ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আইন-আদালত

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন

মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন
মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্কের পর্ব শেষ হয়েছে। ফলে এখন যেকোনো দিন মামলাটির রায় ঘোষণা করতে পারেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানির এ ধাপ শেষ হয়।

শুনানির শুরুতে আইনি বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার বক্তব্য, জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। মামলায় উপস্থাপিত অডিও ও ভিডিওতেও এর প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাদের দাবি, এর পরিণতিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়।

কাদের, নাছিম ও আরাফাত দায়ী নন: আসামিপক্ষ

প্রসিকিউশনের বক্তব্যের বিপরীতে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষার উদ্দেশ্যেই ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার তিন মক্কেল কোনো কমান্ডিং অবস্থানে ছিলেন না। তাই কমান্ড রেসপনসিবিলিটির আওতায় তাদের দায়ী করার সুযোগ নেই। তারা কাউকে হত্যা করেননি এবং হত্যার নির্দেশও দেননি বলে দাবি করেন তিনি।

এরপর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান। তার মক্কেলরা হলেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তার চার মক্কেলের নাম নেই। সেখানে অন্যরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের অধীনস্থ নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। জবাবে আইনজীবী বলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা চলার কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

আন্দোলনের সময় নারীদের আহত হওয়ার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, মামলায় কোনো নারী সাক্ষী নেই এবং সাক্ষ্যপ্রমাণেও এ ধরনের ঘটনার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

চার আসামির খালাস চেয়েছে আসামিপক্ষ

ইশরাত জাহান তার চার মক্কেলের খালাস দাবি করে বলেন, শুধু রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আন্দোলন ঘিরে তারা কিছু বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ভিডিওতেও তাদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তার বক্তব্য, চার আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন কোনো সরাসরি প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। এ কারণে তাদের খালাস দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

এরপর আসামিপক্ষের বক্তব্যের জবাব দেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, আন্দোলন দমনের সময় একজন ব্যক্তি নিহত হলেও সংশ্লিষ্ট আসামিরা অপরাধের দায় এড়াতে পারেন না।

‘তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি’

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম। তিনি জানান, মামলায় ট্রাইব্যুনালে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন ছিলেন ফরমাল বা বিশেষজ্ঞ সাক্ষী এবং ১২ জন ছিলেন ভুক্তভোগীদের স্বজন।

তার দাবি, সাক্ষীদের কেউই ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম কিংবা মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে জড়িত করে কোনো সাক্ষ্য দেননি। ফলে এ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি।

কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ক্ষেত্রেও ওই তিনজনকে দায়ী করা যাবে না বলে দাবি করেন এম হাসান ইমাম। তার বক্তব্য, সব ধরনের নির্দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেই এসেছে। তবে এ মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি।

সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন

এর আগে ১২ আগস্ট সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় তাদের দায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের প্রতি কোনো ধরনের অনুকম্পা না দেখিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করা হয়েছে।

গত ৪ আগস্ট মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট আদালতের সামনে তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও আইনি যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলার সাত আসামি

ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

গত ২ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্কের পর্ব শেষ হয়েছে। ফলে এখন যেকোনো দিন মামলাটির রায় ঘোষণা করতে পারেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানির এ ধাপ শেষ হয়।

শুনানির শুরুতে আইনি বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তার বক্তব্য, জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। মামলায় উপস্থাপিত অডিও ও ভিডিওতেও এর প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাদের দাবি, এর পরিণতিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়।

কাদের, নাছিম ও আরাফাত দায়ী নন: আসামিপক্ষ

প্রসিকিউশনের বক্তব্যের বিপরীতে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম যুক্তি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষার উদ্দেশ্যেই ‘শুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তার তিন মক্কেল কোনো কমান্ডিং অবস্থানে ছিলেন না। তাই কমান্ড রেসপনসিবিলিটির আওতায় তাদের দায়ী করার সুযোগ নেই। তারা কাউকে হত্যা করেননি এবং হত্যার নির্দেশও দেননি বলে দাবি করেন তিনি।

এরপর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী ইশরাত জাহান। তার মক্কেলরা হলেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তার চার মক্কেলের নাম নেই। সেখানে অন্যরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের অধীনস্থ নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না। জবাবে আইনজীবী বলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিশৃঙ্খলা চলার কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

আন্দোলনের সময় নারীদের আহত হওয়ার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, মামলায় কোনো নারী সাক্ষী নেই এবং সাক্ষ্যপ্রমাণেও এ ধরনের ঘটনার পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

চার আসামির খালাস চেয়েছে আসামিপক্ষ

ইশরাত জাহান তার চার মক্কেলের খালাস দাবি করে বলেন, শুধু রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আন্দোলন ঘিরে তারা কিছু বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ভিডিওতেও তাদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তার বক্তব্য, চার আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন কোনো সরাসরি প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। এ কারণে তাদের খালাস দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

এরপর আসামিপক্ষের বক্তব্যের জবাব দেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, আন্দোলন দমনের সময় একজন ব্যক্তি নিহত হলেও সংশ্লিষ্ট আসামিরা অপরাধের দায় এড়াতে পারেন না।

‘তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি’

শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম। তিনি জানান, মামলায় ট্রাইব্যুনালে মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন ছিলেন ফরমাল বা বিশেষজ্ঞ সাক্ষী এবং ১২ জন ছিলেন ভুক্তভোগীদের স্বজন।

তার দাবি, সাক্ষীদের কেউই ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম কিংবা মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে জড়িত করে কোনো সাক্ষ্য দেননি। ফলে এ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি।

কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ক্ষেত্রেও ওই তিনজনকে দায়ী করা যাবে না বলে দাবি করেন এম হাসান ইমাম। তার বক্তব্য, সব ধরনের নির্দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেই এসেছে। তবে এ মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি।

সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন

এর আগে ১২ আগস্ট সাত আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগই রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় তাদের দায় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের প্রতি কোনো ধরনের অনুকম্পা না দেখিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করা হয়েছে।

গত ৪ আগস্ট মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রথম দিন মামলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট আদালতের সামনে তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর টানা পাঁচ কার্যদিবসে সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও আইনি যুক্তি উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

মামলার সাত আসামি

ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

গত ২ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন
0:00 0:00
1.0x