ঢাকা    রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আল্লামা বাবুনগরীর মতবিনিময়, হেফাজতের ৯ দফা দাবি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আল্লামা বাবুনগরীর মতবিনিময়, হেফাজতের ৯ দফা দাবি
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আল্লামা বাবুনগরীর মতবিনিময়, হেফাজতের ৯ দফা দাবি

বিপ্লব, ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক রাহবার ও উলামায়ে কেরামের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক বাবুনগর এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান হেফাজতে ইসলামের আমির ও দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এ সময় দেশের শীর্ষ আলেমরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে বাবুনগর মাদরাসায় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহ, রাসূল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করাসহ নয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

সভায় শুরুতেই উলামায়ে কেরাম ও জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ভালোবাসা জানানো হয়। হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফটিকছড়ি শুধু একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়; এটি দেশের দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী সংস্কার ও আধ্যাত্মিক সাধনার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র। বাবুনগর মাদরাসা ও এর আশপাশের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনের রাহবার আলেম তৈরি, বিশুদ্ধ আকিদা চর্চা ও সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

বিশেষ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. এবং বর্তমান আমির দেশের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর মতো প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতির কারণে এ অঞ্চল সমকালীন ইসলামী কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীর আগমন এ অঞ্চলের ইতিহাস ও রাজনৈতিক ধারায় নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, জুলাই বিপ্লব, ২০১৩ সালের নাস্তিক্যবাদবিরোধী আন্দোলন, বাঙালি মুসলিম সমাজের ধর্মীয় চেতনা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে আলেম সমাজের ভূমিকা দৃঢ় ও অবিচল ছিল বলে সভায় তুলে ধরা হয়।

আলেম সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইতিহাসের সাক্ষ্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (রহ.) সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংযোজন করে জাতীয় রাজনৈতিক ধারায় ইসলামী মূল্যবোধকে সম্মানের অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর মাতা, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এদেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্তরিক সমমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। জাতীয় সংকটের সময়, বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার সমর্থন ও সহমর্মিতার বিষয়টি আলেম সমাজ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।

শহীদ জিয়া পরিবারের সঙ্গে দেশের আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি আত্মিক ও নৈতিক বন্ধন বলেও উল্লেখ করা হয়।

আলেম সমাজের প্রধান মুরুব্বি আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরের দ্বীনি আঙিনায় উপস্থিত হওয়ায় ঐতিহ্যগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হচ্ছে বলে সভায় অভিমত প্রকাশ করা হয়। এ সফর রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার এবং উলামায়ে কেরামের সৎ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছে বলেও বলা হয়।

সভায় বলা হয়, বর্তমান বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। পরিবর্তনশীল এই সময়ে নিজস্ব ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও আলেম সমাজকে বাদ দিয়ে কোনো দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় আলেম-ওলামার প্রজ্ঞা ও পরামর্শ যুক্ত হলে দেশে ইনসাফ, সাম্য, শান্তি ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব।

হেফাজতের ৯ দফা দাবি

১. মহান আল্লাহ, রাসূল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন।

২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।

৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞে জড়িত, হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিত করে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক পদে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মাদরাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রির উল্লেখ করা।

৫. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।

৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।

৮. আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা।

৯. বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম এবং টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভারতের বিতর্কিত মাওলানা সা'দ সাহেবের বাংলাদেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।

সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আল্লামা বাবুনগরীর মতবিনিময়, হেফাজতের ৯ দফা দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিপ্লব, ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিক রাহবার ও উলামায়ে কেরামের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক বাবুনগর এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান হেফাজতে ইসলামের আমির ও দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এ সময় দেশের শীর্ষ আলেমরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে বাবুনগর মাদরাসায় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহ, রাসূল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করাসহ নয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

সভায় শুরুতেই উলামায়ে কেরাম ও জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও ভালোবাসা জানানো হয়। হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ফটিকছড়ি শুধু একটি ভৌগোলিক এলাকা নয়; এটি দেশের দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী সংস্কার ও আধ্যাত্মিক সাধনার ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র। বাবুনগর মাদরাসা ও এর আশপাশের দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনের রাহবার আলেম তৈরি, বিশুদ্ধ আকিদা চর্চা ও সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

বিশেষ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. এবং বর্তমান আমির দেশের শীর্ষ আলেম আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর মতো প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতির কারণে এ অঞ্চল সমকালীন ইসলামী কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীর আগমন এ অঞ্চলের ইতিহাস ও রাজনৈতিক ধারায় নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, জুলাই বিপ্লব, ২০১৩ সালের নাস্তিক্যবাদবিরোধী আন্দোলন, বাঙালি মুসলিম সমাজের ধর্মীয় চেতনা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে আলেম সমাজের ভূমিকা দৃঢ় ও অবিচল ছিল বলে সভায় তুলে ধরা হয়।

আলেম সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইতিহাসের সাক্ষ্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (রহ.) সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস সংযোজন করে জাতীয় রাজনৈতিক ধারায় ইসলামী মূল্যবোধকে সম্মানের অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর মাতা, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এদেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্তরিক সমমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। জাতীয় সংকটের সময়, বিশেষ করে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার সমর্থন ও সহমর্মিতার বিষয়টি আলেম সমাজ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।

শহীদ জিয়া পরিবারের সঙ্গে দেশের আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি আত্মিক ও নৈতিক বন্ধন বলেও উল্লেখ করা হয়।

আলেম সমাজের প্রধান মুরুব্বি আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরের দ্বীনি আঙিনায় উপস্থিত হওয়ায় ঐতিহ্যগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হচ্ছে বলে সভায় অভিমত প্রকাশ করা হয়। এ সফর রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে নৈতিকতা, ন্যায়বিচার এবং উলামায়ে কেরামের সৎ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছে বলেও বলা হয়।

সভায় বলা হয়, বর্তমান বাংলাদেশ নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। পরিবর্তনশীল এই সময়ে নিজস্ব ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও আলেম সমাজকে বাদ দিয়ে কোনো দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় আলেম-ওলামার প্রজ্ঞা ও পরামর্শ যুক্ত হলে দেশে ইনসাফ, সাম্য, শান্তি ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব।

হেফাজতের ৯ দফা দাবি

১. মহান আল্লাহ, রাসূল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন।

২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।

৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞে জড়িত, হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিত করে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক পদে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মাদরাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রির উল্লেখ করা।

৫. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।

৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।

৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।

৮. আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে দেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা।

৯. বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের কার্যক্রম এবং টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভারতের বিতর্কিত মাওলানা সা'দ সাহেবের বাংলাদেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।

সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আল্লামা বাবুনগরীর মতবিনিময়, হেফাজতের ৯ দফা দাবি
0:00 0:00
1.0x