ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

ধর্ম

নওগাঁর পোরশায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় আদিবাসী সমাবেশ ও ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

নওগাঁর পোরশায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও আদিবাসী সমাবেশ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার নিতপুর সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের নেতা লাকড়া মরমু।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোরশা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. তৌফিকুর রহমান শাহ্ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. সাদিকুল ইসলাম (সাদেক), পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান, বিএনপি নেতা মো. শাহ্জামান শাহ্ চৌধুরী, নিতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. বেলাল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. ইব্রাহিম আলী, বিএনপি নেতা মো. রফিকুল ইসলাম (গামা), যুবদল নেতা মো. আব্দুল জব্বার আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।সমাবেশে বক্তারা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা, শিক্ষা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, পাশাপাশি এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।বক্তারা বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তাদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।দিনব্যাপী এ কর্মসূচিকে ঘিরে নিতপুর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ধর্ম ০২ অক্টোবর ২০২৬

রাসুলুল্লাহ (সা.) কোন ওয়াক্তে কতটা দীর্ঘ কিরাত পড়তেন?

নামাজ মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নামাজে কিরাতের ধরন ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর কথা ও আমলের মাধ্যমে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে তাঁর কিরাতের দৈর্ঘ্য একেবারে একই রকম ছিল না; বরং নামাজের ওয়াক্ত, মুসল্লিদের অবস্থা এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী এতে ভারসাম্য ও নমনীয়তা ছিল।ওয়াক্ত অনুযায়ী কিরাতের ধরনরাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ফজর ও জোহরের নামাজে তুলনামূলক দীর্ঘ কিরাত পাঠ করতেন। আসর ও এশায় থাকত মাঝারি দৈর্ঘ্যের কিরাত এবং মাগরিবে পড়তেন অপেক্ষাকৃত ছোট সুরা।হজরত সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রহ.)-এর বর্ণনায় হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন—مَا صَلَّيْتُ وَرَاءَ أَحَدٍ أَشْبَهَ صَلاَةً بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ فُلاَنٍ. قَالَ سُلَيْمَانُ: كَانَ يُطِيلُ الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَيُخَفِّفُ الأُخْرَيَيْنِ، وَيُخَفِّفُ الْعَصْرَ، وَيَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ، وَيَقْرَأُ فِي الْعِشَاءِ بِأَوْسَاطِ الْمُفَصَّلِ، وَيَقْرَأُ فِي الصُّبْحِ بِطِوَالِ الْمُفَصَّلِএর অর্থ, ‘আমি অমুক ব্যক্তির পেছনে এমন নামাজ আর পড়িনি, যার নামাজ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের সঙ্গে এতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুলাইমান বলেন, তিনি জোহরের প্রথম দুই রাকাত দীর্ঘ করতেন এবং শেষ দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত রাখতেন। আসরের নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন। মাগরিবে কিসারুল মুফাসসাল, এশায় আওসাতুল মুফাসসাল এবং ফজরে তিওয়ালুল মুফাসসাল পাঠ করতেন।’ (নাসাঈ ৯৮২)মুফাসসাল সুরার ভাগপ্রখ্যাত ফকিহ শাইখ ইবনু উসাইমিন (রহ.) মুফাসসাল সুরাগুলোকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন।দীর্ঘ মুফাসসাল: সুরা কাফ থেকে সুরা আন-নাবা পর্যন্ত।মাঝারি মুফাসসাল: সুরা আন-নাবা থেকে সুরা আদ-দুহা পর্যন্ত।ছোট মুফাসসাল: সুরা আদ-দুহা থেকে কুরআনের শেষ সুরা আন-নাস পর্যন্ত। (আশ-শারহুল মুমতি আলা যাদিল মুস্তাকনি ৩/৭৫)ফজরের নামাজে কিরাত কতটা দীর্ঘ ছিল?স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) ফজরের নামাজে প্রায় ৬০ থেকে ১০০ আয়াত তেলাওয়াত করতেন। এটি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধ পারার কাছাকাছি। এ নামাজে তিনি প্রায়ই সুরা কাফ, আস-সাজদাহ, আল-মুলক, আল-মুমিনুন অথবা আস-সাফফাত তেলাওয়াত করতেন।হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সাইব (রা.) বর্ণনা করেন, একবার মক্কায় ফজরের নামাজে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুরা মুমিনুন শুরু করেন। পরে মুসা, হারুন অথবা ঈসা (আ.)-এর বর্ণনায় পৌঁছালে তাঁর কাশি আসে এবং তিনি রুকুতে চলে যান। (মুসলিম ৪৫৫)তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কিরাত সংক্ষিপ্তও করেছেন। সফর অবস্থায় তিনি কখনো সুরা নাস ও সুরা ফালাকের মতো ছোট সুরা দিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেছেন। (আবু দাউদ ১৪৬২)মুসল্লিদের অবস্থা বিবেচনার শিক্ষাইমামের জন্য মুক্তাদিদের অবস্থা ও প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজ দীর্ঘ করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কোনো শিশুর কান্না শুনলে নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন।হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—إِنِّي لأَدْخُلُ فِي الصَّلاَةِ وَأَنَا أُرِيدُ إِطَالَتَهَا، فَأَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ، فَأَتَجَوَّزُ فِي صَلاَتِي مِمَّا أَعْلَمُ مِنْ شدَّةِ وَجْدِ أُمِّهِ مِنْ بُكَائِهِঅর্থাৎ, ‘আমি নামাজে দাঁড়াই এবং তা দীর্ঘ করার ইচ্ছা রাখি। কিন্তু কোনো শিশুর কান্না শুনলে নামাজ সংক্ষিপ্ত করি। কারণ আমি জানি, শিশুর কান্নায় তার মায়ের মনে কতটা কষ্ট হয়।’ (বুখারি ৭০৭, মুসলিম ৪৭০)ইমাম মালিক (রহ.)-এর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকলে, সফরের তাড়া থাকলে কিংবা কারও সহযোগিতায় যাওয়ার প্রয়োজন হলে সংক্ষিপ্ত কিরাতে নামাজ আদায় করা যেতে পারে। (শরহু সহিহিল বুখারি, ইবনু বাত্তাল ২/৩৮৫)।এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো কোনো সময়ে ফজরের নামাজে সুরা আত-তাকভির অথবা সুরা আয-যিলযালের মতো ছোট সুরাও তেলাওয়াত করেছেন। (আবু দাউদ ৭৮৯)কিরাতে ভারসাম্যই সুন্নাহর শিক্ষারাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে বোঝা যায়, নামাজে কিরাতের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠতার পাশাপাশি ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর ও সাবলীল তেলাওয়াতের মাধ্যমে নামাজকে প্রাণবন্ত রাখার পাশাপাশি মুক্তাদিদের সামর্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।বিশেষ করে বৃদ্ধ, অসুস্থ ও প্রয়োজনগ্রস্ত মুসল্লিদের উপস্থিতির বিষয়টি বিবেচনা করে কিরাতের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা সুন্নাহর অন্যতম দিক। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সুন্নাহ অনুসরণ করে কিরাত পাঠে এই ভারসাম্য বজায় রাখাই হেদায়েতের পথ। সূত্র: যুগান্তর

ধর্ম ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিদর্শনে ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী

ব্যক্তিগত আগ্রহে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) তিনি মাদ্রাসাটিতে গিয়ে এর শিক্ষা কার্যক্রম, দাওয়াহ ও দ্বীনি খেদমতের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হন। এ সময় জামিয়ার ঊর্ধ্বতন উস্তাদ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং মতবিনিময় করেন তিনি।বিকেল ৩টার দিকে প্রতিমন্ত্রী জামিয়ার ক্যাম্পাসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান দারুল উলূম হাটহাজারীর উস্তাদ মাওলানা আনওয়ার শাহ আযহারী, মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা শফিউল আলম ও মুহাম্মদ জাহিদ হোসেন।পরে প্রতিমন্ত্রী জামিয়ার মহাপরিচালকের কার্যালয়ে যান। সেখানে মহাপরিচালকসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন উস্তাদ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার মহাপরিচালক হযরত আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (দা.বা.), শায়খুল হাদীস ও সদরুল মুদাররেসীন হযরত আল্লামা শেখ আহমদ (দা.বা.), শায়খে সানী হযরত আল্লামা শোয়াইব জমিরী (দা.বা.), মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.), আল্লামা মুহাম্মদ ওমর কাসেমী (দা.বা.), আল্লামা আহমদ দীদার কাসেমী (দা.বা.), আল্লামা আশরাফ আলী নিজামপুরী (দা.বা.)সহ অনেকে।সালাম ও কুশল বিনিময়ের পর প্রতিমন্ত্রী জামিয়ার শিক্ষা কার্যক্রম এবং দাওয়াহ-খেদমত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় তাকে দারুল উলূম হাটহাজারীর বিভিন্ন দাওয়াহ কার্যক্রম, অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে আবাসিক সুবিধা, দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে খোরাকী এবং একাডেমিক কিতাবপত্র সরবরাহের বিষয়গুলো জানানো হয়।এ ছাড়া জামিয়ার বিভিন্ন দ্বীনি ও মানবিক খেদমতের বিষয়েও তাকে অবহিত করা হয়। প্রতি বছর জামিয়া থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার আলেম ফারেগ হন—এ তথ্যও জানানো হয়। এসব কার্যক্রম সম্পর্কে জেনে প্রতিমন্ত্রী অভিভূত হন।মতবিনিময়ের এক পর্যায়ে আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন (দা.বা.) প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ মুসলমান হানাফী মাযহাবের অনুসারী। ধর্মপ্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আক্বীদাগত বিষয়ে দেশের আলেম সমাজ ও সাধারণ মুসলমানদের একটি অংশের মধ্যে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, সেটিও তিনি প্রতিমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।জবাবে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন বলেন, এশিয়া মহাদেশের মুসলমানদের বড় একটি অংশ হানাফী মাযহাব অনুসরণ করেন। তিনি জানান, তার দাদার পরিবার হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং নানার পরিবার আহলে হাদীস অনুসরণ করতেন।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের দ্বীনি শিক্ষার প্রসার এবং দাওয়াহ কার্যক্রমে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার গৌরবময় ভূমিকার প্রতি তার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের যেকোনো খেদমত ও সহযোগিতায় আমাকে পাশে পাবেন।’ধর্মপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট মতবাদ কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়। বরং সব ধর্ম ও মতের মানুষ যেন পারস্পরিক সহনশীলতা, শান্তি ও স্বাধীনতার সঙ্গে সামাজিক জীবনযাপন করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা করা মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর প্রভাব, মর্যাদা ও সুযোগ কখনোই কমিয়ে দেওয়া যায় না।তিনি আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে তাকে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে হতে পারে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে এসব অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতিকে যেন ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা না হয়, সে বিষয়ে তিনি উপস্থিত আলেমদের প্রতি অনুরোধ জানান।মতবিনিময়ের সময় দারুল উলূম হাটহাজারীর পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কার্যকর ভূমিকা কামনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কার্যকর করা, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কওমি আলেমদের বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বাহিনীর ধর্মীয় শিক্ষক পদে কওমি আলেমদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা এবং দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর প্রাপ্ত অনুদানকে সব ধরনের ট্যাক্স ও আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া।এ ছাড়া তাবলীগ জামাআতের বিভ্রান্ত গোষ্ঠী সাদপন্থীদের বিশ্ব ইজতিমা আয়োজন এবং দাওয়াত ও তাবলীগের কার্যক্রম ঘিরে চলমান সব ষড়যন্ত্র বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।দারুল উলূম হাটহাজারীর পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিষয়গুলো প্রতিমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সরকারি বিধি-বিধানের আওতায় সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।মতবিনিময়ের একপর্যায়ে নবনিযুক্ত ধর্মপ্রতিমন্ত্রী জামিয়ার ঊর্ধ্বতন উস্তাদ ও কর্মকর্তাদের সামনে একটি বিশেষ প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নির্বাচিত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, সামরিক-বেসামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্বল্পমেয়াদি উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ ‘ক্যাপস্টোন কোর্স’ আয়োজন করা হয়।তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রশিক্ষণ গ্রহণের পদ্ধতি, সদস্যদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার প্রক্রিয়া, দেশ রক্ষার প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন নিয়ম ও বিধি অনুসরণের বিষয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা পান।এই প্রসঙ্গে তিনি প্রস্তাব দেন, দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসাসহ দেশের অন্যান্য বৃহৎ মাদ্রাসা বছরে এক বা দুবার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা ও দল-মতের নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে ‘ক্যাপস্টোন কোর্স’-এর আদলে কোনো উদ্যোগ নিতে পারে। সেখানে দ্বীনি শিক্ষা কার্যক্রম, দাওয়াহ এবং ইসলাম সম্পর্কে মৌলিক ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি অনুশীলনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।প্রতিমন্ত্রীর মতে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন দল-মত ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের যথাযথ জবাবও তুলে ধরা যাবে।প্রায় ৪০ মিনিটের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় শেষে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন দারুল উলূম হাটহাজারীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) ও কায়েদে মিল্লাত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর মাকবারাহ জিয়ারত করেন।এরপর তিনি দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে বিদায় নিয়ে মেখল হামিউচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন।উল্লেখ্য, ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের ব্যক্তিগত আগ্রহে আয়োজিত এ পরিদর্শনে দারুল উলূম হাটহাজারী কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের অতিরিক্ত আবেগ-উচ্ছ্বাস বা আনুষ্ঠানিকতার বাড়াবাড়ি না করে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবগাম্ভীর্য, সংযম ও স্বাভাবিক সৌজন্য বজায় রেখে তাকে স্বাগত জানায়। একটি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের এ দৃষ্টান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সূত্র: ইরশাদ

ধর্ম ৩১ আগস্ট ২০২৬

নবীর সন্তান নবী হতে না পারলে পীরের সন্তান পীর কেন’—প্রশ্ন তুলে সমালোচনা মুফতি নোমান কাসেমীর

‘নবীর সন্তান নবী হতে আপত্তি নেই, পীরের সন্তান পীর হলে আপত্তি কেন?’—এমন প্রশ্নের সমালোচনা করেছেন মুফতি মুহাম্মদ নোমান কাসেমী। তাঁর মতে, নবুওয়াত আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্বাচনের বিষয়; অন্যদিকে বংশপরম্পরায় পীরের আসনে বসার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।অনলাইনে প্রচারিত একটি ভিডিওতে জনৈক পীরের এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গ তুলে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুফতি মুহাম্মদ নোমান কাসেমী। বক্তব্যে তিনি নবুওয়াত ও পীরত্বের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন।মুফতি নোমান কাসেমী বলেন, কেউ নিজের ইচ্ছায় নবী হতে পারেন না। কোনো নবী তাঁর সন্তানকে নিজের নবুওয়াতের আসনে বসাতে পারেন না এবং কোনো সন্তানও বাবার নবুওয়াতের আসন গ্রহণ করতে পারেন না। আল্লাহ তাআলা যাঁকে নিজের ইচ্ছায় নির্বাচন করেন, তিনিই নবী হন। এক্ষেত্রে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক মুখ্য নয়; আল্লাহর ইচ্ছাই মূল বিষয়।তিনি বলেন, দুনিয়াতে নবীর সন্তান নবী ছিলেন—এটি সত্য। তবে নবীর সন্তানদের মধ্যে কাফেরও ছিলেন।পীরের বংশপরম্পরায় আসনে বসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো কোনো পীর নিজের অযোগ্য সন্তানকেও পীরের আসনে বসান এবং সন্তানও বাবার আসনে বসেন। তাঁর দাবি, এ ক্ষেত্রে আল্লাহর ইচ্ছার পরিবর্তে পীর ও তাঁর সন্তানের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং ‘পীরালী ব্যবসার’ বিষয়টি প্রাধান্য পায়।এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে মুফতি নোমান কাসেমী বলেন, ভুল বক্তব্য থেকে বিরত হয়ে তওবা করা এবং ঈমান নবায়ন করা উচিত। মুফতি মুহাম্মদ নোমান কাসেমী একজন লেখক, শিক্ষক ও আলোচক। তিনি ঢাকার শাইখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের উস্তাজুল হাদিস, আল-মারকাজুল হানাফী বাংলাদেশের পরিচালক এবং যাত্রাবাড়ীর দনিয়া বড় জামে মসজিদের খতিব হিসেবে পরিচিত।

ধর্ম ৩০ আগস্ট ২০২৬

স্ত্রীকে ‘আপু’ বলে ডাকলে কি তালাক হয়?

প্রশ্ন: স্ত্রীকে ‘আপু’ বা ‘বোন’ বলে সম্বোধন করলে কি তালাক হয়ে যায়? এ ক্ষেত্রে কি কোনো কাফফারা দিতে হয়?উত্তর: স্ত্রীকে ‘আপু’ বা ‘বোন’ বলে ডাকা মাকরুহ। হাদিসে এ ধরনের সম্বোধন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ‘বোন’ বলে সম্বোধন করলে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অপছন্দ করেন এবং এভাবে সম্বোধন করতে নিষেধ করেন। (সুনানে আবু দাউদ ১/৩০১; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৭/১৫২)তাই স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই এ ধরনের সম্বোধন পরিহার করা উচিত। তবে স্ত্রীকে ‘আপু’ বা ‘বোন’ বলে ডাকলে বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো ক্ষতি হয় না।স্বামী-স্ত্রীর একে অপরকে এমন শব্দ বা নামে সম্বোধন করা উচিত, যার মাধ্যমে স্বাভাবিক সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ পায় এবং অসম্মান প্রকাশ না পায়। তারা চাইলে সন্তানদের নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একে অপরকে ডাকতে পারেন। নাম ধরেও ডাকা যেতে পারে, যদি তাদের সংস্কৃতিতে তা অপমানজনক না হয় এবং এতে কেউ অসম্মানিত বোধ না করেন।আবু তমিমা আল জুহামী (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ‘হে আমার বোন’ বলে সম্বোধন করেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘সে কি তোমার বোন?’ তিনি এ ধরনের সম্বোধন অপছন্দ করেন এবং তা থেকে নিষেধ করেন। (সুনানে আবু দাউদ: ২২০৪)সুতরাং স্ত্রীকে ‘বোন’, ‘আপু’ ইত্যাদি এবং স্বামীকে ‘ভাই’, ‘ভাইয়া’ ইত্যাদি বলে সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকা উচিত।তবে স্বামী স্ত্রীকে ‘বোন’ বা ‘আপু’ বলে ডাকলে কিংবা স্ত্রী স্বামীকে ‘ভাই’ বা ‘ভাইয়া’ বলে সম্বোধন করলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো ক্ষতি হবে না। এতে তালাকও হবে না এবং কোনো কাফফারা দেওয়ার প্রয়োজনও হবে না। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

ধর্ম ৩০ আগস্ট ২০২৬

ঈদে মিলাদুন্নবী পালন না করার অভিযোগ, ভাঙ্গায় প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা কাজী শামচুন্নেচ্ছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথভাবে উদযাপন না করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তের শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জুমার নামাজ শেষে ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় শত শত মুসল্লি অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন না করার অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে গড়িমসির অভিযোগ তোলা হয়। তাকে আগামী তিন দিনের মধ্যে অপসারণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আল্টিমেটাম দেন বিক্ষোভকারীরা।বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে দুর্নীতির সিন্ডিকেট তৈরি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চলছে। সহকর্মী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম করে আসছেন বলেও সমাবেশে দাবি করা হয়।সমাবেশে বক্তব্য দেন কাজী শামচুন্নেচ্ছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক অভিভাবক সদস্য মিঞা মোহাম্মদ আলমগীর, সমাজসেবক হেমায়েত হোসেন, সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এনায়েত মুন্সী, ছাত্রনেতা ও সমন্বয়ক আকাশ, ভাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বিশ্বাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শওকত হোসেন বলেন, সরকারি পরিপত্র প্রতিটি বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ে কেন ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা হয়নি, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত। তিনি বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের জন্য বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক জাকির হোসেনকে এক হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, ওই অর্থ দিয়ে মিষ্টি কেনা হয় এবং কোর্ট মসজিদে তবারক বিতরণ করা হয়েছে। সূত্র: দৈনিক জনবাণী

ধর্ম ২৮ আগস্ট ২০২৬

ইসলামি দল না করলেই কি কাফের? যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

কোনো ইসলামি সংগঠন কিংবা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলে কোনো মুসলমানকে ‘কাফের’ বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি এমন প্রবণতাকে কিছু ইসলামি দলের কর্মীদের ‘বাড়াবাড়ি’ বলে উল্লেখ করেছেন।শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, বিভিন্ন ইসলামি দলের কর্মীরা অনেক সময় নিজেদের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য করেন, যার কোনো ভিত্তি কোরআন-হাদিসে পাওয়া যায় না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও কর্মীদের এ ধরনের বক্তব্য দিতে নির্দেশ দেন না।তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট বলয়, প্ল্যাটফর্ম বা সংগঠনের সঙ্গে কাজ করা—সেটি রাজনৈতিক কিংবা অরাজনৈতিক যেকোনো ধরনের হতে পারে—কাজের সুবিধার জন্য বৈধ হতে পারে। তবে কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে অন্ধ আনুগত্য সৃষ্টি করা এবং আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশনার চেয়ে দলীয় চিন্তা বা গোষ্ঠীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া গুনাহের কারণ হতে পারে।মুসলমানদের রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কোন পথে কল্যাণ রয়েছে এবং কোন পথে অকল্যাণ রয়েছে, তা উপলব্ধি করার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। নিজের দেশ, মাটি ও মানুষের কল্যাণ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।তিনি আরও বলেন, কারও সিদ্ধান্তের কারণে যদি এমন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পথ সুগম হয়, যারা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, মুসলমানদের মূলধারার সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বিরোধে জড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত। শরিয়তের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে সেগুলোর গুরুত্ব উপলব্ধি করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কেউ বাড়াবাড়ি করেন, আবার কেউ অতিরিক্ত ছাড় দেন। উভয় ধরনের প্রবণতা পরিহার করে সঠিক পথ অনুসরণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।এদিকে সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে রয়েছে বিড়ি ধরানোকে কেন্দ্র করে বাবা-ছেলের মারামারি থামাতে গিয়ে এক চাচার মৃত্যু এবং নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক তরুণীকে পুলিশ সদস্যের উদ্ধার করার ঘটনা। এছাড়া সীমান্তে বিএসএফের সঙ্গে এক বাংলাদেশির ধস্তাধস্তি এবং অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুপুরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং কমাতে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় নাটোরের ফাতেমার চীনে মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।সরকারের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন ১০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুন দায়িত্ব পেলেন ১০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। সূত্র: প্রবাস খবর

ধর্ম ২৮ আগস্ট ২০২৬

শুক্রবারের বিশেষ আমলে মিলতে পারে বিপুল সওয়াব

নবী করিম (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ বা তাঁর কাছে সালাম পৌঁছানোর মাধ্যমে উপকৃত হন মুসলমানরাই। একবার দরুদ বা সালাম পাঠের বিনিময়ে আল্লাহতাআলা ১০টি রহমত দান করেন। তবে শুক্রবারে দরুদ পাঠের রয়েছে আরও বেশি তাৎপর্য, সওয়াব ও ফজিলত।আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে। কারণ এ দিনে তাঁর উম্মতের দরুদ তাঁর কাছে পৌঁছানো হয়। যে ব্যক্তি তাঁর ওপর সর্বাধিক দরুদ পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন সে তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে। (তারগিব, হাদিস নং : ১৫৭)আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে। এ বিষয়ে জিবরাঈল (আ.) আল্লাহতাআলার বাণী নিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হন। আল্লাহতাআলা বলেন, পৃথিবীর কোনো মুসলমান নবী (সা.)-এর ওপর একবার দরুদ পাঠ করলে তিনি তার ওপর ১০ বার রহমত নাজিল করেন এবং তাঁর ফেরেশতারা ওই ব্যক্তির জন্য ১০ বার ইস্তেগফার করেন। (তারগিব : ৩/২৯৯)আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, তাঁর ওপর দরুদ পাঠ পুলসিরাত পার হওয়ার সময় আলো হিসেবে কাজ করবে। আর যে ব্যক্তি জুমার দিনে ৮০ বার দরুদ পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।অন্য এক রেওয়ায়েতে নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাজের পর নিজ স্থান থেকে ওঠার আগে ৮০ বার এই দরুদ শরিফ পাঠ করবে—‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিইয়্যিল উম্মিইয়ি ওয়া আলা আলিহি ওয়া আস হাবিহি ওয়াসাল্লিমু তাসলিমা’। তার ৮০ বছরের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে এবং তার আমলনামায় ৮০ বছরের ইবাদতের সওয়াব লেখা হবে। (আফজালুস সালাওয়াত : ২৬)আলী (রা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিনে নবী করিম (সা.)-এর ওপর ১০০ বার দরুদ পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় উঠবে যে তার চেহারার নূরের জ্যোতি দেখে মানুষ পরস্পর বলাবলি করবে—এই ব্যক্তি কী আমল করেছিল! (কানজুল উম্মাল, হাদিস নং : ১৭৪)আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে। কারণ এটি একটি মোবারক দিন এবং এ দিনে ফেরেশতারা উপস্থিত হন। কোনো ব্যক্তি তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করলে তা পাঠ করার আগেই তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।আবু দারদা (রা.) জানতে চান, রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের পরও কি দরুদ তাঁর কাছে পৌঁছানো হবে? জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, ইন্তেকালের পরও তা তাঁর কাছে পৌঁছানো হবে। কারণ আল্লাহতাআলা জমিনের জন্য সব নবীর দেহ হারাম করে দিয়েছেন। (তারগিব : ৩/৩০৩)আল্লাহতাআলা আমাদের প্রত্যেককে প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার তওফিক দান করুন। সূত্র: বাংলানিউজ

ধর্ম ২৮ আগস্ট ২০২৬

খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটির চট্টগ্রাম জেলা শাখার ৮৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি

খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ-এর চট্টগ্রাম জেলা শাখার ৮৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হাটহাজারী মাদরাসার মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা খলিল আহমদ কুরাইশীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পরিচালনা করেন মুফতি জসিম উদ্দিন।নবগঠিত কমিটিতে আমীরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা খলিল আহমদ কাসেমী আল-কোরাইশী। সেক্রেটারি হয়েছেন হাটহাজারী মাদরাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি জসিম উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে মুফতি হারুন ইযহারকে।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমীর আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা রশিদ আহমাদ, মাওলানা আব্দুল আউয়াল পীর সাহেব ডিআইটি, মুফতী হাবিবুর রহমান কাসেমী নাজিরহাট, মাওলানা আব্দুল কাদির, নায়েবে আমীর মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমী, মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মুফতী সাঈদ নূর, মুফতী আলী আকবর কাসেমী, মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ ইমাদুদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা উবায়দুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা আবুল কাসেম আশরাফী, মাওলানা নেসার আহমদ, অর্থ সম্পাদক মাওলানা নেয়ামতুল্লাহ, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুল্লাহ ফিরোজী এবং কেন্দ্রীয় দাঈ মাওলানা আবু ইউসুফ প্রমুখ।চট্টগ্রামের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার শাইখুল হাদিস আল্লামা শেখ আহমাদ, মুহাদ্দিস মাওলানা আহমদ দিদার কাসেমী, দারুল মা’আরিফের মুহতামিম মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলীল, ফতেহপুর মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, মাওলানা ইউসুফ বিন আহমদ শফী রহ., মোজাহেরুল উলুম মাদরাসার পরিচালক মাওলানা লোকমান হাকিম, চারিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা উসমান সাঈদী, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, মুফতি নুরুল আবসার আযহারী হাটহাজারী, মাওলানা মাহমুদুল করীম কাসেমী লোহাগাড়া, মুফতি হারুন ইযহার, মাওলানা ইউসুফ নদভী, মাওলানা শেহাবুদ্দিন, হাইলধর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা তৈয়ব এবং মাওলানা জাকারিয়া হাসনাবাদী।এ ছাড়া বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাদরাসার প্রতিনিধি ও স্থানীয় শীর্ষ উলামায়ে কেরাম সভায় অংশ নেন।সভায় বক্তারা খতমে নবুওয়ত সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আকীদা সংরক্ষণে সর্বস্তরের মুসলিম উম্মাহকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নবগঠিত চট্টগ্রাম জেলা কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।পূর্ণাঙ্গ কমিটিউপদেষ্টা পরিষদ মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, মুহতামিম, বাবুনগর মাদরাসা মাওলানা শেখ আহমদ, শায়খুল হাদীস, হাটহাজারী মাদরাসা মাওলানা সালাহ উদ্দীন, মুহতামিম, নানুপুর মাদরাসা মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া, মুহাদ্দিস, পটিয়া মাদরাসা মাওলানা শোয়াইব জমিরী, মুহাদ্দিস, হাটহাজারী মাদরাসা মাওলানা ওসমান ফয়জী, মুহতামিম, চারিয়া মাদরাসা মাওলানা ওসমান কাসেমী, মুহতামিম, মেখল মাদরাসা মাওলানা মুরফাকানুল্লাহ খলীল, মুহতামিম, দারুল মা’আরিফ মাদরাসা মাওলানা হারুন, মুহতামিম, শুলকবহর মাদরাসা মাওলানা আবুল হাসাইন, মুহতামিম, সাতকানিয়া মাদরাসা মাওলানা আব্দুল জালিল, মুহতামিম, চাখল মাদরাসা, বাঁশখালী হযরত মাও. মুফতি আব্দুল কাদের, মুহতামিম, কুদালা মাদরাসা হযরত মাও. হাবিবুল ওয়াহেদ, মুহতামিম, রাজঘাটা মাদরাসা মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, মুহতামিম, দারুল উলুম রাঙ্গুনিয়া মাদরাসা মাওলানা মুফতি হাবিবুর রহমান, মুহতামিম, নাজির হাট বড় মাদরাসা মাওলানা দিদার কাসেমী, মুহাদ্দিস, হাটহাজারী মাদরাসা মাওলানা ওমর কাসেম, মুহাদ্দিস, হাটহাজারী মাদরাসা মাওলানা মাকসুদুর রহমান, মুহতামিম, জামালুল কুরআন মাদরাসা, মিরসরাই মাওলানা শিহাব উদ্দীন, মুহতামিম, ইউসুফীয়া মাদরাসা মাওলানা মীর কাসেম, পরিচালক, আল হুদা মহিলা মাদরাসা মাওলানা নাসিম উদ্দীন, গড়দুয়ারা মাদরাসা কার্যকরী পরিষদসভাপতি: মাওলানা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, মুহতামিম, হাটহাজারী মাদরাসা।সহ-সভাপতি: মাওলানা একরাম ওয়াদুদী, মুহতামিম, পটিয়া মাদরাসা; মাওলানা ফুরকান, দারুল মা’আরিফ মাদরাসা; মাওলানা খুবাইব, মুহতামিম, জিরি মাদরাসা; মাওলানা মুফতি কেফায়েতুল্লাহ, হাটহাজারী মাদরাসা; মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মুহতামিম, ফতেপুর মাদরাসা; মাওলানা মাওলানা কুতুবুদ্দীন, শাইখুল হাদীস, নানুপুর মাদ্রাসা; মাওলানা লোকমান, মুহতামিম, মোজাহেরুল উলুম মাদরাসা; মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, বাবুনগর মাদরাসা; মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী, মেখল মাদরাসা; মাওলানা ফুরকান, হাটহাজারী মাদরাসা; মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, হাটহাজারী পৌরসভা; মাস্টর আহসান উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক, আল-আমিন সংস্থা; মাওলানা ইউসুফ মাদানী, মুহতামিম, ইউসুফিয়া মাদরাসা, রাঙ্গুনিয়া।সেক্রেটারি: আল্লামা মুফতি জসিম উদ্দিন, মুফতি ও মুহাদ্দিস, হাটহাজারী মাদরাসা।সহ-সেক্রেটারি: মাওলানা ড. নূরুল আবছার আজহারী, মাওলানা মুফতি রাশেদ, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা জাকারিয়া হাসানবাদ, মাওলানা আকতার, মাওলানা জুনাইদ বিন জালাল, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা কায়রুল ইসলাম, মাওলানা শহিদুল আলম, মাওলানা জাকারিয়া নোমান, মাওলানা মুফতি রাশেদ, হাটহাজারী মাদরাসা, মাওলানা সাইফ উল্লাহ, চট্টগ্রাম শহর, মাওলানা সুহাইল, খাতুনিয়া, আনোয়ারা, মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ নোমানী, ইছাপুর মাদরাসা, মাওলানা মুফতি জানে আলম, রাঙ্গুনিয়াম, মাওলানা হাফেজ ইসমাইল, হাটহাজারী, হাফেজ মাওলানা সিরাজ, এম কে. টাওয়ার, মাওলানা মীর জুনাইদ, আল হুদা মহিলা মাদরাসা।সাংগঠনিক সম্পাদক: মুফতি শায়খ হারুন ইযহার, লালখান বাজার মাদরাসা; মাওলানা ইসমাইল খান, মেখল মাদরাসা; মাওলানা জাকের, ওয়ায়েসীয়া মাদরাসা; মাওলানা আলমগীর মাসউদ, আরবনগর মাদরাসা।প্রচার সম্পাদক: মাওলানা নিজাম সাইদ, হাটহাজারী মাদরাসা; মাওলানা মুসলিম, আল-আরাফাহ মাদরাসা, মুরাদপুর; মাওলানা আরিফ, নূর মসজিদ, হাটহাজারী; মাওলানা বনিলুল করিম, হাটহাজারী মাদরাসা; মাওলানা শোয়াইব, ওয়ায়েস মাদরাসা, মিরসরাই; মাওলানা আব্দুস সামি, বদনাপাড়া মাদরাসা; মাওলানা ইসমাইল, মেহেরিয়া মাদরাসা; মাওলানা শোয়াইব, সাতকানিয়া; মাওলানা হাসেম, হাটহাজারী।প্রেস সচিব: মাওলানা মুনির আহমদ, হাটহাজারী মাদরাসা।দপ্তর সম্পাদক: মাওলানা বরিশাল করিম, হাটহাজারী মাদরাসা; মাওলানা তাওহিদ, হাটহাজারী মাদরাসা; মাওলানা নিজাম সাইদ, হাটহাজারী মাদরাসা।অর্থ সম্পাদক: মাওলানা মুফতি রাশেদ, হাটহাজারী মাদরাসা; মাওলানা সাইফ উল্লাহ, চট্টগ্রাম শহর; সুহাইল, খাতুনিয়া, আনোয়ারা; মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ নোমানী, ইছাপুর মাদরাসা; মাওলানা মুফতি জানে আলম, রাঙ্গুনিয়া; হাফেজ ইসমাইল, হাটহাজারী; মাওলানা সিরাজ, এম কে. টাওয়ার; মাওলানা মীর জুনাইদ, আল হুদা মহিলা মাদরাসা। সূত্র: ইনসাফ

ধর্ম ২৭ আগস্ট ২০২৬

দরিদ্র ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের মাঝে হুইলচেয়ার ও ভ্যান বিতরণ করলেন মামুনুল হক

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ৫০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও ৫০ জন দরিদ্র মানুষের মধ্যে হুইলচেয়ার ও ভ্যান বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তাগলীবে দ্বীন ফাউন্ডেশন (টিডিএফ)-এর উদ্যোগে এবং এতিম এন্ড গরিব ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে এসব সহায়তা প্রদান করা হয়।মোল্লাহাট কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোল্লাহাট উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এতিম এন্ড গরিব ট্রাস্ট ফান্ডের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা সালেহ আহমদ হামিদী।অনুষ্ঠানে মোল্লাহাট, চিতলমারী ও ফকীরহাট উপজেলার ৫০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে একটি করে হুইলচেয়ার এবং ৫০ জন দরিদ্র মানুষকে একটি করে ভ্যান দেওয়া হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ৫০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার দেওয়ার মাধ্যমে তাদের চলাচল আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ জন খেটে খাওয়া মানুষকে ভ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।তিনি বলেন, অনেক দরিদ্র মানুষ ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও উপার্জনের একটি বড় অংশ ভ্যানের মালিককে ভাড়া হিসেবে দিতে হয়। নিজের ভ্যান থাকায় তারা শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের পুরোটা পরিবারের প্রয়োজন পূরণে কাজে লাগাতে পারবেন। এর ফলে পরিবারে স্বচ্ছলতা এবং জীবনযাপনে কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।অনুষ্ঠানে তাগলীবে দ্বীন ফাউন্ডেশন-টিডিএফের মহাপরিচালক মাওলানা মাসরুরুল হক, মুহাম্মাদ কামাল উদ্দীন, রাহাত খন্দকার, সাদ সাম্মানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: হুদহুদ নিউজ

জাতীয় ২৭ আগস্ট ২০২৬