পঞ্চগড়ের আলোচিত আলামিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মোঃ নাইমুজ্জামান ভূইয়া ওরফে মুক্তা (৫১) কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে পঞ্চগড় সদর থানার কাজীপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন ও বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে নাইমুজ্জামান পঞ্চগড় জেলায় অবস্থান করছেন বলে জানতে পারে জেলা গোয়েন্দা শাখা। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে ডিবি, পঞ্চগড় সদর, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। একই সঙ্গে কুইক রেসপন্স টিমও অভিযানে অংশ নেয়।এরপর আটোয়ারী, তেঁতুলিয়া ও সদর থানা এলাকায় একযোগে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে সদর থানার কাজীপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাইমুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।গ্রেপ্তার নাইমুজ্জামান ভূইয়া ওরফে মুক্তা পঞ্চগড় সদর থানার মামলা নম্বর-১২, তারিখ ১০ নভেম্বর ২০২৪ এবং জিআর নম্বর-৪২১/২৪-এর এজাহারভুক্ত আসামি। মামলায় পেনাল কোডের ১৪৩/৩৪১/৩২৫/৩০২/২০১/৫০(২)/১১৪/৩৪ এবং ৪৪৮/১৪৩/৩২৩/৪২৭/৪৩৫/৫০৬ ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশী ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। এর ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। রোববার জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে ওবায়দুল্লাহ মাসুদ জানান, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং কখনো দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, "ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই বিএনপির পতাকাতলে অবস্থান করছি। এক মুহূর্তের জন্যও দল থেকে বিচ্যুত হইনি। এখন দলীয় প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করব।" সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনটির উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে বিএনপির দুই প্রার্থীসহ আরও চারজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। আসন্ন উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অপর বৈধ প্রার্থীরা হলেন: দেলাওয়ার হোসেন: ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি।খাদেমুল ইসলাম: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আব্দুল আলীম নিজামী: বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক: বাংলাদেশ কংগ্রেস।অন্য কোনো প্রার্থী শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে আগামী ২৯ অক্টোবর এই পাঁচজন প্রার্থী চূড়ান্ত লড়াইয়ে অংশ নেবেন। উল্লেখ্য যে, বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। গত ২১ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিন ২২ আগস্ট আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী এই উপনির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো হলো: মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন: ২৭ সেপ্টেম্বর । প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন: ৭ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দ: ৮ অক্টোবর। প্রচারণা শুরু ও শেষ: প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ২৭ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত।ভোটগ্রহণ: আগামী ২৯ অক্টোবর। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওবায়দুল্লাহ মাসুদ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এখন শুধু মির্জা ফয়সল আমিনই মাঠে থাকছেন। আগামী ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক সময়সীমা শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
বিএনপি আমার সঙ্গে মুনাফেকি করছে: মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘মুনাফেকির’ অভিযোগ তুলেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হওয়া সত্ত্বেও দলটির একটি অংশ প্রকাশ্যে ও গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করেছে। একই সঙ্গে দলের আরেকটি অংশ দায়িত্ব পালনে আন্তরিক ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের ভাষ্য, ওই আসনের আওয়ামী লীগ-ঘরানার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়েছিলেন রুমিন ফারহানা। পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন, জীবন্ত হাঁস নিয়ে মিছিল এবং প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।তিনি আরও বলেন, যেসব কেন্দ্রে তার বিজয়ের সম্ভাবনা বেশি ছিল, সেসব স্থানে ভোটগ্রহণের দিন এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।জমিয়ত নেতা দাবি করেন, ইসলাম ও দেশের স্বার্থে আলেম সমাজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে কাজ করেছে এবং দেশের বিভিন্ন আসনে আলেম-ওলামাদের সমর্থনে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি আন্তরিকভাবে কাজ করলে জমিয়তের প্রার্থীও জয়ী হতে পারতেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।ইসলামি দলগুলোর ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করছে। ওই প্ল্যাটফর্ম যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে কোনো একক রাজনৈতিক দলের জোটে থাকা যাবে না, তাহলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
রুমিন ফারহানা শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব পালন করছেন: নাদিয়া পাঠান পাপন এমপিশেখ হাসিনার কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা পালন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপন।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বেকিনগর গ্রামে বিএনপির ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, ‘শেখ হাসিনা গত ১৭ বছর জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা ও বক্তব্য দিয়েছেন। এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার শাড়ি-ব্লাউজ নিয়েও তিনি বাজে মন্তব্য করেছেন। শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর মনে হচ্ছে, তার সেই কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব রুমিন ফারহানা পালন করছেন।’রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রুমিন ফারহানা যখন বক্তব্য দিতেন, এগুলো বিএনপির লোকেরা লিখে দিত। বিএনপির মাধ্যমেই তার পরিচয় তৈরি হয়েছে।’নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা যেতে পারে কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে অশালীন মন্তব্য করা গ্রহণযোগ্য নয়।রুমিন ফারহানা তারেক রহমানকে ‘অপুষ্টিতে ভুগছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন—এমন দাবি করে নাদিয়া পাঠান পাপন প্রশ্ন করেন, ‘তিনি কি তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ডাক্তার?’শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার বিষয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নাদিয়া পাঠান পাপন বলেন, ‘যেকোনো নাগরিক দেশের বাইরে যেতে পারেন, আবার আসতেও পারেন। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আর সাধারণ নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য আছে। তিনি আসুন, তাকে ওয়েলকাম জানালাম। তখন দেখা যাবে আমরা কী করতে পারি।’বাবা-দাদার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নিজের যোগ্যতা থাকলে বাবার কথা বারবার বলতে হয় কেন?’ রুমিন ফারহানাকে নিলুফার চৌধুরীর সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘১০টা রুমিন ফারহানা জোড়া দিলেও একটা নিলুফার চৌধুরী মনি হবে না।’অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দারা বেকিনগর গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তাদের অভিযোগ, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয়ে আশ্বাস দিলেও সেসব আশ্বাসের অনেকগুলো বাস্তবায়ন হয়নি।বক্তারা বেকিনগর গ্রামের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি নুরুল হক নিয়াজের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন চান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আফজাল হোসেন আলমগীর।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান উদ্দিন, বিজয়নগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সায়েদ খন্দকার, চান্দুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী এমরান, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র ঘোষিত দাওয়াতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশালের উজিরপুরে গণসংযোগ করেছেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।উজিরপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি ও শিকারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গোলাম মহিউদ্দিন সেলিম।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি খোকন সরদার, বড়াকোঠা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আনোয়ার হোসাইন, পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির আল আমিন সরদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।গণসংযোগের অংশ হিসেবে নেতৃবৃন্দ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পরিচিতিমূলক বই, কুরআন-হাদিসের গ্রন্থ এবং বিভিন্ন ইসলামি সাহিত্য উপহার দেন। কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। ইসলামের আদর্শ ও দ্বীনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের দাওয়াতি ও গণসংযোগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন তারা।
চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বা দলের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।নজরুল ইসলাম খান বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়। শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শে যারা বিশ্বাস করেন, তারা কখনো এ ধরনের অপকর্মে যুক্ত হতে পারেন না।বিএনপিকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।বর্তমান সরকারকে সফল হতে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নতুন সরকার গঠিত হলেও তাদের শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গণতন্ত্র ও উন্নয়নের বিরোধী অপশক্তিগুলো দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আবারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।দেশের চলমান শান্তি ও স্থিতিশীলতা অটুট রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান নজরুল ইসলাম খান। সূত্র: ইত্তেফাক
সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ২৩ সদস্যের একটি বিশেষ সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই উপ-কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ উপ-কমিটি গঠন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।দলীয় সূত্র জানায়, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে উপ-কমিটিতে নির্দিষ্ট কাঠামোগত বিন্যাস রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্ষদ থেকে দুজন সদস্যকে উপ-প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া দেশের প্রতিটি বিভাগে কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে একজন করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদককে উপ-কমিটিতে রাখা হয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক/এএম
মিরপুরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ড. রেজাউল করিম। গতকাল বিকেলে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।তিনি বলেন, মিরপুর-১ নম্বরে দুর্বৃত্তরা চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। এর পরপরই জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে গোলাগুলি, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।ড. রেজাউল করিম বলেন, এসব ঘটনার প্রকৃত অবস্থা সরেজমিনে দেখতে তারা ঘটনাস্থলে এসেছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মো. সেলিম উদ্দিন বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করলেও সেখান থেকেই ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং নিন্দা জানিয়েছেন।মিরপুরের চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলেও দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।ড. রেজাউল করিম বলেন, অপরাধী যে-ই হোক কিংবা তার রাজনৈতিক পরিচয় যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই।তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; বরং অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে। জনগণের অধিকার ও ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই দলটি কাজ করবে বলেও জানান তিনি।পরিদর্শনের সময় জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, টকশো ব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হক, মহানগরী যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা পারভেজ ফয়সালসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: আমার দেশ
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা, দখল ও লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও এসব নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।সোমবার সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নজিরবিহীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংস ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে জামায়াত জানায়, মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে থাকা মালামাল লুট করা হয়েছে। একইভাবে ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।এ ছাড়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জমি দখলের মহড়া, রাজশাহীতে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা, নয়াপল্টনের একটি হাসপাতালে গভীর রাতে হামলা এবং কুষ্টিয়ায় ২১টি বাড়িতে ধারাবাহিক লুটপাটের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে জানায় দলটি। এসব সহিংস ঘটনার কারণে সারা দেশের মানুষ গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে দাবি জামায়াতের।দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, স্থানীয় পর্যায়ে হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, সারের ডিলারশিপসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলছে। তবে এসব ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা না থাকায় অনেক সময় তাদের নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াতে ইসলামী দ্রুত সব ধরনের দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সব হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছে দলটি। সূত্র: আমার দেশ
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও দখলবাজির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।সোমবার রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইসিবি চত্বরে একজন জুলাই যোদ্ধার স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে সেটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ এখন বলা হচ্ছে, সেখানে চাঁদা চাওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়া হয়নি।জামায়াত আমির প্রশ্ন রেখে বলেন, জমিজমা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলেও রাত ১টা বা ২টার দিকে গিয়ে এ ধরনের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অনুমতি কোন সংবিধান বা আইনে রয়েছে? তিনি বলেন, কোনো অপরাধ হলে তা মোকাবিলায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কারও ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক সম্পত্তিতে সন্ত্রাসী ও গুন্ডাদের এভাবে তাণ্ডব চালানোর সুযোগ নেই।তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া দুর্বৃত্তদের পক্ষে এত বড় ধরনের অপকর্ম করা সম্ভব নয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার একদিকে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গায় ডাক্তার, নার্স ও সাধারণ মানুষকে অপদস্থ করা হচ্ছে।এ ছাড়া মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্যে চাপাতি ও অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টা চালানো দুর্বৃত্তদের এখনো আইনের আওতায় না আনার বিষয়েও সমালোচনা করেন তিনি।ঘটনাগুলোতে কোনো দলীয় পরিচয় বা প্রভাব না দেখিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে দলেরই হোক না কেন, এমনকি আমার দলের লোকও যদি জড়িত থাকে, তাকেও যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ছাড় না দেয়।’ সূত্র: আমার দেশ