ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

সরকারে প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী

সরকারে প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী
সরকারে প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী

সরকারের ভেতরে কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসে এর কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এবং জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সরকার গঠনের সময় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তখন তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ছয় মাসের মাথায় একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এদিকে ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সরকারের আরেকজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গত ১৩ জুন কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাকে ‘সবচেয়ে পাওয়ারফুল প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।

সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমাদের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, যার কাছে উন্নয়নের জন্য আমরা যাই।’

এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে তার কিছুটা অস্বস্তিকর সম্পর্ক ছিল বলে তার ঘনিষ্ঠজনদের সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন দলের প্রবীণ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এতে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের প্রভাবের কোনো পরিবর্তন হবে না।

এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকেও সরকারের ভেতরে যথেষ্ট প্রভাবশালী বলে মনে করা হয়। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান গত ১ জুন পদত্যাগ করেন।

অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল কারণ ছিল প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের সঙ্গে বিরোধ। ওই বিরোধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের কারণ তুলে ধরে কেন্দ্রীয় বিএনপির উপজাতিবিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনীষ দেওয়ান ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি জানান, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের সুপারিশকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

মনীষ দেওয়ান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘এ মুহূর্তে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সত্যকথনের জরুরি দরকার। দীপেন দেওয়ান তার মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন শুধু একটি কারণে। তিনি আসন্ন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন আমাকে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘পার্বত্য মন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রী) ব্যারিস্টার মীর হেলাল চেয়েছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন তালুকদার দিপুকে, যিনি জুলাই আন্দোলনে ছয় মাস রাঙামাটি থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও কুখ্যাত আওয়ামী নেতাদের প্রশ্রয় দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন—এটি রাঙামাটিবাসী সকলেই অবগত আছেন।’

মন্ত্রিসভায় সাম্প্রতিক রদবদলের পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বান্দরবানের এমপি সাচিং প্রু জেরী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে ছিলেন। তিনিও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে একই মন্ত্রণালয়ে আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


সরকারে প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সরকারের ভেতরে কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসে এর কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এবং জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সরকার গঠনের সময় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তখন তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ছয় মাসের মাথায় একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এদিকে ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সরকারের আরেকজন প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গত ১৩ জুন কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাকে ‘সবচেয়ে পাওয়ারফুল প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।

সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমাদের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, যার কাছে উন্নয়নের জন্য আমরা যাই।’

এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে তার কিছুটা অস্বস্তিকর সম্পর্ক ছিল বলে তার ঘনিষ্ঠজনদের সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন দলের প্রবীণ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এতে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের প্রভাবের কোনো পরিবর্তন হবে না।

এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকেও সরকারের ভেতরে যথেষ্ট প্রভাবশালী বলে মনে করা হয়। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান গত ১ জুন পদত্যাগ করেন।

অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল কারণ ছিল প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের সঙ্গে বিরোধ। ওই বিরোধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের কারণ তুলে ধরে কেন্দ্রীয় বিএনপির উপজাতিবিষয়ক সহসম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মনীষ দেওয়ান ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি জানান, রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের সুপারিশকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

মনীষ দেওয়ান তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘এ মুহূর্তে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সত্যকথনের জরুরি দরকার। দীপেন দেওয়ান তার মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন শুধু একটি কারণে। তিনি আসন্ন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন আমাকে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘পার্বত্য মন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রী) ব্যারিস্টার মীর হেলাল চেয়েছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন তালুকদার দিপুকে, যিনি জুলাই আন্দোলনে ছয় মাস রাঙামাটি থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এবং ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও কুখ্যাত আওয়ামী নেতাদের প্রশ্রয় দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন—এটি রাঙামাটিবাসী সকলেই অবগত আছেন।’

মন্ত্রিসভায় সাম্প্রতিক রদবদলের পর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বান্দরবানের এমপি সাচিং প্রু জেরী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন হিসেবে ছিলেন। তিনিও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে একই মন্ত্রণালয়ে আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সরকারে প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী
0:00 0:00
1.0x