নওগাঁর পোরশায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের আয়োজনে পোরশা উপজেলা অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাকিবুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছাঃ নাবিলা ফেরদৌস, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা পল্লী জীবিকায়ন কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুর মোর্শেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার শ্রী কনক রায়সহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ।এ সময় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উপজেলা অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও সৃষ্টিশীল কর্মের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিতি আরও গভীর হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
ক্লাসের ঘণ্টা শেষ হয়েছে। একাডেমিক ভবন থেকে বেরিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। কারও গন্তব্য হল, কারও মেস; আবার কারও পা আপনাআপনিই এগিয়ে যায় ক্যাম্পাসের পরিচিত এক ঠিকানার দিকে। হাতে এক কাপ চা, পাশে প্রিয় বন্ধুরা- এরপর শুরু হয় গল্প। কেউ হাসছেন, কেউ তর্কে মেতেছেন, কেউ গিটার হাতে গেয়ে উঠেছেন প্রিয় কোনো গান। সারাদিনের ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট আর ব্যস্ততার বাইরে এ যেন একটু স্বস্তির জায়গা।এই জায়গাটিই নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের কাছে পরিচিত ‘শান্তিনিকেতন’ নামে।কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, ময়নাদ্বীপ ও মেডিকেল সেন্টারের পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই স্থানটি এখন আর কেবল কয়েকটি বেঞ্চ কিংবা কয়েকটি দোকানের সমষ্টি নয়। সময়ের সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের আড্ডা, বন্ধুত্ব, হাসি-আনন্দ আর অসংখ্য স্মৃতির এক অনানুষ্ঠানিক ঠিকানা।যেখানে ক্লাস শেষে ফেরে প্রাণ: নোবিপ্রবিতে টিএসসির মতো নির্দিষ্ট কোনো কেন্দ্র না থাকলেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রয়োজনেই শান্তিনিকেতনকে আপন করে নিয়েছেন। ক্লাসের ফাঁকে কিংবা ক্লাস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে অনেকেই ছুটে আসেন এখানে।কেউ বেঞ্চে বসে গল্প করছেন, কেউ চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে দিনের নানা ঘটনা ভাগ করে নিচ্ছেন। কেউ আবার বই-খাতা খুলে পড়াশোনায় ব্যস্ত। এক পাশে ছবি তোলার ব্যস্ততা, অন্য পাশে গিটারের সুর—সব মিলিয়ে প্রতিদিনই শান্তিনিকেতনের দৃশ্যপট বদলে যায়।এখানেই অনেকের নতুন বন্ধুত্বের শুরু। সিনিয়র-জুনিয়রের পরিচয় হয়, একে অন্যের সঙ্গে গল্প জমে, কেউ পরামর্শ দেন, কেউ শোনেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক গণ্ডির বাইরে এই অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগই ধীরে ধীরে তৈরি করে সম্পর্কের অন্য এক জগৎ।বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, “শান্তিনিকেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্রের মতো। ক্লাস শেষে এখানে না এলে যেন একটা কিছু বাদ পড়ে যায়। সবাই এখানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে আসে। গল্প-আড্ডার মধ্যে সারাদিনের ক্লান্তি ও বিষণ্নতা অনেকটাই দূর হয়ে যায়। যেহেতু আমাদের টিএসসি নেই, তাই একসঙ্গে বসা ও সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”আড্ডার সঙ্গে ছোট্ট এক বাজার:শান্তিনিকেতনের ব্যস্ততা শুধু আড্ডাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে দুপুরের পর শিক্ষার্থীদের আনাগোনা বাড়তে থাকলে জায়গাটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। আশপাশের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের খাবার ও পানীয়। ক্লাসের ফাঁকে কেউ নাস্তা সারছেন, কেউ বন্ধুদের নিয়ে বসে চা খাচ্ছেন। আবার শিক্ষার্থীদের কেউ বিক্রি করছেন জার্সি, কেউ শাড়ি-কসমেটিকস, কেউবা খাবার ও জুস। ফলে শান্তিনিকেতনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ছোট্ট এক ব্যস্ত বাজারের আবহ। তবে এই ব্যস্ততার মধ্যেও জায়গাটির মূল আকর্ষণ-মানুষ। পরিচিত মুখ, হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া বন্ধু, দীর্ঘদিন পর দেখা সিনিয়র কিংবা নতুন পরিচিত কোনো জুনিয়র-সব মিলিয়ে এখানে প্রতিদিনই যেন তৈরি হয় নতুন কোনো গল্প।স্মৃতির পাতায় শান্তিনিকেতন:শান্তিনিকেতনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শুধু প্রতিদিনের আড্ডা নয়, শিক্ষার্থীদের বিশেষ কিছু মুহূর্তও। কখনো চড়ুইভাতি, কখনো ছোট পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন, কখনো ব্যাচের বন্ধুরা মিলে রান্নাবান্না-তারুণ্যের নানা আয়োজনের সাক্ষী হয়ে আছে জায়গাটি।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুস সালাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে আমাদের ব্যাচের প্রথম চড়ুইভাতির আয়োজনটি শান্তিনিকেতনে হয়েছিল। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পা রাখার পর সবাই একসঙ্গে ক্যাম্পাসে এসে রান্নাবান্না করা, শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো এবং পুরো সময়টা একসঙ্গে কাটানো-সবকিছু মিলিয়ে আয়োজনটি আমাদের জন্য খুবই প্রাণবন্ত ছিল। নতুন জীবনের শুরুতে সেই দিনটি এখনো আমার কাছে বিশেষ একটি স্মৃতি হয়ে আছে।”একটি জায়গা কখনো শুধু জায়গা থাকে না। মানুষের হাসি, গল্প, আনন্দ আর আবেগ সেখানে জমতে জমতে একসময় সেটিই হয়ে ওঠে স্মৃতির অংশ। শান্তিনিকেতনের ক্ষেত্রেও যেন তাই হয়েছে।প্রকৃতির ছোঁয়ায় অন্যরকম আবহ:শান্তিনিকেতনের বিশেষত্ব শুধু মানুষের আনাগোনায় নয়; এর চারপাশের প্রকৃতিও জায়গাটিকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। পাশের ময়নাদ্বীপ থেকে ভেসে আসে পাখির কলকাকলি। বিকেলের নরম আলো এসে পড়ে বেঞ্চগুলোর ওপর। বর্ষার দিনে টিনের ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখারও আলাদা আনন্দ আছে। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, ভেজা বাতাস আর চারপাশে পরিচিত মুখ-সব মিলিয়ে তখন তৈরি হয় এক অন্যরকম ক্যাম্পাসচিত্র।ব্যস্ত একাডেমিক জীবনের বাইরে প্রকৃতির এমন ছোট ছোট মুহূর্তও শিক্ষার্থীদের কাছে শান্তিনিকেতনকে আরও আপন করে তুলেছে। দিনের শেষে কমে কোলাহল, থেকে যায় গল্প:সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে আসে কোলাহল। কেউ হলের পথে হাঁটেন, কেউ মেসে ফেরেন, কেউবা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বেঞ্চগুলোও একসময় ফাঁকা হতে শুরু করে।কিন্তু শান্তিনিকেতনের গল্প কি সত্যিই থেমে যায়?পরদিন আবার ক্লাস শেষে সেখানে ফিরে আসে পরিচিত মুখগুলো। কেউ আগের দিনের অসমাপ্ত গল্প শেষ করেন, কেউ নতুন কোনো গল্প শুরু করেন। কখনো হাসি, কখনো গান, কখনো নিছক নীরব বসে থাকা—এভাবেই দিনের পর দিন জায়গাটি হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের এক অনিবার্য অংশ।বিশ্ববিদ্যালয়জীবনও একদিন শেষ হবে। চার বছরের পরিচিত মুখগুলো ছড়িয়ে পড়বে দেশের নানা প্রান্তে। বেঞ্চগুলোতে বসবে নতুন প্রজন্ম। নতুন শিক্ষার্থীরা নতুন বন্ধুত্ব গড়বে, নতুন গল্প লিখবে। তবু পুরোনোদের স্মৃতিতে হয়তো থেকে যাবে শান্তিনিকেতনের কোনো এক বিকেল। মনে পড়বে বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করে খাওয়া নাস্তা, এক কাপ চায়ের আড্ডা, গিটারের সুরে গলা মেলানো কিংবা কোনো এক বৃষ্টিভেজা দুপুর। কারণ ক্যাম্পাসজীবনের বড় স্মৃতিগুলো অনেক সময় তৈরি হয় বড় কোনো আয়োজনে নয়; তৈরি হয় এমনই কোনো পরিচিত বেঞ্চে, প্রিয় কয়েকজন মানুষের পাশে বসে। আর নোবিপ্রবির অনেক শিক্ষার্থীর কাছে থেকে সেই বেঞ্চ, সেই আড্ডা আর সেই বিকেলের নাম- শান্তিনিকেতন।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেছেন, দেশের অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।তিনি বলেন, গবেষণা সম্মেলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাজ একসময় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীরা যাতে আরও ভালোভাবে গবেষণা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাবরেটরি সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি সামিট’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন।‘বৈশ্বিক প্রভাবের জন্য চিন্তার মিলন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো গবেষকদের এ মিলনমেলার আয়োজন করে জিএসটিইউ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল।সম্মেলনে সাতটি ডিসিপ্লিনে দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের জমা দেওয়া ১৩৬টি গবেষণাপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর সম্মেলনে ৬৬টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। এসব গবেষণাপত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হয়।উপাচার্য আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কষ্ট করে গবেষণা সম্মেলনে অংশ নেওয়া সবাইকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তাঁর মতে, গোবিপ্রবির জন্য এটি একটি বড় অর্জন। এর মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে গবেষকদের মিলনমেলার সূচনা হয়েছে।অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহ দিতে সাতটি ডিসিপ্লিনের সেরা গবেষকদের হাতে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন উপাচার্য।গত শুক্রবার শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, কৃষি, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞানসহ সাতটি স্বতন্ত্র সেশনে দেশের স্বনামধন্য গবেষক এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এসব সেশনে তারা গবেষণা, চিন্তা ও বিভিন্ন সমাধানের বিষয় তুলে ধরেন।সম্মেলনের বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গোবিপ্রবির স্বনামধন্য গবেষকেরা। সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নিয়াজ আল হাসান জানান, বিভিন্ন শাখার জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গিকে একই মঞ্চে নিয়ে আসার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, জনস্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা, টেকসই প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নৈতিকতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংকটের বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই ছিল সম্মেলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করতে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে।অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে। আর সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার।কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন-নোবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও নোবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের একজন সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি।প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। পরে এসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, “রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া সার্বিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেছেন, নবম পে-স্কেল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বঞ্চিত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে সারাদেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় সব দাবি এখানে তুলে ধরা হয়েছে। আমি কয়েকটি বিষয়ে শুধু দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।’নবম পে-স্কেল প্রসঙ্গে দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল দেওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে প্রায় ১১ বছর পার হয়ে গেছে। অথচ এই সময়ের মধ্যে অন্তত আরও দুটি পে-স্কেল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বঞ্চিত করেছে।’তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সময়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটি পে কমিশন গঠন করে। কমিশনের সদস্যরা সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদেরও আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আমরা তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছি এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি লিখিতভাবে তুলে ধরেছি।’দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘পে কমিশন অল্প সময়ের মধ্যে তাদের জন্য বরাদ্দ অর্থের মাত্র ১৯ শতাংশ ব্যয় করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সরকারও ২২ হাজার কোটি টাকা পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির কারণে অনেক চেষ্টা ও সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ওই সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এর কারণ আমাদের সবার কাছে স্পষ্ট।’নবম পে-স্কেল দ্রুত ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই পে-স্কেল ঘোষণা করবে। কিন্তু এখনো পে-স্কেল নিয়ে একের পর এক বৈঠক হচ্ছে। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এত বেশি প্রতিবেদন হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।’তিনি আরও বলেন, ‘আজকের কর্মসূচি থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আর কোনো কালক্ষেপণ না করে অবিলম্বে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।’এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেলের প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘আমাদের বিষয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল দেওয়া হবে। আমরা কি সেই স্বতন্ত্র পে-স্কেল পেয়েছি? পাইনি।’তিনি বলেন, ‘বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কি সেই ১০ শতাংশ দিতে পেরেছেন? পারেননি।’দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘তিনি এখন আবার নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেবের মতো বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছেন। এখন বলা হচ্ছে, শিক্ষকদের স্বতন্ত্র পে-স্কেল দেওয়া হবে। আমরা শিক্ষকদের সম্মান চাই। কিন্তু স্বতন্ত্র পে-স্কেলের নামে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নবম পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত করার কোনো ষড়যন্ত্র হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের ৬ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এবং তাদের প্রায় ৫০ লাখ পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করার আগে শহীদ মিনারে বাড়িভাড়া আন্দোলনের চিত্রটি একবার নিজেদের চোখের সামনে তুলে ধরতে হবে।’৫ আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট আমাদের একটি শিক্ষা দিয়েছে। আমাদের সন্তান ও তৌহিদি জনতা জীবন দিয়ে, রাজপথে রক্ত ঢেলে দিয়ে শিক্ষা দিয়েছে—আমরা আর কারও শক্তির কাছে মাথা নত করব না। আমরা কারও কাছে আর মাথা নত করব না।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাড়িভাড়ার আন্দোলনের মাধ্যমে শিখে গিয়েছি, কীভাবে সরকারের কাছ থেকে দাবি আদায় করতে হয়।’দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলেন, ‘সরকার বাড়িভাড়া হিসেবে ৫০০ টাকা দিয়েছিল। মনে আছে আপনাদের? আমরা ৫০০ টাকা মেনে নিইনি। এরপর মন্ত্রণালয় আমাদের ডেকে নেয়। বিভিন্নভাবে বোঝানো হয়েছিল, এই টাকা নিয়ে যেতে। একজন উপদেষ্টা আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, এখন ৫ শতাংশ না নিলে আর ৫ শতাংশ দেওয়া হবে না। আমরা সেটি প্রত্যাখ্যান করে সেখান থেকে চলে এসেছিলাম।’তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে বসে আমি কান্না করেছিলাম। সেই কান্না সারা বাংলাদেশের শিক্ষকদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছিল। এরপর শহীদ মিনারের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে বাধ্য করে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া আদায় করেছি।’ সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখার ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী নকীবুল হক এবং ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান অন্তু।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতি মোঃ রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক সাইশা সুলতানা সাদিয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নোবিপ্রবি শাখার নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে নবমনোনীত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে শাখাটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।নকীবুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি এর আগে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে মেহেদী হাসান অন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি এর আগে শাখাটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে নবমনোনীত সভাপতি নকীবুল হক বলেন, “দায়িত্ব হলো একটি আমানত। যারা আমার প্রতি বিশ্বাস রেখে এই আমানত ন্যস্ত করেছেন, আমি তাদের আস্থার যথাযথ প্রতিদান দিতে চাই। নোবিপ্রবি শাখার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সম্ভাবনাময় তরুণ লেখকদের এই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে চাই। তাদের জন্য একটি সুন্দর ও ইতিবাচক লেখালেখির পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি লেখালেখির বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে পাশে থাকতে চাই। সর্বোপরি, সভাপতি হিসেবে এককভাবে নয়, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রাণবন্ত, সৃজনশীল ও কার্যকর শাখা গড়ে তোলাই আমার প্রত্যাশা।”সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান অন্তু বলেন, “বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখার ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। এটি আমার জন্য কেবল একটি সাংগঠনিক পদ নয়; বরং একটি দায়িত্ব। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সক্রিয়, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই। আমার অগ্রজ ও অনুজ যারা নিজেদের অক্লান্ত শ্রম দিয়ে এতদিন সংগঠনের পাশে থেকেছেন, আশা করি আগামীতেও তাদের পাশে পাব। সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। সবার মতামত, পরামর্শ, সৃজনশীল উদ্যোগ ও সহযোগিতাই আমাদের কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”উল্লেখ্য, ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। তরুণ লেখকদের লেখালেখিতে উৎসাহিত করা, পরামর্শ প্রদান, জাতীয় গণমাধ্যমে তাদের লেখা প্রকাশে সহযোগিতা এবং লেখালেখিবিষয়ক সভা, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তরুণদের মধ্যে লেখালেখির চর্চা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সংগঠনটি ২৩টি শাখা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
“বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিবেশ সুরক্ষা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে গজালিয়া ব্লাড ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে গজালিয়া ব্লাড ব্যাংকের উদ্যোগে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে আমগাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় কাটাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গজালিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও গজালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ করা হয়।চারা বিতরণকালে বক্তারা বলেন, গাছ মানুষের পরম বন্ধু। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ু বিশুদ্ধ রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। গাছপালা ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন। তাই ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।বক্তারা আরও বলেন, বন উজাড়, পাহাড় কাটা ও নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন রোধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে হবে। শুধু চারা বিতরণ নয়, বিতরণ করা চারাগুলো রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তোলার দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে।প্রফেসর মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, ইসলামে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো মুসলিম গাছ লাগালে এবং সেই গাছের ফল বা উপকার কোনো মানুষ, পাখি কিংবা প্রাণী ভোগ করলে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়। তিনি বলেন, একটি গাছ রোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখে না, বরং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কল্যাণকর সম্পদ হয়ে ওঠে।এই মহতী উদ্যোগ সফল করতে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও পৃষ্ঠপোষকতা ছিল, তারা হলেন— মোঃ মফিজুল ইসলাম, মোহাম্মাদ শহিদুল ইসলাম, মোঃ খায়রুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ মাহমুদ আলম, বি এম মাহফুজুর রহমান, প্রফেসর মোঃ শরিফুল ইসলাম, মোঃ এজাজুল হক, এস এম আল মামুন, জি এম বাক্কার ও মাসুদুর রহমান।অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে গজালিয়া ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি এ উদ্যোগে সহযোগিতা ও অংশগ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।আয়োজকদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া এসব চারা ভবিষ্যতে বড় গাছে পরিণত হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এলাকার সবুজায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আব্দুল মালেক উকিল হলে দুর্ঘটনায় আহত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বখতিয়ার হাসিনের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন, বিভাগ, সহপাঠী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মিলিত সহযোগিতায় তার চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট রাতে নওগাঁয় তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি আগের তুলনায় সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন বলে জানা গেছে।গত ২২ আগস্ট আব্দুল মালেক উকিল হলের সিঁড়ির নিচে জমে থাকা পানিতে দুর্ঘটনাবশত পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হন বখতিয়ার হাসিন। এতে তার পায়ের প্যাটেলা (হাঁটুর হাড়) ভেঙে চার টুকরো হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর তার সহপাঠীরা দ্রুত তাকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।পরে তার চিকিৎসার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী, আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ কাইয়ুম ও সংশ্লিষ্টরা আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।নোয়াখালী সদর হাসপাতাল থেকে বখতিয়ারকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের নির্ধারিত সময় এগিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়। এতে অস্ত্রোপচারের সময় প্রায় দুই দিনের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।ঢাকায় বখতিয়ারের চিকিৎসার বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আইরিন আক্তারও সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে নওগাঁয় নেওয়া হয়। সেখানে পঙ্গু হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে গত ২৪ আগস্ট রাতে তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়।বখতিয়ারকে নওগাঁয় নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াসহ যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করেন সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাছান। একই সঙ্গে তার পরিবারকেও চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বখতিয়ার হাসিনকে ৩০ হাজার টাকা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং ক্লাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ২১ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তার চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে।নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, “বখতিয়ারকে প্রথমে নোয়াখালী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে নওগাঁয় নেওয়া হয়। সেখানে পঙ্গু হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তাকে ৩০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করছে। আশা করি, সে দ্রুত সুস্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসবে।”রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসাইন হৃদয় বলেন, “বখতিয়ার আহত হয়েছে শুনে সঙ্গে সঙ্গে সদর হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে জাহিদ ভাই, মাসুদ স্যার, ভিসি স্যারসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রশাসন পুরো বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে সাহায্য করার। ভিসি স্যার, জাহিদ ভাই, মাসুদ স্যার, আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান স্যার, আইরিন ম্যামসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”একই বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান শান্তা বলেন, “আবদুল মালেক উকিল হলে দুর্ঘটনায় বন্ধু বখতিয়ারের হাঁটুর প্যাটেলা ভেঙে চার টুকরো হয়ে যাওয়ার পর শুরু থেকেই নোবিপ্রবি প্রশাসন যেভাবে সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স প্রদান থেকে শুরু করে খোঁজখবর নেওয়া কিংবা আর্থিক সাহায্য করা, সবকিছুর জন্যই আমরা কৃতজ্ঞ।”তিনি বলেন, “বিশেষ করে সংকটের সময়ে আমরা প্রশাসনের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছিলাম। বিষয়টি ভিসি স্যার যে আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করেছেন এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”নুসরাত জাহান শান্তা আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের কঠিন সময়ে পাশে থেকে স্যার যে মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং সুস্থ ও কল্যাণময় রাখুন, স্যার।”বখতিয়ারের সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন, বিভাগ, সহপাঠী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তার চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগও বখতিয়ারের পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় চালিয়ে নিতে সহযোগিতা করছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া থেকে শুরু করে ঢাকায় চিকিৎসার উদ্যোগ, পরে নওগাঁয় নেওয়া, অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা এবং আর্থিক সহায়তা-প্রতিটি পর্যায়েই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত সহযোগিতা অব্যাহত ছিল। বর্তমানে বখতিয়ার চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো।
চীন সরকারের আমন্ত্রণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আয়োজন ও আলোচনায় অংশ নিতে তিন দিনের সরকারি সফরে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চায়না সাউদার্নের একটি ফ্লাইটে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন। এ সময় বিমানবন্দরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় ও শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়াও বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং এবং কালচারাল সেকশনের থার্ড সেক্রেটারি শিয়া দাওজিং উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: যুগান্তর
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।আলোচনায় পকেট গেইট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ৩৬০ ডিগ্রি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কারের ভাড়া ৫ টাকায় নামিয়ে আনা, ব্যাকলগ ও ইমপ্রুভমেন্টের নিয়ম পুনর্বিবেচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বাসগুলো দ্রুত মেরামত করে পরিবহন বহরে যুক্ত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।ইমপ্রুভমেন্টের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ৩.০০-এর নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাকলগের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানানো হয়।আলোচনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন শান্ত, শাখাওয়াত সায়েম, সাখাওয়াত হোসেন, খায়রুল আমান শাওন ও আনিসুর রহমান সিফাতসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে নোবিপ্রবি ছাত্রদল।