কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারীর চর খেদাইমারীতে অবস্থিত বায়তুল ক্বারার গোলাম হাবিব শিশু সদন (স্থাপিত: ২০০২ ইং, রেজি: নং-কুড়ি-৪৭০/২০০৪ ইং)। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্টপ্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের মৌলিক শিক্ষা ও আবাসন নিশ্চিত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।অত্র এতিমখানা ও মাদ্রাসায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে ৬০ জনই চরম সুবিধাবঞ্চিত, অনাথ ও এতিম। তবে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ভবনের অভাবে কোমলমতি শিশুদের খোলা বারান্দায় অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে ক্লাস করতে হচ্ছে। শুধু শ্রেণীকক্ষের ঘাটতিই নয়, তীব্র আবাসন সংকট ও প্রয়োজনীয় বেঞ্চের অভাবে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির চতুর্দিকে কোনো বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বাউন্ডারি ওয়াল না থাকার কারণে যত্রতত্র গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন গবাদি পশু ভেতরে ঢুকে পড়ে, যার ফলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকেরা।মাদ্রাসার সার্বিক অবস্থা ও সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন: ম্যানেজিং কমিটির সেক্রেটারি জনাব মোঃ ফজলুল হক প্রামানিক: "আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, কিন্তু ভবনের অভাবে বাচ্চারা বারান্দায় কষ্ট করে ক্লাস করছে। বাউন্ডারি ওয়াল ও নিরাপত্তা গেট না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় গবাদি পশুর সাথে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ক্লাস নিতে হচ্ছে।এই অবস্থায় অভিভাবক, এলাকাবাসী, স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।" নূরানী শাখার শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান: "আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৮ জন পুরুষ শিক্ষক ও ২ জন মহিলা শিক্ষিকা সততার সাথে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।কিন্তু অর্থের অভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন সংকুলন করাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।" মাদ্রাসার সুপার জনাব মোঃ সিরাজুল ইসলাম: "একপ্রকার শুধু মহান আল্লাহর অশেষ ইচ্ছাতেই এই মাদ্রাসাটি টিকে আছে ও চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে কার্যকর নজরদারি ও সহযোগিতা প্রয়োজন।" জেনারেল শিক্ষক মোঃ শফিউল ইসলাম: "আমাদের অনাথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ যত্ন নিয়ে সমাজের উচ্চ শিখরে পৌঁছে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা রয়েছে। কিন্তু আমাদের এই প্রচেষ্টাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু সরকারের একটু সদিচ্ছা ও আর্থিক/অবকাঠামোগত সহযোগিতা দরকার।" প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সুধী সমাজ মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয় বিত্তশালীদের সহযোগিতায় একটি আধুনিক ভবন, বাউন্ডারি ওয়াল এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের সুনির্দিষ্ট ভাতার ব্যবস্থা করা গেলে অবহেলিত ও এতিম এই শিশুরা একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠনের সুযোগ পাবে।