পটুয়াখালী শহরের ব্রিজের উত্তর পাড় এলাকায় বাজার করে বাড়ি ফেরার পথে এক যুবদল কর্মীর ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত সোহেল (পূর্ণ পরিচয় জানা যায়নি) বর্তমানে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন সোহেল। পথিমধ্যে ব্রিজের উত্তর পাড়ের ঢাল এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। এরপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় তিনি গুরুতর জখম হয়ে সড়কের পাশে লুটিয়ে পড়েন।ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার কথিত মাদক কারবারি মালিকের ছেলে রিপন ও তার কয়েকজন সহযোগী এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি।
টাঙ্গাইলের সখীপুরে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, হত্যা এবং মুক্তিপণ দাবির আলোচিত মামলায় সাব্বির মিয়া (২১) নামে এক যুবককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে অপহরণ, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে আটক রাখা এবং হত্যার পর আলামত নষ্টের পৃথক অভিযোগেও তাকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ ন ম ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।আদালত সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত সাব্বির মিয়া টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে দাড়িয়াপুর (উত্তর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তার (৯) প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার হয়।মামলার নথি অনুযায়ী, শিশুটি অপহরণকারীর কবল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।ঘটনার পর নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমু আইডি ব্যবহার করে সামিয়ার পরিবারের কাছে ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরদিন শিশুটির বাবা সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত সাব্বির মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা শেষে আদালত হত্যার দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। এছাড়া অপহরণের দায়ে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে আটক রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং হত্যার পর আলামত নষ্টের দায়ে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ পৃথক অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, উপস্থাপিত সাক্ষ্য, আলামত ও আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই আদালত এ রায় প্রদান করেছেন। মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তারা বলেন, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২ বোতল ফেনসিডিল, ১৫০ পিস ইয়াবা, ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে লালমোহন থানা পুলিশ।বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লালমোহন থানাধীন বদরপুর ইউনিয়নের দেবীরচর ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।পুলিশ জানায়, ভোলা জেলার পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় এবং লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এসআই (নিরস্ত্র) খন্দকার মোঃ কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়।অভিযানে মোকলেচ মেম্বারের মেয়ে আরজু বেগমের ভাড়াটিয়া মোঃ মনির হোসেনের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ বোতল ফেনসিডিল, ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ মনির হোসেন (২৮), মোঃ রবিউল (১৯), আল-আমিন মেলকার (২৫), মোঃ হাসান (২৪) এবং মোঃ রাকিব (২৬)। তাদের সকলের বাড়ি ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের দেবীরচর ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়।লালমোহন থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে শিরিন আক্তার (৩৭) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বশির আহম্মেদের স্ত্রী।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে পাশের ভাড়াটিয়ারা শিরিন আক্তারকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।খবর পেয়ে রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী বশির আহম্মেদকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান, ইয়াবা ও নগদ অর্থ জব্দ; মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণাভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে ব্যবহৃত নগদ অর্থও জব্দ করা হয়।পুলিশ জানায়, বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে দক্ষিণ আইচা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রতাপ চন্দ্র দাস-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চর মানিকা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর কচ্ছপিয়া এলাকার একটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— চর মানিকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেল্লাল সিকদারের ছেলে বাবলু (২৬), একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ফারুকের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (২৬) এবং মো. রিয়াদ (২৮)।পুলিশের দাবি, তল্লাশির সময় তাদের কাছ থেকে ১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা, উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক বিক্রির ৩ হাজার টাকা নগদ জব্দ করা হয়েছে।দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দক্ষিণ আইচা থানা এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রি করতেন বলে স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। পুলিশের মতে, মাদক পাচার ও কারবার দমনে গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে, যাতে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধ করা যায়।
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পুলিশের পৃথক অভিযানে ৩ গ্রাম হেরোইনসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই অভিযানে একটি নিয়মিত মামলার আসামি ও দুইজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট চারজনকে আটক করেছে তানোর থানা পুলিশ।বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তানোর থানার মুন্ডুমালা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মো. ইয়ামিন সরকার (২৬) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তিনি মুন্ডুমালা হাট এলাকার মৃত মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ছেলে। পরে তার কাছ থেকে ৩ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন তানোর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় তার সঙ্গে কনস্টেবল রাজু আহমেদ, জিসান বাবু এবং শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।এদিকে, তানোর থানার মামলা নং-১৪ (তারিখ: ১৩ জুলাই ২০২৬)-এর এজাহারভুক্ত আসামি মো. হাতেম আলী (৪০), পিতা মৃত বাদল সরকার, গ্রাম ছাঐড়, থানাঃ তানোর, জেলাঃ রাজশাহীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন— মো. শাকিল আহমেদ, পিতা মো. নাসির উদ্দিন, গ্রাম আমশো এবং মো. সাদ্দাম (৪৫), পিতা মৃত সাত্তার, গ্রাম জুমারপাড়া, থানাঃ তানোর।তানোর থানা পুলিশ জানায়, অভিযানে গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে একজনের কাছ থেকে হেরোইন উদ্ধার হয়েছে, একজন নিয়মিত মামলার আসামি এবং অপর দুইজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত।অভিযানে এসআই মো. শফিকুল ইসলাম, এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং এএসআই মো. শাহাদাত হোসেন অংশ নেন। পুলিশ জানিয়েছে, মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রাজশাহীর তানোরে একটি গির্জায় আদিবাসী তরুণী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তের খালাসের রায়ের প্রতিবাদে এবং চারঘাটে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুলাই) রাজশাহীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এলাকায় সকাল এগারোটার দিকে এ কর্মসূচির আয়োজন করে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের অঙ্গসংগঠন আদিবাসী যুব পরিষদ, কেন্দ্রীয় কমিটি। কর্মসূচিতে আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন ‘শক্তিশালী করি’ সহমত প্রকাশ করে অংশ নেয়।সমাবেশে বক্তারা বলেন, তানোরের আলোচিত মামলায় খালাসের রায়ে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন। তারা উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে চারঘাটে সাত বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।আদিবাসী যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি যাদু কুমার দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ছোটন সরদার, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কাজল মার্ডি, সমাজ কর্মী মেরিনা হাঁসদা, ভিকটিমের মা রিতু রানী দাস প্রমুখ।এ সময় বক্তারা বলেন, তানোরে গীর্জায় আটকে তিনদিন ধর্ষন মামলার রায় বিতর্কিত এটা, বাদী ন্যায় বিচার পায়নি, র্নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কোনো ধরনের প্রভাব বা ক্ষমতার অপব্যবহার যেন বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তারা ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।