দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদফতরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি দফতর ও সংস্থাগুলো আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে।
জেলা তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়া অধিদফতর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ১২ জুলাই দুপুর ২টা থেকে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরের ২৫টি ওয়ার্ড এবং বন্যাকবলিত ১৭৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৩টি ইউনিয়নে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৯ হাজার ২০৮টি, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ৬ হাজার ২০টি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৪০৫টি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৫৯২ কিলোমিটার, ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও কালভার্ট ১৬৯টি এবং মৃতের সংখ্যা ১৬ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছিল। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয় নেওয়া সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। ত্রাণ হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ৯৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ দশমিক ৭৫ লাখ টাকা এবং ৫৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া বাঁশখালী উপজেলার ৮টি, সাতকানিয়ার ১০টি, চন্দনাইশের ৬টি, রাউজানের ২টি এবং রাঙ্গুনিয়ার ৩টিসহ মোট ২৯টি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সড়ক দ্রুত সচল করতে কাজ শুরু হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে জেলায় বৃষ্টি নেই এবং নতুন করে কোথাও পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ২৭৫টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৭৬৬টি। কৃষি বিভাগের হিসাবে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৪৪ জন। মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। জেলায় ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৪০০ মেট্রিক টন চাল, ৪০ লাখ টাকা ও ৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মজুত রয়েছে ১০০ মেট্রিক টন চাল, ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন।
কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং নতুন করে কোথাও পাহাড়ধস বা ভূমিধসের খবর পাওয়া যায়নি। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ২ হাজার ৪৭৫টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার ৭৭৩টি। কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৮০ কোটি টাকা এবং মৎস্য খাতে ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। জেলায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল ও ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভারী বৃষ্টির শুরু থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে প্রচার ও মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলার খোয়াই নদীর ভাঙনের কারণে আকস্মিক বন্যায় ৪ হাজার ৫৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় প্লাবিত এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে।
মৌলভীবাজার জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদর ও রাজনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
বান্দরবান জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদফতরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি দফতর ও সংস্থাগুলো আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে।
জেলা তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়া অধিদফতর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ১২ জুলাই দুপুর ২টা থেকে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরের ২৫টি ওয়ার্ড এবং বন্যাকবলিত ১৭৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৩টি ইউনিয়নে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৯ হাজার ২০৮টি, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ৬ হাজার ২০টি, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৪০৫টি, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৫৯২ কিলোমিটার, ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও কালভার্ট ১৬৯টি এবং মৃতের সংখ্যা ১৬ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলায় ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছিল। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয় নেওয়া সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। ত্রাণ হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ৯৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ দশমিক ৭৫ লাখ টাকা এবং ৫৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
এছাড়া বাঁশখালী উপজেলার ৮টি, সাতকানিয়ার ১০টি, চন্দনাইশের ৬টি, রাউজানের ২টি এবং রাঙ্গুনিয়ার ৩টিসহ মোট ২৯টি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সড়ক দ্রুত সচল করতে কাজ শুরু হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে জেলায় বৃষ্টি নেই এবং নতুন করে কোথাও পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ২৭৫টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৭৬৬টি। কৃষি বিভাগের হিসাবে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ১১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৪৪ জন। মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। জেলায় ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৪০০ মেট্রিক টন চাল, ৪০ লাখ টাকা ও ৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মজুত রয়েছে ১০০ মেট্রিক টন চাল, ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন।
কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং নতুন করে কোথাও পাহাড়ধস বা ভূমিধসের খবর পাওয়া যায়নি। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ২ হাজার ৪৭৫টি এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার ৭৭৩টি। কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৮০ কোটি টাকা এবং মৎস্য খাতে ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। জেলায় ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল ও ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভারী বৃষ্টির শুরু থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে প্রচার ও মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলার খোয়াই নদীর ভাঙনের কারণে আকস্মিক বন্যায় ৪ হাজার ৫৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় প্লাবিত এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে।
মৌলভীবাজার জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সদর ও রাজনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
বান্দরবান জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন