ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

কবিতা

‘তুমি কোন গ্রুপ?ভুয়া পরিচয়, গুজব ও অনলাইন প্রতারণা নিয়ে কবির সতর্কবার্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়, গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য, অনলাইন প্রতারণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখেছেন কবি রাকিবুল ইসলাম। ‘তুমি কোন গ্রুপ?’ শিরোনামের কবিতায় তিনি সমসাময়িক অনলাইন সংস্কৃতির নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে পাঠকদের সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।কবিতার শুরুতেই নাম-পরিচয় ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এরপর অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারণা, গুজব ছড়ানো এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার বিষয়টি ব্যঙ্গের ভাষায় তুলে ধরেছেন কবি।কবিতার একটি অংশে বলা হয়েছে—“নামে তুমি গুপ্ত শুণি, বট বাহিনীর দল,অনলাইনে এসে ফেলো ধোঁকাবাজির জাল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে ট্যাগ করা, অন্যের ঘরে বসে সমঝোতার গল্প ছড়ানো এবং নিজের ভুল আড়াল করতে অন্যের দিকে আঙুল তোলার প্রবণতাও কবিতায় উঠে এসেছে। কবির ভাষায়, এসব কর্মকাণ্ড অনেক সময় অনলাইন জগতে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে।কবিতাটিতে AI-নির্ভর ভুয়া ছবি ও তথ্যের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বাস্তবসম্মত ছবি ও বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় কোনো ছবি বা তথ্য দেখেই তা সত্য বলে ধরে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন কবি।কবিতার ভাষায়—“এআই ফটো বলে তুমি করলে চাপাবাজি,ঘটনাটা সত্য বলে হয়ে গেলে রাজি।”এ ছাড়া ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে গুজব ছড়ানো, কারও বয়স বা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করার প্রবণতারও সমালোচনা করা হয়েছে।কবিতার মূল বার্তাকবিতাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান জানায়। কোনো ব্যক্তি, ছবি, পরিচয় কিংবা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে যাচাই না করে বিশ্বাস বা প্রচার না করার বার্তা রয়েছে এতে।বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও এর অপব্যবহার মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক সম্পর্ক ও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল মন্তব্য এবং ভুয়া তথ্য থেকে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাই কবিতাটির মূল বক্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে।‘তুমি কোন গ্রুপ?’—শুধু একটি কবিতা নয়; বরং অনলাইন দুনিয়ায় ভুয়া পরিচয়, গুজব, প্রতারণা ও AI-নির্ভর বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক বার্তা। কবি রাকিবুল ইসলাম তাঁর লেখনীর মাধ্যমে পাঠকদের প্রশ্ন করতে চেয়েছেন—অনলাইনে যা দেখছি, তা কি সত্যিই সত্য?

কবিতা ২৩ আগস্ট ২০২৬

‘আমাদের গ্রাম’: কাদা-মাটির পথে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরলেন আল-আমিন

কাঁচা ও কর্দমাক্ত সড়ক, বর্ষায় চলাচলের দুর্ভোগ, অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নিতে না পারা এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি—গ্রামীণ জীবনের এমন বাস্তব চিত্র কবিতার ভাষায় তুলে ধরেছেন চর বিশ্বাসের কবি আল-আমিন। তাঁর লেখা কবিতাটির নাম ‘আমাদের গ্রাম’কবিতায় গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের পথের দুর্ভোগের কথা উঠে এসেছে। বর্ষা এলেই কাদা-মাটিতে পরিণত হয় চলাচলের পথ। ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নিত্যপ্রয়োজনে এই পথ ব্যবহার করতে হয় স্থানীয়দের।কবিতার কয়েকটি পঙক্তিতে সেই বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে—“এই যে দেখেন কাঁদা মাটিএইটা মোদের গা,বর্ষা এলেই মহা বিপদযায় না ফেলা পা।”স্থানীয়দের ভোগান্তির আরেকটি বড় কারণ চিকিৎসাসেবা। কোনো বাড়িতে অসুস্থ রোগী থাকলে কাদা রাস্তার কারণে অনেক সময় দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কবিতায় সেই অসহায়ত্বের কথাও ফুটে উঠেছে।শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও বাদ যায়নি কবিতায়। বৃষ্টি ও কাদার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। অনেক সময় ভেজা কাপড় ও ভেজা শরীর নিয়েই ক্লাসে বসতে হয়। এতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।কবিতায় আরও উঠে এসেছে হাট-বাজারে যাতায়াতের সংকট। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা কিংবা কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও স্থানীয়দের সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে অনেক পরিবারকে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই জীবনযাপন করতে হচ্ছে।তবে দুর্ভোগের মধ্যেও আশার কথা বলেছেন কবি। পটুয়াখালী-৩ আসনের জনপ্রতিনিধি নুরুল হক নুরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে কবিতার শেষাংশে তিনি লিখেছেন—“আশায় মোরা বুক বেঁধেছিনুরুল হক নুর পেয়ে,তিনি-ই মোদের শেষ ভরসাআছি তার পানে চেয়ে।”কবিতাটি মূলত একটি গ্রামের মানুষের বাস্তব জীবন, দীর্ঘদিনের সড়ক সমস্যার পাশাপাশি উন্নয়নের প্রত্যাশার কথাই তুলে ধরে। কবির ভাষায় এটি শুধু একটি কবিতা নয়, বরং কাদামাটির পথ পেরিয়ে চলা মানুষের নিত্যদিনের কষ্টের প্রতিচ্ছবি।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কার বা পাকাকরণের ব্যবস্থা করবে। তাহলে বর্ষা মৌসুমে মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের চলাচল সহজ হবে।

কবিতা ২৩ আগস্ট ২০২৬