গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক পাথুরে গুহার মুখ। ধূপের ঘ্রাণে চারপাশ ম মৌ করছে। ধবধবে সাদা পোশাকে সারি বেঁধে বেরিয়ে এলেন একদল নারী। তাঁদের একজনের হাতে জ্ঞানের দেবী 'এথেনা'র একটি ছোট মূর্তি। প্রাচীন বেদিতে সেই মূর্তি স্থাপন করে শুরু হলো প্রার্থনা ও পূজার আচার।
প্রথম দর্শনে একে আবহমান কালপর্বের কোনো সিনেমার দৃশ্য বা ঐতিহাসিক নাটকের মহড়া মনে হতে পারে। তবে এটি কোনো অভিনয় নয়; বরং একবিংশ শতাব্দীর এথেন্সে আয়োজিত এক বাস্তব ধর্মীয় আয়োজন। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে দাঁড়িয়েও গ্রিসের একদল মানুষ এখনও বিশ্বাস করেন এবং আরাধনা করেন জিউস, পোসাইডন, ডায়োনিসাস কিংবা এথেনার মতো প্রাচীন অলিম্পিয়ান দেবতাদের।
সম্প্রতি এথেন্সে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাচীন গ্রিক উৎসব ‘প্লিনটেরিয়া’ (Plynteria)। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি দেবী এথেনার পবিত্র মূর্তি পরিষ্কার ও পূত-পবিত্র করার এক বিশেষ আচার। এই আচারের আড়ালে লুকিয়ে আছে ‘লাব্রিস’ (Labrys) নামের একটি আধুনিক বহুদেবতাবাদী (Hellenistic Polytheistic) গোষ্ঠীর পুনর্জাগরণের বার্তা।
লাব্রিস গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রাচীন এই দেব-দেবীদের কেবল রূপকথা বা সাহিত্যিক প্রতীক হিসেবে দেখেন না। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ের চরম স্ট্রেস ও কোলাহলপূর্ণ জীবন থেকে মানসিক মুক্তি পাওয়ার অন্যতম পথ হলো প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা এই দেবতাদের আরাধনা করা। তাঁরা গৃহপূজা ও সামাজিক আয়োজনের মাধ্যমে এই প্রাচীন ধর্মবিশ্বাসকে চর্চায় রাখছেন। সংগঠনটির নাম নেওয়া হয়েছে প্রাচীন মিনোয়ান ও গ্রিক সংস্কৃতির পবিত্র প্রতীক ‘দ্বিমুখী কুঠার’ (Labrys) থেকে।
জনপ্রিয় মহাকাব্য ‘দ্য ওডিসি’ অবলম্বনে হলিউডের নতুন চলচ্চিত্র ঘিরে তৈরি হওয়া আলোড়নের মধ্যেই লাব্রিস সদস্যরা তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশ্বখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের নির্মিত এই সিনেমায় ম্যাট ড্যামন বা জেনডায়ার মতো তারকাদের উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও লাব্রিসের দৃষ্টিতে এটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতে, হলিউড ও পশ্চিমা পপ-সংস্কৃতি গ্রিক ইতিহাস ও দেব-দেবীদের শুধুই কাল্পনিক চরিত্র বা বাণিজ্যিক পণ্য বানিয়ে পরিবেশন করছে। এর ফলে নতুন প্রজন্ম তাদের প্রকৃত আত্মিক ইতিহাস থেকে দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে। তবে সিনেমা আর রুপালি পর্দার জাঁকজমক যা-ই বলুক না কেন, এথেন্সের পাহাড় ও গুহায় জ্বলে ওঠা প্রদীপের আলো প্রমাণ করে—তিন হাজার বছর আগের সেই বিশ্বাস গ্রিসের মাটিতে আজও বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের এক পাথুরে গুহার মুখ। ধূপের ঘ্রাণে চারপাশ ম মৌ করছে। ধবধবে সাদা পোশাকে সারি বেঁধে বেরিয়ে এলেন একদল নারী। তাঁদের একজনের হাতে জ্ঞানের দেবী 'এথেনা'র একটি ছোট মূর্তি। প্রাচীন বেদিতে সেই মূর্তি স্থাপন করে শুরু হলো প্রার্থনা ও পূজার আচার।
প্রথম দর্শনে একে আবহমান কালপর্বের কোনো সিনেমার দৃশ্য বা ঐতিহাসিক নাটকের মহড়া মনে হতে পারে। তবে এটি কোনো অভিনয় নয়; বরং একবিংশ শতাব্দীর এথেন্সে আয়োজিত এক বাস্তব ধর্মীয় আয়োজন। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে দাঁড়িয়েও গ্রিসের একদল মানুষ এখনও বিশ্বাস করেন এবং আরাধনা করেন জিউস, পোসাইডন, ডায়োনিসাস কিংবা এথেনার মতো প্রাচীন অলিম্পিয়ান দেবতাদের।
সম্প্রতি এথেন্সে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাচীন গ্রিক উৎসব ‘প্লিনটেরিয়া’ (Plynteria)। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি দেবী এথেনার পবিত্র মূর্তি পরিষ্কার ও পূত-পবিত্র করার এক বিশেষ আচার। এই আচারের আড়ালে লুকিয়ে আছে ‘লাব্রিস’ (Labrys) নামের একটি আধুনিক বহুদেবতাবাদী (Hellenistic Polytheistic) গোষ্ঠীর পুনর্জাগরণের বার্তা।
লাব্রিস গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রাচীন এই দেব-দেবীদের কেবল রূপকথা বা সাহিত্যিক প্রতীক হিসেবে দেখেন না। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ের চরম স্ট্রেস ও কোলাহলপূর্ণ জীবন থেকে মানসিক মুক্তি পাওয়ার অন্যতম পথ হলো প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা এই দেবতাদের আরাধনা করা। তাঁরা গৃহপূজা ও সামাজিক আয়োজনের মাধ্যমে এই প্রাচীন ধর্মবিশ্বাসকে চর্চায় রাখছেন। সংগঠনটির নাম নেওয়া হয়েছে প্রাচীন মিনোয়ান ও গ্রিক সংস্কৃতির পবিত্র প্রতীক ‘দ্বিমুখী কুঠার’ (Labrys) থেকে।
জনপ্রিয় মহাকাব্য ‘দ্য ওডিসি’ অবলম্বনে হলিউডের নতুন চলচ্চিত্র ঘিরে তৈরি হওয়া আলোড়নের মধ্যেই লাব্রিস সদস্যরা তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশ্বখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের নির্মিত এই সিনেমায় ম্যাট ড্যামন বা জেনডায়ার মতো তারকাদের উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও লাব্রিসের দৃষ্টিতে এটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতে, হলিউড ও পশ্চিমা পপ-সংস্কৃতি গ্রিক ইতিহাস ও দেব-দেবীদের শুধুই কাল্পনিক চরিত্র বা বাণিজ্যিক পণ্য বানিয়ে পরিবেশন করছে। এর ফলে নতুন প্রজন্ম তাদের প্রকৃত আত্মিক ইতিহাস থেকে দিন দিন দূরে সরে যাচ্ছে। তবে সিনেমা আর রুপালি পর্দার জাঁকজমক যা-ই বলুক না কেন, এথেন্সের পাহাড় ও গুহায় জ্বলে ওঠা প্রদীপের আলো প্রমাণ করে—তিন হাজার বছর আগের সেই বিশ্বাস গ্রিসের মাটিতে আজও বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন