ঢাকা    মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

যতদিন চলার শক্তি থাকবে, জাতির প্রয়োজনে মাঠে থাকব: জামায়াত আমির

যতদিন চলার শক্তি থাকবে, জাতির প্রয়োজনে মাঠে থাকব: জামায়াত আমির
যতদিন চলার শক্তি থাকবে, জাতির প্রয়োজনে মাঠে থাকব: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। যতদিন আল্লাহ তাঁকে জীবন ও চলার শক্তি দেবেন, ততদিন দেশের প্রয়োজনে মাঠে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, তাঁরা কাপুরুষ বা দুর্বল নন।

সোমবার গাইবান্ধার সাঘাটায় শহীদ শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারত করেন ডা. শফিকুর রহমান। পরে তিনি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বোনারপাড়ার কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

কবর জিয়ারতের পর জামায়াত আমির দুই শহীদের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি তাঁদের জন্য দোয়া করেন ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

জনসমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুই শহীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের জন্য দোয়া করায় তিনি এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। নিজের জন্যও দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশের জনগণ, মানবতা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে শহীদ হিসেবে কবুল হওয়ার প্রার্থনা করেন।

তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে যারা জীবন উৎসর্গ করেন, আল্লাহর কাছে তাঁদের জন্য রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। আল্লাহর পথে জীবনদানকারীদের মৃত বলতে নিষেধ করা হয়েছে; তাঁরা জীবিত, যদিও মানুষ তা উপলব্ধি করতে পারে না।

জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করার পর আর কোনোভাবেই জুলুমের পথে ফিরে যাওয়া যাবে না। সরকার গঠনের পরও যদি সাধারণ মানুষ সরকারি দলের লোকদের মাধ্যমে বঞ্চনার শিকার হয়, তাহলে পরিবর্তনের অর্থ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া করের অর্থেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। ফলে জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই। বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করা হলে সেটি জনগণের প্রতি অন্যায় হবে। ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া বা তাতে হস্তক্ষেপ করাকে গণতন্ত্র বলা যায় না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা দিয়েছিল, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পুরো উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সরকার গঠন করতে না পারলেও সংসদের ভেতরে এই দাবি তুলে ধরা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

দুই নিহত তরুণকে এলাকার শ্রেষ্ঠ সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের কোনো অপরাধ ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে। আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয় এবং কোনো বাবাকে যেন সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

ক্ষমতার লোভ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সমাজের কোনো ক্ষেত্রই দখল ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতির বাইরে থাকা উচিত নয়। ২০২৪ সালের বিপ্লবের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সমাজ থেকে অন্যায় ও দুর্নীতির আবর্জনা দূর করা। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, অপরাধীরা যদি নজরদারির মধ্যে থাকে, তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনতে সমস্যা থাকার কথা নয়। মানুষকে যেন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পদ নয়; এটি সমগ্র জাতির সম্পদ। তাই নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বিগত সময়ে নির্যাতন, হত্যা, গুম ও মিথ্যা মামলার শিকার মানুষের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব কোনো নির্দিষ্ট দলের একক সমস্যা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক ভাইরাস। বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারকে সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশের মানুষ রাজপথে নেমেছিল। প্রয়োজন হলে আবারও রাজপথে নামতে হবে। জাতির প্রয়োজন হলে একবার নয়, শতবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান এমন একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেন, যেখানে শিশু, নারী, যুবক ও প্রবীণসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষ নিরাপদে থাকবে। পাশাপাশি সব ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কমিটিতে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর মতে, শিক্ষক নিয়োগে অর্থের লেনদেন, প্রতিষ্ঠানের কমিটি দখল এবং বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চান তাঁরা।

গণভোটের রায়কে সম্মান করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশের পথ তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধী দল হিসেবে সরকার সঠিক পথে থাকলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথাও জানান ডা. শফিকুর রহমান। তবে অতীতের স্বৈরাচারী সরকারের পথ অনুসরণ করা হলে তার ফল ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বাংলাদেশের ওপর কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য বা খবরদারি মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় এবং কারও গোলাম হয়ে থাকতে চায় না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের বিজয় হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম দুই শহীদ হত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হলেও এখনও দুজন গ্রেপ্তার হয়নি। চিহ্নিত অভিযুক্ত পলাশকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী আইনশৃঙ্খলা ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। জনগণ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়, এমন পরিস্থিতি তৈরি না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে যদি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে আইন প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও অস্থিরতার বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন মাওলানা আবদুল হালিম। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জীবন নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়।

বর্তমান সরকার শহীদ হত্যার বিচার করতে ব্যর্থ হলেও একদিন এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে শহীদদের পরিবারের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার আহ্বান জানান।

জনসমাবেশে বক্তারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বৈষম্য, অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনগণের ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়ারেছের সভাপতিত্বে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম এমপি, মাওলানা নজরুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মাজেদুর রহমান এমপি, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আল কারযাভী, সেক্রেটারি ফাহিম মন্ডলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ যৌথভাবে পরিচালনা করেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান ও সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল কবির রানা।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


যতদিন চলার শক্তি থাকবে, জাতির প্রয়োজনে মাঠে থাকব: জামায়াত আমির

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। যতদিন আল্লাহ তাঁকে জীবন ও চলার শক্তি দেবেন, ততদিন দেশের প্রয়োজনে মাঠে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, তাঁরা কাপুরুষ বা দুর্বল নন।

সোমবার গাইবান্ধার সাঘাটায় শহীদ শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন আহমেদের কবর জিয়ারত করেন ডা. শফিকুর রহমান। পরে তিনি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বোনারপাড়ার কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

কবর জিয়ারতের পর জামায়াত আমির দুই শহীদের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি তাঁদের জন্য দোয়া করেন ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

জনসমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুই শহীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের জন্য দোয়া করায় তিনি এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ। নিজের জন্যও দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশের জনগণ, মানবতা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গিয়ে শহীদ হিসেবে কবুল হওয়ার প্রার্থনা করেন।

তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে যারা জীবন উৎসর্গ করেন, আল্লাহর কাছে তাঁদের জন্য রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। আল্লাহর পথে জীবনদানকারীদের মৃত বলতে নিষেধ করা হয়েছে; তাঁরা জীবিত, যদিও মানুষ তা উপলব্ধি করতে পারে না।

জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করার পর আর কোনোভাবেই জুলুমের পথে ফিরে যাওয়া যাবে না। সরকার গঠনের পরও যদি সাধারণ মানুষ সরকারি দলের লোকদের মাধ্যমে বঞ্চনার শিকার হয়, তাহলে পরিবর্তনের অর্থ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া করের অর্থেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। ফলে জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই। বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করা হলে সেটি জনগণের প্রতি অন্যায় হবে। ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া বা তাতে হস্তক্ষেপ করাকে গণতন্ত্র বলা যায় না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা দিয়েছিল, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পুরো উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সরকার গঠন করতে না পারলেও সংসদের ভেতরে এই দাবি তুলে ধরা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

দুই নিহত তরুণকে এলাকার শ্রেষ্ঠ সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের কোনো অপরাধ ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে। আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয় এবং কোনো বাবাকে যেন সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

ক্ষমতার লোভ, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সমাজের কোনো ক্ষেত্রই দখল ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতির বাইরে থাকা উচিত নয়। ২০২৪ সালের বিপ্লবের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সমাজ থেকে অন্যায় ও দুর্নীতির আবর্জনা দূর করা। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, অপরাধীরা যদি নজরদারির মধ্যে থাকে, তাহলে তাদের আইনের আওতায় আনতে সমস্যা থাকার কথা নয়। মানুষকে যেন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট দলের সম্পদ নয়; এটি সমগ্র জাতির সম্পদ। তাই নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বিগত সময়ে নির্যাতন, হত্যা, গুম ও মিথ্যা মামলার শিকার মানুষের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব কোনো নির্দিষ্ট দলের একক সমস্যা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক ভাইরাস। বাংলাদেশের জনগণ ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারকে সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশের মানুষ রাজপথে নেমেছিল। প্রয়োজন হলে আবারও রাজপথে নামতে হবে। জাতির প্রয়োজন হলে একবার নয়, শতবারও রাজপথে নামার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান এমন একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেন, যেখানে শিশু, নারী, যুবক ও প্রবীণসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষ নিরাপদে থাকবে। পাশাপাশি সব ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কমিটিতে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর মতে, শিক্ষক নিয়োগে অর্থের লেনদেন, প্রতিষ্ঠানের কমিটি দখল এবং বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চান তাঁরা।

গণভোটের রায়কে সম্মান করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশের পথ তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধী দল হিসেবে সরকার সঠিক পথে থাকলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথাও জানান ডা. শফিকুর রহমান। তবে অতীতের স্বৈরাচারী সরকারের পথ অনুসরণ করা হলে তার ফল ভালো হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

বাংলাদেশের ওপর কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য বা খবরদারি মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায় এবং কারও গোলাম হয়ে থাকতে চায় না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের বিজয় হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম দুই শহীদ হত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করা হলেও এখনও দুজন গ্রেপ্তার হয়নি। চিহ্নিত অভিযুক্ত পলাশকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে এর দায় প্রশাসনকে নিতে হবে।

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী আইনশৃঙ্খলা ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। জনগণ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বাধ্য হয়, এমন পরিস্থিতি তৈরি না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারি দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে যদি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে আইন প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও অস্থিরতার বিরুদ্ধেও বক্তব্য দেন মাওলানা আবদুল হালিম। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও জীবন নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়।

বর্তমান সরকার শহীদ হত্যার বিচার করতে ব্যর্থ হলেও একদিন এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে শহীদদের পরিবারের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার আহ্বান জানান।

জনসমাবেশে বক্তারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বৈষম্য, অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনগণের ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়ারেছের সভাপতিত্বে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম এমপি, মাওলানা নজরুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মাজেদুর রহমান এমপি, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আল কারযাভী, সেক্রেটারি ফাহিম মন্ডলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ যৌথভাবে পরিচালনা করেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি সৈয়দ রোকনুজ্জামান ও সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল কবির রানা।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
যতদিন চলার শক্তি থাকবে, জাতির প্রয়োজনে মাঠে থাকব: জামায়াত আমির
0:00 0:00
1.0x