ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

কবিতা

নওগাঁ জেলার আত্রাইয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন শিক্ষার্থী সমাবেশ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নজরুলের সাম্য, মানবতা ও বিদ্রোহী চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান।

নওগাঁর আত্রাইয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও বিদ্রোহী চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে শিক্ষার্থী সমাবেশ ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (৩১ আগস্ট) ২০২৬ ইং তারিখে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আত্রাই উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।‘বল বীর—বল উন্নত মম শির, শির নেহারি আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির’—জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী বিদ্রোহী চেতনার এ অমর পঙ্‌ক্তিকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবির জীবন, সাহিত্য, সংগ্রাম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন নিয়ে আলোচনা করা হয়।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি ছিলেন সাম্য, মানবতা, স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কবি। তাঁর সাহিত্যকর্মে অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী বার্তা রয়েছে। নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন নতুন প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে অনুপ্রাণিত করে।প্রধান অতিথির বক্তব্যে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের সাম্য, মানবতা ও প্রগতির প্রতীক। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন তরুণ প্রজন্মকে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শেখায়। শিক্ষার্থীদের মাঝে নজরুলের চেতনা ও আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম শিক্ষার্থীদের সৎ, সাহসী, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সমাজ ও দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতিকুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাযহারুল ইসলাম।এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল চকলেট, মো. ফারুক বখত ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ তসলিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নজরুলের জীবন ও সাহিত্য থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে সমাজে সাম্য, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি, গান ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। তাদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থলে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশ।আয়োজকরা জানান, ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের এ আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, জীবনাদর্শ ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, সাম্য, সম্প্রীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনা জাগ্রত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কবিতা ৩১ আগস্ট ২০২৬

‘তুমি কোন গ্রুপ?ভুয়া পরিচয়, গুজব ও অনলাইন প্রতারণা নিয়ে কবির সতর্কবার্তা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়, গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য, অনলাইন প্রতারণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখেছেন কবি রাকিবুল ইসলাম। ‘তুমি কোন গ্রুপ?’ শিরোনামের কবিতায় তিনি সমসাময়িক অনলাইন সংস্কৃতির নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে পাঠকদের সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।কবিতার শুরুতেই নাম-পরিচয় ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির প্রবণতার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এরপর অনলাইনে বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারণা, গুজব ছড়ানো এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার বিষয়টি ব্যঙ্গের ভাষায় তুলে ধরেছেন কবি।কবিতার একটি অংশে বলা হয়েছে—“নামে তুমি গুপ্ত শুণি, বট বাহিনীর দল,অনলাইনে এসে ফেলো ধোঁকাবাজির জাল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে ট্যাগ করা, অন্যের ঘরে বসে সমঝোতার গল্প ছড়ানো এবং নিজের ভুল আড়াল করতে অন্যের দিকে আঙুল তোলার প্রবণতাও কবিতায় উঠে এসেছে। কবির ভাষায়, এসব কর্মকাণ্ড অনেক সময় অনলাইন জগতে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করে।কবিতাটিতে AI-নির্ভর ভুয়া ছবি ও তথ্যের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বাস্তবসম্মত ছবি ও বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় কোনো ছবি বা তথ্য দেখেই তা সত্য বলে ধরে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন কবি।কবিতার ভাষায়—“এআই ফটো বলে তুমি করলে চাপাবাজি,ঘটনাটা সত্য বলে হয়ে গেলে রাজি।”এ ছাড়া ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে গুজব ছড়ানো, কারও বয়স বা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার করার প্রবণতারও সমালোচনা করা হয়েছে।কবিতার মূল বার্তাকবিতাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান জানায়। কোনো ব্যক্তি, ছবি, পরিচয় কিংবা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে যাচাই না করে বিশ্বাস বা প্রচার না করার বার্তা রয়েছে এতে।বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলেও এর অপব্যবহার মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক সম্পর্ক ও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল মন্তব্য এবং ভুয়া তথ্য থেকে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাই কবিতাটির মূল বক্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে।‘তুমি কোন গ্রুপ?’—শুধু একটি কবিতা নয়; বরং অনলাইন দুনিয়ায় ভুয়া পরিচয়, গুজব, প্রতারণা ও AI-নির্ভর বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে একটি ব্যঙ্গাত্মক সামাজিক বার্তা। কবি রাকিবুল ইসলাম তাঁর লেখনীর মাধ্যমে পাঠকদের প্রশ্ন করতে চেয়েছেন—অনলাইনে যা দেখছি, তা কি সত্যিই সত্য?

কবিতা ২৩ আগস্ট ২০২৬

‘আমাদের গ্রাম’: কাদা-মাটির পথে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরলেন আল-আমিন

কাঁচা ও কর্দমাক্ত সড়ক, বর্ষায় চলাচলের দুর্ভোগ, অসুস্থ রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নিতে না পারা এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি—গ্রামীণ জীবনের এমন বাস্তব চিত্র কবিতার ভাষায় তুলে ধরেছেন চর বিশ্বাসের কবি আল-আমিন। তাঁর লেখা কবিতাটির নাম ‘আমাদের গ্রাম’কবিতায় গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের পথের দুর্ভোগের কথা উঠে এসেছে। বর্ষা এলেই কাদা-মাটিতে পরিণত হয় চলাচলের পথ। ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নিত্যপ্রয়োজনে এই পথ ব্যবহার করতে হয় স্থানীয়দের।কবিতার কয়েকটি পঙক্তিতে সেই বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে—“এই যে দেখেন কাঁদা মাটিএইটা মোদের গা,বর্ষা এলেই মহা বিপদযায় না ফেলা পা।”স্থানীয়দের ভোগান্তির আরেকটি বড় কারণ চিকিৎসাসেবা। কোনো বাড়িতে অসুস্থ রোগী থাকলে কাদা রাস্তার কারণে অনেক সময় দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কবিতায় সেই অসহায়ত্বের কথাও ফুটে উঠেছে।শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও বাদ যায়নি কবিতায়। বৃষ্টি ও কাদার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। অনেক সময় ভেজা কাপড় ও ভেজা শরীর নিয়েই ক্লাসে বসতে হয়। এতে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।কবিতায় আরও উঠে এসেছে হাট-বাজারে যাতায়াতের সংকট। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা কিংবা কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও স্থানীয়দের সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে অনেক পরিবারকে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই জীবনযাপন করতে হচ্ছে।তবে দুর্ভোগের মধ্যেও আশার কথা বলেছেন কবি। পটুয়াখালী-৩ আসনের জনপ্রতিনিধি নুরুল হক নুরের প্রতি প্রত্যাশা রেখে কবিতার শেষাংশে তিনি লিখেছেন—“আশায় মোরা বুক বেঁধেছিনুরুল হক নুর পেয়ে,তিনি-ই মোদের শেষ ভরসাআছি তার পানে চেয়ে।”কবিতাটি মূলত একটি গ্রামের মানুষের বাস্তব জীবন, দীর্ঘদিনের সড়ক সমস্যার পাশাপাশি উন্নয়নের প্রত্যাশার কথাই তুলে ধরে। কবির ভাষায় এটি শুধু একটি কবিতা নয়, বরং কাদামাটির পথ পেরিয়ে চলা মানুষের নিত্যদিনের কষ্টের প্রতিচ্ছবি।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কার বা পাকাকরণের ব্যবস্থা করবে। তাহলে বর্ষা মৌসুমে মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের চলাচল সহজ হবে।

কবিতা ২৩ আগস্ট ২০২৬