ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

বিভক্ত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে মুসলিম ব্রাদারহুড

বিভক্ত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে মুসলিম ব্রাদারহুড
বিভক্ত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে মুসলিম ব্রাদারহুড

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের একসময়কার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড বর্তমানে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সাংগঠনিক সংকটে পড়েছে। প্রায় একশ বছরের পুরোনো সংগঠনটি বিভক্তির কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় পৌঁছেছে। একসময় মিশরসহ আরব বিশ্বে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব থাকা সংগঠনটি এখন অস্তিত্ব ধরে রাখার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।

সংগঠনটির বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ বিভক্তিকে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতৃত্ব দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি অংশের কেন্দ্র লন্ডনে এবং অপরটির অবস্থান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। নেতৃত্বের বৈধতা, অর্থের নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। প্রবীণ নেতাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে তরুণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এর ফলে অনেকে সংগঠন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে মিশরের ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর থেকে দেশটির সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মুখে রয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুড। সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন অথবা বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও সংগঠনটি বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়েছে। একসময় তুরস্ক ও কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডকে প্রকাশ্য সমর্থন ও আশ্রয় দিলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে দেশ দুটি মিশর ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ইস্তাম্বুল ও দোহার মতো নির্বাসিত ব্রাদারহুড নেতাদের আশ্রয়স্থলেও তাদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে গেছে।

মিশরের পাশাপাশি তিউনিসিয়া ও মরক্কোর মতো উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতেও ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক ও আদর্শিক সহযোগীরা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় নজরদারি এবং নতুন প্রজন্মের পরিবর্তিত রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে সংগঠনটির আগের আবেদন কমে গেছে।

ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রেক্ষাপটে মুসলিম ব্রাদারহুড এই গভীর সংকট কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিভক্ত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে মুসলিম ব্রাদারহুড

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের একসময়কার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড বর্তমানে তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও সাংগঠনিক সংকটে পড়েছে। প্রায় একশ বছরের পুরোনো সংগঠনটি বিভক্তির কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় পৌঁছেছে। একসময় মিশরসহ আরব বিশ্বে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব থাকা সংগঠনটি এখন অস্তিত্ব ধরে রাখার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।

সংগঠনটির বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ বিভক্তিকে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতৃত্ব দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একটি অংশের কেন্দ্র লন্ডনে এবং অপরটির অবস্থান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। নেতৃত্বের বৈধতা, অর্থের নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। প্রবীণ নেতাদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাবে তরুণ কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এর ফলে অনেকে সংগঠন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে মিশরের ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়ার পর থেকে দেশটির সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মুখে রয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুড। সংগঠনের শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছেন অথবা বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও সংগঠনটি বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়েছে। একসময় তুরস্ক ও কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডকে প্রকাশ্য সমর্থন ও আশ্রয় দিলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে দেশ দুটি মিশর ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ইস্তাম্বুল ও দোহার মতো নির্বাসিত ব্রাদারহুড নেতাদের আশ্রয়স্থলেও তাদের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে গেছে।

মিশরের পাশাপাশি তিউনিসিয়া ও মরক্কোর মতো উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতেও ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক ও আদর্শিক সহযোগীরা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় নজরদারি এবং নতুন প্রজন্মের পরিবর্তিত রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কারণে সাধারণ মানুষের কাছে সংগঠনটির আগের আবেদন কমে গেছে।

ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রেক্ষাপটে মুসলিম ব্রাদারহুড এই গভীর সংকট কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বিভক্ত হয়ে অস্তিত্ব সংকটে মুসলিম ব্রাদারহুড
0:00 0:00
1.0x