ফ্যাসিবাদী সরকারের লুটপাট থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থে গঠিত দুটি তহবিলও রক্ষা পায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসরকালীন সুবিধার অর্থ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি এখন সহজ মনে হলেও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা মোটেও সহজ ছিল না। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন খাত থেকে যেভাবে লুটপাট করেছিল, তার প্রভাব অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থে গঠিত দুটি তহবিলেও পড়েছিল। জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ দুর্বল ব্যাংকে স্থানান্তর এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, সারাজীবন শিক্ষার আলো ছড়াতে নিজেদের জীবনের সোনালি সময় ব্যয় করা শিক্ষকদের অবসরের পর চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়েছে। ফ্যাসিবাদী চক্রের লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা ২০২২ সাল থেকে এসব তহবিল থেকে কোনো অর্থ পাচ্ছিলেন না।
সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, দুটি তহবিলেই পর্যাপ্ত অর্থ নেই। ৭০ হাজারের বেশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষা শেষে সরকারি দুটি তহবিলে জমা থাকা অর্থের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন। তহবিল দুটির একটি ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং অন্যটি ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’। এসব তহবিলে জমা অর্থের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ পাওয়ার মাধ্যমে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনের আর্থিক অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কমেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত দুটি তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতি মাসে অর্থ জমা দেন। সেই অর্থের সঙ্গে সরকারও প্রতিটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে একটি অর্থ জমা করে। দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে হাতে একটি ভালো পরিমাণ অর্থ পান, সেটিই এর উদ্দেশ্য।
তবে তিনি বলেন, উদ্দেশ্য ভালো হলেও চাকরিজীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই অর্থ উত্তোলনের সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য অর্থ তুলতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার একটি অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এবার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না ফেলে অনলাইনের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য অর্থ নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে লাখো-কোটি শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলা শিক্ষক সমাজকেই যদি ঘুষ দিয়ে নিজেদের প্রাপ্য অর্থ তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদের ‘দীনতা-হীনতা’র প্রকাশ।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: মানবজমিন

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
ফ্যাসিবাদী সরকারের লুটপাট থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থে গঠিত দুটি তহবিলও রক্ষা পায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসরকালীন সুবিধার অর্থ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি এখন সহজ মনে হলেও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা মোটেও সহজ ছিল না। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন খাত থেকে যেভাবে লুটপাট করেছিল, তার প্রভাব অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থে গঠিত দুটি তহবিলেও পড়েছিল। জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ দুর্বল ব্যাংকে স্থানান্তর এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, সারাজীবন শিক্ষার আলো ছড়াতে নিজেদের জীবনের সোনালি সময় ব্যয় করা শিক্ষকদের অবসরের পর চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়েছে। ফ্যাসিবাদী চক্রের লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা ২০২২ সাল থেকে এসব তহবিল থেকে কোনো অর্থ পাচ্ছিলেন না।
সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, দুটি তহবিলেই পর্যাপ্ত অর্থ নেই। ৭০ হাজারের বেশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষা শেষে সরকারি দুটি তহবিলে জমা থাকা অর্থের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন। তহবিল দুটির একটি ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং অন্যটি ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’। এসব তহবিলে জমা অর্থের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ পাওয়ার মাধ্যমে ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনের আর্থিক অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কমেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত দুটি তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতি মাসে অর্থ জমা দেন। সেই অর্থের সঙ্গে সরকারও প্রতিটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে একটি অর্থ জমা করে। দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে হাতে একটি ভালো পরিমাণ অর্থ পান, সেটিই এর উদ্দেশ্য।
তবে তিনি বলেন, উদ্দেশ্য ভালো হলেও চাকরিজীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই অর্থ উত্তোলনের সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি নিজেদের প্রাপ্য অর্থ তুলতে গিয়ে ঘুষ দেওয়ার একটি অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এবার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না ফেলে অনলাইনের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য অর্থ নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে লাখো-কোটি শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলা শিক্ষক সমাজকেই যদি ঘুষ দিয়ে নিজেদের প্রাপ্য অর্থ তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদের ‘দীনতা-হীনতা’র প্রকাশ।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: মানবজমিন

আপনার মতামত লিখুন