ঢাকা    শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

গাজায় ইসরাইলি হামলায় ১৪ নিহত, জানাজার শোভাযাত্রাতেও ড্রোন হামলা

 গাজায় ইসরাইলি হামলায় ১৪ নিহত, জানাজার শোভাযাত্রাতেও ড্রোন হামলা
গাজায় ইসরাইলি হামলায় ১৪ নিহত, জানাজার শোভাযাত্রাতেও ড্রোন হামলা

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নিতে এসেছিলেন। এসব হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা ও আল-আওদা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে একটি জানাজার শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয়রা। এ সময় একটি ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালায়। নিহতরা এর আগে একই এলাকায় পৃথক হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজায় অংশ নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।

হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে’ লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে এতে বেসামরিক মানুষের হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।

অন্যদিকে হামাস এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

এদিন গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া শহরে একটি স্কুলসংলগ্ন এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন থেকে ফেলা বোমায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকায় পৃথক হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারীরও পরে মৃত্যু হয়।

গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলার ঘটনা ঘটছে। গবেষণা সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের পর থেকে হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত মাসে ৪০টির বেশি হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর সর্বোচ্চ।

এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেটজ দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় ২৭৪ শিশু নিহত হয়েছে। তাদের তথ্যমতে, গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশুর মৃত্যু ঘটছে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও গাজায় সহিংসতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


গাজায় ইসরাইলি হামলায় ১৪ নিহত, জানাজার শোভাযাত্রাতেও ড্রোন হামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজার শোভাযাত্রায় অংশ নিতে এসেছিলেন। এসব হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা ও আল-আওদা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আহমাদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে একটি জানাজার শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয়রা। এ সময় একটি ইসরাইলি ড্রোন হামলা চালায়। নিহতরা এর আগে একই এলাকায় পৃথক হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজায় অংশ নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।

হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, মধ্য গাজায় একটি ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে’ লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে এতে বেসামরিক মানুষের হতাহতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।

অন্যদিকে হামাস এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরাইল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

এদিন গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়া শহরে একটি স্কুলসংলগ্ন এলাকায় ইসরাইলি ড্রোন থেকে ফেলা বোমায় ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। এছাড়া মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকায় পৃথক হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নুসেইরাতের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থলে হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরাইলি গুলিতে আহত এক নারীরও পরে মৃত্যু হয়।

গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলার ঘটনা ঘটছে। গবেষণা সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের পর থেকে হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত মাসে ৪০টির বেশি হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর সর্বোচ্চ।

এদিকে ইসরাইলি দৈনিক হারেটজ দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় ২৭৪ শিশু নিহত হয়েছে। তাদের তথ্যমতে, গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশুর মৃত্যু ঘটছে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও গাজায় সহিংসতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গাজায় ইসরাইলি হামলায় ১৪ নিহত, জানাজার শোভাযাত্রাতেও ড্রোন হামলা
0:00 0:00
1.0x