ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

সারাদেশ

তিন চরের মানুষের এক দাবি: মনির বাজারেই হোক কলাতলী ইউপি ভবন

তিন চরের মানুষের এক দাবি: মনির বাজারেই হোক কলাতলী ইউপি ভবন

ভোলার মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পূর্বনির্ধারিত স্থান 'মনির হাওলাদার বাজার' সংলগ্ন এলাকাতেই বহাল রাখার দাবিতে ফুসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কলাতলী, ঢালচর ও কাজিরচর—এই তিনটি চরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় মনির বাজার এলাকাতেই ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন সর্বস্তরের জনগণ।

​অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে একটি সমন্বিত 'সরকারি কমপ্লেক্স' নির্মাণের লক্ষ্যে বিকল্প জমি পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

​চলমান কাজ বন্ধের গুঞ্জনে ক্ষোভ ও মানবেতর দাবি

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনির বাজার সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। তবে এর মধ্যেই ভবনটি সেখান থেকে সরিয়ে 'আবাসন বাজার' সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন ওঠে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে মানববন্ধনে রূপ নেয়।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মনপুরার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সরকারি সেবা পেতে এমনিতেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় মনির বাজার এলাকাটি কলাতলী, ঢালচর ও কাজিরচর—তিনটি চরের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। এখানে ভবন নির্মিত হলে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়া অনেক সহজ হবে।

​মোঃ গিয়াসউদ্দিন (ইউপি সদস্য): "মনির বাজার এলাকাটি তিনটি চরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য একদম কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে তিনটি চরের মানুষই সমানভাবে উপকৃত হবেন। আমরা চাই পূর্বনির্ধারিত স্থানেই কাজ শেষ করা হোক।"

​মোঃ সোহাগ (স্থানীয় বাসিন্দা): "চলমান কাজ বন্ধ করে ভবন অন্যত্র সরানোর খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। আবাসন বাজার সংলগ্ন স্থানটি নদীর খুব কাছে, যা যাতায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও ভোগান্তির। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় মনির বাজারেই ভবন রাখা উচিত।"

​প্রশাসনের বক্তব্য: সমন্বিত কমপ্লেক্সের জন্য প্রয়োজন আট একর জমি

​স্থান পরিবর্তনের আলোচনার বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, সরকার একক ভবনের বদলে ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পুলিশ ফাঁড়িসহ একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে চায়।

​"বর্তমানে মনির বাজারে যেখানে কাজ শুরু হয়েছে, সেখানে একসঙ্গে সব সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান করতে গেলে প্রায় আট একর জমির প্রয়োজন। কিন্তু সেই পরিমাণ জমি সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য আবাসন বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি বিকল্প জমি দেখা হয়েছে, যেখানে সব স্থাপনা এক জায়গায় করা সম্ভব। তবে মনির বাজার এলাকায় যদি আট একর জমি পাওয়া যায়, তবে সেখানেই কমপ্লেক্স করা হবে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।"

​নজরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

​স্থানীয়দের দাবি—জনস্বার্থ ও ভৌগোলিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মনির বাজারেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের কাজ চালু রাখা হোক। বিপরীতে, প্রশাসনিক গতিশীলতা ও সমন্বিত সেবার স্বার্থে বড় পরিসরে জমি খোঁজার কথা বলছে প্রশাসন। প্রয়োজনীয় জমির প্রাপ্যতা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুবিধার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোথায় গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কলাতলী ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


তিন চরের মানুষের এক দাবি: মনির বাজারেই হোক কলাতলী ইউপি ভবন

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভোলার মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পূর্বনির্ধারিত স্থান 'মনির হাওলাদার বাজার' সংলগ্ন এলাকাতেই বহাল রাখার দাবিতে ফুসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কলাতলী, ঢালচর ও কাজিরচর—এই তিনটি চরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় মনির বাজার এলাকাতেই ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন সর্বস্তরের জনগণ।

​অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে একটি সমন্বিত 'সরকারি কমপ্লেক্স' নির্মাণের লক্ষ্যে বিকল্প জমি পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

​চলমান কাজ বন্ধের গুঞ্জনে ক্ষোভ ও মানবেতর দাবি

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনির বাজার সংলগ্ন এলাকায় বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। তবে এর মধ্যেই ভবনটি সেখান থেকে সরিয়ে 'আবাসন বাজার' সংলগ্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন ওঠে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে মানববন্ধনে রূপ নেয়।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মনপুরার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সরকারি সেবা পেতে এমনিতেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় মনির বাজার এলাকাটি কলাতলী, ঢালচর ও কাজিরচর—তিনটি চরের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। এখানে ভবন নির্মিত হলে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়া অনেক সহজ হবে।

​মোঃ গিয়াসউদ্দিন (ইউপি সদস্য): "মনির বাজার এলাকাটি তিনটি চরের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য একদম কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হলে তিনটি চরের মানুষই সমানভাবে উপকৃত হবেন। আমরা চাই পূর্বনির্ধারিত স্থানেই কাজ শেষ করা হোক।"

​মোঃ সোহাগ (স্থানীয় বাসিন্দা): "চলমান কাজ বন্ধ করে ভবন অন্যত্র সরানোর খবরে আমরা উদ্বিগ্ন। আবাসন বাজার সংলগ্ন স্থানটি নদীর খুব কাছে, যা যাতায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও ভোগান্তির। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় মনির বাজারেই ভবন রাখা উচিত।"

​প্রশাসনের বক্তব্য: সমন্বিত কমপ্লেক্সের জন্য প্রয়োজন আট একর জমি

​স্থান পরিবর্তনের আলোচনার বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, সরকার একক ভবনের বদলে ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, কমিউনিটি ক্লিনিক ও পুলিশ ফাঁড়িসহ একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে চায়।

​"বর্তমানে মনির বাজারে যেখানে কাজ শুরু হয়েছে, সেখানে একসঙ্গে সব সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান করতে গেলে প্রায় আট একর জমির প্রয়োজন। কিন্তু সেই পরিমাণ জমি সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না। সেজন্য আবাসন বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি বিকল্প জমি দেখা হয়েছে, যেখানে সব স্থাপনা এক জায়গায় করা সম্ভব। তবে মনির বাজার এলাকায় যদি আট একর জমি পাওয়া যায়, তবে সেখানেই কমপ্লেক্স করা হবে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।"

​নজরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

​স্থানীয়দের দাবি—জনস্বার্থ ও ভৌগোলিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মনির বাজারেই ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের কাজ চালু রাখা হোক। বিপরীতে, প্রশাসনিক গতিশীলতা ও সমন্বিত সেবার স্বার্থে বড় পরিসরে জমি খোঁজার কথা বলছে প্রশাসন। প্রয়োজনীয় জমির প্রাপ্যতা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুবিধার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কোথায় গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কলাতলী ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
তিন চরের মানুষের এক দাবি: মনির বাজারেই হোক কলাতলী ইউপি ভবন
0:00 0:00
1.0x