নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আগামী ১২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘এনএসটিইউ মডেল ইউনাইটেড নেশনস (এনএসটিইউএমইউএন) ২০২৬’ সম্মেলন। ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণ বিষয়ে আগ্রহী তরুণদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
‘Recasting the Global Order Amid Rising Power Asymmetries’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে পরিবর্তনশীল বিশ্বরাজনীতি, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ক্ষমতার অসম বণ্টন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্মেলনে সাতটি কমিটি ও ফোরামের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময় করবেন। কমিটিগুলো হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি), জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি), উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন (ইউএনসিএসটিডি), জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ), জাতীয় সংসদ (জেএএসএ) এবং আন্তর্জাতিক প্রেস (আইপি)।
এসব কমিটিতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির ভূমিকায় অংশ নেবেন শিক্ষার্থীরা। আলোচ্য বিষয় নিয়ে গবেষণা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক এবং প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে তাঁরা বৈশ্বিক সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান খুঁজবেন। পাশাপাশি আলোচনা ও দর-কষাকষির মধ্য দিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন তাঁরা।
সম্মেলনে জাতিসংঘের কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, তাঁদের অংশগ্রহণ সম্মেলনের আলোচনা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পেতে সহায়তা করবে।
এ বিষয়ে এনএসটিইউ মডেল ইউনাইটেড নেশনসের সেক্রেটারি জেনারেল তারেক মুকতার বলেন, ‘এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, কূটনৈতিক দক্ষতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে তারা শুধু বিতর্ক বা মডেল ইউনাইটেড নেশনসের কৌশলই নয়, বরং বাস্তব জীবনে কীভাবে যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে হয়, মতপার্থক্য সামলাতে হয় এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে হয়, তা শিখবে।’
তিনি আরও বলেন, এমন একটি উদ্যোগের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত ও আশাবাদী। সম্মেলনে অর্জিত অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সম্মেলনের ডিরেক্টর জেনারেল তাসনুভা জামিল চৌধুরী বলেন, ‘কূটনীতি মানুষকে শুধু নিজের মত প্রকাশ করতে শেখায় না, বরং ভিন্নমতকে বুঝতে, যুক্তির মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে এবং সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে শেখায়। এই মূল্যবোধগুলোকে ধারণ করেই আসছে এনএসটিইউএমইউএন।’
তিনি বলেন, একটি সফল সম্মেলনের সার্থকতা শুধু সুশৃঙ্খল আয়োজনে সীমাবদ্ধ নয়; অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েও এর সাফল্য প্রকাশ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কুলপর্যায়ের প্রতিনিধিদের জন্যও অতিথিপরায়ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আয়োজকেরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
আয়োজকদের মতে, এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্লেষণী চিন্তা, গবেষণা, জনসমক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন, নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মতবিনিময় ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
আয়োজকেরা আশা করছেন, এনএসটিইউএমইউএন ২০২৬ তরুণদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তিবাদী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আগামী ১২ নভেম্বর শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘এনএসটিইউ মডেল ইউনাইটেড নেশনস (এনএসটিইউএমইউএন) ২০২৬’ সম্মেলন। ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি ও বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণ বিষয়ে আগ্রহী তরুণদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
‘Recasting the Global Order Amid Rising Power Asymmetries’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে পরিবর্তনশীল বিশ্বরাজনীতি, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ক্ষমতার অসম বণ্টন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হবে।
সম্মেলনে সাতটি কমিটি ও ফোরামের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময় করবেন। কমিটিগুলো হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি), জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি), উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক জাতিসংঘ কমিশন (ইউএনসিএসটিডি), জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ), জাতীয় সংসদ (জেএএসএ) এবং আন্তর্জাতিক প্রেস (আইপি)।
এসব কমিটিতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির ভূমিকায় অংশ নেবেন শিক্ষার্থীরা। আলোচ্য বিষয় নিয়ে গবেষণা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক এবং প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে তাঁরা বৈশ্বিক সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান খুঁজবেন। পাশাপাশি আলোচনা ও দর-কষাকষির মধ্য দিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন তাঁরা।
সম্মেলনে জাতিসংঘের কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, তাঁদের অংশগ্রহণ সম্মেলনের আলোচনা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পেতে সহায়তা করবে।
এ বিষয়ে এনএসটিইউ মডেল ইউনাইটেড নেশনসের সেক্রেটারি জেনারেল তারেক মুকতার বলেন, ‘এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, কূটনৈতিক দক্ষতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে তারা শুধু বিতর্ক বা মডেল ইউনাইটেড নেশনসের কৌশলই নয়, বরং বাস্তব জীবনে কীভাবে যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে হয়, মতপার্থক্য সামলাতে হয় এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে হয়, তা শিখবে।’
তিনি আরও বলেন, এমন একটি উদ্যোগের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত ও আশাবাদী। সম্মেলনে অর্জিত অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সম্মেলনের ডিরেক্টর জেনারেল তাসনুভা জামিল চৌধুরী বলেন, ‘কূটনীতি মানুষকে শুধু নিজের মত প্রকাশ করতে শেখায় না, বরং ভিন্নমতকে বুঝতে, যুক্তির মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে এবং সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে শেখায়। এই মূল্যবোধগুলোকে ধারণ করেই আসছে এনএসটিইউএমইউএন।’
তিনি বলেন, একটি সফল সম্মেলনের সার্থকতা শুধু সুশৃঙ্খল আয়োজনে সীমাবদ্ধ নয়; অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়েও এর সাফল্য প্রকাশ পায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কুলপর্যায়ের প্রতিনিধিদের জন্যও অতিথিপরায়ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আয়োজকেরা কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
আয়োজকদের মতে, এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্লেষণী চিন্তা, গবেষণা, জনসমক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন, নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মতবিনিময় ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
আয়োজকেরা আশা করছেন, এনএসটিইউএমইউএন ২০২৬ তরুণদের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি সম্পর্কে আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তিবাদী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন