বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার পর শেখ হাসিনার ক্ষমা হতে পারে না। তার দাবি, যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনীতি করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে মানুষের প্রতিরোধের বহু উদাহরণ রয়েছে। জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরোধ এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলার প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনেও মানুষ নজিরবিহীন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালানোর খবর পেয়ে তিনি আত্মগোপনে যান। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং ছাত্রদের কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থনের কথা জানান।
রিজভীর ভাষ্য, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন। তিনি বলেন, শুধু বিএনপি বা ছাত্রদল নয়, জামায়াত, মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির মানুষও আন্দোলনে অংশ নেন এবং গুলির মধ্যেও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশের কর্মসূচি ছিল। সে সময় যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল। নানা বাধা অতিক্রম করে প্রেসক্লাবে পৌঁছানোর পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও লাঠিচার্জ চালায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
রিজভী বলেন, কারাগারে থাকাকালে তিনি আন্দোলনের বিস্তার সম্পর্কে জানতে পারেন। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন নেতার ওপর নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার দায় থেকে তার ক্ষমা হতে পারে না। তার দাবি, যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও বারবার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজেরও মূল্যায়ন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং সারা দেশে নিহতদের স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন রিজভী।
এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার পর শেখ হাসিনার ক্ষমা হতে পারে না। তার দাবি, যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনীতি করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে মানুষের প্রতিরোধের বহু উদাহরণ রয়েছে। জার্মান বাহিনীর বিরুদ্ধে রাশিয়ার প্রতিরোধ এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলার প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনেও মানুষ নজিরবিহীন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ তল্লাশি চালানোর খবর পেয়ে তিনি আত্মগোপনে যান। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরেন এবং ছাত্রদের কর্মসূচিতে বিএনপির সমর্থনের কথা জানান।
রিজভীর ভাষ্য, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যুর পর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন। তিনি বলেন, শুধু বিএনপি বা ছাত্রদল নয়, জামায়াত, মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির মানুষও আন্দোলনে অংশ নেন এবং গুলির মধ্যেও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশের কর্মসূচি ছিল। সে সময় যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল। নানা বাধা অতিক্রম করে প্রেসক্লাবে পৌঁছানোর পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, গুলি ও লাঠিচার্জ চালায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
রিজভী বলেন, কারাগারে থাকাকালে তিনি আন্দোলনের বিস্তার সম্পর্কে জানতে পারেন। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন নেতার ওপর নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, শিশু, কিশোর ও তরুণ হত্যার দায় থেকে তার ক্ষমা হতে পারে না। তার দাবি, যে রক্তপাত হয়েছে, তার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও বারবার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজেরও মূল্যায়ন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং সারা দেশে নিহতদের স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন রিজভী।
এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন