি সম্পর্কে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সরাসরি খোঁজ নেওয়া হচ্ছিল। ফোনালাপে তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে আ জ ম নাছিরের কাছে জানতে চান।জবাবে নাছির জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পুরো চট্টগ্রাম শহর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে মুরাদপুরের একটি এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি চলছিল। ওই সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টিও তিনি ওবায়দুল কাদেরকে জানান।ফোনালাপে নাছির আরও জানান, আগের দিন থেকে সংঘর্ষ চলছিল এবং ঘটনার দিনও তা অব্যাহত ছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানিয়ে তিনি ওবায়দুল কাদেরকে পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার আশ্বাস দেন।ফোনালাপে ওবায়দুল কাদের মূলত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপদ আছে কি না এবং মুরাদপুরে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে জানতে চান। নাছির জানান, মুরাদপুরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। পাশাপাশি তিনি পুরো চট্টগ্রাম ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই গণহত্যার মামলায় পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত ধারাবাহিক কল রেকর্ড ও ডিজিটাল আলামতের মধ্যে এই ফোনালাপটিকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।

জুলাই বিপ্লব ০৯ আগস্ট ২০২৬

নোয়াখালী সরকারি কলেজে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

নোয়াখালী সরকারি কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে কলেজের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ এবং দোয়া-মুনাজাতের আয়োজন করা হয়।বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শাহজাহান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম সানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।আলোচনা সভায় বক্তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহতদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সবশেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

জুলাই বিপ্লব ০৬ আগস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বকশীগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ও সমাবেশ।

আবু তাহের, বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের গণরায় কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে জামালপুরের বকশীগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (৫ আগস্ট) বাদ আসর বকশীগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মালিবাগ মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ময়মনসিংহ অঞ্চল টিমের সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা নাজমুল হক সাঈদী। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দ্রুত জুলাই সনদ কার্যকর, গণভোটের গণরায়ের প্রতিফলন এবং জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।এ সময় বক্তব্য দেন এনসিপি বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মোসাদ্দেকুর রহমান মানিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আদিল ইবনে আউয়াল (আরমান), বকশীগঞ্জ পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল মতিন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহ-সেক্রেটারি মোসাদ্দেক আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সভাপতি কারিমুল ইসলাম, এনসিপি বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এমদাদুল হক মিলন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি রেজওয়ানুল হক সিদ্দিক।বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি ঐতিহাসিক আন্দোলন। এ আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে জুলাই সনদের দ্রুত কার্যকর, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।সমাবেশে ছাত্রশক্তির সদস্য মো. জুম্মানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই বিপ্লব ০৫ আগস্ট ২০২৬