নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে ‘থিঙ্ক বিফোর ইউ ক্লিক: রেসপনসিবল সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ এন্ড সাইবার সিকিউরিটি’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। নোবিপ্রবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এ প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি অপব্যবহারের প্রবণতাও লক্ষ করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমানজনক মন্তব্য, ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং সাইবার হয়রানির মতো ঘটনা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপাচার্য আরও বলেন, আমরা এখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা, কর্মচারী সকলেই একটি অভিন্ন পরিবারের অংশ। আমাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। আমরা কোনো তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার আগে তার সত্যতা যাচাই করব, সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করব এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। সচেতনতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও ইতিবাচক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা সৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সক্রিয় ভূমিকা প্রতাশ্যা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।আইকিউএসি পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুন নবীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। সেমিনারে রিসোর্স পার্সন হিসেবে ছিলেন নোবিপ্রবি প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), নোয়াখালী ড. মো. নুরুল হুদা ভূঁইয়া ও নোবিপ্রবি শহিদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারের সাইকোলজিস্ট মো. আবু তারেক। প্রোগ্রাম মডারেটর ছিলেন আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক (কিউএ) ড. মো. শিবলুর রহমান। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ইনস্টিটিউট এবং বিভাগের অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শ্রেণি প্রতিনিধি এবং ক্যাম্পাস সাংবাদিকসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) কর্মচারী ঐক্য ফোরামের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) নোবিপ্রবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের কোনো বিকল্প নেই। ডেঙ্গু প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ যেহেতু সবচেয়ে বেশি কার্যকর, তাই আমাদের ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। নোবিপ্রবিতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ফগার মেশিন দ্বারা মশক নিধন কার্যক্রম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা চালানো। বক্তব্যে কর্মসূচির আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।এ সময় অন্যান্যের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, কর্মকর্তা ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক ও উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাখায়েত উল্ল্যাহ, কর্মচারী ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান, সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন সুমনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন এন্ড ট্রান্সফরমেশন (HEAT) প্রজেক্ট এর আওতাভূক্ত ‘ইনসেপশন সেমিনার অন স্টাবলিশমেন্ট অব অ্যাডভান্সড ডাটা সায়েন্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এন্ড হাই পারফরমেন্স কম্পিউটিং (এইচপিসি) ল্যাবরেটরি অ্যাট এনএসটিইউ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় একাডেমিক ভবনে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং হাই পারফরম্যান্স কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষা, গবেষণা, কৃষি ও সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তি প্রয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ বাস্তবতায় নোবিপ্রবিতে এ ধরনের একটি আধুনিক ল্যাবরেটরি আমাদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করি। তারা এই ল্যাবের সুবিধা কাজে লাগিয়ে গবেষণা পরিচালনা, উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়ন এবং প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। আমরা ভবিষ্যতে রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ এ ধরনের যুগোপযোগী বিভিন্ন বিষয় চালু ও গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণ করতে চাইলে আরও আধুনিক গবেষণাগারের প্রয়োজন হবে। এ ধরনের একটি ল্যাব সে লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এ সময় শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা সমন্বিতভাবে এই ল্যাবরেটরিতে মানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।নোবিপ্রবি সিএসটিই বিভাগের অধ্যাপক ও সংশ্লিষ্ট প্রজেক্টের সাব প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. আসাদুন নবীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। সেমিনারে কি-নোট স্পিকার হিসেবে ছিলেন নোবিপ্রবি সিএসটিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ইফতেখার মাহমুদ তাওহীদ। আলোচক হিসেবে ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ও সংশ্লিষ্ট প্রজেক্টের সহযোগী সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মো. কামাল উদ্দিন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে সংযোজিত দুটি দ্বিতল বিআরটিসি বাস উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) প্রধান অতিথি হিসেবে বাস দুটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘœ যাতায়াত নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তারা নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে । তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে শুধু শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার কিংবা আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করি, নতুন দুটি বাস শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চাপ কিছুটা হলেও কমাতে সহায়ক হবে। শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমাদের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, নোবিপ্রবি পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) নোয়াখালী, এর ম্যানেজার রাজু মোল্লাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকবৃন্দ।
চৌকিদারের সুপারিশে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সনদ, সেই সনদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যয়ন—এরপর দলিত-হরিজন কোটায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ভর্তি। শিক্ষার্থী আতিকুর রহমানের কোটায় ভর্তির জন্য ব্যবহৃত সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, চৌকিদারের সুপারিশের ভিত্তিতে তিনি সনদ দিয়েছেন। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া সনদের ভিত্তিতেই উপজেলা প্রশাসন প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে।প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখিত তারিখ অনুযায়ী, আতিকুর রহমান ২০২৬ সালের ১০ মে চর কিং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এবং ৯ জুন উপজেলা প্রশাসন থেকে দলিত-হরিজন সম্প্রদায়ভুক্তির প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করেন। নোবিপ্রবিতে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে কোটায় ভর্তির নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ৯ ও ১০ জুন। অর্থাৎ, ভর্তি কার্যক্রমের নির্ধারিত সময়সীমার প্রথম দিনেই উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যয়নপত্রটি সংগ্রহ করা হয়।গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের সময় এ ধরনের সনদ জমা দেওয়ার প্রয়োজন না হলেও কোটায় ভর্তির সময় তা জমা দিতে হয়। ফলে সনদ দুটি কখন এবং কী প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করা হয়েছে, সনদ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের যাচাই করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটি কীভাবে সেগুলো গ্রহণ করেছে—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।চৌকিদারের সুপারিশে সনদচর কিং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাঈম উদ্দিন আহমেদ আতিকুর রহমানের সনদে থাকা স্বাক্ষরটি তাঁর বলে নিশ্চিত করেছেন। সনদ দেওয়ার ভিত্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, স্থানীয় এক চৌকিদারের সুপারিশের ভিত্তিতে আতিকুরকে সনদ দিয়েছিলেন।তবে চৌকিদার কী তথ্যের ভিত্তিতে সুপারিশ করেছিলেন, আতিকুরের সম্প্রদায়গত পরিচয় সম্পর্কে কোনো নথি বা প্রত্যক্ষ যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং সনদ দেওয়ার আগে এলাকায় কোনো অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।ইউনিয়ন পরিষদের সনদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যয়নআতিকুর রহমানকে হরিজন সম্প্রদায়ভুক্ত উল্লেখ করে উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে ইউএনও রাসেল ইকবালের স্বাক্ষর রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আতিকুরকে সনদ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাঁর নামে সনদ দেওয়া হয়েছিল; সেটির ভিত্তিতেই উপজেলা প্রশাসন প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেছে।আতিকুর প্রকৃতপক্ষে হরিজন সম্প্রদায়ের কি না, সে বিষয়ে অভিযোগ এলে পুলিশি যাচাইয়ের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান ইউএনও।উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের সনদই ছিল প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার ভিত্তি। তবে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার আগে উপজেলা প্রশাসন আলাদাভাবে কোনো তদন্ত বা সরেজমিন যাচাই করেছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।কোটায় ভর্তির মেধাক্রম নিয়ে প্রশ্নআতিকুর রহমান নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ঐচ্ছিক বিষয় ছাড়া জিপিএ ৪.৫৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে নোবিপ্রবির আইন বিভাগে ভর্তি হন।বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ শেষ হয় ৪৫৪তম মেধাক্রম পর্যন্ত। অন্যদিকে, আতিকুর রহমানের মেধাক্রম ছিল ২৭ হাজার ৯৯০। তিনি দলিত ও হরিজন কোটার সুবিধায় আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিভাগটিতে এ কোটায় তাঁর মেধাক্রম ছিল দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।আতিকুরের পরিবার সম্পর্কে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বক্তব্যও সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, পরিবারটির আর্থিক অবস্থা ভালো এবং পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, আতিকুরের বাবা হাসান শিক্ষকতা করতেন এবং ২০০৫ বা ২০০৬ সালের দিকে মারা যান। পরে তাঁর মা জোছনা বেগম আতিকুরের চাচাকে বিয়ে করেন, যিনি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য। আতিকুরের এক ভাই বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত এবং আরেক ভাই নোয়াখালী সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।এক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, পরিবারটির আর্থিক অবস্থা কখনো খারাপ ছিল না। আতিকুরের মা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন—এমন দাবির সঙ্গেও তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ঐ এলাকায় বসবাস করা আরোও এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান যে গ্রামে এমন একটি সম্ভান্ত্র পরিবারের কেউ যদি বাজারের পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করতো তাহলে গ্রামে প্রচুর আলোচনা সমালোচনা হতো। আমি তার পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি এবং তার পরিবারে এমন কোনো ঘটনা কখনো ঘটেনি। তবে এসব বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যা বলছেন আতিকুরসনদগুলো আগে সংগ্রহ না করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়ই কেন দলিত-হরিজন কোটা ব্যবহার করেছেন এবং পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমি ২০২৫-২৬ সেশনে দলিত ও হরিজন কোটায় ভর্তি হয়েছি। ২০০৫ বা ২০০৬ সালের দিকে আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমার আম্মু প্রায় ৫-৬ মাস পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন। ভর্তির সময় নিয়ম অনুযায়ী আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আমি জমা দিয়েছি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ম অনুযায়ী ভেরিফিকেশন (যাচাই-বাছাই) সম্পন্ন করেই আমার ভর্তি নিশ্চিত করেছে।’এর আগে দলিত-হরিজন সম্প্রদায়ের সনদ বা কোটা ব্যবহার করে অন্য কোথাও কোনো সুযোগ-সুবিধা কিংবা সরকারি অনুদান নিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কোটা বা সনদ দিয়ে আমি এর আগে অন্য কোথাও কোনো সুযোগ-সুবিধা বা সরকারি কোনো অনুদান নিইনি। এই প্রথম শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যই এটি ব্যবহার করেছি। আগে কখনো আমার এটার প্রয়োজন ছিল না, তাই নিইনি।’ভর্তি কমিটির বক্তব্যনোবিপ্রবির গুচ্ছ ভর্তি-সংক্রান্ত কোটা যাচাই কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফুল আলম বলেন, তাঁদের নীতিমালায় দলিত-হরিজন সম্প্রদায়ভুক্তির প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সনদ অথবা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নেওয়া প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। একাধিক কর্তৃপক্ষের সনদ গ্রহণযোগ্য হওয়ায় কেউ স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে সনদ সংগ্রহ করলে তা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।নোবিপ্রবির আইন বিভাগের চেয়ারম্যান মো. শফিউল্লাহ বলেন, গুচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম সরাসরি বিভাগ পরিচালনা করে না। কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে শিক্ষার্থীদের তালিকা পাঠায় এবং সেই তালিকার ভিত্তিতেই বিভাগে ক্লাস শুরু হয়।সনদ নিয়ে প্রশ্ন, সিদ্ধান্তের অপেক্ষাচৌকিদারের সুপারিশের ভিত্তিতে সনদ দেওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজেই স্বীকার করেছেন। উপজেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের সনদের ভিত্তিতেই আতিকুর রহমানের নামে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এক কর্তৃপক্ষের সনদের ভিত্তিতে আরেক কর্তৃপক্ষ প্রত্যয়ন দিয়েছে; কিন্তু আতিকুরের সম্প্রদায়গত পরিচয় নিশ্চিত করতে কী ধরনের স্বতন্ত্র যাচাই করা হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে স্পষ্ট হয়নি। এতে সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া এবং কোটায় ভর্তির যোগ্যতা যাচাইয়ের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।এ অবস্থায় সনদ দুটির সত্যতা, সেগুলো দেওয়ার ভিত্তি এবং আতিকুরের কোটার যোগ্যতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত সংশ্লিষ্ট সনদ, যাচাইয়ের নথি ও ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে দ্রুত সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো। তদন্তে সনদ প্রদানে অনিয়ম, মিথ্যা তথ্য প্রদান কিংবা কোটার অযোগ্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং আতিকুরের ভর্তির সিদ্ধান্তও বিধি অনুসারে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কোটা সুবিধার স্বচ্ছতা ও প্রকৃত অধিকারীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিষয়টি আর অনিষ্পন্ন না রেখে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন জরুরি।
শারদীয় দুর্গাপূজা ও লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আগামী ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর এবং ২৫ অক্টোবর ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া ১৯ থেকে ২২ অক্টোবর এবং ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসও বন্ধ থাকবে। তবে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিস খোলা থাকবে।সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর এবং শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, ১৯ থেকে ২২ অক্টোবর এবং ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ বন্ধ থাকবে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছুটিকালীন সময়ে জরুরি কার্যসম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও দপ্তরপ্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিস খোলা থাকবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মাধুকরী ২৬’ নামে চড়ুইভাতির আয়োজন করেছে নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটি। গত ১১ অক্টোবর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্লাবের বিভিন্ন ব্যাচের সদস্যরা অংশ নেন।চড়ুইভাতিতে খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি ছিল ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ, পিলো পাসিং ও র্যাফেল ড্রসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন। এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে সদস্যরা আনন্দ ও উৎসবে মেতে ওঠেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সহকারী মডারেটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফরিদা জিননুরাইন উর্বী। তিনি বল নিক্ষেপ ও র্যাফেল ড্রতে অংশ নিয়ে আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।আয়োজকরা জানান, ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি আনন্দঘন সময় কাটানোর উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন করা হয়।নোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি নাইম উদ্দিন রাফি বলেন, “আজকের আয়োজনটা সত্যিই অসাধারণ হয়েছে। এই আয়োজনে সবার অংশগ্রহণ দেখে খুব ভালো লাগছে। এভাবে প্রোগ্রামটাকে প্রাণবন্ত করার জন্য জুনিয়রদের অসংখ্য ধন্যবাদ।“তবে অর্গানাইজিং টিম হিসেবে ১৮ ব্যাচ বড় একটা ধন্যবাদ পাওয়ার দাবিদার। এই আয়োজনটা করার জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে ১৮ ব্যাচের জুনিয়ররা অনেক কষ্ট করে যাচ্ছে। এমনকি আয়োজনটা সুন্দরভাবে সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য আজ সকাল থেকে তারা কষ্ট করছে। পাশাপাশি ১৯ ও ২০ ব্যাচের কিছু জুনিয়রও সকাল থেকে কষ্ট করছে। তাদেরকেও অর্গানাইজিং টিমের অংশ হয়ে কাজ করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।”ক্লাবের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মেম্বার আকরাম হোসাইন বলেন, “ডিবেটিং সোসাইটির নতুন মুখ ১৯/২০ ব্যাচ নিয়ে এটাই প্রথম ইনফরমাল প্রোগ্রাম ছিল। সো, জুনিয়র-সিনিয়রদের স্বতঃস্ফূর্ত একটা আয়োজন ছিল। আমি মনে করি, যেটা ক্লাবের জন্য খুবই ইতিবাচক দিক।“লাস্টলি, অর্গানাইজার হিসেবে সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার পরে যখন শুনতে পাই, ‘ভাই, খাবারটা সেরা ছিল’, ‘ডালের স্বাদটা এখনো মুখে লেগে আছে’, ‘টমেটো চাটনিটা বেস্ট হয়েছে’ দিনশেষে এগুলাই সার্থকতা।জুনিয়র-সিনিয়র মিলিয়ে এমন প্রোগ্রাম আরও হোক, ডিএস এগিয়ে যাক। এটাই প্রত্যাশা।”ক্লাবের জেনারেল মেম্বার মাহবুবা রিচি বলেন, “গতকালের চড়ুইভাতির আয়োজনটা সত্যিই অনেক সুন্দর ছিল। সবার সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটানো, খাওয়া-দাওয়া, আনন্দ করা, সব মিলিয়ে দিনটা বেশ ভালো কেটেছে। এমন ছোট ছোট আয়োজনই আমাদের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করে এবং অনেক স্মৃতি উপহার দেয়।“তার ওপর আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে খেলাধুলার সেগমেন্টও রাখা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে একটি পুরস্কারও পেয়েছিলাম। যদিও এটি একদম অপ্রত্যাশিত ছিল, তাই আনন্দটাও একটু বেশি।“এত সুন্দর একটা আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে ভালো লেগেছে। যারা আয়োজনের পেছনে পরিশ্রম করেছেন, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আশা করি, ভবিষ্যতেও এমন সুন্দর আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সবাই একসঙ্গে অনেক আনন্দময় মুহূর্ত কাটাতে পারব। ধন্যবাদ সবাইকে।”
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক অস্থিরতা মোকাবিলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের কার্যকর প্রয়োগ ও দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। আজ রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘লিভড এক্সপেরিয়েন্সেস টু মিনিংফুল চেঞ্জ: প্রমোটিং ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক প্র্যাকটিস ইন মেন্টাল হেলথ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CSWAB) এ সেমিনারের আয়োজন করে।অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বর্তমান সমাজে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক সংকট দেখা যাচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ, চিকিৎসা কিংবা তাৎক্ষণিক সহায়তা যথেষ্ট নয়; সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণ চিহ্নিত করা, পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মনোবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে। এই জনবলকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ঝুঁকিপূর্ণ শিশু-কিশোরদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। নোবিপ্রবি উপাচার্য আরও বলেন, সমাজকর্ম বিষয়ে পেশাগত শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের বিকাশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ পেশার মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।এ সময় সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, সমাজসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে সমাজকর্ম বিষয়ে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েটদের সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজসেবা কর্মকর্তাদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পদগুলোকে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যমান জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CSWAB)-এর সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম শাহীন খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মানসিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় সমস্যার গভীরে গিয়ে তার কারণ বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার পর ভুক্তভোগীকে উদ্ধার, চিকিৎসা বা তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনাটির পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং কীভাবে তা প্রতিরোধ করা যায়, তা চিহ্নিত করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক সমস্যার সমাধান কেবল আইন প্রয়োগ, হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ, যার মধ্যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক সহায়তা এবং সামাজিক পুনর্বাসন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের মতো পেশাগত ক্ষেত্রকে কাজে লাগানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চম্পকনগরে ভাষা শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নেক্সাস ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড আইটি সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়েছে।শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকালে চম্পকনগর বাজারের নৌকাঘাট সংলগ্ন ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মাওলানা আইয়ুব আলী মৃধা ও জাহিদুল হাসান ইসরাফিল এর যৌত সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাংবাদিক শাহনেওয়াজ শাহ।অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চম্পকনগর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেন খান, মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী, কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আবু সালেহ সরকার, সাংবাদিক কেফায়েত উল্লাহ ভূইয়া, মোহাম্মদ জাহিদুল খান বুখারী ও মাওলানা আহমেদ উল্লাহ খান জুবায়ের।বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খাইরুল ইমদাদ, সিহাব চৌধুরী, সাংবাদিক শামিম ওসমান গণি, সাংবাদিক পলাশ কুমার দাস, মোহাইমিনুল আলম হৃদয়, আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, ফজলে রাব্বী, আসাদুল্লাহ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।অনুষ্ঠানের শেষপর্বে চম্পকনগর কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি এনামুল হক জহিরী দোয়া পরিচালনা করেন। পরে কেক কাটা ও তাবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
পড়াশোনার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছুটে আসেন অসংখ্য শিক্ষার্থী। নিজ জেলা ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে নতুন শহরে এসে পড়াশোনা, আবাসন ও দৈনন্দিন জীবন সামলে চলতে হয় তাদের। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে চলাচলের সময় বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিশেষ করে নোয়াখালীর স্থানীয় পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে অপরিচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।এছাড়াও বিভিন্ন সূত্রমতে জানা যায় নোয়াখালীর মাইজদী শহরে প্রায় ১৫০ এর ও বেশি কিশোর গ্যাং গ্রুপ রয়েছে যারা মাদক,ইভটিজিং, চুরি, ছিনতাই, অপহরণসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।এসব কিশোর গ্যাংয়ের গ্রুপ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠছে বলে স্থানীয়রা জানান। এসব কিশোর গ্যাং গ্রুপ তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য নানা অপরাধ কার্যক্রম করে এবং উন্মুক্তভাবে শহরে গুরুত্বপূর্ণ নানা স্থাপনা ও শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট সংলগ্ন এলাকায় এমনকি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা বাসে কিশোর গ্যাং গোষ্ঠী তাদের গ্রুপের নাম লিখে তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে এবং জনমনে আতংক সৃষ্টি করছে।এছাড়াও কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন গ্রুপকে বিভিন্ন সময়ে মাইজদী শহরে ছুড়ি, রামদা,চাপাতিসহ নানা দেশীয় অস্ত্রসহ মহরা দিতে দেখা গেছে।শহরের স্থানীয় মানুষদের পাশাপাশি এসব কিশোর গ্যাং দ্বারা চুরি,ছিনতাই, অপহরণ,ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে পড়তে আসা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ এবং নারী শিক্ষার্থীরাও।সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।গত ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মাইজদী শহরের বার্লিংটন মোড় এলাকায় নোবিপ্রবি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মব সৃষ্টি করে মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির ঘটনা ঘটে।মোবাইল চুরির ঘটনায় নোবিপ্রবি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী আরমান হোসাইন জানান,"গত ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ২০২৬ তারিখে আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে আমার বসতবাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি লেগে থাকা দুটি বহুতল ভবনের গ্রিল বেয়ে উঠে চোর চক্রের সদস্যরা চারতলার খোলা জানালা দিয়ে ভেতরে হাত বাড়িয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে মোবাইল ফোনটি চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই, উক্ত দিন বিকেলের দিকে বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় থানায় একটি লিখিত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করি।"উক্ত মব সৃষ্টির ঘটনায় উপস্থিত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একই সেশনের শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ বলেন,"কিছুদিন আগে বার্লিংটন মোড় এলাকা থেকে আমার বন্ধু আরমানের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। আজ একই এলাকায় ল্যাপটপ চুরি করার সময় দুই যুবক হাতেনাতে ধরা পড়ে। বিষয়টি আমাদের সিনিয়রদের মাধ্যমে জানতে পেরে আমরা চোরদের দেখতে এবং আমাদের চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে সেখানে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে যাই।তবে সালিশে উপস্থিত হয়ে আমরা যখন মোবাইল ফোনের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করি, তখন এলাকাবাসী ও অভিযুক্তদের অভিভাবকেরা আমাদের সহযোগিতা না করে উল্টো আমাদের ওপর চড়াও হন।পরবর্তীতে আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতেই বাড়ির মালিক এবং অভিযুক্তদের মা-বাবাসহ উপস্থিত অন্যান্যরা চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, ধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয় এবং আমাদের অনেকের ওপর চড়াও হয়ে গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন।"এ বিষয়ে উপস্থিত সমাজবিজ্ঞান ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফখর উদ্দিন বলেন,"গত কিছুদিন আগে পৌরবাজার এলাকার বার্লিংটন মোড় থেকে আমার বন্ধু আরমানের মেস থেকে ভোর পাঁচটার দিকে আমার বন্ধুর মোবাইল চুরি হয় আজ তার পাশের ফ্ল্যাট থেকে আমাদের নোবিপ্রবি ইকোনমিক্স বিভাগের ১৭ ব্যাচের এক ভাইয়ের মেস থেকে ল্যাপটপ চুরি হয়। এলাকাবাসী ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় দুইজনকে ধরেছে।এ ঘটনা শোনার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন আমরা বন্ধুরা মিলে কথা বলতে যায় কথা বলতে গেলে এলাকাবাসী জানায় আপনাদের মোবাইল সে চুরি করেছে, এর যেহেতু প্রমাণ নেই তাই আপনারা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করুন। মোবাইল চুরির ঘটনা নিয়ে আমরা আগে সুধারাম থানায় জিডি করে রেখেছিলাম তাই থানার সাথে যোগাযোগ করে একজন পুলিশ নিয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করলে স্থানীয় কিছু মানুষ পুলিশ এবং আমরা স্টুডেন্টের উপর মব সৃষ্টির চেষ্টা করে। উক্ত ঘটনাস্থলে কিছু স্থানীয় মানুষ আমার বন্ধু সালমান হোশমীর এবং সজীবের গায়ে হাত তোলেন। ঘটনার চরম আকার দেখে পুলিশ অতিরিক্ত ফোর্স আনে এবং আমাদের নিরাপদে বের করে আনেন এবং থানায় যেতে বলেন।"উক্ত ঘটনায় নোবিপ্রবির প্রক্টরিয়াল বডির সামাজিক বিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির দায়িত্বরত সহকারী প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বদা এগিয়ে আসবে। উক্ত ঘটনায় প্রসাশন জানান শিক্ষার্থীরা যখন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলো তখন প্রসাশনকে এই বিষয়ে অবগত করা হয়।প্রসাশনের উক্ত দায়িত্বরত কর্মকর্তা আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে মোবাইল চুরি হওয়া ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং তার সহপাঠীদের পক্ষেই ছিলো। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যখন পুলিশ নিয়ে যায় তখন স্থানীয় বাসিন্দারা বিপক্ষে চলে যায়। তখন স্থানীয়রা আসামিদের পুলিশকে দিতে আপত্তি জানায়।তারপরেও পুলিশ আসামীদের থানায় নেওয়ার পর আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে কি না এই বিষয়ে প্রক্টোরিয়াল বডির সাথে ওসি সাহেবের আলোচনা হয়।এছাড়াও তিনি জানান, মামলা না করে স্থানীয় বাসিন্দা, থানার ওসি, ভুক্তভোগীদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য৷ যেহেতু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার একটা বিষয় আছে সেহেতু এখানে বিষয়টি মীমাংসা করা জরুরি।এসব ছাড়াও গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে নোবিপ্রবির সিএসটিই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঠক্কর এলাকায় রিক্সাওয়ালার মাধ্যমে অপহরণের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী রিক্সা থেকে লাফ দিয়ে নিজের জীবন বাঁচিয়েছিলেন।এছাড়া গত ১৫ জুন ২০২৬ইং তারিখে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছিলো। অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে টাকা দাবির ঘটনাও ঘটে।তাছাড়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে গত ৩০ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখ রাত ৮টার পর ক্যাম্পাস থেকে শহরে আসার পথে অপরহণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনাও রয়েছে।নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কোবরা শেফা বলেন, "আমরা দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রায় প্রতিদিনই মাইজদি শহরে যেতে হয়। বাসা থেকেও অনেকসময় ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়। তখন ক্যাম্পাসের বাস থাকে না।কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নেশাগ্রস্ত থাকে।তারা টাকা পয়সার জন্য যে কাউকেই আক্রমণ করতে পারে।আমি প্রসাশনের কাছে এবিষয়ে আমাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই "।বিজিই বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ইমন বলেন, " আমরা টিউশন করাতে মাইজদী যেতে হয়। অনেক সময় টিউশন শেষ করতে দেরি হয় বা বাস মিস করি। তখন লোকালে আসতে হয়।নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য যেভাবে বাড়তেছে কবে যেন আমি এসবের শিকার হই আল্লাহ জানেন।সত্যি বলতে আমি আমার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত এবং আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও নোয়াখালী প্রসাশন যেন এবিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।"মাইজদী শহরের প্রাণকেন্দ্রে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দেশীয় অস্ত্রসহ প্রকাশ্যে মহরা দেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে জনমনে আতংক ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে পুলিশের কাছে জানতে চাইলে সুধারাম থানা পুলিশ সদস্য সুমন বণিক জানান, "কিশোর গ্যাং ধমন করার জন্য আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।আমরা প্রায় প্রতিদিনই কিশোর গ্যাংয়ের কাউকে না কাউকে ধরছি এবং গত ৩০শে সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ১৬৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছি।কিশোর গ্যায়ের এসব সদস্যকে ধরার পর তাদের পরিবারের সাথে কথা বলে অনেক সময় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেই কিংবা প্রয়োজনে আদালতে সোপর্দ করি।" শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এবিষয়ে কথা বলতে আগ্রহ দেখাননি।এবিষয়ে নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। তাদের অনেকেই ক্যাম্পাসের বাইরে শহরের বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়িতে থাকে। তাই ক্যাম্পাসের বাইরেও তাদের নিরাপত্তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও ল্যাপটপ চুরি, ছিনতাই কিংবা হয়রানির মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। একজন শিক্ষার্থী যদি পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকে, তাহলে তার শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।”কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টিকে শুধু কয়েকজন কিশোরের অপরাধ হিসেবে দেখলে হবে না। তাদের পেছনে কারা আছে, কীভাবে তারা সংগঠিত হচ্ছে এবং মাদক বা অন্য কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যারা কিশোরদের অপরাধে সম্পৃক্ত করছে বা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি।”তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সক্রিয় ও ধারাবাহিক ভূমিকা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে এবং শিক্ষার্থীদের বসবাসের এলাকাগুলোতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো সিসিটিভির আওতায় আনা এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান থাকলে যেকোনো ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।”কিশোর গ্যাং দমনে শুধু গ্রেপ্তার নয়, অপরাধের সামাজিক কারণগুলোও চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, মাদক, অসুস্থ সঙ্গ, অর্থের প্রলোভন কিংবা অপরাধী চক্রের প্রভাব—কোন কারণে একজন কিশোর অপরাধে জড়াচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”সবশেষে তিনি বলেন, “নোয়াখালী এখন শুধু একটি জেলা শহর নয়, এটি হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের ঠিকানা। একজন শিক্ষার্থী যেন রাতে মেসে ফেরার সময় নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগে, প্রয়োজনীয় ল্যাপটপ বা মোবাইল নিয়ে দুশ্চিন্তায় না থাকে এবং পরিবার যেন সন্তানকে নোয়াখালীতে পাঠিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়—এমন নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।”একের পর এক এমন ঘটনায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের বাইরে যাতায়াতের সময় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।