কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নে ছেলের ছুরিকাঘাতে মুনিরা বেগম (৫৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছেলের বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সরদার আলী (৬৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ছেলে মোস্তাকিন আলম শোভন (৩৫)। তিনি মাদকাসক্ত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সুমনকে কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন তাঁর মা-বাবা। তবে প্রতিবারই সেখান থেকে পালিয়ে আসেন তিনি। সম্প্রতি তাঁকে আবারও নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মা-বাবা। কিন্তু এতে রাজি ছিলেন না শোভন।বুধবার ভোরে সিরাজগঞ্জের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা সুমনকে নিতে তাঁদের বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘর থেকে বেরিয়ে বাড়িতে থাকা একটি ছুরি দিয়ে মায়ের বুকে আঘাত করেন শোভন। এ সময় বাবা এগিয়ে এলে তাঁর পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন তিনি। এরপর সেখান থেকে পালিয়ে যান সুমন।পরে বাড়িতে থাকা মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা গুরুতর আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুনিরা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সরদার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।খলিলগঞ্জের একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাদের বলেন, ‘অভিযুক্ত ছেলে মাদকাসক্ত। তার কারণে কলেজশিক্ষক বড় ভাই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া থাকেন। যে মা ওই ছেলেকে আগলে রেখেছিলেন, সেই মা তাঁর হাতেই প্রাণ হারালেন। বাবার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। সব জায়গায় মাদকে সয়লাব, সহজলভ্য। অনেক তরুণ ও যুবক মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। আজকের ঘটনা মাদকের কারণেই হয়েছে। আমরা সবাই অনিরাপদ হয়ে পড়ছি। আমাদের সন্তানদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করবে কে?’কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি কামাল হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযুক্ত ছেলেকে ধরতে আমরা মাঠে রয়েছি। তাঁকে আটকের জন্য জোর চেষ্টা চালানো হয় এবং পরবর্তীতে গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয় বলে জানান।
১৯৮২ সালে আলীকদমে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিচারিক ভবন নির্মিত হলেও অদ্যাবধি সেখানে নিয়মিত বিচারকার্য শুরু হয়নি। এই অকার্যকর ‘সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত’ (আলীকদম চৌকি) দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও বিশেষ সহযোগিতা চেয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি উপানুষ্ঠানিক আধা-সরকারি পত্র (ডি.ও. লেটার) পাঠিয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি।ওই আধা-সরকারি পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে আলীকদম উপজেলার জনগণকে বিচারিক সেবার জন্য জেলা শহর বান্দরবানে প্রায় ১১১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এই দীর্ঘ পথ যাতায়াতে বিচারপ্রার্থী মানুষের বিপুল সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় ঘটছে। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এ দূরবর্তী যাতায়াত আইনি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।ডি.ও. লেটারে আরও জানানো হয়, আলীকদমে সেনানিবাস, মডেল থানা, বিজিবি ব্যাটালিয়নসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামো ইতোমধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। এছাড়া সেখানে পূর্বেই নির্মিত আদালত ভবনটি সামান্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উপযোগী করার মাধ্যমেই স্বল্প সময়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।উল্লেখ্য, পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠন ‘গ্রীন পলিসি মুভমেন্ট’-এর আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন (বন্ধু)-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নথি প্রেরণ করেছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রীর দপ্তরের সুপারিশসহ পত্রটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৪-এ বিবেচনার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।জনস্বার্থ, ন্যায়বিচার এবং পাহাড়ি প্রান্তিক অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিবেচনায় আলীকদমে ‘সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত’ দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আইনমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ কামনা করেছেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। আলীকদম চৌকি আদালত স্থাপনের জন্য আবেদনকারী গ্রীণ পলিসি মুভমেন্টের সদস্য সচিব ও প্রধান মুখপাত্র মোঃ মহিউদ্দিন বন্ধু জানান, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের ন্যায়বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে স্থানীয় পর্যায়ে বিচারিক সেবা চালু করা গুরুত্বপূর্ণ।
চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিক্রির অভিযোগে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) গোলাম মোস্তফা শামীমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ওই ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) এর সরকারি চাল বিক্রি কাণ্ডে জেলার সর্ব মহল সহ ওই ইউনিয়নের জনগণের মাঝে এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে | ওই ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা ( সচিব) গোলাম মোস্তফা শামীম এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে।এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তামির্জা ওমর ফারুক বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। রোববার ১২ অক্টোবর শহরের বিপণীবাগ এলাকা থেকে ৫ টন চালসহ একটি মিনি পিকআপ জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে জেলেদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা চাল তাদের মধ্যে বি৷ তরণ না করে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেচয়া হয়। পরে চালগুলো চাঁদপুরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পথে প্রশাসন সেগুলো জব্দ করে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাল পরিবহনের বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিরোধের উদ্যোগ নেয়া হয়।পরে হাজীগঞ্জ থেকে মিনি পিকআপটি চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৫ টন চাল জব্দ করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম। জব্দ করা চাল পরে চাঁদপুর কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারের (সিএসডি) গোডাউনে রাখা হয়। এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। চাল ক্রেতা হিসেবে পরিচয় দেয়া ইউনুস দাবি করেন, লক�
ভোলার মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পূর্বনির্ধারিত স্থান 'মনির হাওলাদার বাজার' সংলগ্ন এলাকাতেই বহাল রাখার দাবিতে ফুসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কলাতলী, ঢালচর ও কাজিরচর—এই তিনটি চরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় মনির বাজার এলাকাতেই ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন সর্বস্তরের জনগণ।অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে একটি সমন্বিত 'সরকারি কমপ্লেক্স' নির্মাণের লক্ষ্যে বিকল্প জমি পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন।চলমান কাজ বন্ধের গুঞ্জনে ক্ষোভ ও মানবেতর দাবিস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনির বাজার সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। তবে এর মধ্যেই ভবনটি সেখান থেকে সরিয়ে 'আবাসন বাজার' সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন ওঠে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে মানববন্ধনে রূপ নেয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মনপুরার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সরকারি সেবা পেতে এমনিতেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় মনির বাজার এলাকাটি কলাতলী, ঢালচর ও কাজিরচর—তিনটি চরের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। এখানে ভবন নির্মিত হলে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়া অনেক সহজ হবে।মোঃ গিয়াসউদ্দিন (ইউপি সদস্য): "মনির বাজার এলাকাটি তিনটি চরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য একদম কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে তিনটি চরের মানুষই সমানভাবে উপকৃত হবেন। আমরা চাই পূর্বনির্ধারিত স্থানেই কাজ শেষ করা হোক।"মোঃ সোহাগ (স্থানীয় বাসিন্দা): "চলমান কাজ বন্ধ করে ভবন অন্যত্র সরানোর খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। আবাসন বাজার সংলগ্ন স্থানটি নদীর খুব কাছে, যা যাতায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও ভোগান্তির। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় মনির বাজারেই ভবন রাখা উচিত।"প্রশাসনের বক্তব্য: সমন্বিত কমপ্লেক্সের জন্য প্রয়োজন আট একর জমিস্থান পরিবর্তনের আলোচনার বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, সরকার একক ভবনের বদলে ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পুলিশ ফাঁড়িসহ একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে চায়।"বর্তমানে মনির বাজারে যেখানে কাজ শুরু হয়েছে, সেখানে একসঙ্গে সব সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান করতে গেলে প্রায় আট একর জমির প্রয়োজন। কিন্তু সেই পরিমাণ জমি সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য আবাসন বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি বিকল্প জমি দেখা হয়েছে, যেখানে সব স্থাপনা এক জায়গায় করা সম্ভব। তবে মনির বাজার এলাকায় যদি আট একর জমি পাওয়া যায়, তবে সেখানেই কমপ্লেক্স করা হবে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।"নজরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থানীয়দের দাবি—জনস্বার্থ ও ভৌগোলিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মনির বাজারেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের কাজ চালু রাখা হোক। বিপরীতে, প্রশাসনিক গতিশীলতা ও সমন্বিত সেবার স্বার্থে বড় পরিসরে জমি খোঁজার কথা বলছে প্রশাসন। প্রয়োজনীয় জমির প্রাপ্যতা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুবিধার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোথায় গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কলাতলী ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালিয়ে একটি ড্রেজার ও বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত পাইপ ভেঙে ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন।সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের দাসপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা। এ সময় অবৈধ ড্রেজার ও পাইপ ভেঙে দেওয়া হয়।অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করে বকশীগঞ্জ থানা-পুলিশ।সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং পরিবেশের ক্ষতি রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
ভুল্লী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।রবিবার (১২ অক্টোবর) ভুল্লী থানাধীন কুমারপুর ফরেস্টের ডাঙ্গা এলাকার সমারু মুদির দোকানের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃতরা হলেন:১. মোঃ আলামিন ইসলাম (৪৪), পিতা- মৃত আনোয়ারুল ইসলাম, সাং- কুমারপুর ফরেস্টের ডাঙ্গা।২. মোঃ সাগর আলী (৪৭), পিতা- মৃত আব্দুস সামাদ, সাং- বড় বালিয়া (শীতল সরকার পাড়া)।উভয়ের থানা- ভুল্লী, জেলা- ঠাকুরগাঁও।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভুল্লী থানা পুলিশের একটি দল উল্লেখিত স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ৬ পিস নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় এবং হাতেনাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।ভুল্লী থানার পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলায় এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার ফাঁকা বাসায় জানালার গ্রিল কেটে চুরি সংঘটিত হয়েছে। দুর্বৃত্তরা ঘর থেকে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বড়বালিয়া পাইকারমনি এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বেলাল হোসেনের (৬০) বাসায় এই দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। বেলাল হোসেন ওই এলাকার মৃত কাজিম উদ্দীন মন্ডলের ছেলে।স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত এএসআই বেলাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী কয়েক দিন আগে ঢাকায় অবস্থানরত ছেলের বাসায় বেড়াতে যান। বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা পেছনের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে ঘরে থাকা ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। সোমবার সকালে স্বামী-স্ত্রী ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে এসে ঘর ও আলমারি তছনছ অবস্থায় দেখতে পান।খবর পেয়ে ভূল্লী থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারসহ আসামীদের গ্রেপ্তারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”
চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা আলোচনা-সমালোচনা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অভিযোগ উঠছে। এরই প্রেক্ষিতে মানুষের ভোগান্তি ও সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুনারুঘাট উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।এ সময় নেতৃবৃন্দ হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি থাকা রোগীদের সাথে মতবিনিময় করেন। তারা রোগীদের শারীরিক ও সার্বিক খোঁজখবর নেন।পরিদর্শনকালে রোগীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও ভোগান্তির কথা নেতৃবৃন্দের নিকট তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ রোগীদের সান্ত্বনা দেন এবং সব সময় পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের আকুল আবেদন— রোগীদের প্রতি আরও আন্তরিক ও যত্নশীল হন। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিরসনে দায়িত্বশীলদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা জরুরি। সীমিত সাধ্যের মধ্যেও সেবার মান উন্নত করে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি।পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুনারুঘাট উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ। চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ
নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব হাবিবুর রহমান, পিপিএম এঁর দিকনির্দেশনায় জেলা ব্যাপী মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের বিশেষ অভিযানের ধারাবাহিকতায় ডিবি’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাসিনুজ্জামান এর তত্ত্বাবধানে ডিবি’র এসআই মিজানুর রহমান, পিপিএম ও মফিজুল ইসলাম, পিপিএম দ্বয়ের নেতৃত্বে একটি চৌকশ টিম গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১০/১০/২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২০.১০ ঘটিকায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মধ্য সানারপাড় জনৈক আঃ আওয়াল ভুইয়া এর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ২ মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করে মোট ৭৪ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ নতুন মোড়কে মাদকদ্রব্য FAIRDYL ও WINCEREX উদ্ধার করে। মাদকদ্রব্য উদ্ধার সংক্রান্তে এসআই মফিজুল ইসলাম, পিপিএম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ধৃত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীর তথ্য:১। ইকবাল খাঁ (৫০), পিতা- মৃত খোদা বক্স, মাতা- মৃত মনোয়ারা বেগম, সাং- বরপা, থানা-রুপগঞ্জ, এ/পি-মধ্য সানারপাড় আঃ আওয়াল ভুইয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ এবং ২। খবির ভুইয়া (৩৬), পিতা- মৃত আঃ আওয়াল ভুইয়া, মাতা- মৃত শাহিদা বেগম, সাং-মধ্য সানারপাড়, থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ।*উদ্ধারকৃত আলামতঃ১। ৩০ (ত্রিশ) বোতল FAIRDYL ২। ৪৪ (চুয়াল্লিশ) বোতল WINCEREX
ভোলার মনপুরায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনায় মা ইলিশ শিকারের সময় দুই নৌকাসহ ৪ জেলেকে আটক করে মৎস্য অফিস ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। এই সময় জেলেদের শিকার করা ২০ কেজি মা ইলিশ হাজী ইব্রাহীম খলিল মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের তালতলা সংলগ্ন মেঘনায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। পরে হাজিরহাট ল্যান্ডিং স্টেশনে জেলেদের কাছ থেকে জব্দকৃত ৭ লাখ টাকার জাল পুঁড়িয়ে ফেলা হয়। পরে রাত সাড়ে ৯ টায় আটককৃত দুই ফিশিং ট্রলারসহ ৪ জেলে প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবিব। জরিমানা দেওয়া জেলেরা হলেন, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা শাহিন (২১), ইউনুচ (৫৫) ও জাহাঙ্গীর মাঝি (৪৫), অপর জেলে বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষীয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ ছালাউদ্দিন (৩৫)। এই ব্যাপারে উপজেলা সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা জানান, মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে মৎস্য অফিস ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে দুইটি ট্রলার সহ ৪ জেলেকে আটক করা হয়। জেলেদের কাছ থেকে জব্দ করা ২০ কেজি মা ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ট্রলারে থাকা ৭ লাখ টাকার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পুঁড়িয়ে ফেলা হয়। এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান সালমান হাবিব জানান, আটককৃত জেলেদের ৬০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়। জেলেদের ধরা মা ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।