ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে কুয়েত। এর বিনিময়ে পাকিস্তানকে জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্সকে এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানান, কুয়েত তাদের দেশে কয়েক হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সহায়তাও চেয়েছে। তবে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
চলমান সংঘাতে ইরানের পাল্টা হামলায় তেলসমৃদ্ধ কুয়েত উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত শুক্রবার ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুয়েত ইরান ও ইরাকি মিলিশিয়াদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বর্তমানে কুয়েতে প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। দেশটিতে ‘ক্যাম্প আরিফজান’ ও ‘আলি আল-সালেম’ নামে দুটি বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ভূমিকা পালন করছে। তবে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।
কুয়েতের এই উদ্যোগকে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।
রয়টার্সের মে মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ইতোমধ্যে সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং একটি চীনা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
উল্লেখ্য, কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৩ সালে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সৌদি আরবের মতো কুয়েতের সঙ্গেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি করা ইসলামাবাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ সৌদি আরবের তুলনায় কুয়েতের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম এবং দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে কুয়েত। এর বিনিময়ে পাকিস্তানকে জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্সকে এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানান, কুয়েত তাদের দেশে কয়েক হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সহায়তাও চেয়েছে। তবে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
চলমান সংঘাতে ইরানের পাল্টা হামলায় তেলসমৃদ্ধ কুয়েত উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। গত শুক্রবার ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুয়েত ইরান ও ইরাকি মিলিশিয়াদের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বর্তমানে কুয়েতে প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি। দেশটিতে ‘ক্যাম্প আরিফজান’ ও ‘আলি আল-সালেম’ নামে দুটি বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। এ কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ভূমিকা পালন করছে। তবে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।
কুয়েতের এই উদ্যোগকে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।
রয়টার্সের মে মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ইতোমধ্যে সৌদি আরবে ৮ হাজার সেনা, একটি যুদ্ধবিমান স্কোয়াড্রন এবং একটি চীনা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
উল্লেখ্য, কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৩ সালে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সৌদি আরবের মতো কুয়েতের সঙ্গেও পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি করা ইসলামাবাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ সৌদি আরবের তুলনায় কুয়েতের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম এবং দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ।

আপনার মতামত লিখুন