ভোলার মনপুরা উপজেলার চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. সাইদুর রহমানকে (৩০) বোরহানউদ্দিন থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৮ এর ভোলা ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার বি.এম.তানজীমুল ইসলাম।গ্রেপ্তার সাইদুর রহমান মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের মোহাম্মদ ইউনুছের ছেলে। র্যাব জানায়, গত ২৫ জুন আসামি সাইদুর রহমান এক গৃহবধূকে (২৭) ধর্ষণ করে। পরবর্তীকালে ভিকটিম মনপুরা থানায় আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দিনই র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। নিবিড় তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির পর শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন থেকে পলাতক মামলার প্রধান আসামি সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বোরহানউদ্দিন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন এলাকার স্থানীয় ইনুর বেগম নামে এক নারী কাজের কথা বলে ওই গৃহবধূকে তার ঘরে ডেকে নেয়। পরে তাকে ঘরে রেখে সে বাইরে গেলে সাইদুর রহমান ওই ঘরে এসে তাকে ধর্ষণ করে। পরে সে ডাক চিৎকার দিলে স্থানীয়রা এসে সাইদুর রহমানকে আটক করে। পরবর্তীতে মাইনুর বেগম এসে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে সাইদুর রহমানকে ছেড়ে দেয়।এ ঘটনার তিনদিন পর মনপুরা থানায় মামলা করতে গেলে থানায় মামলা না নেওয়ায় ভুক্তভোগী নারী ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ জুলাই আদালত মনপুরা থানার ওসিকে মামলা নেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। পরে মনপুরা থানায় সাইদুর রহমান ও সহায়তাকারী মাইনুর বেগমকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
বাংলাদেশ স্কাউটসের রোভার শাখার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা রোভারের সরকারি তোলারাম কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের মেধাবী শিক্ষার্থী ও সিনিয়র রোভার মেট মো. জসিম উদ্দিন। ২০২৫ সালের সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ডের জাতীয় পর্যায়ের ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়।মো. জসিম উদ্দিনের এ অর্জনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা রোভারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড অর্জিত হলো। এর আগে সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের ‘ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৩’ অর্জন করেন।বাংলাদেশ স্কাউটসের রোভার প্রোগ্রামের আওতায় শিশুদের ১০টি মারাত্মক রোগ ও এসব রোগের টিকা গ্রহণ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি, সমাজসেবা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৫ সাল থেকে ‘সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়ে আসছে।অ্যাওয়ার্ড অর্জনের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পর তার বিস্তারিত তথ্য ও কার্যক্রমের প্রমাণসহ লগবই জমা দিতে হয়। এরপর নির্ধারিত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জেলা, অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এসব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর জাতীয় পর্যায়ে সমাজ উন্নয়ন অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হন মো. জসিম উদ্দিন।তার এই অর্জনে সরকারি তোলারাম কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপ, নারায়ণগঞ্জ জেলা রোভারসহ স্কাউটসের সংশ্লিষ্টরা অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মাদক সেবনে মনুষ্যত্ববোধ বিবেককে ধ্বংস করে, সুস্থ থাকতে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন মাদক নিয়ে যায় ধ্বংসের পথে আর খেলাধুলা নিয়ে আসে জীবনের সুস্থতার পথে, তাই নেশা আসক্ত নয় খেলাধুলা আসক্ত হতে হবে। মাদক সেবনে বিবেককে, মনুষ্যত্ববোধকে ধ্বংস করে দিয়েই রংপুরে ৪ খুনের ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, খেলা কতটা জরুরী। বর্তমান সরকার তারেক রহমান সংস্কৃতি ও ক্রিয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখার একমাত্র উপায় তাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গ ও খেলার মাঠে নিয়ে আসা। রবিবার বিকেলে পঞ্চগড়ের স্টেডিয়ামেজেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন৷ এর আগে জাতীয় সংগীত বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে অতিথিরা খেলোয়াড়দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, সাবেক সাংসদ ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য এড. রীনা পারভীন, জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন সহ জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই টুর্নামেন্টে জেলার পাঁচটি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভা অংশগ্রহণ করবে।উদ্বোধনী খেলা দেবীগঞ্জ পৌরসভা একাদশ ৪-৩ গোলে আটোয়ারী উপজেলা একাদশকে পরাজিত করে।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় মাদকবিরোধী র্যালি ও সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গল্লাক বাজারে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গল্লাক বাজারে আয়োজিত সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, এটি পরিবার ও সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাদক নির্মূল করা শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পরিবারের সদস্য বা আশপাশের কেউ মাদকে জড়িয়ে পড়লে তাকে বুঝিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। এতে কাজ না হলে সম্মিলিতভাবে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এরশাদ উল্যাহ মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলেন, যারা মাদক সেবন বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তারা চাইলে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। তবে সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুধু মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। মাদক নির্মূলে পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
পটুয়াখালীতে সিজদারত অবস্থায় ইন্তেকাল করা ইমাম মরহুম মাওলানা আতাউল্লাহ (রহ.)-এর পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ। এ সময় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও কবর জিয়ারত করা হয়। পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।রোববার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস পটুয়াখালী জেলা শাখার আমেলা সদস্য মরহুম মাওলানা আতাউল্লাহ (রহ.)-এর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। একই সময়ে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিভাগের পক্ষ থেকে মরহুমের পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বরিশাল বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল্লাহ আশরাফ, প্রশিক্ষণ বিভাগের সহ-সম্পাদক মোল্লা খালিদ সাইফুল্লাহ এবং সমাজকল্যাণ বিভাগের সহ-সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া আল ফারুকী।সাক্ষাৎকালে নেতৃবৃন্দ মরহুমের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে যেকোনো প্রয়োজনে পরিবারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান বলেন, মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের সময় সেজদারত অবস্থায় মাওলানা আতাউল্লাহ (রহ.)-এর ইন্তেকাল মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর বিশেষ কবুলিয়াতের নিদর্শন। ধর্মীয় ইমামের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সমাজের নেতৃত্বে নিজেকে গড়ে তুলতে এবং দ্বীনকে সমুন্নত রাখতে যুব মজলিসের সঙ্গে কাজ করেছেন।তিনি আরও বলেন, পরিবারটির কোনোভাবেই নিজেদের অসহায় মনে করার কারণ নেই। বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস অতীতেও তাঁদের পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকবে।পরে নেতৃবৃন্দ মরহুমের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় মরহুমের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ও উত্তম প্রতিদানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পটুয়াখালী জেলার সভাপতি মাওলানা আব্বাস আলী, পটুয়াখালী জেলা যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন, সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল্লাহ, সংগঠন বিভাগের সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, বরিশাল জেলা যুব মজলিসের সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন, দুমকি থানা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানসহ পটুয়াখালী জেলা ও দুমকি থানা যুব মজলিসের বায়তুল মাল ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বশীলরা। সূত্র: হুদা
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৪টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত অশ্বদিয়া ইউনিয়নের দিদিমণি বাজার থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনার কারণে সোনাপুর-বসুরহাট সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঘোষিত অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে পদপ্রত্যাশী ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি হলে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়।এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্র: ইত্তেফাক
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল সামুদ্রিক মাছ ‘টাইটান ট্রিগারফিশ’। স্থানীয়দের কাছে ‘চামড়া মাছ’ নামে পরিচিত মাছটির ওজন প্রায় ৯০০ গ্রাম। অস্বাভাবিক আকৃতির মাছটি শনিবার সকালে মহিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হলে এটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা।শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সাগর থেকে অন্যান্য মাছের সঙ্গে টাইটান ট্রিগারফিশটি ধরে মহিপুর মৎস্য বন্দরের মুন ফিসে নিয়ে আসেন জেলেরা। মাছটির গঠন ও বৈশিষ্ট্য অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের তুলনায় আলাদা হওয়ায় শুরুতে এর প্রজাতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি তারা। বিষাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ক্রেতাই মাছটি কেনার আগ্রহ দেখাননি।জেলে খবির বলেন, ‘অনেক বছর ধরে সাগরে মাছ ধরছি। এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের মাছ জালে উঠেছে। কিন্তু এ ধরনের মাছ আগে কখনো চোখে পড়েনি। অন্য মাছের তুলনায় এর চেহারা সম্পূর্ণ আলাদা।’আরেক জেলে মাহাতাব বলেন, ‘অন্যান্য মাছের সঙ্গেই এটি জালে ধরা পড়ে। বন্দরে নিয়ে আসার পর মাছটি দেখতে অনেক মানুষ জড়ো হন। পরে শুনেছি মাছটি বিষাক্ত হতে পারে। এ কারণে কেউ কিনতে আগ্রহ দেখায়নি।’মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করে ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, এটি টাইটান ট্রিগারফিশ (Balistoides viridescens)। স্থানীয়ভাবে মাছটি ট্রিগারফিশ বা চামড়া মাছ নামে পরিচিত।তিনি জানান, টাইটান ট্রিগারফিশের পিঠে শক্তিশালী কাঁটা, বড় দাঁত এবং শক্ত চোয়াল রয়েছে। সাধারণ পরিস্থিতিতে মাছটি মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক নয়। তবে প্রজনন মৌসুমে নিজস্ব বিচরণক্ষেত্র ও ডিম রক্ষার সময় এটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে।বখতিয়ার রহমান আরও বলেন, প্রবালপ্রাচীরের বাস্তুতন্ত্রে তলদেশে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যজালের ভারসাম্য বজায় রাখতে টাইটান ট্রিগারফিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বের কিছু এলাকায় মাছটি খাদ্য হিসেবে খাওয়া হলেও এতে সিগুয়াটেরা বিষক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, উপকূলীয় বঙ্গোপসাগর সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। বিভিন্ন সময়ে জেলেদের জালে বিরল ও কম পরিচিত নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। টাইটান ট্রিগারফিশ ধরা পড়ার ঘটনাটিও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে।তিনি আরও বলেন, জালে এ ধরনের বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে জেলেদের দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করার পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন সময়ে বিরল সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়লেও টাইটান ট্রিগারফিশের মতো মাছ খুব কমই দেখা যায়। মাছটি বন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই এটি দেখতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কে বন্দুকসদৃশ খেলনা অস্ত্র হাতে দুই তরুণের ঘোরাঘুরি ও মহড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলা করেছে পুলিশ।শনিবার (২৯ আগস্ট) জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- বন্দর বাজার এলাকার কে কে টাওয়ারের পাশের মসুরের বাড়ির ভাড়াটিয়া মোঃ শামীম আহম্মেদের ছেলে লিমন তোহা ও বন্দর ফায়ার সার্ভিসের গলির বাসিন্দা মোঃ স্বপন মোল্লার ছেলে ইয়াছিন মোল্লা।পুলিশ জানায়, গত ২৮ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই তরুণের বন্দুক হাতে ঘোরাঘুরির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নারায়ণগঞ্জের সিটি পার্কের বিভিন্ন এলাকায় ধারণ করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর ভিডিওটির নির্মাতা ও এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে কাজ শুরু করে জেলা পুলিশের আইসিটি শাখা।আইসিটি শাখার প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে ভিডিওটির নির্মাতা হিসেবে মোঃ লিমন তোহা (২২) এবং বন্দুক হাতে থাকা অপর তরুণ হিসেবে মোঃ ইয়াছিন মোল্লার (২৩) পরিচয় শনাক্ত করা হয়।পরিচয় শনাক্তের পর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাজেদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে ২ নম্বর রেলগেট থেকে লিমন ও ইয়াছিনকে আটক করা হয়।নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, আটকের সময় তাদের কাছ থেকে শটগানসদৃশ প্লাস্টিক শটগান এবং এসএমজিসদৃশ প্লাস্টিক এসএমজি পাওয়া যায়। এসব খেলনা অস্ত্র হাতে নিয়ে তারা বিভিন্ন স্থানে মহড়া দিয়ে পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছিলেন। পরে সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।তিনি বলেন, অস্ত্রগুলো প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা হলেও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সেগুলো আসল অস্ত্রের মতো প্রদর্শন করে মহড়া দেওয়া এবং এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা কোনোভাবেই বিনোদন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে পথচারী ও শিশুদের ভয় দেখিয়ে সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪ ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার পর দুই তরুণকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভোলার মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য উপজেলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে মনপুরা উপজেলা যুবদল।শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সরাসরি অংশ নেন উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশের ঝোপঝাড়, আগাছা, লতাপাতা ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়।মনপুরা উপজেলা যুবদলের নেতাকর্মীদের এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা বলেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলাদেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত করার যে লক্ষ্য রয়েছে, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মনপুরা উপজেলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে চাই। আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য জননেতা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ভাইয়ের নির্দেশে আমাদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান থাকবে।”উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন বলেন, “মনপুরা উপজেলাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করতেই আমরা মাঠে নেমে কাজ শুরু করেছি।”উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাফেজ আঃ রহিম বলেন, “সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে আমাদের মনপুরা উপজেলাকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব। আমরা চাই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুবসমাজ এগিয়ে আসুক এবং সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মনপুরাকে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর জনপদে পরিণত করুক।” এ সময় উপজেলা যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ।শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। পড়ালেখার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। মাদক থেকে দূরে থেকে নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে।”তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আগামী দিনে তারাই দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাই জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের সমৃদ্ধ করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।বোদা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হানুল আলম প্রধান রিয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা, বোদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ তারা, সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময় ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ অনু।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহাম মামুনুর রশিদ জীবন, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাজমুল হক ইমন, যুগ্ম আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন মামুন, মশিউর রহমান হিমেল ও মাজেদুর সরকার মুন্নাসহ উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বোদা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১৭৫ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।