যুক্তরাজ্যে ৮ বছরের কারাদণ্ড এড়াতে ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়া দণ্ডিত ধর্ষক ফয়সাল আহমেদকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবারও যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক ধর্ষণ, নিপীড়নমূলক ও জবরদস্তিমূলক আচরণ এবং শিশু অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
তদন্তকারী সূত্র জানায়, সাজা এড়াতে ফয়সাল আহমেদ ফ্রান্সে গিয়ে ভিন্ন একটি ছদ্মনাম ব্যবহার করে নতুন পরিচয়ে বসবাস শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর নজরদারি এড়িয়ে যেতে পারেননি তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের নভেম্বরে। সে সময় চেশায়ার পুলিশের কাছে ক্রু এলাকার একটি বাড়ি থেকে অভিযোগ আসে। ভুক্তভোগী এক নারী অভিযোগ করেন, বাকিংহামের ওয়েস্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ কয়েক মাস ধরে তাকে ধারাবাহিকভাবে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেছেন। একই সময়ে তিনি ওই নারীর শিশু সন্তানকেও মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চেস্টার ক্রাউন কোর্টে ৯ দিনের বিচার শেষে জুরি বোর্ড তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। তবে সাজা ঘোষণার দিন আদালত থেকে পালিয়ে যান তিনি। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পরে ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তার অনুপস্থিতিতেই আদালত তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দেন।
পলাতক ফয়সাল আহমেদকে গ্রেপ্তারে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস, ইন্টারপোল, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এবং ফ্রান্সের প্যারিস জুডিশিয়াল পুলিশ ডিরেক্টরেট যৌথভাবে কাজ করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফ্রান্সে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়।
প্রত্যর্পণ সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে সরাসরি ব্রিটিশ কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি ৮ বছরের সাজা ভোগ শুরু করেছেন।
চেশায়ার কনস্ট্যাবুলারির ফোর্স ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিটেকটিভ কনস্টেবল অ্যামি পেগন্যাম বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে একজন বিপজ্জনক অপরাধীকে শনাক্ত করে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে এনে তার শাস্তি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে থাকার যে চেষ্টা আহমেদ করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
এ মামলার প্রাথমিক তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া সাইমন নোওলস এর আগে ভুক্তভোগী নারীর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেছিলেন, নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশকে জানাতে যে সাহস তিনি দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার যোগ্য।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাজ্যে ৮ বছরের কারাদণ্ড এড়াতে ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়া দণ্ডিত ধর্ষক ফয়সাল আহমেদকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবারও যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাগরিক ধর্ষণ, নিপীড়নমূলক ও জবরদস্তিমূলক আচরণ এবং শিশু অবহেলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
তদন্তকারী সূত্র জানায়, সাজা এড়াতে ফয়সাল আহমেদ ফ্রান্সে গিয়ে ভিন্ন একটি ছদ্মনাম ব্যবহার করে নতুন পরিচয়ে বসবাস শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর নজরদারি এড়িয়ে যেতে পারেননি তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের নভেম্বরে। সে সময় চেশায়ার পুলিশের কাছে ক্রু এলাকার একটি বাড়ি থেকে অভিযোগ আসে। ভুক্তভোগী এক নারী অভিযোগ করেন, বাকিংহামের ওয়েস্ট স্ট্রিটের বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ কয়েক মাস ধরে তাকে ধারাবাহিকভাবে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেছেন। একই সময়ে তিনি ওই নারীর শিশু সন্তানকেও মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চেস্টার ক্রাউন কোর্টে ৯ দিনের বিচার শেষে জুরি বোর্ড তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। তবে সাজা ঘোষণার দিন আদালত থেকে পালিয়ে যান তিনি। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পরে ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তার অনুপস্থিতিতেই আদালত তাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দেন।
পলাতক ফয়সাল আহমেদকে গ্রেপ্তারে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস, ইন্টারপোল, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এবং ফ্রান্সের প্যারিস জুডিশিয়াল পুলিশ ডিরেক্টরেট যৌথভাবে কাজ করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফ্রান্সে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়।
প্রত্যর্পণ সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে সরাসরি ব্রিটিশ কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি ৮ বছরের সাজা ভোগ শুরু করেছেন।
চেশায়ার কনস্ট্যাবুলারির ফোর্স ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিটেকটিভ কনস্টেবল অ্যামি পেগন্যাম বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে একজন বিপজ্জনক অপরাধীকে শনাক্ত করে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে এনে তার শাস্তি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে থাকার যে চেষ্টা আহমেদ করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
এ মামলার প্রাথমিক তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া সাইমন নোওলস এর আগে ভুক্তভোগী নারীর সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেছিলেন, নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশকে জানাতে যে সাহস তিনি দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার যোগ্য।

আপনার মতামত লিখুন