২০২৪ সালের ১৮ জুলাই দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে আন্দোলনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত বর্ণনায় উঠে এসেছে, কীভাবে রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলনের গতি নতুন মাত্রা দেয়।
বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়, আগের দিন আন্দোলনে কয়েকজনের মৃত্যুর পরও ১৮ জুলাই সকাল থেকেই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিয়ে ক্যাম্পাসে জড়ো হন। একই সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল খালি করে দেওয়া এবং ক্যাম্পাসে কড়াকড়ি আরোপের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমাবেশ সীমিত হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, নর্দানসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সড়কে অবস্থান নেন। আগে থেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ডিসকোর্ড ও ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছিল, যাতে ১৮ জুলাই সর্বাধিক শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নিতে পারেন।
ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীরা সড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথসহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ব্র্যাকের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন। এতে রোকেয়া সরণি এলাকার পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আরও বলা হয়, টিয়ার শেলের ধোঁয়ায় শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টে পড়েন এবং নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেন। একই সময়ে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির খবর আসতে থাকে।
বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, সেদিন দেশের ৪৭টি জেলায় সংঘর্ষে ৩১ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী। ঢাকায় নিহতের সংখ্যা ছিল ১৯ জন।
এদিকে আন্দোলনের সময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশের টিয়ার শেল প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। পরে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়া পুলিশ সদস্যদের ঘিরেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিছু সময় পর সেখানে আটকে পড়া পুলিশ সদস্যরা ছাদে উঠে যান বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
দিনের একপর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। একই সময়ে উত্তরা, সাভার, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। ধানমন্ডিতে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজ এবং উত্তরায় নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আসিফ ও শাকিল নিহত হওয়ার তথ্যও বর্ণনায় উঠে এসেছে।
বিকেলে শাহবাগে জড়ো হওয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার মানুষ আহত হন।
এ ছাড়া বিটিভি ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সন্ধ্যার পর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথাও বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।
দিনশেষে লেখক জানান, দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর তার মেয়ে নিরাপদে ফিরে আসে। আন্দোলনের পুরো দিনের অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং পরদিন থেকে নিজেও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে আন্দোলনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। ওই দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত বর্ণনায় উঠে এসেছে, কীভাবে রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলনের গতি নতুন মাত্রা দেয়।
বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়, আগের দিন আন্দোলনে কয়েকজনের মৃত্যুর পরও ১৮ জুলাই সকাল থেকেই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিয়ে ক্যাম্পাসে জড়ো হন। একই সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসিক হল খালি করে দেওয়া এবং ক্যাম্পাসে কড়াকড়ি আরোপের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমাবেশ সীমিত হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, নর্দানসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সড়কে অবস্থান নেন। আগে থেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ডিসকোর্ড ও ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছিল, যাতে ১৮ জুলাই সর্বাধিক শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নিতে পারেন।
ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীরা সড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথসহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ব্র্যাকের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেন। এতে রোকেয়া সরণি এলাকার পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আরও বলা হয়, টিয়ার শেলের ধোঁয়ায় শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্টে পড়েন এবং নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করেন। একই সময়ে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির খবর আসতে থাকে।
বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, সেদিন দেশের ৪৭টি জেলায় সংঘর্ষে ৩১ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী। ঢাকায় নিহতের সংখ্যা ছিল ১৯ জন।
এদিকে আন্দোলনের সময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশের টিয়ার শেল প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। পরে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের একটি ভবনে আশ্রয় নেওয়া পুলিশ সদস্যদের ঘিরেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কিছু সময় পর সেখানে আটকে পড়া পুলিশ সদস্যরা ছাদে উঠে যান বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
দিনের একপর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে। একই সময়ে উত্তরা, সাভার, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। ধানমন্ডিতে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজ এবং উত্তরায় নর্দান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আসিফ ও শাকিল নিহত হওয়ার তথ্যও বর্ণনায় উঠে এসেছে।
বিকেলে শাহবাগে জড়ো হওয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার মানুষ আহত হন।
এ ছাড়া বিটিভি ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সন্ধ্যার পর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথাও বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।
দিনশেষে লেখক জানান, দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর তার মেয়ে নিরাপদে ফিরে আসে। আন্দোলনের পুরো দিনের অভিজ্ঞতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং পরদিন থেকে নিজেও আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আপনার মতামত লিখুন