কুমিল্লায় হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনে কাটা পড়ে দাদি ও নাতনির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের কাছাকাছি শাসনগাছা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেসের নিচে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।নিহতরা হলেন—কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া এলাকার মৃত মিজান মিয়ার স্ত্রী জোসনা বেগম (৬০) এবং তার নাতনি, জাহাঙ্গীর মিয়ার মেয়ে চাঁদনী (১৫)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাতনি চাঁদনীকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন জোসনা বেগম। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার সময় শাসনগাছা এলাকায় রেললাইন পার হচ্ছিলেন তারা। এ সময় চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলে এলে দুজনই ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে পুলিশ দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক টিমের সহায়তায় পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়।নিহতদের স্বজন জোহরা বেগম জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশের মাধ্যমে ফোনে তারা জানতে পারেন, ট্রেনে কাটা পড়ে জোসনা ও চাঁদনীর মৃত্যু হয়েছে। পরে রেলস্টেশনে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন বলেও জানান তিনি।রেলওয়ে পুলিশের কুমিল্লা স্টেশন ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মামুনুর রশিদ বলেন, রেললাইন পার হওয়ার সময় সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সূত্র: দেড়শ রূপান্তর।
কুমিল্লার চান্দিনায় এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হাফেজ মো. মনির হোসেন (৩২) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনায় গ্রাম্য সালিশ চলাকালে তাকে আটক করা হয়।এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে দোল্লাই নবাবপুর বাজার এলাকার নবাবপুর মারকাযুন নূর মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের এক ছাত্রকে শিক্ষক মনির হোসেন যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।অভিযুক্ত হাফেজ মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য, সোমবার রাতে মাথা ও পা ম্যাসেজ করে দেওয়ার কথা বলে শিক্ষক মনির হোসেন তাকে ডেকে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তার সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থী।স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়রা মনির হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এরপর ক্ষুব্ধ লোকজন তাকে কিল-ঘুষি দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গ্রাম্য সালিশে বসেন। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।ঘটনাটি গ্রাম্য সালিশে মীমাংসার বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞা বলেন, দুই পক্ষ পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে তারা সালিশে বসেছিলেন। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে যায়।চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে রয়েল কক্স পরিবহনের একটি স্লিপার কোচে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে বাসটিতে থাকা সব যাত্রী নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইলিয়টগঞ্জ রিলায়েবল সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রয়েল কক্স পরিবহনের স্লিপার কোচটি কক্সবাজার থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে চলার সময় সামনে থাকা একটি গাড়িতে ধাক্কা দেয় বাসটি। এতে বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানায় পুলিশ।আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বাসের যাত্রীরা দ্রুত নেমে নিরাপদ স্থানে চলে যান। একপর্যায়ে পুরো বাসটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সেটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।স্থানীয় টামটা গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন মোল্লা বলেন, বাসটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এর মধ্যেই সব যাত্রী বাস থেকে নিরাপদে বের হয়ে আসেন। তবে আগুনের তীব্রতা ছিল অনেক বেশি এবং পুরো বাসটি পুড়ে যায়।ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক ইসলাম জানান, সামনে থাকা আরেকটি বাসে ধাক্কা দেওয়ার পর স্লিপার কোচটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।তিনি জানান, ঘটনায় তেমন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বাসটির চালক ও স্টাফরা ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।এসআই মো. ফারুক ইসলাম আরও জানান, বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।
কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় এসএসসি ও দাখিল সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের হোমনা থানা শাখা। আগামী ২২ আগস্ট শনিবার সকাল ৯টায় হোমনা থানা শিল্পকলা একাডেমিতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি ও দাখিল সমমান পরীক্ষায় এ বছর জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতেই এ আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের হাতে বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে অর্থসহ কোরআন শরিফ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও কিছু ইসলামিক উপহারও দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।নির্ধারিত সময়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও উপহার প্রদান করা হবে।স্থান: হোমনা থানা শিল্পকলা একাডেমি তারিখ: ২২ আগস্ট, শনিবার সময়: সকাল ৯টা আয়োজনে: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, হোমনা থানা শাখা।
শহীদ আব্দুল কাইয়ুম ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। লেখাপড়া শেষ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। ব্যবসা কিংবা সরকারি চাকরি—যে পথই বেছে নিন না কেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানো। কিন্তু জুলাই আন্দোলনে তার মৃত্যু শুধু একটি তরুণ প্রাণই কেড়ে নেয়নি, একই সঙ্গে ভেঙে দিয়েছে একটি পরিবারের অনেক স্বপ্নও।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় ঢাকার সাভারের নিউমার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন আব্দুল কাইয়ুম। পরদিন ৬ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।কাইয়ুমের মৃত্যুর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। বর্তমানে সাভারের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তার বাবা-মা। পরিবারের সবচেয়ে বড় অবলম্বনকে হারিয়ে সরকারি ভাতা, সীমিত সহায়তা এবং ছেলের স্মৃতি নিয়েই তাদের দিন কাটছে।কাইয়ুমের মা কুলসুম বলেন, সংসার চালাতে তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছেলে জীবিত থাকাকালেও অনেক কষ্ট করে সংসার চালিয়েছেন, এখনও একইভাবে কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। বর্তমানে মাসিক ২০ হাজার টাকার ভাতার ওপরই মূলত সংসার নির্ভর করছে। তার স্বামীর কানের সমস্যা ছাড়াও শরীরে নানা ধরনের অসুস্থতা রয়েছে। ফলে তিনি কাজ করতে পারেন না।তিনি বলেন, পরিবারের আর কেউ আয় করেন না। বড় ছেলে যে অর্থ উপার্জন করেন, তা তার নিজের স্ত্রী-সন্তানদের সংসারেই ব্যয় হয়। তাদের কাছে কখনো কিছু চাননি তারা। বড় ছেলে নিজের ইচ্ছায় কখনো দুই-চারশ টাকা দিলে তা নেন।কাইয়ুমের বাবা কফিল উদ্দিন জানান, তারা বর্তমানে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকেন। সরকারি ভাতার টাকা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চলছে। তবে ওই অর্থে সব খরচ মেটানো সম্ভব নয়। শুধু বাসা ভাড়াতেই মাসে আট হাজার টাকা দিতে হয়।পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন কাইয়ুমকাইয়ুমের মা জানান, ছেলে জীবিত থাকাকালে অনেক কষ্ট করে পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতেন। কুমিল্লায় তিনদিন থাকার পর আবার তিনদিন সাভারে থাকতেন। সাভারে এসে টিউশনি করাতেন। ভোরে উঠে দুধ সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। দইয়ের অর্ডার নিয়ে দই বিক্রি করতেন এবং ভর্তি কোচিংও পরিচালনা করতেন।বছরের অন্যান্য সময় টিউশনি এবং ছোটখাটো ব্যবসার মাধ্যমে পরিবারের খরচ চালাতে সহযোগিতা করতেন কাইয়ুম।শহীদ হওয়ার পর সরকারি সহায়তাকাইয়ুম শহীদ হওয়ার পর তার পরিবার সরকারের কাছ থেকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছে। কাইয়ুমের মা জানান, পরিবারভিত্তিক এই মাসিক ভাতাই তারা পাচ্ছেন।সরকারের কাছে কোনো প্রত্যাশা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হওয়ার মতো কিছু নেই। তারা অন্যের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। নিজেদের একটি বাড়ি থাকলে ভালো হতো। ছেলে বেঁচে থাকলে অনেক উপার্জন করত এবং পরিবারের জন্য অনেক কিছু করতে পারত বলেও তিনি জানান।শোকের পাশাপাশি প্রতিদিনের সংগ্রামসন্তান হারানোর বেদনা এখনো পরিবারটির প্রতিটি মুহূর্তকে তাড়া করে। কাইয়ুমের মা বলেন, ছেলে থাকলে তাদের সংসারের পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। তাকে মনে পড়লেই বুক ভার হয়ে আসে। তারপরও জীবন থেমে থাকে না, তাই কষ্টের মধ্যেই দিন পার করতে হচ্ছে।কাইয়ুমের বাবা বলেন, আল্লাহ যেভাবে চালাচ্ছেন, সেভাবেই তাদের জীবন চলছে। আল্লাহ না চালালে তাদের পক্ষে চলা সম্ভব নয়।এনসিপি, বিএনপি-ছাত্রদলের সহযোগিতা সীমিতকাইয়ুমের মা জানান, সরকারি ভাতার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও তারা সহায়তা পেয়েছেন।তার ভাষ্য, কাইয়ুম শহীদ হওয়ার প্রায় এক মাস পর জামায়াতে ইসলামী এক লাখ টাকা দেয়। এরপর দুই-তিন মাস পর আরও এক লাখ টাকা দেওয়া হয়।এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে সহায়তাও পেয়েছেন বলে জানান তিনি। দুই রোজার ঈদে জামায়াতের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। কোরবানির ঈদে খাসির মাংস এবং এবার গরুর মাংস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কুলসুম।বিএনপি ও ছাত্রদলের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি জানান, রোজার ঈদের আগে একজন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর নিয়েছিলেন এবং টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে টাকা দেওয়া হয়নি। পরে ওই এলাকার এমপি তাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আরেকবার একটি অনুষ্ঠানে চিনি, সেমাই, তেলসহ কিছু বাজারসামগ্রী দেওয়া হয়েছিল।জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকেও একবার বাজারসামগ্রী পাঠানো হয়েছিল বলে জানান তিনি। এরপর আর কোনো সহযোগিতা পাননি।কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলীর সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগ যৌথভাবে কাইয়ুমের পরিবারকে সাত লাখ টাকার একটি চেক দেয়।কাইয়ুমের মা জানান, ছেলে মারা যাওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১তম সিন্ডিকেট সভায় নতুন ক্যাম্পাসের ‘ছাত্র হল-১’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আব্দুল কাইয়ুম হল’ রাখা হয়েছে।বিচার নিয়ে হতাশ কাইয়ুমের মাকাইয়ুমের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তার মা। তিনি বলেন, এখনো তারা বিচার পাননি। কোনো আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি তাদের একবারও আদালতে ডাকা হয়নি।তিনি বলেন, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পান, সেটি তিনি চান না। যারা প্রকৃতপক্ষে দোষী, শুধু তাদেরই যেন শাস্তি দেওয়া হয়—এটাই তার প্রত্যাশা।ছেলের মৃত্যুর প্রসঙ্গে কাইয়ুমের মা বারবার একটি কথাই বলেছেন—তিনি যে কষ্ট পেয়েছেন, এমন কষ্ট যেন আল্লাহ আর কোনো মা-বাবাকে না দেন।ছেলের হত্যার বিচার চান তিনি। তবে নির্দোষ কারও শাস্তি হোক, সেটি চান না। একদিকে পরিবারের আর্থিক সংকট, অন্যদিকে সন্তান হারানোর গভীর বেদনা—এই দুইয়ের মধ্যেই প্রতিদিন বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবার। সূত্র: আমার দেশ
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নি ইসলামকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যা ও আহতসহ একাধিক মামলার আসামিরা। সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সদস্য মনির চৌধুরী, শশীদল ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আতিকুল ইসলাম রিয়াদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফরিদ উদ্দিন এবং সিদলাই ইউনিয়ন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম আলাউল।ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যার মামলার আসামিদের কাছ থেকে একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করলেন।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লার আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের ফুল গ্রহণ করা শহীদদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।ফুল দেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান রিপন। তিনি ‘আমার দেশ’কে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা ইউএনওকে ফুল দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কেন তিনি ফুল গ্রহণ করেছেন, সে বিষয়ে ইউএনও নিজেই ব্যাখ্যা দেবেন।উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বলেন, তিনি ফেসবুকে এমন একটি ছবি দেখেছেন। যারা ফুল দিয়েছেন, তারা একাধিক মামলার আসামি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। ইউএনও কেন তাদের কাছ থেকে ফুল গ্রহণ করেছেন, সেই প্রশ্ন তার কাছেই করা উচিত।তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ইউএনও মুন্নি ইসলাম। তিনি বলেন, তিনি এখানে নতুন যোগ দিয়েছেন। কে আওয়ামী লীগ করেন আর কে বিএনপি করেন, তা তিনি জানেন না। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে তিনি আরও সতর্ক থাকবেন।এ বিষয়ে ফুল দেওয়া একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। সূত্র: আমার দেশ
হোমনায় ঘারমোরা উচ্চ বিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপকুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের ঘারমোরা আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আজ সকাল ১০ টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, বক্তব্য উপস্থাপনে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জালাল উদ্দিন স্যার, সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেন স্যার সহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অতিথিরা তাদের বক্তব্যে জুলাই যোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস ফুটিয়ে তোলেন। অতিথিরা বক্তব্যে বর্তমান প্রজন্মকে জুলাই এর চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আদর্শ, উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্য মুক্ত দেশ ও জাতি গঠনে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে আহ্বান করেন। শেষে জুলাই শহিদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানের সমাপ্ত হয়।
কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের বড় ঘারমোরা গ্রামে আজ বিকাল ৫ টায় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দের উপস্থিতিতে মাদক বিরোধী ও সমাজ উন্নয়ন ফোরামের কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।এ সময় গ্রামের সর্বস্তরের মুরব্বি,যুবক ও ছাত্র বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গ্রামের মুরব্বিরা অনুষ্ঠানে গ্রামের তরুণ প্রজন্মকে একটি আলোকিত, মাদক মুক্ত,উন্নত সমৃদ্ধ গ্রাম উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান ।পাশাপাশি গ্রামের যেকোন কাজে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।পরে দোয়া ও মোনাজাত এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাবের উদ্বোধন করা হয়
কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের বড় ঘারমোরা গ্রামে আজ বিকাল ৫ টায় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দের উপস্থিতিতে মাদক বিরোধী ও সমাজ উন্নয়ন ফোরামের কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।এ সময় গ্রামের সর্বস্তরের মুরব্বি,যুবক ও ছাত্র বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গ্রামের মুরব্বিরা অনুষ্ঠানে গ্রামের তরুণ প্রজন্মকে একটি আলোকিত, মাদক মুক্ত,উন্নত সমৃদ্ধ গ্রাম উপহার দেওয়ার আহ্বান জানান ।পাশাপাশি গ্রামের যেকোন কাজে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।পরে দোয়া ও মোনাজাত এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাবের উদ্বোধন করা হয়
কুমিল্লার বরুড়ায় আটটি মাদক মামলার আসামি ও কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী খলিল প্রকাশ খলিল বাবুর্চিকে গ্রেফতার করেছে বরুড়া থানা পুলিশ।গ্রেফতারকৃত খলিল বাবুর্চি (পিতা: মোতালেব বাবুর্চি) উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের পেরপেটি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে আটটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া একটি জিআর মামলায় আদালত কর্তৃক দেওয়া দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।বরুড়া থানা পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।