ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

আমিরাতে নেতানিয়াহুর ছয় ঘণ্টার গোপন সফর, আলোচনায় ইরান

আমিরাতে নেতানিয়াহুর ছয় ঘণ্টার গোপন সফর, আলোচনায় ইরান
আমিরাতে নেতানিয়াহুর ছয় ঘণ্টার গোপন সফর, আলোচনায় ইরান

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক গোপন সফর স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ছয় ঘণ্টা। সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে তার বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুসালেম পোস্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকের আগে কয়েক সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ হয়। আসন্ন নির্বাচনের আগে মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে আমিরাত কর্তৃপক্ষের ওপর নেতানিয়াহু জোরালো চাপ প্রয়োগ করেন। শেষ পর্যন্ত ওই চাপের পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার সফরটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমিরাতি কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুর চাপকে ‘অস্বাভাবিক রকমের তীব্র’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, একের পর এক ফোনকল, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তৎপরতা এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিভিন্ন পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়ে এ চাপ তৈরি করা হয়েছিল।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে হামাসের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে আগেই সতর্ক করেছিলেন—এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ বা অস্বীকার করার জন্যও নেতানিয়াহু তাকে অনুরোধ করেছিলেন।

এর কয়েক দিন আগেই নেতানিয়াহুর আরেকটি সফরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সফরটি গোপন রাখার কথা ছিল এবং সফর শেষ হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সফর বাতিল হয়ে যায়।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভকে এক সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর প্রতিনিধিদল প্রস্তুত ছিল এবং সফরের সব আয়োজনও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু উড়োজাহাজ উড্ডয়নের ঠিক আগে সফর বাতিলের নির্দেশ আসে। ওই সূত্রের দাবি, আমিরাত কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে জানায়, মোহাম্মদ বিন জায়েদ ‘দেশে নেই’। তবে পরবর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, তথ্যটি সঠিক ছিল না; ওই সময় তিনি রাজধানী আবুধাবিতেই অবস্থান করছিলেন।

আমিরাতের সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের জন্য নেতানিয়াহুর এমন জোরালো তৎপরতার পেছনে আরও একটি কারণ রয়েছে। ৭ অক্টোবরের কয়েক দিন আগে মোহাম্মদ বিন জায়েদ তাকে ফোন করে গাজায় সামনে ভয়াবহ ‘ভূমিকম্পের’ মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন—এমন খবর আগেই প্রকাশিত হয়েছিল।

মারিভের সঙ্গে কথা বলা সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের ভাষ্য, মোহাম্মদ বিন জায়েদ কোনোভাবেই নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হতে আগ্রহী নন। এ ছাড়া দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কও কিছু সময় ধরে আগের তুলনায় শীতল ছিল।

তারপরও সফরটি নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক চাপ অব্যাহত রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত রোববার নেতানিয়াহুর সেই সফর অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে সফরটি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

সূত্র: ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আমিরাতে নেতানিয়াহুর ছয় ঘণ্টার গোপন সফর, আলোচনায় ইরান

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক গোপন সফর স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ছয় ঘণ্টা। সফরকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে তার বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ইরান। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুসালেম পোস্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকের আগে কয়েক সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ হয়। আসন্ন নির্বাচনের আগে মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করতে আমিরাত কর্তৃপক্ষের ওপর নেতানিয়াহু জোরালো চাপ প্রয়োগ করেন। শেষ পর্যন্ত ওই চাপের পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার সফরটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমিরাতি কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুর চাপকে ‘অস্বাভাবিক রকমের তীব্র’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, একের পর এক ফোনকল, নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তৎপরতা এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিভিন্ন পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়ে এ চাপ তৈরি করা হয়েছিল।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে হামাসের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে আগেই সতর্ক করেছিলেন—এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ বা অস্বীকার করার জন্যও নেতানিয়াহু তাকে অনুরোধ করেছিলেন।

এর কয়েক দিন আগেই নেতানিয়াহুর আরেকটি সফরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সফরটি গোপন রাখার কথা ছিল এবং সফর শেষ হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সফর বাতিল হয়ে যায়।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভকে এক সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর প্রতিনিধিদল প্রস্তুত ছিল এবং সফরের সব আয়োজনও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু উড়োজাহাজ উড্ডয়নের ঠিক আগে সফর বাতিলের নির্দেশ আসে। ওই সূত্রের দাবি, আমিরাত কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে জানায়, মোহাম্মদ বিন জায়েদ ‘দেশে নেই’। তবে পরবর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, তথ্যটি সঠিক ছিল না; ওই সময় তিনি রাজধানী আবুধাবিতেই অবস্থান করছিলেন।

আমিরাতের সঙ্গে বৈঠক আয়োজনের জন্য নেতানিয়াহুর এমন জোরালো তৎপরতার পেছনে আরও একটি কারণ রয়েছে। ৭ অক্টোবরের কয়েক দিন আগে মোহাম্মদ বিন জায়েদ তাকে ফোন করে গাজায় সামনে ভয়াবহ ‘ভূমিকম্পের’ মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন—এমন খবর আগেই প্রকাশিত হয়েছিল।

মারিভের সঙ্গে কথা বলা সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের ভাষ্য, মোহাম্মদ বিন জায়েদ কোনোভাবেই নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হতে আগ্রহী নন। এ ছাড়া দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কও কিছু সময় ধরে আগের তুলনায় শীতল ছিল।

তারপরও সফরটি নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক চাপ অব্যাহত রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত রোববার নেতানিয়াহুর সেই সফর অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে সফরটি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

সূত্র: ইত্তেফাক


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আমিরাতে নেতানিয়াহুর ছয় ঘণ্টার গোপন সফর, আলোচনায় ইরান
0:00 0:00
1.0x