ঢাকা    রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

স্বাস্থ্য

মনপুরায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ, সেবা দিতে হিমশিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

মনপুরায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ, সেবা দিতে হিমশিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
মনপুরায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ, সেবা দিতে হিমশিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হিমশিম খাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড, পুরুষ ওয়ার্ড এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কোনো বেডই খালি নেই। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে কার্যকর রয়েছে ৩১টি শয্যা। হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক রোগী বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিশু। তীব্র জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং সারা শরীরে লালচে গুটি বা র‍্যাশের উপসর্গ নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে আসছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মনপুরার মূল ভূখণ্ড ছাড়াও আশপাশের দুর্গম চরাঞ্চল—চর কলাতলী, কাজির চর ও ডাল চর থেকে প্রতিদিন ট্রলারে করে গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন নতুন হামের রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। হঠাৎ রোগীর এই মহামারি সদৃশ চাপের কারণে জনবল সংকটে থাকা হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা দিনরাত সেবা দিতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।

হাসপাতালের মেঝেতে সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করা কাজির চরের এক অভিভাবক বলেন, “চর থেকে অনেক কষ্ট করে ট্রলারে করে বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি। হাসপাতালে এসে দেখি কোনো সিট খালি নেই। রোগী এত বেশি যে কোনোভাবে সিটের ব্যবস্থা করতে পারিনি। বাধ্য হয়ে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে।”

মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশিকুর রহমান অনিক বলেন, “আউটডোরে আমরা প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ রোগী দেখি, যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু। তারা ঠান্ডা, জ্বর ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসে। গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। তবে মাঝে মধ্যে ২ থেকে ১ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা বা ঢাকায় পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘সীমিত জনবল নিয়েই আমরা বিপুলসংখ্যক রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ওষুধের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চরাঞ্চলগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।’

দুর্গম এই উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে হাম যেহেতু একটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি বিশেষ ক্যাম্পেইন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং হাসপাতালে অস্থায়ী শয্যা ও অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬


মনপুরায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ, সেবা দিতে হিমশিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হিমশিম খাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড, পুরুষ ওয়ার্ড এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কোনো বেডই খালি নেই। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে কার্যকর রয়েছে ৩১টি শয্যা। হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক রোগী বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিশু। তীব্র জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং সারা শরীরে লালচে গুটি বা র‍্যাশের উপসর্গ নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে আসছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মনপুরার মূল ভূখণ্ড ছাড়াও আশপাশের দুর্গম চরাঞ্চল—চর কলাতলী, কাজির চর ও ডাল চর থেকে প্রতিদিন ট্রলারে করে গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন নতুন হামের রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। হঠাৎ রোগীর এই মহামারি সদৃশ চাপের কারণে জনবল সংকটে থাকা হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা দিনরাত সেবা দিতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।

হাসপাতালের মেঝেতে সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করা কাজির চরের এক অভিভাবক বলেন, “চর থেকে অনেক কষ্ট করে ট্রলারে করে বাচ্চাকে নিয়ে এসেছি। হাসপাতালে এসে দেখি কোনো সিট খালি নেই। রোগী এত বেশি যে কোনোভাবে সিটের ব্যবস্থা করতে পারিনি। বাধ্য হয়ে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে।”

মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আশিকুর রহমান অনিক বলেন, “আউটডোরে আমরা প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ রোগী দেখি, যার মধ্যে অধিকাংশই শিশু। তারা ঠান্ডা, জ্বর ও হামের উপসর্গ নিয়ে আসে। গড়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন হামের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। তবে মাঝে মধ্যে ২ থেকে ১ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা বা ঢাকায় পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘সীমিত জনবল নিয়েই আমরা বিপুলসংখ্যক রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ওষুধের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চরাঞ্চলগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।’

দুর্গম এই উপকূলীয় অঞ্চলের শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে হাম যেহেতু একটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি বিশেষ ক্যাম্পেইন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং হাসপাতালে অস্থায়ী শয্যা ও অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মনপুরায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ, সেবা দিতে হিমশিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
0:00 0:00
1.0x