ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

উজ্জল মুন্সি

উজ্জল মুন্সি

উপজেলা প্রতিনিধি আমতলী


আমতলী-তালতলী সড়কের ৮.৪ কিমি এখন মরণফাঁদ

বরগুনার আমতলী-তালতলী সড়কের মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা পর্যন্ত ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খানাখন্দে ভরা এ সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। এতে আমতলী ও তালতলী উপজেলার অন্তত দুই লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতলী-তালতলী-ফকিরহাট পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার উপকূলীয় আঞ্চলিক সড়কের অংশ হিসেবে ২০২১ সালের অক্টোবরে বার্ষিক জিওবি মেইনটেন্যান্স প্রকল্পের আওতায় ৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা ব্রিজ পর্যন্ত ৮.৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য তিনটি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি বরগুনার ঠিকাদার মো. সগির হোসেনের প্রতিষ্ঠান পায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যাদেশ পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় কাজ ফেলে রাখা হয়। পরে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাণকাজ শুরু হলেও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ ওঠে। সে সময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।২০২৪ সালের শেষ দিকে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। বর্তমানে প্রায় ১০ মিটার পরপর গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোনো যানবাহন গর্তে আটকে গেলে পুরো সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, বাস ও অন্যান্য যানবাহনকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন আর সড়ক নয়, যেন ‘মিনি পুকুর’।মোটরসাইকেল চালক মো. শাহ আলম তালুকদার ও রুবেল মিয়া বলেন, নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি নষ্ট হয়ে গেছে। গত দুই বছর ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এমন বেহাল সড়ক খুব কমই দেখা যায়। প্রতিদিন কয়েকশ শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক ব্যবহার করছে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।আড়পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া, কল্পনা আক্তার, আবু ছালেহ ও শাহ নেওয়াজ বলেন, সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।তারিকাটা গ্রামের মোশাররফ হোসেন ও শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নিম্নমানের কাজের কারণেই এত দ্রুত সড়কটি নষ্ট হয়েছে। তারা নির্মাণকাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।তবে ঠিকাদার মো. সগির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সড়কটির ধারণক্ষমতার চেয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) অনুমোদিত হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।বরগুনার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খাঁন বলেন, সড়কটি নির্মাণের সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তাই নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে চলতি অর্থবছরেই সড়কটির পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আমতলী-তালতলী সড়কের ৮.৪ কিমি এখন মরণফাঁদ