বন বিভাগ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোকামতলা বন্দরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় সরকারি সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতাধীন এলাকায় রাতের আঁধারে গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি বেআইনিভাবে সামাজিক বনায়ন এলাকায় প্রবেশ করে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মোকামতলা-শিবগঞ্জ এসএফপিসি রেঞ্জের বন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ সময় গাছের গুঁড়িসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দ করা ট্রাকটির নম্বর যশোর-ট-১১-৫১৭০।
মামলায় অভিযুক্ত সাতজন হলেন—মোকামতলার খামারপাড়া গ্রামের মো. লিয়াকত আলী মঞ্জু (৫৬), কাশিপুর গ্রামের মোছা. ফাহিমা বেগম (৪৮), খামারপাড়া গ্রামের জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা মো. কহিনুর ইসলাম (৬৫), মো. আবুল কালাম আজাদ (৪০), মো. আবু জাফর প্রাং (৬০), মো. রাজু মিয়া (৪০) এবং মালাহার গ্রামের মো. এনামুল হক (৪০)।
বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, সরকারি সামাজিক বনায়ন এলাকায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করে গাছ কাটার অভিযোগে ১৯২৭ সালের বন আইন (২০০০ সালে সংশোধিত) এর ৩৩(১)(গ) ও (ছ) ধারা এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
মোকামতলা-শিবগঞ্জ এসএফপিসি রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান জানান, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অভিযোগে ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে মামলার অন্যতম আসামি মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে অযথাই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
ফাহিমা বেগম বলেন, “কোনো বক্তব্য নেই। আমার নামে অযথাই মামলা করা হয়েছে। অপরাধ করে থাকলে মামলায় যা হওয়ার হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সামাজিক বনায়নের গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নয়, স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা এসব বনায়ন অবৈধভাবে ধ্বংস হলে পরিবেশের পাশাপাশি সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাদের অভিযোগ, সামাজিক বনায়ন এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নিয়মিত নজরদারি না থাকায় সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা গাছ কাটার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একই সঙ্গে গাছ কাটার ঘটনায় প্রকৃতভাবে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে মামলা দায়েরের পর ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে গাছ কাটার ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬
বন বিভাগ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোকামতলা বন্দরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় সরকারি সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতাধীন এলাকায় রাতের আঁধারে গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি বেআইনিভাবে সামাজিক বনায়ন এলাকায় প্রবেশ করে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মোকামতলা-শিবগঞ্জ এসএফপিসি রেঞ্জের বন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালান। এ সময় গাছের গুঁড়িসহ একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। জব্দ করা ট্রাকটির নম্বর যশোর-ট-১১-৫১৭০।
মামলায় অভিযুক্ত সাতজন হলেন—মোকামতলার খামারপাড়া গ্রামের মো. লিয়াকত আলী মঞ্জু (৫৬), কাশিপুর গ্রামের মোছা. ফাহিমা বেগম (৪৮), খামারপাড়া গ্রামের জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা মো. কহিনুর ইসলাম (৬৫), মো. আবুল কালাম আজাদ (৪০), মো. আবু জাফর প্রাং (৬০), মো. রাজু মিয়া (৪০) এবং মালাহার গ্রামের মো. এনামুল হক (৪০)।
বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, সরকারি সামাজিক বনায়ন এলাকায় বেআইনিভাবে প্রবেশ করে গাছ কাটার অভিযোগে ১৯২৭ সালের বন আইন (২০০০ সালে সংশোধিত) এর ৩৩(১)(গ) ও (ছ) ধারা এবং বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
মোকামতলা-শিবগঞ্জ এসএফপিসি রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান জানান, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অভিযোগে ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে মামলার অন্যতম আসামি মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে অযথাই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
ফাহিমা বেগম বলেন, “কোনো বক্তব্য নেই। আমার নামে অযথাই মামলা করা হয়েছে। অপরাধ করে থাকলে মামলায় যা হওয়ার হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সামাজিক বনায়নের গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নয়, স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা এসব বনায়ন অবৈধভাবে ধ্বংস হলে পরিবেশের পাশাপাশি সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাদের অভিযোগ, সামাজিক বনায়ন এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নিয়মিত নজরদারি না থাকায় সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা গাছ কাটার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একই সঙ্গে গাছ কাটার ঘটনায় প্রকৃতভাবে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে মামলা দায়েরের পর ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে গাছ কাটার ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত লিখুন